আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় অসামাজিক কার্যকলাপের দায়ে এনজিও কর্মীসহ আটক -২

পাবনা প্রতিনিধি :

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে সৌখিন নামের এক আরবান এনজিও কর্মচারী ও তার কথিত প্রেমিকাকে আটক করা হয়েছে।গত শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে উপজেলার পৌর সদরের কালিবাড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ তাদেরকে আটক করে। এর আগে ওই এনজিও কর্মীর ভাড়া বাসায় অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে স্থানীয় বিক্ষুদ্ধ জনতা আপত্তিকর অবস্থায় তাদের দুজনকে আটক করে আগে গণধোলাই দেয় পরে থানা পুলিশকে খবর দেয়। তবে পুলিশ বলছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা গেছে, সৌখিন নামের আরবান এনজিও এক কর্মী নিজ বাড়ি কুষ্টিয়া জেলাতে হলেও প্রায় বছরখানেক ধরে ভাঙ্গুড়া শাখায় চাকরি করেন। তার ব্যক্তিগত জীবনে স্ত্রী ও একটি সন্তান রয়েছে। চাকুরীর সুবাদে ভাঙ্গুড়া পৌর সদরের কালিবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেছেন। বেশ কিছুদিন হলো তার স্ত্রীর সাথে পারিবারিকভাবে বলিবনা হচ্ছিল না। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তাদের প্রায়ই কলহ বিবাদ লেগে থাকতো। এমন অবস্থায় ভাঙ্গুড়া বাজারের বকুলতলা রেল চত্ব্বর এলাকায় ফুচকা খেতে গিয়ে শাম্মি (ছদ্মনাম) নামের এক বিবাহিত নারীর সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। ওই নারীর স্বামী বিদেশ থাকায় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এনজিও কর্মী সৌখিনীর সঙ্গে তাদের পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই এনজিও কর্মীর বাসায় কেউ না থাকার সুবাদে একাধিকবার শাম্মি নামের ওই নারী এনজিও কর্মীর বাসায় এসে মধুর সময় কাটিয়েছেন। এভাবে প্রায় পাঁচ মাস কেটে গেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় জনতা তাদের দুজনকে অনৈতিক ও অসামাজিক অবস্থায় আটকের চেষ্টা করতে থাকে। ঘটনার দিন দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে বাসায় কেউ না থাকায় সুযোগে পূর্বের ন্যায় সৌখিন নামের এনজিও কর্মী ওই মহিলাকে তার বাসায় নিয়ে আসেন। এরপর স্থানীয় জনতা সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে ওই বাড়িতে প্রবেশ করে তাদের দুজনকে অসামাজিক অবস্থায় দুজনকে আটক করে প্রথমে গণধোলাই দেন এরপর থানা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ওসি তদন্ত মোঃ আব্দুল করিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের দুজনকে আটক করে ভাঙ্গুড়া থানায় নিয়ে আসেন।

ঘটনার বিষয় আরবান এনজিওর ভাঙ্গুড়া শাখার ব্যবস্থাপক আসমা খাতুন জানান, বিষয়টি অত্যন্ত লজ্জাজনক, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তার অপকর্মের দায় আরবান এনজিও নিবে না।

এ ঘটনার বিষয় আরবান এনজিওর এরিয়া ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে, শাখা ব্যবস্থাপক ও অন্যান্য কর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ধরনের নেককারজনক ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে।

ঘটনার বিষয়ে ওসি (তদন্ত)আব্দুল করিম জানান, অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে স্থানীয় জনতার হাতে আটক আরবান এনজিও কর্মী ও এক মহিলাকে আটক করে ভাঙ্গুড়া থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিএসএফের টাকার টোপে সীমান্তের দরিদ্ররা সহযোগিতা করছেন পুশ-ইনে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সীমান্তজুড়ে পুশ-ইন ইস্যু নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলা দিয়ে নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে কড়া নজরদারির কারণে অনেক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও এ কাজে সীমান্ত এলাকার কিছু দরিদ্র মানুষকে অর্থের প্রলোভনে ব্যবহার করা হচ্ছে।

জানা গেছে, সীমান্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বিজিবির টহলের সময় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, এমনকি সুবিধাজনক রুট দেখিয়ে দেওয়ার মতো কাজেও কিছু লোককে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা আরও সংগঠিতভাবে চালানো হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্তে গিয়ে জানা গেছে, সীমান্তঘেঁষা নদীপথগুলো এখন নতুন কৌশলের অংশ হয়ে উঠেছে। আগে যেসব এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া কিংবা স্থলপথে কড়াকড়ি ছিল, এখন সেখানে নদীপথকে ব্যবহার করে রাতের অন্ধকার কিংবা ভোরের সময় পুশ-ইনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এমন একাধিক ঘটনার তথ্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও এসেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী দরিদ্র কিছু বাংলাদেশিকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে এসব কাজে ব্যবহার করছে বিএসএফ।

সীমান্ত এলাকায় পুশ-ইন কার্যক্রমে কিছু বাংলাদেশি নাগরিকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী- একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিএসএফের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এসব পুশইনে সহায়তা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বিজিবির টহলের সময় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, এমনকি সুবিধাজনক রুট দেখিয়ে দেওয়ার মতো কাজেও কিছু লোককে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে একজনকে পুশ-ইন করতে পারলে দেওয়া হচ্ছে ১০ হাজার টাকা। এতে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা আরও সংগঠিতভাবে চালানো হচ্ছে।

তবে সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের চেষ্টা ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং যেকোনো পুশ-ইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ