আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

অসাধু ও বেপরোয় ব্যবসায়ীদের অপকর্ম রোধে সামাজিক প্রতিরোধের বিকল্প নাই

প্রেস রিলিজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

  1. ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া, কোন আইন নিয়ম কানুন কোন কিছুর পরোয়া করছে না। বিগত ১৬ বছর দেশের ক্ষমতার কাঠামোর কেন্দ্র বিন্দুতে ব্যবসায়ীরা তাদের মতো করে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করেছেন। আর এ কাজে দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার কাঠামো নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসন, গণমাধ্যমসহ সবকিছুকে তারা ব্যবহার করেছে। যার কারনে তারা যা চেয়েছে তা-ই হয়েছে। ফলশ্রæতিতে ব্যবসায়ীরা এক একটি বার এক একটি পণ্যের দাম বাড়িয়ে জনগনের পকেট কাটলেও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন। ব্যবসায়ীরা চাল, ডাল, চিনি, সয়াবিন তেলে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেও রমজান উপলক্ষে সরকার অনেকগুলো পণ্যের আমদানি শুল্ক কমানো হলেও বাজারে তার কোন প্রভাব নেই। ১৮ কোটি সাধারন মানুষের কন্ঠস্বর হিসাবে জনগনের ভোগান্তি, হয়রানি ও মনোবেদনার কথা সরকারের নজরে আনতে ক্যাবকে আরও শক্তিশালি এবং সোচ্চার হতে হবে। দেশে নৈরাষ্যবাদীদের মতো দেশে কিছু হবে না, এই তত্তে¡র স্থলে জুলাই অভ্যত্থানের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ যেমন এখন স্বপ্ন নয় বাস্তব, সেরকম ব্যবসায়ীদের নৈরাজ্য থামাতে একই ভাবে সামাজিক আন্দোলন এক সময় সফল আন্দোলনে পরিনত হবে। ০৭ ডিসেম্বর ২০২৪ইং নগরীর চট্টগ্রাম সার্কিট সম্মেলন কক্ষে ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় ভোক্তা অধিকার সম্মেলনে বিভিন্ন বক্তাগন উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

    ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইনের সভাপতিত্বে ও ক্যাব বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরীর সঞ্চালনায় সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক(গ্রেড-০১) মোহাম্মদ আলীম আখতার খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ডঃ মোঃ জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(শিক্ষা ও উন্নয়ন) মোঃ শরীফ উদ্দীন ও ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জামিল চৌধুরী। আলোচনায় অংশনেন চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক হোসাইন কবির, বীরমুক্তিযোদ্ধা শিক্ষাবিদ ডঃ প্রফেসর ইদ্রিস আলী, ক্যাব বান্দারবান জেলা কমিটির সভাপতি সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মনু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক এস এম শাহীন, খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সভাপতি সাংবাদিক আবু তাহের, ফেনী জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম নান্টু, কুমিল্লা জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক কাজী মাসুদুল আলম, কক্সবাজার জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক জসিম উদ্দীন সিদ্দিকী, রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক রানা মহসিন, ন্যাপ কেন্দ্রিয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিটুল দাস গুপ্ত, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ¦ আবদুল মান্নান, ক্যাব মহানগরের সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, যুগ্ন সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম জাহাঙ্গীর, ক্যাব মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, ক্যাব চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কমিটির সদস্য সচিব শাহাদত হোসেন, রাউজান উপজেলা কমিটির সাংবাদিক মোজাফ্ফর হোসেন, চন্দনাইশ উপজেলা কমিটির সভাপতি নুরুল হক চৌধুরী, হাটহাজারী উপজেলা কমিটির লায়লা ইয়াছমিন, ক্যাব যুব গ্রুপ চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি আবু হানিফ নোমান, চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি রাব্বি তৌহিদ, সদস্য রাসেল উদ্দীন, এমদাদুল ইসলাম প্রমুখ। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপ-পরিচালক ফয়েজউল্যাহ, জেলা সহকারী পরিচালক নাসরীন আকতার এ উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলীম আখতার খান বলেন, জনতার আন্দোলন বিফলে যায় না, যারা হতাশায় ভোগতেন তাদের অবশ্যই নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও চব্বিশ এর জুলাইয়ের আন্দোলন থেকে শিক্ষা নেয়া দরকার। ক্যাব এর আন্দোলনের কারনে আজকে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। তাই কিছুই হবে না বা অসাধু ব্যবসায়ীদের শৃংখলায় আনা যাবে না এ তত্ত্ব থেকে বের হয়ে আসতে হবে। ব্যাপক গণজাগরন একদিন অসাধু ব্যবসায়ীদের সব অপকর্ম একদিন বন্ধ হবে। তবে এজন্য তৃণমূলে জনগনের কন্ঠশ^র শক্তিশালী করতে সামাজিক আন্দোলনের বিকল্প নাই। যে কোন জনভোগান্তি ও অধিকার লংঘনের ঘটনা ঘটলেই তাদের পাশে দাড়ানো ও জোরালো প্রতিবাদ কর্মসুচি নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। তরুনদের মাঝে স্বপ্ন দেখাতে হবে। দেশে ভোক্তা অধিকার লংগনের ঘটনা প্রতিরোধে তরুণ সমাজকে আরও দক্ষ ও শক্তিশালী করতে না পারলে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মাঝে বৈষম্য কমানো যাবে না।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার ডঃ মোঃ জিয়াউদ্দীন বলেন অর্থনৈতিক সমস্যা অর্থনৈতিক ভাবে সমাধান করতে হবে। সমাজের যে কোন পরিবর্তনে সামাজিক আন্দোলনের বিকল্প নাই। যারা অসাধু ব্যবসায়ী নানা অপকর্ম করছে, তারা আমাদের সমাজের অংশ। কারো, ভাই, কারো আত্মীয়স্বজন। তাই অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধের বিকল্প নেই। আর এ কাজে ক্যাব নেতৃত্ব প্রদান করবেন এ প্রত্যাশা করেন।

    জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ মাঠ পর্যায়ে ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। বিভাগের অনেক জেলায় জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তরের জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা নাই। যেখানে জেলায় একজন কর্মকর্তা দিয়ে সামাল দেয়া কঠিন, সেখানে একজন কর্মকর্তা দুই জেলার দায়িত্বপালন করছেন। ক্যাব নেতৃবৃন্দকে ভোক্তা অধিকার বিষয়ে আরও প্রশিক্ষন দিয়ে যোগ্য হিসাবে গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে বলা হয়, ভোক্তা ও চ্যারিটির মধ্যে পার্থক্য অনুধাবন করতে না পারলে মানুষের অধিকারের পক্ষে লড়াই করা যাবে না। সমাজে সমাজ কর্মী বা দান খয়রাত করেন এমন লোকের সংখ্যা কম নয়। কিন্তু কোন মানুষের অধিকার লংগন হলে এগিয়ে আসেন এরকম লোকের সংখ্যা ক্রমাগতই কমছে। সমাজে অনেক ভালো মানুষ আছে, যারা “সাপকেও লম্বা বলেন না” আবার “ব্যাঙকেও ছোট বলেন না”। আর এ সমস্ত লোকজনকে দিয়ে সমাজ পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাই কনজিউমারিজম বিষয়ে ক্যাব নেতাদের আরও দক্ষ করার বিকল্প নাই। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্যাবকে শক্তিশালী করতে সরকারের পৃষ্ঠাপোষকতা বাড়ানোর সুপারিশ করে বলা হয়, ব্যবসায়ী সংগঠনগুলি সরকারের নানা সুবিধা ও প্রণোদনা পেয়ে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হলেও, সেখানে ক্যাব এখনও “নিজের খেয়ে বনের মোষ আর তাড়াচ্ছে”? সম্মেলনে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলার প্রায় ১৫০ জন ক্যাব নেতা/প্রতিনিধি অংশগ্রহন করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দেড় মাসের শিশু নিয়ে কারাগারে যাওয়া মায়ের মুক্তি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিদ মুবিন রাতুলকে হত্যাচেষ্টার মামলায় দেড় মাসের মেয়েকে নিয়ে কারাগারে যাওয়া যুব মহিলা লীগের কর্মী শিল্পী বেগম জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।বুধবার বেলা ১২টার কিছু আগে কাশিমপুর কারাগার থেকে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। এসময় পরিবারের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।শিল্পীর আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী বলেন, গতকাল দুপুরে জামিন নামঞ্জুর করে শিল্পীকে কারাগারে পাঠানো হয়। সন্ধ্যায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করলে জামিন পান তিনি।

শিল্পীর স্বামী রহিম হোসেন সোহাগ বলেন-গরমে বাচ্চাটা একটু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ওর মা তো আগে থেকেই অসুস্থ। টেনশনের কারণে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছে।শিল্পী বেগম ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছে।

তেজকুনিপাড়ার রেলওয়ে কলোনি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।মঙ্গলবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।স্বজনরা সে সময় বলেছিলেন, গত ৪ মার্চ ঢাকার আদ-দ্বীন হাসপাতাল সি সেকশনের মাধ্যমে শিল্পীর সন্তানের জন্ম হয়। এর পর বাথরুমে পড়ে বাঁ হাত ভেঙে যায় শিল্পীর।

জামিন নাকচ হওয়ার পর শিল্পী বলেন-সিজারের কাটা জায়গায় এখনো ব্যথা করে। বাচ্চাকে ঠিকমত খাওয়াতে পারি না। ও তো মরে যাবে।দেড় মাসের শিশুকে নিয়ে কারাগারে মা’– এমন খবর প্রচারের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানামুখি আলোচনা শুরু হয়। সন্ধ্যায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান মানবিক দিক বিবেচনা করে শিল্পীকে জামিন দেন।

রাতুলের হত্যা চেষ্টা মামলার বিবরণে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চানখারপুল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিদ মুবিন রাতুল। সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান৷ সেখানে ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতা-কর্মী তাদের আক্রমণ করেন।

পরে আসামি শিল্পীর নির্দেশে ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় এজাহারভুক্ত আসামিরাসহ অচেনা ১২০/১৩০ জন ওই শিক্ষার্থীর তেজগাঁওয়ের বাসায় হামলা চালায়। বাসার আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্র ভাংচুর করায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। তিন লাখ টাকার বিভিন্ন মালামাল লুটপাট ও চুরি করে নিয়ে যান আসামিরা। শিল্পী ও অন্য আসামিরা ওই শিক্ষার্থীর বাবা সোহেল রানাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় গত বছরের ২৫ জানুয়ারি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ১০৩ জনের নাম উল্লেখ করে অচেনা ১২০/১৩০ জনকে আসামি করে শিক্ষার্থী রাতুলের মা শাহনুর খানম তেজগাঁও থানায় মামলা করেন।

গ্যাস সরবরাহ কম, জ্বালানি সংকট চাকা ঘুরছেনা চট্টগ্রামের ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্রের, চরম ভোগান্তি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় নগরের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে, ফলে ভ্যাপসা গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়, এমনকি দেখা দিয়েছে পানির সংকটও।জ্বালানি সংকটের কারণে এসব বিদ্যাৎকেন্দ্রগুলোর চাকা বন্ধ রয়েছে। যার ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। উৎপাদন কমে আসলেও গরমের কারণ বাড়ছে চাহিদা। ফলে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে বাড়ছে ভোগান্তি। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দিনে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা। নগরীর রাহাত্তারপুল এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, বৈশাখ মাসের গরমে বিদ্যুৎ ছাড়া টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।ফটিকছড়ির ব্যবসায়ী হামিদুল ইসলাম বলেন, দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। দোকানে অনলাইনভিত্তিক কাজ করতে হয়। বিদ্যুৎ ছাড়া কাজ করা যায় না। আমরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।পিডিবির চট্টগ্রাম নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহমিদা জামান জানান, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া ও জ্বালানি সংকটের কারণে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী লোডশেডিং কমবেশি হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র জানায়, গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২১১ দশমিক ২০ মেগাওয়াট। উৎপাদন হয় ১ হাজার ৩৫৩ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট। তবে এর মধ্যে ১৪২ দশমিক ৩০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করায় স্থানীয়ভাবে ৬৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়। এর আগে বেলা ১১টায় চাহিদা ছিল ১ হাজার ২৯১ দশমিক ৬০ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ১ হাজার ২০০ দশমিক ৭০ মেগাওয়াট। তখন লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯০ দশমিক ৯০ মেগাওয়াট।

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ১০টি কেন্দ্র উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। এর মধ্যে এনলিমা (১১৬ মেগাওয়াট), জুডিয়াক (৫৪ মেগাওয়াট), জুলধা-২ ও ৩ (প্রতিটি ১০০ মেগাওয়াট), রাউজান ১ ও ২ (প্রতিটি ২১০ মেগাওয়াট) এবং কক্সবাজারের উইন্ড প্ল্যান্ট উল্লেখযোগ্য। পিডিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার বেলা ১১টায় ১১টি ও সন্ধ্যা ৭টায় ১৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ছিল শূন্যের কোঠায়। এরমধ্যে ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্রে সকাল-সন্ধ্যা উৎপাদনের বাইরে ছিল। এর মধ্যে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র মাতারবাড়ী কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে সকালে কিছু উৎপাদন মিললেও সন্ধ্যায় তা শূন্যে নেমে আসে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র দুটি।

বর্তমানে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহ মূলত নির্ভর করছে কয়েকটি কেন্দ্রের ওপর। সন্ধ্যার হিসাব অনুযায়ী বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে ৬১২ মেগাওয়াট, শিকলবাহা কেন্দ্র থেকে ২১৮ মেগাওয়াট এবং মিরসরাইয়ের বি-আর পাওয়ার কেন্দ্র থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া গেছে।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ