দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার শঙ্কা ঈদযাত্রায়

মোজাম্মেল হক চৌধুরী লেখক: মহাসচিব, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার শস্কা নানা প্রতিকূলতার কারণে এবারের ঈদুল আজহার যাতায়াতে দুর্ভোগ আমাদের সঙ্গী হতে চলেছে। বিদায়ী ঈদুল ফিতরে লম্বা ছুটির কারণে ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হওয়ায় আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় সরকারের পক্ষ থেকে ১০ দিন ছুটি দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রকার সমীক্ষা ছাড়াই ছুটি ঘোষণা করায় দেশের যাত্রীসাধারণ এবারের আসন্ন ঈদুল আজহায় ভয়াবহ দুর্ভোগে পড়তে যাচ্ছে বলে অনেকেই মনে করেন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে বিষয়টি সরকারের মাননীয় সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ও মাননীয় স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, প্রধান উপদেষ্টার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী শেখ মইনউদ্দিন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ এহসানুল হক, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিম ইসলামসহ সংশ্লিষ্টদের জানানো হলে ও তেমন কোনো সাড়া মেলেনি। গত ১২ মে ২০২৫ সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় আয়োজিত ঈদের প্রস্তুতি সভায় বিষয়টি দেশের যাত্রী সাধারণের স্বার্থে যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে তুলে ধরেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেউ আমলে নেননি।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বিগত ২৫ বছরের মধ্যে বিদায়ী পবিত্র ঈদুল ফিতরে স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রার পেছনে মূলত তিনটি কারণ ছিল, ১। ঈদের আগে ৪ দিনের লম্বা ছুটি ২। সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের প্রভাবশালী মাফিয়া নেতারা পালিয়ে যাওয়ায় সড়কে মাস্তানিতন্ত্রের অবসান হয়েছে, যা মাঠ পর্যায়ে বড় বড় ব্যান্ডের গাড়িগুলোর কর্মকর্তা ও চালকদের আচরণে প্রকাশ পেয়েছে। ৩। আমাদের সেনাবাহিনী নিরলস মাঠে ছিল, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট সক্রিয় ছিল, বিআরটিএ, ভোক্তা অধিদপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণে মানুষ ভোগান্তিমুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত করা গেছে। এই কারণে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ২০২৪ সালের ঈদুল ফিতরের তুলনায় ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরে সড়ক দুর্ঘটনা ২১.০৫ শতাংশ, নিহত ২০.৮৮ শতাংশ, আহত ৪০.৯১ শতাংশ কমেছিল। যা অন্তর্বর্তী সরকারের বড় অর্জন হিসেবে নানা মহলের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এবারের ঈদের লম্বা ছুটি বিন্যাস করে ঈদের আগে ৩ ও ৪ জুন ২ দিন ছুটি নিশ্চিত করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণহানি, যাতায়াতের ভোগান্তি কমানো সক্ষম হবে। কিন্তু সরকারের কোন সমীক্ষা না থাকায় বিষয়টি আমলে নিলেন না।

সরকারের পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে আগামী ৫ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত মোট ১০ দিনের ছুটি রয়েছে। লম্বা ছুটির কারণে এবারের ঈদে বেশি মানুষ গ্রামের বাড়ি যাবেন এটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া জাতীয় নির্বাচন সামনে থাকায় রাজনীতিবিদেরও মাঠে আনাগোনা বাড়বে। ফলে বেশি মানুষের যাতায়াত হবে এটাই নিশ্চিত। কেবল মুসলমানেরা নয় অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও এই ছুটিতে গ্রামের বাড়ি যাবেন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি প্রতিবছর কি পরিমাণ মানুষের ঈদে যাতায়াত হয় তার একটি সম্ভাব্য সমীক্ষা রিপোর্ট গণমাধ্যমে দিয়ে থাকেন। তাদের এবারের সমীক্ষা বলছে, ঢাকা থেকে ১ কোটি ১০ লাখ ও ঢাকার আশেপাশে জেলা থেকে আরো ৩০ লাখসহ ১ কোটি ৪০ লাখ থেকে দেড়কোটি মানুষ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করতে পারে। এছাড়াও এক জেলা থেকে অন্য জেলায় আরো ৩ কোটি মানুষের যাতায়াত হতে পারে। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৭ জুন ২০২৫ পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হবে। ঈদের আগে ৫ ও ৬ জুন বৃহস্পতি এবং শুক্রবার মাত্র ২ দিনের সরকারি ছুটি রয়েছে। এই দুইদিনের ঈদের ছুটিতে একদিনে ৭৫ লাখ করে দুই দিনে দেড় কোটি মানুষ গ্রামের বাড়ি পাঠাতে গেলে ভরা বর্ষা মৌসুমের এই সময়ে এবারের ঈদযাত্রায় ভয়াবহ ভোগান্তি আমাদের সামনে উপস্থিত। দুইদিনের ছুটিতে দেড়কোটি মানুষ ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি পাঠানোর মত সড়ক, রেল, নৌ কোন পথের যানবাহনের সক্ষমতা আমাদের দেশে নেই। ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরের পার্থক্য আছে। ঈদুল আজহায় সড়কের পাশে পশুরহাট বসে, ঐ হাটকে কেন্দ্র করে মূল সড়কে ট্রাক থেকে পশু নামানো হয়। এতে যানজট-জনজট একাকার হয়ে যায়। যানবাহনের গতি কমে আসে। এছাড়াও পশুবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে বাসের গতি কমে আসে। বাজার সংলগ্ন এলাকায় যানজট লেগেই থাকে। ফলে যানবাহনের গতিও কমে যায়। তাহলে সমাধান কি? দীর্ঘদিন যাবত সড়কে নিরাপদ যাতায়াত ও যাত্রী স্বার্থ নিয়ে কর্মরত যাত্রী কল্যাণ সমিতি পক্ষ থেকে এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাহী আদেশে দেওয়া ১১ ও ১২ জুন ২ দিনের ছুটি বিন্যাস করে ঈদের আগে ৩ ও ৪ জুন মঙ্গল ও বুধবার এগিয়ে নিয়ে আসার দাবি তুলেছিলেন, কিন্তু হয়নি।

এখন দায়িত্ব নিতে হবে দেশের জনগণকে। জনসাধারণ নিজ দায়িত্বে পরিবার পরিজনকে আগে-ভাগে বাড়ি পাঠানোর উদ্যোগ নিতে হবে এখনি। মোটরসাইকেলে ঈদযাত্রা করতে হলে বেস্ট পরিধান করতে হবে। পরিবার পরিজনকে সহযাত্রী বানানো যাবে না। লাগেজ-ব্যাগেজ পার্সেল বা কুরিয়ারে আগে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। ফিটনেস বিহীন যানবাহন ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে। প্রয়োজনে বিআরটিএ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটদের নাম্বার সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করতে হবে প্রয়োজনে যাতে সহযোগিতা নেওয়া যায়।

এবারের ঈদুল আজহায় ঈদের পরে ৮ জুন থেকে ১৪ জুন ৭ দিনের ছুটি অনেকটা অপ্রয়োজনীয়। অথচ সরকারের দায় ও দায়িত্ব থাকলে ঈদের পেছনের ১১ ও ১২ জুনের ছুটি ৩ ও ৪ জুন এগিয়ে আনলে দেশের মানুষজন পবিত্র ঈদুল ফিতরের মত ঈদুল আজহায়ও ধাপে ধাপে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ পেত। ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হতো। সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমে আসতো।

এবারের ঈদুল আজহায় যাতায়াতে অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নৌ-পথে। একদিকে ভরা বর্ষা মৌসুম হওয়ায় নৌ-পথ উত্তাল রয়েছে। অন্যদিকে, দমকা-হাওয়াসহ ঝড়ো বাতাস। এই কারণে যাতায়াতের পিক আওয়ারে নৌ-সতর্কতা সংকেত চালু থাকলে নৌ-পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে এই চাপ গিয়ে সড়কের উপরে পড়বে। তাছাড়াও ভরা বর্ষা মৌসুম হওয়ায় ৬০ ফিটের নীচের লঞ্চ চলাচল যেকোনোভাবে বন্ধ রাখতে হবে, যা দারুণ চ্যালেঞ্জের। লঞ্চগুলো লোড লাইন মেনে যাত্রী বহন নিশ্চিত করতে হবে। অধিকাংশ নৌ-পথে ভয়া, বাতি, সিগন্যাল লাইট কিছুই নেই। যদিও ঈদের আগে পরে বালুবাহী বাল্কহেড বন্ধের নির্দেশনা থাকে। কোনো কোনো নৌ-পথে তা শতভাগ মানা হয় না। বৃষ্টির রাতে বাল্কহেড ও ডুবোচর শনাক্ত করা মুশকিল। কালবৈশাখি মৌসুম হওয়ায় এবারের ঈদে নৌ-পথে ফিটনেস বিহীন লঞ্চ চলাচল কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। ফলে লঞ্চে যাত্রীর চাহিদা বাড়বে। এহেন সংকটকে পুঁজি করে নৌ-পথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।

পৃথিবীর দেশে দেশে ঈদ পূজা পার্বণে মূল্য ছাড় দেওয়া হয়। আমাদের দেশে অন্যান্য পণ্যের মত সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথে গণপরিবহন সংকট এবং বিপুল যাত্রী চাহিদা পুঁজি করে কতিপয় অসাধু পরিবহন মালিকেরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য মেতে উঠেন। প্রতিবছর ঈদে এমন অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে সামর্থহীন মানুষ বিশেষ করে, কর্মজীবী, শ্রমজীবী, নিন্ম আয়ের লোকজন গণপরিবহনের পরিবর্তে পণ্যবাহী পরিবহনকে তাদের যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন। কেউ ট্রেনে ছাদে যাতায়াত করেন, কেউ আবার বাসের ছাদে চেপে বসেন। আবার কেউ স্ত্রী পরিজন নিয়ে খোলা ট্রাকে পণ্যের উপর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঈদ আনন্দ উদ্যাপন করতে বাড়ি যান। এসব যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়লে একসাথে বহু মানুষের জীবনহানি ঘটে। পত্রিকার পাতায় বড় শিরোনাম হয়। আবার পরের বছর একই কায়দায় তারা বাড়ি যান। অথচ যেহেতু আমরা ঈদে যাত্রী ব্যবস্থাপনায় যানবাহনের সক্ষমতা বাড়াতে পারি না সেহেতু ঈদযাত্রায় ছুটির ব্যবস্থাপনা ঠিক করে প্রতিবছর ঈদের আগে ৩ থেকে ৪ দিনের ছুটি নিশ্চিত করা গেলে যাত্রীসাধারণের এহেন দুর্ভোগ ও প্রাণহানি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব। কিন্তু সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কারো এই ব্যাপারে কোনো সমীক্ষা নেই, গবেষণা নেই, প্রচেষ্টা নেই, দায় নেই, দায়িত্বও নেই।

এবারের ঈদুল আজহায় ঈদের পরে ৮ জুন থেকে ১৪ জুন ৭ দিনের ছুটি অনেকটা অপ্রয়োজনীয়। অথচ সরকারের দায় ও দায়িত্ব থাকলে ঈদের পেছনের ১১ ও ১২ জুনের ছুটি ৩ ও ৪ জুন এগিয়ে আনলে দেশের মানুষজন পবিত্র ঈদুল ফিতরের মত ঈদুল আজহায়ও ধাপে ধাপে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ পেত। ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হতো। সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমে আসতো। মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি কমতো। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকতো। আপনাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে ৪ দিন ছুটি ছিল, মানুষজন ধাপে ধাপে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে বলেই গত ২৫ বছরের মধ্যে বিগত ঈদুল ফিতরে ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হয়েছে।

এখন আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী, হাইওয়ে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিআরটিএ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সর্বোপরি সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা ছাড়া এহেন যাতায়াতের দুর্ভোগ থেকে উত্তরণ কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কেননা ইতোমধ্যে ঈদযাত্রা শুরু থেকে বিভিন্ন মহাসড়কে যানজট এবং ভারি বৃষ্টির কারণে দুর্ঘটনার সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রেলের শিডিউল লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে। আমাদের রেলপথ বহু পুরোনো, অনেক রেলসেতু ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে প্রায়শই লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটে। একটি লাইনচ্যুতির ঘটনায় একাধিক রেলপথের কয়েকজোড়া ট্রেনের যাত্রা বাতিল করতে হয়। ফলে স্টেশনে স্টেশনে আটকে থাকেন যাত্রীরা। এমন নারকীয় দুর্ভোগ এবারের ঈদে ঘটবে বলে আশঙ্কা করছেন রেলপথ বিশেষজ্ঞরা। সরকারের রেলপথ মন্ত্রণালয় বিষয়টি নজরে রাখবেন আশা করি। নৌ-পথে কখনো কখনো রেড সিগন্যালে নৌ-পথ সাময়িক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে এবারের ঈদুল আজহায় বিভিন্ন পথে ঈদযাত্রায় দুর্ভোগের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দুবাইয়ে বেনজীরের জামিন বাতিলে ল’ফার্ম নিয়োগ হয়েছে – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দুবাইয়ের আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পাওয়ার পর সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের জামিন বাতিল এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে । দুবাইয়ে একটি আন্তর্জাতিক ল’ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করার জন্য।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।রোববার ২ আগস্ট রাজশাহীতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন-সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ের আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন—বিষয়টি আমরা জেনেছি। তার জামিন আদেশ বাতিলের জন্য বাংলাদেশ সরকার দুবাইয়ে একটি ল’ফার্ম নিয়োগ করেছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে চিংড়ি প্রকল্পের দখল নিয়ে শেষ রাতে গোলাগুলি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চিংড়ি প্রকল্পের দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধসহ গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার সরল ইউনিয়নের উত্তর সরল বেড়িবাঁধ সংলগ্ন তাজুরঘোনা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম বলেন, গোলাগুলির ঘটনায় প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৮ থেকে ১০ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই করে এর মধ্যে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি থাকলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, স্থানীয়ভাবে তৈরি একনলা বন্দুক দিয়ে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। মূল অপরাধীদের শনাক্ত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানায়, এলাকায় নতুন করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে শান্ত থাকার এবং অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাজুরঘোনা এলাকার একটি চিংড়ি প্রকল্পের মালিকানা ও দখল নিয়ে স্থানীয় কবির গ্রুপ ও মনসুর গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে বৃহস্পতিবার রাতে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। একপর্যায়ে একপক্ষ অন্যপক্ষকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে কয়েকজন পথচারীসহ সংঘর্ষে লিপ্ত ব্যক্তিরা গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অভিযান পরিচালনাকারী দল সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই জড়িতদের গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জেলা পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। অভিযানে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি ও শিল্পাঞ্চল) মো. ইব্রাহীম, আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান ও বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হকসহ জেলা পুলিশের একটি বড় দল অংশ নেয়।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ