আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় অসামাজিক কার্যকলাপের দায়ে এনজিও কর্মীসহ আটক -২

পাবনা প্রতিনিধি :

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে সৌখিন নামের এক আরবান এনজিও কর্মচারী ও তার কথিত প্রেমিকাকে আটক করা হয়েছে।গত শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে উপজেলার পৌর সদরের কালিবাড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ তাদেরকে আটক করে। এর আগে ওই এনজিও কর্মীর ভাড়া বাসায় অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে স্থানীয় বিক্ষুদ্ধ জনতা আপত্তিকর অবস্থায় তাদের দুজনকে আটক করে আগে গণধোলাই দেয় পরে থানা পুলিশকে খবর দেয়। তবে পুলিশ বলছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা গেছে, সৌখিন নামের আরবান এনজিও এক কর্মী নিজ বাড়ি কুষ্টিয়া জেলাতে হলেও প্রায় বছরখানেক ধরে ভাঙ্গুড়া শাখায় চাকরি করেন। তার ব্যক্তিগত জীবনে স্ত্রী ও একটি সন্তান রয়েছে। চাকুরীর সুবাদে ভাঙ্গুড়া পৌর সদরের কালিবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেছেন। বেশ কিছুদিন হলো তার স্ত্রীর সাথে পারিবারিকভাবে বলিবনা হচ্ছিল না। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তাদের প্রায়ই কলহ বিবাদ লেগে থাকতো। এমন অবস্থায় ভাঙ্গুড়া বাজারের বকুলতলা রেল চত্ব্বর এলাকায় ফুচকা খেতে গিয়ে শাম্মি (ছদ্মনাম) নামের এক বিবাহিত নারীর সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। ওই নারীর স্বামী বিদেশ থাকায় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এনজিও কর্মী সৌখিনীর সঙ্গে তাদের পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই এনজিও কর্মীর বাসায় কেউ না থাকার সুবাদে একাধিকবার শাম্মি নামের ওই নারী এনজিও কর্মীর বাসায় এসে মধুর সময় কাটিয়েছেন। এভাবে প্রায় পাঁচ মাস কেটে গেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় জনতা তাদের দুজনকে অনৈতিক ও অসামাজিক অবস্থায় আটকের চেষ্টা করতে থাকে। ঘটনার দিন দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে বাসায় কেউ না থাকায় সুযোগে পূর্বের ন্যায় সৌখিন নামের এনজিও কর্মী ওই মহিলাকে তার বাসায় নিয়ে আসেন। এরপর স্থানীয় জনতা সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে ওই বাড়িতে প্রবেশ করে তাদের দুজনকে অসামাজিক অবস্থায় দুজনকে আটক করে প্রথমে গণধোলাই দেন এরপর থানা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ওসি তদন্ত মোঃ আব্দুল করিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের দুজনকে আটক করে ভাঙ্গুড়া থানায় নিয়ে আসেন।

ঘটনার বিষয় আরবান এনজিওর ভাঙ্গুড়া শাখার ব্যবস্থাপক আসমা খাতুন জানান, বিষয়টি অত্যন্ত লজ্জাজনক, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তার অপকর্মের দায় আরবান এনজিও নিবে না।

এ ঘটনার বিষয় আরবান এনজিওর এরিয়া ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে, শাখা ব্যবস্থাপক ও অন্যান্য কর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ধরনের নেককারজনক ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে।

ঘটনার বিষয়ে ওসি (তদন্ত)আব্দুল করিম জানান, অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে স্থানীয় জনতার হাতে আটক আরবান এনজিও কর্মী ও এক মহিলাকে আটক করে ভাঙ্গুড়া থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে র‌্যাব সদস্য হত্যা মামলার আরও দুই আসামি গ্রেফতার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে র‌্যাব সদস্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক দুই আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার নরুমপুর এলাকার শাহজাহান মোল্লা প্রকাশ দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মো. মিজান (৫৩) ও সন্দ্বীপ থানার কালাভানিয়া এলাকার মৃত বোরহান উদ্দিনের ছেলে মো. মামুন (৩৮)।

র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) সহকারী পুলিশ সুপার এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, র‌্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৫ জানুয়ারি নগরের খুলশী থানার ইস্পাহানি মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ১৬ নম্বর এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি মো. মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ২৬ জানুয়ারি ভোরে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার বগুড়া নিবাস এলাকায় পৃথক অভিযানে সন্দেহভাজন পলাতক আসামি মো. মামুনকে গ্রেফতার করা হয়।
র‌্যাব-৭ জানায়, গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালানোর সময় দুর্বৃত্তরা অতর্কিত হামলা চালায়।

এতে চারজন র‌্যাব সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সিএমএইচে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক একজন র‌্যাব সদস্যকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর তিনজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।এ ঘটনায় র‌্যাব-৭ এর পক্ষ থেকে সীতাকুণ্ড থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ২৯ জনকে এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

কসাইকে ‘খুনের পর টুকরো লাশ ছড়িয়ে দেয়া প্রেমিকা’ গ্রেফতার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের বায়েজিদ এলাকায় পরকীয়া প্রেমের জেরে এক কসাইকে হত্যার পর তার লাশ টুকরো করে তার প্রেমিকা বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার দিনভর নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন শহীদনগর ও লোহারপুল এলাকার খাল ও বিভিন্ন স্থান থেকে খুন হওয়া আনিসের লাশের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, নিহত মো. আনিছের (৩৮) সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকা সুফিয়া আক্তার (৩৯) নামে এক নারীর পরিকল্পনায় তাকে হত্যা করা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী আনিছকে অভিযুক্ত নারী বাসায় ডেকে নিয়ে সহযোগীদের সহায়তায় পাথরের শীল ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে। পরবর্তীতে মরদেহ টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নারী সুফিয়া আক্তারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, নিহত আনিছ চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার চিকদাইর এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামি সুফিয়া আক্তার নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন পাঠানপাড়া এলাকায় বসবাস করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জানুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার শহীদনগর চারতলার মোড় এলাকায় একটি কালো পলিথিনে মোড়ানো মানবদেহের দুটি কাটা হাত পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে হাত দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার পরপরই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত ও মরদেহের অবশিষ্ট অংশ উদ্ধারে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে উদ্ধারকৃত জাতীয় পরিচয়পত্রের সূত্রে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, আনিছ গত ২০ জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন।

পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষে পুলিশ অভিযান শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় রাত আনুমানিক চারটার দিকে শহীদনগর এলাকা থেকে সুফিয়া আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়।
চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ উত্তর জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম বলেন, পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সুফিয়া আক্তার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, নিহত আনিছের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল।

পরবর্তীতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ ও মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তিনি আনিছকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।তিনি আরও বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০ জানুয়ারি বিকেলে আনিছকে পাঠানপাড়ার বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পাথরের শীল দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে গুরুতর আহত করা হয়।

পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ টুকরা টুকরা করে কালো পলিথিনে ভরে আলামত গোপনের উদ্দেশ্যে শহীদনগর ও শীতলকর্ণা এলাকার বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।গ্রেফতারকৃত আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত ব্যক্তির মরদেহের খণ্ডিত বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত করা হচ্ছে।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ