আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

চবিতে দেশ-বিদেশের চার শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহনে প্রতীকী জাতিসংঘ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতীকী জাতিসংঘ সংস্থার উদ্যোগে নবম বারের মতো ১৫ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতীকী জাতিসংঘ সম্মেলন ২০২৫। প্রতি বছর বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা আসেন বিতর্ক, কুটনীতি ও আলোচনায় দেশের অন্যতম এ প্রতীকী সম্মেলনে অংশগ্রহণ করার জন্য। এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় ৪০ টি প্রতিষ্ঠানের চার শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে এ সম্মেলনে। এবারের সম্মেলনে আরও অংশগ্রহণ করছেন নাইজেরিয়া , সোমালিয়া, ক্যামেরুন, গাম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, উগান্ডা, সিয়েরা লিওন, নাইজেরিয়া নেপাল, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরাও।

সম্মেলনটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক অগ্রগতির জন্য যুব নেতৃত্বের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী উদ্ভাবনের প্রসার’। এ প্রতিপাদ্য বিষয়টিকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীরা ৮টি কমিটিতে বিভক্ত হয়ে জাতিসংঘের আলোকে কূটনৈতিক আলেচনায় অংশ নিবে। কমিটিগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ-১, জাতিসংঘ

মানবাধিকার কমিশন, বিশ্ব মেধা সম্পদ সংস্থা, জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা, অন্তর্র্বতীকালীন বাংলাদেশ সরকার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম

বিশ্ববিদ্যালয় লোক প্রশাসন বিভাগের প্রফেসর ড. আমীর মুহাম্মদ নসরুল্লাহ ও উক্ত বিভাগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমদ, চবি ব্যাংকিং এন্ড ইন্সুরেন্স বিভাগের সভাপতি মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক ও চবি দর্শন বিভাগ সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
চবি উপাচার্য বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতীকি জাতিসংঘ কর্তৃক আয়োজিত শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি ব্যতিক্রমী সুযোগ। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি সমগ্র বাংলাদেশও বিদেশের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনে

যুবসমাজের সম্পৃক্ততা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে কথা বলার সুযোগ করে দেয়।
লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. আমীর মুহাম্মদ নসরুল্লাহ প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্য করে বলেন, বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তরুণ। আমাদের উদ্ভাবনী উপায়গুলি নিয়ে ভাবতে হবে কিভাবে তরুণদের অগ্রগতিতে সম্পৃক্ত করা যায় এবং কীভাবে তাদেরকে বিশ্বব্যাপী অন্তর্ভুক্তির জন্য উপযুক্ত করে তোলা যায়।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্সি এডুকেশন চট্টগ্রামের ভাইস প্রিন্সিপাল মোঃ জসিম উদ্দিন। তিনি প্রতীকী জাতিসংঘের গুরুত্ব আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, প্রতীকি জাতিসংঘ সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এমন অসংখ্য দক্ষতা অর্জন করতে পারে, যা তাদের মানসিকতাকে বিকশিত করে এবং তা ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী প্ল্যাটফর্মগুলিতে কীভাবে জড়িত হতে হয়, তা শিখতে পারে। এ একক ইভেন্টে একজন শিক্ষার্থী শুধু বৈশ্বিক সমস্যা এবং সেগুলি কেবল সমাধান করার উপায়ই নয় বরং পেশাদারভাবে উপস্থাপন করার উপায়গুলি সম্পর্কেও শেখে।
চবি দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, বৈশ্বিক অগ্রগতির চালিকাশক্তি হিসেবে যুবসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য উদ্ভাবনী ধারণা দিয়ে তাদের ক্ষমতায়ন করা

অপরিহার্য। চবি প্রতীকী জাতিসংঘের এ অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের জন্য সমাধান অন্বেষণ এবং উন্নত বিশ্বে অবদান রাখার জন্য একটি অর্থবহ স্থান তৈরি করে।
পরিশেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতীকী জাতিসংঘ সংস্থার মহাসচিব ইশফাকুল কবির আসিফ বলেন, আমি এখানে আগত প্রতিটি প্রতিনিধিকে এ সুযোগটি কাজে লাগানোর এবং নিজেদেরকে বিকশিত করার জন্য অনুরোধ করছি। এ সম্মেলনে আগামী ৪ দিন আপনারা বৈশ্বিক বিষয়, কূটনীতি এবং বিতর্ক সম্পর্কে জানতে পারবেন। আমি

আপনাদের সকলকে এই সুযোগটি কাজে লাগানোর এবং ফলপ্রসূ আলোচনার জন্য স্বাগত জানাই।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সাল থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতীকী জাতিসংঘ সম্মেলন শিক্ষার্থীদের কূটনীতিক চিন্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সম্মেলনটি তরুণদের বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টার পাশাপাশি কূটনীতিক আলোচনায় আগ্রহী করে তোলে।

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি, খুবি শিক্ষকের কুশপুত্তলিকা দাহ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি)এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানিমূলক বার্তা পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।
অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই শিক্ষককে ইতোমধ্যে ডিসিপ্লিন-প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্র’।

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে বৃহস্পতিবার উত্তাল হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল, শিক্ষকের কুশপুত্তলিকা দাহ এবং জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করেন।

বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে ইইউ,র ১৪ মিলিয়ন ইউরো অনুদান ঘোষণা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তায় অতিরিক্ত ১৪ মিলিয়ন ইউরো অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে অংশীদারত্বের মেয়াদ নবায়নের মাধ্যমে এই অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে, যা জরুরি মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যয় করা হবে।

আজ ১৮ জুন ইইউ ও ইউএনএইচসিআরের যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন এই অর্থায়নের আওতায় কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা এবং প্রায় ৭০ হাজার স্থানীয় বাসিন্দা উপকৃত হবেন। বিশেষভাবে দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে এলপিজির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘমেয়াদি রূপ নিয়েছে। তাই শুধু জরুরি ত্রাণ নয়, শিক্ষা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জীবিকা অর্জনের সুযোগ তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন ইইউর ধারাবাহিক সহযোগিতার প্রশংসা করে বলেন- বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য এমন সহায়তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এটি তাদের সুরক্ষা, মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং ভবিষ্যতের প্রতি আশাবাদ ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।বিশ্ব শরণার্থী দিবস ২০ জুন উপলক্ষে এই সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ