আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

চবিতে দেশ-বিদেশের চার শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহনে প্রতীকী জাতিসংঘ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতীকী জাতিসংঘ সংস্থার উদ্যোগে নবম বারের মতো ১৫ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতীকী জাতিসংঘ সম্মেলন ২০২৫। প্রতি বছর বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা আসেন বিতর্ক, কুটনীতি ও আলোচনায় দেশের অন্যতম এ প্রতীকী সম্মেলনে অংশগ্রহণ করার জন্য। এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় ৪০ টি প্রতিষ্ঠানের চার শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে এ সম্মেলনে। এবারের সম্মেলনে আরও অংশগ্রহণ করছেন নাইজেরিয়া , সোমালিয়া, ক্যামেরুন, গাম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, উগান্ডা, সিয়েরা লিওন, নাইজেরিয়া নেপাল, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরাও।

সম্মেলনটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক অগ্রগতির জন্য যুব নেতৃত্বের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী উদ্ভাবনের প্রসার’। এ প্রতিপাদ্য বিষয়টিকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীরা ৮টি কমিটিতে বিভক্ত হয়ে জাতিসংঘের আলোকে কূটনৈতিক আলেচনায় অংশ নিবে। কমিটিগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ-১, জাতিসংঘ

মানবাধিকার কমিশন, বিশ্ব মেধা সম্পদ সংস্থা, জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা, অন্তর্র্বতীকালীন বাংলাদেশ সরকার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম

বিশ্ববিদ্যালয় লোক প্রশাসন বিভাগের প্রফেসর ড. আমীর মুহাম্মদ নসরুল্লাহ ও উক্ত বিভাগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমদ, চবি ব্যাংকিং এন্ড ইন্সুরেন্স বিভাগের সভাপতি মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক ও চবি দর্শন বিভাগ সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
চবি উপাচার্য বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতীকি জাতিসংঘ কর্তৃক আয়োজিত শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি ব্যতিক্রমী সুযোগ। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি সমগ্র বাংলাদেশও বিদেশের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনে

যুবসমাজের সম্পৃক্ততা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে কথা বলার সুযোগ করে দেয়।
লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. আমীর মুহাম্মদ নসরুল্লাহ প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্য করে বলেন, বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তরুণ। আমাদের উদ্ভাবনী উপায়গুলি নিয়ে ভাবতে হবে কিভাবে তরুণদের অগ্রগতিতে সম্পৃক্ত করা যায় এবং কীভাবে তাদেরকে বিশ্বব্যাপী অন্তর্ভুক্তির জন্য উপযুক্ত করে তোলা যায়।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্সি এডুকেশন চট্টগ্রামের ভাইস প্রিন্সিপাল মোঃ জসিম উদ্দিন। তিনি প্রতীকী জাতিসংঘের গুরুত্ব আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, প্রতীকি জাতিসংঘ সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এমন অসংখ্য দক্ষতা অর্জন করতে পারে, যা তাদের মানসিকতাকে বিকশিত করে এবং তা ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী প্ল্যাটফর্মগুলিতে কীভাবে জড়িত হতে হয়, তা শিখতে পারে। এ একক ইভেন্টে একজন শিক্ষার্থী শুধু বৈশ্বিক সমস্যা এবং সেগুলি কেবল সমাধান করার উপায়ই নয় বরং পেশাদারভাবে উপস্থাপন করার উপায়গুলি সম্পর্কেও শেখে।
চবি দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, বৈশ্বিক অগ্রগতির চালিকাশক্তি হিসেবে যুবসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য উদ্ভাবনী ধারণা দিয়ে তাদের ক্ষমতায়ন করা

অপরিহার্য। চবি প্রতীকী জাতিসংঘের এ অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের জন্য সমাধান অন্বেষণ এবং উন্নত বিশ্বে অবদান রাখার জন্য একটি অর্থবহ স্থান তৈরি করে।
পরিশেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতীকী জাতিসংঘ সংস্থার মহাসচিব ইশফাকুল কবির আসিফ বলেন, আমি এখানে আগত প্রতিটি প্রতিনিধিকে এ সুযোগটি কাজে লাগানোর এবং নিজেদেরকে বিকশিত করার জন্য অনুরোধ করছি। এ সম্মেলনে আগামী ৪ দিন আপনারা বৈশ্বিক বিষয়, কূটনীতি এবং বিতর্ক সম্পর্কে জানতে পারবেন। আমি

আপনাদের সকলকে এই সুযোগটি কাজে লাগানোর এবং ফলপ্রসূ আলোচনার জন্য স্বাগত জানাই।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সাল থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতীকী জাতিসংঘ সম্মেলন শিক্ষার্থীদের কূটনীতিক চিন্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সম্মেলনটি তরুণদের বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টার পাশাপাশি কূটনীতিক আলোচনায় আগ্রহী করে তোলে।

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ইউসিটিসির সেমিনার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি চিটাগাং (ইউসিটিসি)-এর উদ্যোগে বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডিপ্লোমা পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার গুরুত্ব, একাডেমিক অগ্রগতি এবং পেশাগত উন্নয়নের সম্ভাবনা তুলে ধরার লক্ষ্যে সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউসিটিসির উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহিদ হোসেন শরীফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়েট-এর প্রফেসর ও সাবেক উপ-উপাচার্য ড. জামালউদ্দিন আহমেদ, রেজিস্ট্রার সালাহউদ্দিন আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ রূপক কান্তি বিশ্বাস।

সেমিনারে বক্তারা ডিপ্লোমা শিক্ষা সম্পন্ন করার পর উচ্চশিক্ষা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা, প্রকৌশল শিক্ষায় ক্যারিয়ার গঠনের সুযোগ, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।পাশাপাশি ইউসিটিসির আধুনিক একাডেমিক পরিবেশ, উন্নত ল্যাব সুবিধা এবং সমসাময়িক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে উপস্থিত অতিথি ও শিক্ষার্থীদের অবহিত করা হয়।

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ