ঝুঁকিপূর্ণ গাছের ডাল অপসারণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান কবিরঞ্জন দাস

মোঃ নুর উদ্দিন মন্ডল দুলাল নেত্রকোনা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার ডোরিয়াকোনা গ্রামের বাসিন্দা কবিরঞ্জন দাস ও তার পরিবার প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সরকারি রাস্তার পাশে অবস্থিত কয়েকটি পুরোনো গাছের দুর্বল ডাল তাদের মাথার ওপর যেন এক আতঙ্কের ছায়া হয়ে রয়েছে। একটু ঝড়-বৃষ্টি হলেই ভয়ে কেঁপে ওঠেন তারা—কখন না জানি গাছের ভারী ডাল ভেঙে ঘরের ওপর পড়ে, ঘটিয়ে দেয় ভয়াবহ দুর্ঘটনা!

এমন শঙ্কার মধ্যেই দিন কাটছে এই পরিবারের। তাই, জননিরাপত্তা ও নিজের পরিবারের সুরক্ষার কথা ভেবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন কবিরঞ্জন দাস। এ বিষয়ে তিনি গত ১৯ মার্চ কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাইযুল ওয়াসীমা নাহাতের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে জানা যায়,কলমাকান্দা–দুর্গাপুর এলজিইডির পাকা সড়কের পাশে বেশ কয়েকটি পুরোনো গাছ দাঁড়িয়ে রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে পড়ে থাকায় এসব গাছের ডালপালা দুর্বল হয়ে গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ঝড়-বৃষ্টিতে বেশ কয়েকটি ডাল ভেঙে পড়েছে, যা মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারত।

ভুক্তভোগী কবিরঞ্জন দাস জানান, “আমার ঘরের ঠিক পাশেই ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো রয়েছে। গত কয়েকদিনের ঝড়ে বড় একটি ডাল ভেঙে পড়ে প্রায় দুর্ঘটনা ঘটতে বসেছিল। তাই, আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি যেন দ্রুত এই ঝুঁকিপূর্ণ ডাল অপসারণ করা হয়।”

এ বিষয়ে কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাইযুল ওয়াসীমা নাহাত বলেন, “আবেদনটি পাওয়ার পর আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) দুপুরে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. মমিনুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি এবং আবেদনকারীর দাবি সত্যতা পাওয়া গেছে। বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।”

এলাকার সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু কবিরঞ্জন দাসের বাড়ির পাশেই নয়, সড়কের আশপাশে থাকা সব ঝুঁকিপূর্ণ গাছ চিহ্নিত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হোক। তাদের মতে, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এখন অপেক্ষা দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগের, যাতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটার আগেই সমস্যা সমাধান হয় এবং কবিরঞ্জন দাস ও তার পরিবার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চুরির বিরোধে কৃষককে পিটিয়ে হত্যা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হুমায়ন কবির (৬০) নামে এক কৃষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে ঢাকার উত্তরার বাংলাদেশ ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে সোমবার ২ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ফেনীর সোনাগাজীর চরদরবেশ ইউনিয়নের চরচান্দিয়া এলাকায় তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

নিহত হুমায়ন কবির কোম্পানীগঞ্জ ও ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সীমান্তবর্তী চরদরবেশ ইউনিয়নের চরচান্দিয়া গ্রামের আলী আহম্মদের ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন। তার বাড়ি সোনাগাজীতে হলেও তিনি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার।

নিহতের ছেলে মিজানুর রহমান বলেন, তারা সোনাগাজীর চরচান্দিয়া গ্রামে বসবাস করলেও তাদের ভোটার ও অন্যান্য কার্যক্রম কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। প্রায় ১৫-১৬ দিন আগে কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর ইউনিয়নের জিন্না মাঝি বাড়ির মো. ইলিয়াছের (৫৫) ছেলে নূর আমিনের (৩০) পাম্প মেশিন ভাড়া নিয়ে তাদের একটি পুকুরে সেচ দিয়ে মাছ ধরা হয়। ওই সময় নূর আমিন তাদের তেল ও মাছ চুরি করেন। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। পরে মুছাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য জহিরুল হক দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।

তিনি আরও বলেন, সোমবার বিকেলে তার বাবা প্রতিবেশী আব্দুস ছাত্তারের সঙ্গে দাড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় ইলিয়াছ ভুল বুঝে মনে করেন, তার বাবা তাদের নিয়ে কথা বলছেন। তাৎক্ষণিক ইলিয়াছ তার দুই ছেলে নূর আমিন ও শুক্কুরকে ফোন করে সেখানে ডেকে আনেন। পরে তারা কয়েকজন মিলে লোহার রড, ধারালো কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তার বাবার ওপর হামলা চালান।

মিজানুর রহমানের অভিযোগ, হামলাকারীদের একজন লোহার রড দিয়ে তার বাবার মাথায় আঘাত করেন। আরেকজন ধারালো কিরিচ দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি সরে যান। এতে তার মুখের বাম পাশে ও বাম চোখের নিচে দুটি স্থানে গুরুতর জখম হয়। এ সময় তার পকেটে থাকা মহিষ বিক্রির বায়না বাবদ ১৫ হাজার টাকাও নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শারীরিক অবস্থার অবনতি ও বমি হওয়ায় চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন। পরে তাকে ঢাকার উত্তরার বাংলাদেশ ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে ঘটনাটি ফেনীর সোনাগাজী থানার আওতাধীন এলাকায় হওয়ায় বিষয়টি সেখানকার পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হাসিম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তিনিও ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত। উত্তরা ক্লাব লিমিটেডের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। ৪ নভেম্বর বুধবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান এ আদেশ দেন।২০২২ সালের ১৮ জুলাই ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ পরীমনির বিরুদ্ধে মারধর, ভাঙচুর, হত্যাচেষ্টা ও হুমকির অভিযোগে ঢাকার আদালতে নালিশি মামলা করেন।

মামলার অভিযোগে নাসির উদ্দিন উল্লেখ করেন, ২০২১ সালের ৮ জুন পরীমনি ও তার সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করে ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। পরে ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন তারা। রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে ক্লাব ছাড়ার সময় পরীমনি তাকে ডাক দেন এবং একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে দেওয়ার জন্য চাপ দেন।
এতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি তাকে গালমন্দ করেন। একপর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে একটি গ্লাস ছুড়ে মারেন, যা তার মাথা ও বুকে আঘাত করে বলে অভিযোগ করেন নাসির উদ্দিন।

মামলাটি তদন্ত করে গত বছরের এপ্রিলে পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।পুলিশ ও আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তদন্তে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনকে মারধরের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পিবিআই। পাশাপাশি পরীমনির ছোড়া মদের গ্লাসে নাসির উদ্দিনের আঘাত পাওয়ার ঘটনারও সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ