আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

পৃথিবীর অনেক দেশ শুধুমাত্র মানবসম্পদ দিয়ে এগিয়ে : গোলটেবিল বৈঠকে

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পরিকল্পিতভাবে মানবসম্পদ উন্নয়ন দেশের অর্থনৈতিক ভিতকে মজবুত করে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে কারিগরি শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজন রীতিবদ্ধ ও সুসংগঠিত শিক্ষা ব্যবস্থাপনা; যেখানে তাত্ত্বিক, প্রায়োগিক জ্ঞান অর্জন, দান খুব জরুরি। এজন্য আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে কর্মমুখী করে ঢেলে সাজাতে হবে।
‘বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেমন মানবসম্পদ চাই’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেছেন বক্তারা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সেন্টার ফর বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (সিইউসিবিএ) অ্যালমনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে শনিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সুলতান আহমেদ হলে এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
সিইউসিবিএ এর অ্যালমনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও যমুনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইউসুফের সভাপতিত্বে এতে অতিথি হিসেবে আলোচনা সভায় অংশ নিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক এস. এম. নসরুল কদির, সিইউসিবিএ এর পরিচালক ড. মোহাম্মাদ তৈয়ব চৌধুরী, সিইউসিবিএ এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সজীব কুমার ঘোষ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আফতাব উদ্দিন । এছাড়া সভায় বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের করপোরেট কর্মকর্তা, ব্যাংক কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও শিক্ষার্থীরা মানবসম্পদের উপর মতামত দিয়েছেন। আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের যুগ্ম-সম্পাদক কামরুল হাসান হারুন, কনফিডেন্স সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির উদ্দিন, সাউথ ইষ্ট ব্যাংক চট্টগ্রাম জোনাল হেড মো. রাশেদুল আমিন, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের এজিএম আরিফ আহমেদ, বিএসআরএম গ্রুপের সাপ্লাই চেইন বিভাগের প্রধান সঞ্জয় কুমার ঘোষ, একে খান এন্ড কোম্পানির মানব সম্পদ বিভাগের একেএম মাফরুল হক, হাইডেল্ডবার্গ সিমেন্টের মানব সম্পদ বিভাগের প্রধান আরিফুর রহমান, ট্যালেন্ট ম্যানেজমেন্ট একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা নোমান বিন জহির উদ্দিন, দৈনিক বণিক বার্তার চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান রাশেদ এইচ চৌধুরী, ইপ্সার মানব সম্পদ বিভাগের প্রধান গাজী মো. মাইনুদ্দিন প্রমুখ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে চবির ব্যবসা প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক এসএম নসরুল কদির বলেন, রাতারাতি আমরা সবকিছু পরিবর্তন করতে পারবো না। আমার বিশ্বাস আমাদের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যাবে। অ্যাকাডেমিক ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিল্ডের জন্য তাদের তৈরি করতে হবে। বর্তমান পৃথিবীকে আমরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এ আইয়ের যুগ বলছি। এজন্যই শিক্ষার্থীদের আরও বেশী দক্ষ হয়ে উঠতে হবে।
বিএসআরএমের সিনিয়র ব্যবস্থাপক ফাহমিনা আসাদ বলেন, প্র্যাকটিক্যাল জ্ঞান না থাকলে শুধুমাত্র থিউরিটিক্যাল জ্ঞান দিয়ে জব মার্কেটে ভালো করা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মমূখী শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করা উচিৎ।
বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের কর্মকর্তা কাউসার হাসান বলেন, চ্যালেঞ্জ থাকবে, আমাদের মানিয়ে নিতে হবে। যুগোপযোগী কারিকুলাম তৈরি করতে হবে। বর্তমানে কাজ করতে দক্ষতা লাগবে, জ্ঞান লাগবে। এটার বিকল্প নেই।
বসুন্ধরা গ্রুপের উপ-মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ বলেন, আমাদের কারিকুলাম আপডেট করতে হবে। আমরা এখনো ৯০ সালের কারিকুলামে পড়াশোনা করাই। আমরা কি ধরনের স্কিল চাই সেটা বুঝতে হবে। আমাদের কমিউনিকেশন স্কিল এবং অ্যানালাইটিক্যাল স্কিল নিয়ে কাজ করতে হবে। এই জেনারেশানের শিক্ষার্থীরা দ্রুত বড় হতে চায়। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের জন্য ক্যারিয়ার কাউন্সিলিং করা প্রয়োজন।
দৈনিক বণিক বার্তার চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান রাশেদ এইচ চৌধুরী বলেন, পৃথিবীতে তিনটা তত্ত্ব ব্যবহার করে দেশগুলো উন্নতির শিখরে উঠেছে। একটি হলো প্রাকৃতিক সম্পদ, দ্বিতীয়ত প্রযুক্তিগত জ্ঞান-বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে। এছাড়া আরেকটি তত্ত্ব হলো মানবসম্পদ উন্নয়ন। পৃথিবীর অনেক দেশ শুধুমাত্র মানবসম্পদ দিয়ে এগিয়ে গেছে। আমাদের দেশে মানুষ আছে, তবে মানবসম্পদ তৈরি হচ্ছে না। যার কারণে বাইরে থেকে লোক এনে কাজ করাতে হচ্ছে। আমাদের সমন্বয় ও যোগাযোগ দক্ষতা খুবই দুর্বল। এসব নিয়ে কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক আশফাক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন বলেন, একটি দেশের বস্তুগত সম্পদ এবং সম্ভাবনা যতই থাকুক না কেন, যতক্ষণ এ সম্পদ ও সম্ভাবনা কাজে না লাগাতে পারবে ততক্ষণ পর্যন্ত এ থেকে কোনো সুফল পাওয়া যাবে না। তাই কর্মমুখী শিক্ষার দিকে জোর দিতে হবে আমাদের।
বক্তারা বলেন, যোগাযোগ দক্ষতা, কম্পিউটার দক্ষতা, নৈতিকতা, বিশ্লেষণ ক্ষমতা, সব সেক্টরে নিজেকে খাপ খাওনোর মতো মানসিক শক্তি থাকতে হবে উচ্চ শিক্ষা গ্রাহণকারী শিক্ষার্থীদের। আমাদের দেশে একটি উচ্চ শিক্ষিত প্রজন্ম তৈরি হয়েছে। তবে দক্ষ মানবসম্পদ নেই। এজন্য পাশ্ববর্তী দেশ ভারত ও শ্রীলঙ্কা থেকে অভিজ্ঞদের নিয়ে এসে বিশাল অঙ্কের বেতন দিয়ে রাখতে হচ্ছে। ভারত-শ্রীলঙ্কার মানুষরা যদি পারে, আমরা কেন পারবো না!
তারা আরও বলেন, উন্নয়ন মূলত মানুষকেন্দ্রিক। এ জন্য পল্লি উন্নয়ন, প্রাকৃতিক সম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, শিল্প উন্নয়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে অবদান রাখতে হবে মানুষকেই। অতএব, একটি দেশ যতক্ষণ তার বস্তুগত সম্পদ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে না পারবে ততক্ষণ পর্যন্ত এ ক্ষেত্রে কোনো সুফল পাওয়া যাবে না। তাই দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে আমাদের। দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি করতে পারলে বাংলাদেশ আর বেকারত্ব থাকবে না।
সিইউসিবিএ এর অ্যালমনাই অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা সজিব কুমার ঘোষ বলেন, বাংলাদেশ সরকার উচ্চ-শিক্ষা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিল। আমরা যদি কোয়ালিটি শিক্ষা নিশ্চিত করতে চাই তবে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলোকে চিহ্নিত করতে হবে। শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের পর যেন তার দক্ষতানুযায়ী জব সেক্টরে কাজে লাগতে পারে, আমরা সে চেষ্টা করছি। এজন্য সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সিইউসিবিএ এর পরিচালক ড. মোহাম্মাদ তৈয়ব চৌধুরী বলেন, আমরা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারিনি। শিক্ষার্থীদের হাতে কলমে শিখাতে হবে। তাদের বুঝাতে হবে কিভাবে কাজ করতে হয়। এখন জেলা-উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ হচ্ছে। এগুলো বন্ধ করে নার্সিং ইন্সটিটিউট করুন, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করুন তাহলেই দেশ উপকৃত হবে। আমাদের কতজন গ্রাজুয়েট প্রয়োজন তার রাষ্ট্রীয় কোনো হিসাব নেই, কোনো পলিসি কিংবা এজেন্ডাও নেই। তাহলে কিভাবে আমরা এগিয়ে যাবো? সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত করেই কিভাবে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা যায়, সেটি খুঁজে বের করতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিইউসিবিএ এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা এনামুল হক, এবিএম শিহাব উদ্দিন, সহ সভাপতি আমিনুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, সেমিনার ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মহিউদ্দিন রিয়াদ, দপ্তর সম্পাদক মোজাফ্ফর হোসেন রাহাত প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি, প্রতিবাদে অবস্থান ধর্মঘট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে হাইকোর্টে চলমান মামলায় দখলদারদের পক্ষে অবস্থান না নেওয়ার দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছে ৮টি পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠন।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় নগরীর চেরাগি পাহাড় চত্বর এলাকায় চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন এই ধর্মঘটের আয়োজন করে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি এস এম পেয়ার আলী সঞ্চালনায় অবস্থান ধর্মঘটে অংশ নেয় বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম, সৃষ্টি, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন, কর্ণফুলী সুরক্ষা পরিষদ, ইউনাইটেড সোশ্যাল নেটওয়ার্ক, রেজাউল করিম শিকদার ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন।
অবস্থান র্ধমঘট চলাকালে বক্তারা বলেন, কর্ণফুলী নদী রক্ষায় তিন দফা দাবি অচিরেই বাস্তবায়ন করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যম কর্ণফুলীতে সাম্পান ও জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।

তিনটি দাবি হচ্ছে- মহামান্য হাইকোর্টে চলমান মামলায় দখলদারদের পক্ষ নিয়ে জনস্বার্থ মামলার বিরোধিতাকারীদের প্রত্যাহার করতে হবে। হাইকোর্ট নির্দেশিত নদী জীবত্ব সত্ত্বা আদেশ অনুযায়ী কর্ণফুলী দখল দূষণমুক্ত করতে হবে এবং সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় কর্ণফুলী নদীর তীরে টিকে থাকা সাড়ে তিন শতাধিক দেশিয় প্রজাতির গাছ সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।পাশাপাশি নদী তীরে ব্যাপকহারে গাছ লাগাতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদলে গ্রাম সরকার বা ওয়ার্ড সরকার করে তাদের সমন্বয়ে দেশ পরিচালনা না করলে এই অব্যবস্থাপনা যাবে না।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে কর্ণফুলীর কারণে। দুখের কথা হচ্ছে- দেশের সঞ্চালক এই নদী রক্ষার জন্য সরকার ও প্রশাসন বরাবর উদাসীন। আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি- আপনারা কর্ণফুলী দখল দূষণমুক্ত করুন, না হয় জনগণ আপনাদের ক্ষমা করবে না। সাংবাদিক আলীউর রহমান বলেন, নতুন সরকারের নদী ও খাল রক্ষার ঘোষণায় কর্ণফুলীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হওয়ার আশায় ছিলাম। এখন অনেকে দখলদারদের পক্ষ নিয়ে কর্ণফুলীকে চিরতরে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে, যা চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণ প্রতিহত করবে।

এসময় বক্তব্য দেন ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগর সহ-সভাপতি জানে আলম, কর্ণফুলী সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি কামাল পারভেজ, বাংলাদেশ জাহাজি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এম নুরুল হুদা চৌধুরী, রেজাউল করিম সিকদার ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জাহিদুল করিম বাপ্পি, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি জাফর আলম, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক লোকমান দয়াল, ইউনাইটেড সোশ্যাল নেটওয়ার্কের পরিচালক আমির হোসেন, হস্তচালিত বড় সাম্পান মাঝি সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হোসাইন, চরপাথরঘাটা ব্রিজঘাট সাম্পান সমিতির সাধারণ সম্পাদক কোরবান আলী, মৎস্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমন রায়, সমাজসেবক আরমান হোসেন প্রমুখ।

বালু নদের কায়েতপাড়া-নগরপাড়া সেতু আগামী এক বছরের মধ্যে চালু করা হবে – প্রতিমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মাহাবুবুর রহমান রনি, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, বালু নদের কায়েতপাড়া-নগরপাড়া সেতু আগামী এক বছরের মধ্যে চালু করা হবে। সেতু চালু হলে দীর্ঘদিনের কাঙ্খিত প্রত্যাশা পূরণে ঢাকার পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো একধাপ এগিয়ে যাবে। একটি কুচক্রী মহল এতদিন সেতু নির্মাণ কাজ বাঁধাগ্রস্থ করে রাখে। আজ ১৮জুন বৃহস্পতিবার রূপগঞ্জ উপজেলার ইছাপুরা সেতু ও কায়েতপাড়া-নগরপাড়া সেতু পরিদর্শন শেষে নগরপাড়ায় আয়োজিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু, রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সাইফুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব গোলাম ফারুক খোকন, রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন, সাধারণ সম্পাদক হাজী বাছির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ঢাকার পূর্ব মাদারটেক, সবুজবাগ হয়ে বালু নদের সেতু পার হয়ে সিলেট ও চট্টগ্রামসহ ঢাকার পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় সহজেই আসা-যাওয়া করা যাবে। সেই দিক থেকে বালু নদের সেতুটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। বালু নদের সেতু নির্মাণ কাজ আগামী এক বছরের মধ্যে সমাপ্ত করা হবে। সেতু দু’টি চালু হলে লাখো মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। কৃষি ও ব্যবসা বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সিলেটসহ ঢাকার পূর্বাঞ্চলীয় জেলায় যানবাহন চলাচল আরো সহজ ও দ্রুত হবে। উল্লেখ বালু নদের কায়েতপাড়া-নগরপাড়া সেতু নির্মাণ ২৩ বছরেও শেষ হয়নি।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ