আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

পৃথিবীর অনেক দেশ শুধুমাত্র মানবসম্পদ দিয়ে এগিয়ে : গোলটেবিল বৈঠকে

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পরিকল্পিতভাবে মানবসম্পদ উন্নয়ন দেশের অর্থনৈতিক ভিতকে মজবুত করে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে কারিগরি শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজন রীতিবদ্ধ ও সুসংগঠিত শিক্ষা ব্যবস্থাপনা; যেখানে তাত্ত্বিক, প্রায়োগিক জ্ঞান অর্জন, দান খুব জরুরি। এজন্য আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে কর্মমুখী করে ঢেলে সাজাতে হবে।
‘বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেমন মানবসম্পদ চাই’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেছেন বক্তারা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সেন্টার ফর বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (সিইউসিবিএ) অ্যালমনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে শনিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সুলতান আহমেদ হলে এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
সিইউসিবিএ এর অ্যালমনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও যমুনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইউসুফের সভাপতিত্বে এতে অতিথি হিসেবে আলোচনা সভায় অংশ নিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক এস. এম. নসরুল কদির, সিইউসিবিএ এর পরিচালক ড. মোহাম্মাদ তৈয়ব চৌধুরী, সিইউসিবিএ এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সজীব কুমার ঘোষ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আফতাব উদ্দিন । এছাড়া সভায় বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের করপোরেট কর্মকর্তা, ব্যাংক কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও শিক্ষার্থীরা মানবসম্পদের উপর মতামত দিয়েছেন। আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের যুগ্ম-সম্পাদক কামরুল হাসান হারুন, কনফিডেন্স সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির উদ্দিন, সাউথ ইষ্ট ব্যাংক চট্টগ্রাম জোনাল হেড মো. রাশেদুল আমিন, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের এজিএম আরিফ আহমেদ, বিএসআরএম গ্রুপের সাপ্লাই চেইন বিভাগের প্রধান সঞ্জয় কুমার ঘোষ, একে খান এন্ড কোম্পানির মানব সম্পদ বিভাগের একেএম মাফরুল হক, হাইডেল্ডবার্গ সিমেন্টের মানব সম্পদ বিভাগের প্রধান আরিফুর রহমান, ট্যালেন্ট ম্যানেজমেন্ট একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা নোমান বিন জহির উদ্দিন, দৈনিক বণিক বার্তার চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান রাশেদ এইচ চৌধুরী, ইপ্সার মানব সম্পদ বিভাগের প্রধান গাজী মো. মাইনুদ্দিন প্রমুখ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে চবির ব্যবসা প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক এসএম নসরুল কদির বলেন, রাতারাতি আমরা সবকিছু পরিবর্তন করতে পারবো না। আমার বিশ্বাস আমাদের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যাবে। অ্যাকাডেমিক ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিল্ডের জন্য তাদের তৈরি করতে হবে। বর্তমান পৃথিবীকে আমরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এ আইয়ের যুগ বলছি। এজন্যই শিক্ষার্থীদের আরও বেশী দক্ষ হয়ে উঠতে হবে।
বিএসআরএমের সিনিয়র ব্যবস্থাপক ফাহমিনা আসাদ বলেন, প্র্যাকটিক্যাল জ্ঞান না থাকলে শুধুমাত্র থিউরিটিক্যাল জ্ঞান দিয়ে জব মার্কেটে ভালো করা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মমূখী শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করা উচিৎ।
বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের কর্মকর্তা কাউসার হাসান বলেন, চ্যালেঞ্জ থাকবে, আমাদের মানিয়ে নিতে হবে। যুগোপযোগী কারিকুলাম তৈরি করতে হবে। বর্তমানে কাজ করতে দক্ষতা লাগবে, জ্ঞান লাগবে। এটার বিকল্প নেই।
বসুন্ধরা গ্রুপের উপ-মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ বলেন, আমাদের কারিকুলাম আপডেট করতে হবে। আমরা এখনো ৯০ সালের কারিকুলামে পড়াশোনা করাই। আমরা কি ধরনের স্কিল চাই সেটা বুঝতে হবে। আমাদের কমিউনিকেশন স্কিল এবং অ্যানালাইটিক্যাল স্কিল নিয়ে কাজ করতে হবে। এই জেনারেশানের শিক্ষার্থীরা দ্রুত বড় হতে চায়। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের জন্য ক্যারিয়ার কাউন্সিলিং করা প্রয়োজন।
দৈনিক বণিক বার্তার চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান রাশেদ এইচ চৌধুরী বলেন, পৃথিবীতে তিনটা তত্ত্ব ব্যবহার করে দেশগুলো উন্নতির শিখরে উঠেছে। একটি হলো প্রাকৃতিক সম্পদ, দ্বিতীয়ত প্রযুক্তিগত জ্ঞান-বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে। এছাড়া আরেকটি তত্ত্ব হলো মানবসম্পদ উন্নয়ন। পৃথিবীর অনেক দেশ শুধুমাত্র মানবসম্পদ দিয়ে এগিয়ে গেছে। আমাদের দেশে মানুষ আছে, তবে মানবসম্পদ তৈরি হচ্ছে না। যার কারণে বাইরে থেকে লোক এনে কাজ করাতে হচ্ছে। আমাদের সমন্বয় ও যোগাযোগ দক্ষতা খুবই দুর্বল। এসব নিয়ে কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক আশফাক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন বলেন, একটি দেশের বস্তুগত সম্পদ এবং সম্ভাবনা যতই থাকুক না কেন, যতক্ষণ এ সম্পদ ও সম্ভাবনা কাজে না লাগাতে পারবে ততক্ষণ পর্যন্ত এ থেকে কোনো সুফল পাওয়া যাবে না। তাই কর্মমুখী শিক্ষার দিকে জোর দিতে হবে আমাদের।
বক্তারা বলেন, যোগাযোগ দক্ষতা, কম্পিউটার দক্ষতা, নৈতিকতা, বিশ্লেষণ ক্ষমতা, সব সেক্টরে নিজেকে খাপ খাওনোর মতো মানসিক শক্তি থাকতে হবে উচ্চ শিক্ষা গ্রাহণকারী শিক্ষার্থীদের। আমাদের দেশে একটি উচ্চ শিক্ষিত প্রজন্ম তৈরি হয়েছে। তবে দক্ষ মানবসম্পদ নেই। এজন্য পাশ্ববর্তী দেশ ভারত ও শ্রীলঙ্কা থেকে অভিজ্ঞদের নিয়ে এসে বিশাল অঙ্কের বেতন দিয়ে রাখতে হচ্ছে। ভারত-শ্রীলঙ্কার মানুষরা যদি পারে, আমরা কেন পারবো না!
তারা আরও বলেন, উন্নয়ন মূলত মানুষকেন্দ্রিক। এ জন্য পল্লি উন্নয়ন, প্রাকৃতিক সম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, শিল্প উন্নয়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে অবদান রাখতে হবে মানুষকেই। অতএব, একটি দেশ যতক্ষণ তার বস্তুগত সম্পদ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে না পারবে ততক্ষণ পর্যন্ত এ ক্ষেত্রে কোনো সুফল পাওয়া যাবে না। তাই দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে আমাদের। দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি করতে পারলে বাংলাদেশ আর বেকারত্ব থাকবে না।
সিইউসিবিএ এর অ্যালমনাই অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা সজিব কুমার ঘোষ বলেন, বাংলাদেশ সরকার উচ্চ-শিক্ষা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিল। আমরা যদি কোয়ালিটি শিক্ষা নিশ্চিত করতে চাই তবে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলোকে চিহ্নিত করতে হবে। শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের পর যেন তার দক্ষতানুযায়ী জব সেক্টরে কাজে লাগতে পারে, আমরা সে চেষ্টা করছি। এজন্য সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সিইউসিবিএ এর পরিচালক ড. মোহাম্মাদ তৈয়ব চৌধুরী বলেন, আমরা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারিনি। শিক্ষার্থীদের হাতে কলমে শিখাতে হবে। তাদের বুঝাতে হবে কিভাবে কাজ করতে হয়। এখন জেলা-উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ হচ্ছে। এগুলো বন্ধ করে নার্সিং ইন্সটিটিউট করুন, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করুন তাহলেই দেশ উপকৃত হবে। আমাদের কতজন গ্রাজুয়েট প্রয়োজন তার রাষ্ট্রীয় কোনো হিসাব নেই, কোনো পলিসি কিংবা এজেন্ডাও নেই। তাহলে কিভাবে আমরা এগিয়ে যাবো? সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত করেই কিভাবে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা যায়, সেটি খুঁজে বের করতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিইউসিবিএ এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা এনামুল হক, এবিএম শিহাব উদ্দিন, সহ সভাপতি আমিনুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, সেমিনার ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মহিউদ্দিন রিয়াদ, দপ্তর সম্পাদক মোজাফ্ফর হোসেন রাহাত প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দেড় মাসের শিশু নিয়ে কারাগারে যাওয়া মায়ের মুক্তি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিদ মুবিন রাতুলকে হত্যাচেষ্টার মামলায় দেড় মাসের মেয়েকে নিয়ে কারাগারে যাওয়া যুব মহিলা লীগের কর্মী শিল্পী বেগম জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।বুধবার বেলা ১২টার কিছু আগে কাশিমপুর কারাগার থেকে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। এসময় পরিবারের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।শিল্পীর আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী বলেন, গতকাল দুপুরে জামিন নামঞ্জুর করে শিল্পীকে কারাগারে পাঠানো হয়। সন্ধ্যায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করলে জামিন পান তিনি।

শিল্পীর স্বামী রহিম হোসেন সোহাগ বলেন-গরমে বাচ্চাটা একটু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ওর মা তো আগে থেকেই অসুস্থ। টেনশনের কারণে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছে।শিল্পী বেগম ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছে।

তেজকুনিপাড়ার রেলওয়ে কলোনি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।মঙ্গলবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।স্বজনরা সে সময় বলেছিলেন, গত ৪ মার্চ ঢাকার আদ-দ্বীন হাসপাতাল সি সেকশনের মাধ্যমে শিল্পীর সন্তানের জন্ম হয়। এর পর বাথরুমে পড়ে বাঁ হাত ভেঙে যায় শিল্পীর।

জামিন নাকচ হওয়ার পর শিল্পী বলেন-সিজারের কাটা জায়গায় এখনো ব্যথা করে। বাচ্চাকে ঠিকমত খাওয়াতে পারি না। ও তো মরে যাবে।দেড় মাসের শিশুকে নিয়ে কারাগারে মা’– এমন খবর প্রচারের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানামুখি আলোচনা শুরু হয়। সন্ধ্যায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান মানবিক দিক বিবেচনা করে শিল্পীকে জামিন দেন।

রাতুলের হত্যা চেষ্টা মামলার বিবরণে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চানখারপুল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিদ মুবিন রাতুল। সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান৷ সেখানে ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতা-কর্মী তাদের আক্রমণ করেন।

পরে আসামি শিল্পীর নির্দেশে ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় এজাহারভুক্ত আসামিরাসহ অচেনা ১২০/১৩০ জন ওই শিক্ষার্থীর তেজগাঁওয়ের বাসায় হামলা চালায়। বাসার আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্র ভাংচুর করায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। তিন লাখ টাকার বিভিন্ন মালামাল লুটপাট ও চুরি করে নিয়ে যান আসামিরা। শিল্পী ও অন্য আসামিরা ওই শিক্ষার্থীর বাবা সোহেল রানাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় গত বছরের ২৫ জানুয়ারি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ১০৩ জনের নাম উল্লেখ করে অচেনা ১২০/১৩০ জনকে আসামি করে শিক্ষার্থী রাতুলের মা শাহনুর খানম তেজগাঁও থানায় মামলা করেন।

গ্যাস সরবরাহ কম, জ্বালানি সংকট চাকা ঘুরছেনা চট্টগ্রামের ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্রের, চরম ভোগান্তি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় নগরের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে, ফলে ভ্যাপসা গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়, এমনকি দেখা দিয়েছে পানির সংকটও।জ্বালানি সংকটের কারণে এসব বিদ্যাৎকেন্দ্রগুলোর চাকা বন্ধ রয়েছে। যার ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। উৎপাদন কমে আসলেও গরমের কারণ বাড়ছে চাহিদা। ফলে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে বাড়ছে ভোগান্তি। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দিনে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা। নগরীর রাহাত্তারপুল এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, বৈশাখ মাসের গরমে বিদ্যুৎ ছাড়া টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।ফটিকছড়ির ব্যবসায়ী হামিদুল ইসলাম বলেন, দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। দোকানে অনলাইনভিত্তিক কাজ করতে হয়। বিদ্যুৎ ছাড়া কাজ করা যায় না। আমরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।পিডিবির চট্টগ্রাম নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহমিদা জামান জানান, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া ও জ্বালানি সংকটের কারণে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী লোডশেডিং কমবেশি হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র জানায়, গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২১১ দশমিক ২০ মেগাওয়াট। উৎপাদন হয় ১ হাজার ৩৫৩ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট। তবে এর মধ্যে ১৪২ দশমিক ৩০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করায় স্থানীয়ভাবে ৬৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়। এর আগে বেলা ১১টায় চাহিদা ছিল ১ হাজার ২৯১ দশমিক ৬০ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ১ হাজার ২০০ দশমিক ৭০ মেগাওয়াট। তখন লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯০ দশমিক ৯০ মেগাওয়াট।

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ১০টি কেন্দ্র উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। এর মধ্যে এনলিমা (১১৬ মেগাওয়াট), জুডিয়াক (৫৪ মেগাওয়াট), জুলধা-২ ও ৩ (প্রতিটি ১০০ মেগাওয়াট), রাউজান ১ ও ২ (প্রতিটি ২১০ মেগাওয়াট) এবং কক্সবাজারের উইন্ড প্ল্যান্ট উল্লেখযোগ্য। পিডিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার বেলা ১১টায় ১১টি ও সন্ধ্যা ৭টায় ১৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ছিল শূন্যের কোঠায়। এরমধ্যে ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্রে সকাল-সন্ধ্যা উৎপাদনের বাইরে ছিল। এর মধ্যে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র মাতারবাড়ী কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে সকালে কিছু উৎপাদন মিললেও সন্ধ্যায় তা শূন্যে নেমে আসে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র দুটি।

বর্তমানে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহ মূলত নির্ভর করছে কয়েকটি কেন্দ্রের ওপর। সন্ধ্যার হিসাব অনুযায়ী বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে ৬১২ মেগাওয়াট, শিকলবাহা কেন্দ্র থেকে ২১৮ মেগাওয়াট এবং মিরসরাইয়ের বি-আর পাওয়ার কেন্দ্র থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া গেছে।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ