আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামে সুন্নি জনতার বিক্ষোভে আজমির শরীফ নিয়ে চক্রান্ত বন্ধ করার দাবি

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বীর চট্টলার সুন্নি জনতা। ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলা, জাতীয় পতাকা পোড়ানো এবং আজমীর শরীফকে মন্দির দাবি করার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার জুমার নামাজের শেষে নগরের জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে এক বিক্ষোভ মিছিল জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে আলমাস সিনেমা হল এলাকা ঘুরে আবার মসজিদ প্রাঙ্গণে ফিরে আসে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও হতাশার সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, সম্প্রতি ভারতে দুটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে। প্রথমত, ত্রিপুরার আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে হামলা ও বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা পোড়ানোর মতো জঘন্য ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
তারা বলেন, ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর, ভারত সরকার ও ভারতীয় মিডিয়া বাংলাদেশ নিয়ে যে পরিমাণ অপপ্রচার করেছে তা পৃথিবীতে নজিরবিহীন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশের জনগণ ভারতের বিরুদ্ধে যেভাবে ঐক্য গড়ে তুলেছে, তা দেখে ভারত সরকারের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত।
নেতৃবৃন্দ বলেন, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য ভারত সরকারকে বাংলাদেশে সরকার ও জনগনের নিকট ক্ষমা চাইতে হবে। দ্বিতীয়ত, উগ্র হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীরা ভারতের ঐতিহাসিক পবিত্র স্থান আজমীর শরীফকে মন্দির বলে দাবি করে বিভাজনের রাজনীতি চালাচ্ছে। এটি শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতই নই বরং সারা বিশ্বের মুসলমানদের সাথে শত্রুতার সামিল। ভারত সরকারের উচিত পৃথ্বীরাজের ইতিহাস স্মরণ করা। বর্তমান ভারত সরকার নিশ্চয় সে সময়কার পৃথ্বীরাজের চেয়ে বেশি শক্তিশালী না।
তারা বলেন, গরিবে নেওয়াজ হাবীবুল্লাহ হযরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী আল হিন্দ রহমুতুল্লাহি আলাইহি যখন আজমীর শরীফ আগমন করেন তখন তিনি ও তার খাদেমগন মিলিয়ে কয়েকজন আল্লাহ পাক এর বান্দা ছিলো। পৃথ্বীরাজ এর মতো শাসক যাদের সামনে টিকতে পারেনি। আর আজ সারা বিশ্বে তিনশো কোটি মুসলমান। ভারত সরকার যদি বেশি বাড়াবাড়ি করে, তাহলে ভারত নামক এই হিন্দত্ববাদী রাষ্ট্রকে বিশ্বের মানচিত্র থেকে গায়েব করে দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ্।
ভারতকে সাবধান করে দিয়ে আরও বক্তারা বলেন, ভারত সরকারকে সাবধান করে দিয়ে বলছি, আজমীর শরীফ নিয়ে চক্রান্ত বন্ধ করুন। আল্লাহ এর ঘর মসজিদ ভাঙা ও মুসলমানদের উপর নির্যাতন বন্ধ করুন। নচেৎ মুহম্মদ বিন ঘউরী রহমতুল্লাহি আলাইহি, মাহমুদ গজনবী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর আগমন ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে রিপাবলিক বাংলাসহ বাংলাদেশ নিয়ে অপপ্রচারকারী ভারতীয় সমস্ত চ্যানেল এবং উগ্র হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসী সংগঠন ইসকন, হিন্দু জাগরণ মঞ্চ, সনাতনী বিদ্যার্থী সংসদ নামক সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ করতে অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের কাছে দাবি জানান তারা।
একই সঙ্গে দেশের সকল তরুণদের সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা এবং চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত প্রত্যেকে আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান তারা। পাশাপাশি বিভিন্ন মাজার ও মসজিদে হামলার সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকেও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
মাওলানা হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে ও মুহাম্মদ মোশারফ হোসেনের সঞ্চালনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন মাওলানা এনাম রেজা, আমান সমরকন্দি, মুহাম্মদ এনামুল হক, মুহাম্মদ মঞ্জু, সাকিব রিদুয়ান, নুর মোহাম্মদ, আমির আলী প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সৈয়দ ছদরুল উলা মাইজভাণ্ডারী (ক.) প্রকাশ চেয়ারম্যান বাবাজানের পবিত্র চল্লিশা শরীফের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আওলাদে রাসুল (দ.),আওলাদে গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী, মাইজভান্ডার দরবার শরীফের মহান আধ্যাত্মিক সাধক মজ্জুবে রহমান, ছানিয়ে ওয়াইজ আল করনী, হযরত শাহসুফি সৈয়দ ছদরুল উলা মাইজভাণ্ডারী (ক.) প্রকাশ চেয়ারম্যান বাবাজানের পবিত্র চল্লিশা শরীফ আগামী ৫ই ফেব্রুয়ারী রোজ বৃহস্পতিবার মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হবে।

এই উপলক্ষে ফটিকছড়ি আজিমনগরে আঞ্জুমানে গাউছিয়া রহমানিয়া ছদরুল উলা মাইজভাণ্ডারী মন্জিলে বড় শাহজাদী সৈয়দা কিশোয়ারা রহমান এবং ছোট শাহজাদী সৈয়দা মাহবুবা রহমানের উপস্থিতিতে ১ম প্রস্তুুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন আঞ্জুমানে গাউছিয়া রহমানিয়া ছদরুল উলা মাইজভাণ্ডারী কেন্দ্রীয় খেদমত পরিষদের সদস্যবৃন্দ ও বিভিন্ন শাখা কমিটির সদস্যবৃন্দসহ আাশেক ভক্তবৃন্দ।

বাংলাদেশকে শান্তির ও নিরাপদ জনপদ কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশকে একটি শান্তির ও নিরাপদ জনপদ হিসেবে কবুল করার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানিয়েছেন মাইজভাণ্ডার শরীফ গাউসিয়া হক মনজিল এর সম্মানিত সাজ্জাদানশীন রাহবারে আলম হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী (ম.)।গতকাল শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্সূফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর ১২০তম বার্ষিক উরস্ শরীফের আখেরি মোনাজাতে মহান আল্লাহর কাছে তিনি উক্ত ফরিয়াদ করেন।

পবিত্র উরস্ উপলক্ষে দরবারে সমবেত লাখো আশেক ভক্তের উপস্থিতিতে হওয়া মোনাজাতে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি সংকট-সমস্যার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য মহান অলি’র উছিলায় হে আল্লাহ আপনি আমাদের তৌফিক দান করুন।”
বিশ্বের দিকে দিকে নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের মুক্তি কামনা করে সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী বলেন, “বিশ্বের শক্তিধর দেশ দূর্বল রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ক্রমাগত অন্যায়, অবিচার, জুলুম করছে, নিরস্ত্র নারী-পুরুষদের হত্যা করছে। এসব অত্যাচারীর হাত থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করুন।”

হালাল রুজির মাধ্যমে পিতামাতার উপযুক্ত খেদমত করার তৌফিক কামনা করে সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী বলেন, “পরিবার-পরিজন নিয়ে আমাদের একটি শান্তিময়, স্বচ্ছল ও নিরাপদ জীবন দান করুন৷ শ্রমজীবী- পেশাজীবি-বুদ্ধিজীবী-ব্যবসাজীবি’র উন্নত জীবন দান করুন।”

হুজুর গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারী (ক.) প্রবর্তিত ত্বরীকা এবং তাঁর গাউসিয়ত আজমিয়তের শান-মান মানুষের সামনে যথাযথ ভাবে তুলে ধরার তৌফিক কামনা করে তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের আনাচে-কানাচে যুগে যুগে আল্লাহর দ্বীনের পতাকাকে উড্ডীন রাখার জন্য যেসব বান্দা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের পথেই আমাদের পরিচালিত করুণ।”

পবিত্র উরস্ উপলক্ষে জাতি-ধর্ম-বর্ণ, ধনী-গরিব, দল-মত নির্বিশেষে আল্লাহ’র মহান এই অলি’র দরবারে যারা হাজির হয়েছেন তাদের সকলের উপস্থিতি কবুল করার ফরিয়াদ জানিয়ে সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী মোনাজাতে আরও বলেন, “হে আল্লাহ আমরা আপনার কাছে শূন্য হাতগুলো তুলে দিয়েছি। আমাদের ত্রুটিপূর্ণ ইবাদত বন্দেগী কবুল করুন। হে আল্লাহ আপনি হুজুর গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারী (ক:)-কে আমাদের মাঝে আপনার বন্ধুরুপে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। মহান এই অলি’র পবিত্র উরস্ মোবারকের উছিলায় নেয়ামত হাসিলের তৌফিক দিন। উরস্ উপলক্ষে আপনার বান্দারা অগণিত সামাজিক, মানবিক, শিক্ষামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে ইবাদত বন্দেগী করেছেন। তাদের সকল প্রচেষ্টা ও হাজিরী কবুল করুন।”

প্রসঙ্গত, মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের ১০ই মাঘের প্রধান এই উরসকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরের মতো এবারও লাখ লাখ আশেক ভক্ত জাতি ধর্ম বর্ণ শ্রেণী পেশার মানুষ ভেদাভেদ ভুলে সমবেত হয়েছেন। গতকাল শনিবার বা’দ ফজর শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.)-রওজা শরিফ গোসল ও গিলাফ চড়ানোর মাধ্যমে উরস শরিফের উক্ত আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। উক্ত উরস্ শরীফ উপলক্ষে শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্টের উদ্যোগে যথাযথ ভাব-গাম্ভীর্যের ভিতর দিয়ে ইতঃমধ্যে ১০ দিনব্যাপী ধর্মীয়, আধ্যাত্মিক, সামাজিক ও মানবিক বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ