দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার শঙ্কা ঈদযাত্রায়

মোজাম্মেল হক চৌধুরী লেখক: মহাসচিব, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার শস্কা নানা প্রতিকূলতার কারণে এবারের ঈদুল আজহার যাতায়াতে দুর্ভোগ আমাদের সঙ্গী হতে চলেছে। বিদায়ী ঈদুল ফিতরে লম্বা ছুটির কারণে ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হওয়ায় আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় সরকারের পক্ষ থেকে ১০ দিন ছুটি দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রকার সমীক্ষা ছাড়াই ছুটি ঘোষণা করায় দেশের যাত্রীসাধারণ এবারের আসন্ন ঈদুল আজহায় ভয়াবহ দুর্ভোগে পড়তে যাচ্ছে বলে অনেকেই মনে করেন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে বিষয়টি সরকারের মাননীয় সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ও মাননীয় স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, প্রধান উপদেষ্টার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী শেখ মইনউদ্দিন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ এহসানুল হক, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিম ইসলামসহ সংশ্লিষ্টদের জানানো হলে ও তেমন কোনো সাড়া মেলেনি। গত ১২ মে ২০২৫ সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় আয়োজিত ঈদের প্রস্তুতি সভায় বিষয়টি দেশের যাত্রী সাধারণের স্বার্থে যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে তুলে ধরেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেউ আমলে নেননি।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বিগত ২৫ বছরের মধ্যে বিদায়ী পবিত্র ঈদুল ফিতরে স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রার পেছনে মূলত তিনটি কারণ ছিল, ১। ঈদের আগে ৪ দিনের লম্বা ছুটি ২। সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের প্রভাবশালী মাফিয়া নেতারা পালিয়ে যাওয়ায় সড়কে মাস্তানিতন্ত্রের অবসান হয়েছে, যা মাঠ পর্যায়ে বড় বড় ব্যান্ডের গাড়িগুলোর কর্মকর্তা ও চালকদের আচরণে প্রকাশ পেয়েছে। ৩। আমাদের সেনাবাহিনী নিরলস মাঠে ছিল, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট সক্রিয় ছিল, বিআরটিএ, ভোক্তা অধিদপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণে মানুষ ভোগান্তিমুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত করা গেছে। এই কারণে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ২০২৪ সালের ঈদুল ফিতরের তুলনায় ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরে সড়ক দুর্ঘটনা ২১.০৫ শতাংশ, নিহত ২০.৮৮ শতাংশ, আহত ৪০.৯১ শতাংশ কমেছিল। যা অন্তর্বর্তী সরকারের বড় অর্জন হিসেবে নানা মহলের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এবারের ঈদের লম্বা ছুটি বিন্যাস করে ঈদের আগে ৩ ও ৪ জুন ২ দিন ছুটি নিশ্চিত করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণহানি, যাতায়াতের ভোগান্তি কমানো সক্ষম হবে। কিন্তু সরকারের কোন সমীক্ষা না থাকায় বিষয়টি আমলে নিলেন না।

সরকারের পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে আগামী ৫ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত মোট ১০ দিনের ছুটি রয়েছে। লম্বা ছুটির কারণে এবারের ঈদে বেশি মানুষ গ্রামের বাড়ি যাবেন এটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া জাতীয় নির্বাচন সামনে থাকায় রাজনীতিবিদেরও মাঠে আনাগোনা বাড়বে। ফলে বেশি মানুষের যাতায়াত হবে এটাই নিশ্চিত। কেবল মুসলমানেরা নয় অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও এই ছুটিতে গ্রামের বাড়ি যাবেন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি প্রতিবছর কি পরিমাণ মানুষের ঈদে যাতায়াত হয় তার একটি সম্ভাব্য সমীক্ষা রিপোর্ট গণমাধ্যমে দিয়ে থাকেন। তাদের এবারের সমীক্ষা বলছে, ঢাকা থেকে ১ কোটি ১০ লাখ ও ঢাকার আশেপাশে জেলা থেকে আরো ৩০ লাখসহ ১ কোটি ৪০ লাখ থেকে দেড়কোটি মানুষ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করতে পারে। এছাড়াও এক জেলা থেকে অন্য জেলায় আরো ৩ কোটি মানুষের যাতায়াত হতে পারে। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৭ জুন ২০২৫ পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হবে। ঈদের আগে ৫ ও ৬ জুন বৃহস্পতি এবং শুক্রবার মাত্র ২ দিনের সরকারি ছুটি রয়েছে। এই দুইদিনের ঈদের ছুটিতে একদিনে ৭৫ লাখ করে দুই দিনে দেড় কোটি মানুষ গ্রামের বাড়ি পাঠাতে গেলে ভরা বর্ষা মৌসুমের এই সময়ে এবারের ঈদযাত্রায় ভয়াবহ ভোগান্তি আমাদের সামনে উপস্থিত। দুইদিনের ছুটিতে দেড়কোটি মানুষ ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি পাঠানোর মত সড়ক, রেল, নৌ কোন পথের যানবাহনের সক্ষমতা আমাদের দেশে নেই। ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরের পার্থক্য আছে। ঈদুল আজহায় সড়কের পাশে পশুরহাট বসে, ঐ হাটকে কেন্দ্র করে মূল সড়কে ট্রাক থেকে পশু নামানো হয়। এতে যানজট-জনজট একাকার হয়ে যায়। যানবাহনের গতি কমে আসে। এছাড়াও পশুবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে বাসের গতি কমে আসে। বাজার সংলগ্ন এলাকায় যানজট লেগেই থাকে। ফলে যানবাহনের গতিও কমে যায়। তাহলে সমাধান কি? দীর্ঘদিন যাবত সড়কে নিরাপদ যাতায়াত ও যাত্রী স্বার্থ নিয়ে কর্মরত যাত্রী কল্যাণ সমিতি পক্ষ থেকে এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাহী আদেশে দেওয়া ১১ ও ১২ জুন ২ দিনের ছুটি বিন্যাস করে ঈদের আগে ৩ ও ৪ জুন মঙ্গল ও বুধবার এগিয়ে নিয়ে আসার দাবি তুলেছিলেন, কিন্তু হয়নি।

এখন দায়িত্ব নিতে হবে দেশের জনগণকে। জনসাধারণ নিজ দায়িত্বে পরিবার পরিজনকে আগে-ভাগে বাড়ি পাঠানোর উদ্যোগ নিতে হবে এখনি। মোটরসাইকেলে ঈদযাত্রা করতে হলে বেস্ট পরিধান করতে হবে। পরিবার পরিজনকে সহযাত্রী বানানো যাবে না। লাগেজ-ব্যাগেজ পার্সেল বা কুরিয়ারে আগে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। ফিটনেস বিহীন যানবাহন ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে। প্রয়োজনে বিআরটিএ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটদের নাম্বার সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করতে হবে প্রয়োজনে যাতে সহযোগিতা নেওয়া যায়।

এবারের ঈদুল আজহায় ঈদের পরে ৮ জুন থেকে ১৪ জুন ৭ দিনের ছুটি অনেকটা অপ্রয়োজনীয়। অথচ সরকারের দায় ও দায়িত্ব থাকলে ঈদের পেছনের ১১ ও ১২ জুনের ছুটি ৩ ও ৪ জুন এগিয়ে আনলে দেশের মানুষজন পবিত্র ঈদুল ফিতরের মত ঈদুল আজহায়ও ধাপে ধাপে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ পেত। ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হতো। সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমে আসতো।

এবারের ঈদুল আজহায় যাতায়াতে অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নৌ-পথে। একদিকে ভরা বর্ষা মৌসুম হওয়ায় নৌ-পথ উত্তাল রয়েছে। অন্যদিকে, দমকা-হাওয়াসহ ঝড়ো বাতাস। এই কারণে যাতায়াতের পিক আওয়ারে নৌ-সতর্কতা সংকেত চালু থাকলে নৌ-পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে এই চাপ গিয়ে সড়কের উপরে পড়বে। তাছাড়াও ভরা বর্ষা মৌসুম হওয়ায় ৬০ ফিটের নীচের লঞ্চ চলাচল যেকোনোভাবে বন্ধ রাখতে হবে, যা দারুণ চ্যালেঞ্জের। লঞ্চগুলো লোড লাইন মেনে যাত্রী বহন নিশ্চিত করতে হবে। অধিকাংশ নৌ-পথে ভয়া, বাতি, সিগন্যাল লাইট কিছুই নেই। যদিও ঈদের আগে পরে বালুবাহী বাল্কহেড বন্ধের নির্দেশনা থাকে। কোনো কোনো নৌ-পথে তা শতভাগ মানা হয় না। বৃষ্টির রাতে বাল্কহেড ও ডুবোচর শনাক্ত করা মুশকিল। কালবৈশাখি মৌসুম হওয়ায় এবারের ঈদে নৌ-পথে ফিটনেস বিহীন লঞ্চ চলাচল কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। ফলে লঞ্চে যাত্রীর চাহিদা বাড়বে। এহেন সংকটকে পুঁজি করে নৌ-পথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।

পৃথিবীর দেশে দেশে ঈদ পূজা পার্বণে মূল্য ছাড় দেওয়া হয়। আমাদের দেশে অন্যান্য পণ্যের মত সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথে গণপরিবহন সংকট এবং বিপুল যাত্রী চাহিদা পুঁজি করে কতিপয় অসাধু পরিবহন মালিকেরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য মেতে উঠেন। প্রতিবছর ঈদে এমন অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে সামর্থহীন মানুষ বিশেষ করে, কর্মজীবী, শ্রমজীবী, নিন্ম আয়ের লোকজন গণপরিবহনের পরিবর্তে পণ্যবাহী পরিবহনকে তাদের যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন। কেউ ট্রেনে ছাদে যাতায়াত করেন, কেউ আবার বাসের ছাদে চেপে বসেন। আবার কেউ স্ত্রী পরিজন নিয়ে খোলা ট্রাকে পণ্যের উপর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঈদ আনন্দ উদ্যাপন করতে বাড়ি যান। এসব যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়লে একসাথে বহু মানুষের জীবনহানি ঘটে। পত্রিকার পাতায় বড় শিরোনাম হয়। আবার পরের বছর একই কায়দায় তারা বাড়ি যান। অথচ যেহেতু আমরা ঈদে যাত্রী ব্যবস্থাপনায় যানবাহনের সক্ষমতা বাড়াতে পারি না সেহেতু ঈদযাত্রায় ছুটির ব্যবস্থাপনা ঠিক করে প্রতিবছর ঈদের আগে ৩ থেকে ৪ দিনের ছুটি নিশ্চিত করা গেলে যাত্রীসাধারণের এহেন দুর্ভোগ ও প্রাণহানি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব। কিন্তু সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কারো এই ব্যাপারে কোনো সমীক্ষা নেই, গবেষণা নেই, প্রচেষ্টা নেই, দায় নেই, দায়িত্বও নেই।

এবারের ঈদুল আজহায় ঈদের পরে ৮ জুন থেকে ১৪ জুন ৭ দিনের ছুটি অনেকটা অপ্রয়োজনীয়। অথচ সরকারের দায় ও দায়িত্ব থাকলে ঈদের পেছনের ১১ ও ১২ জুনের ছুটি ৩ ও ৪ জুন এগিয়ে আনলে দেশের মানুষজন পবিত্র ঈদুল ফিতরের মত ঈদুল আজহায়ও ধাপে ধাপে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ পেত। ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হতো। সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমে আসতো। মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি কমতো। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকতো। আপনাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে ৪ দিন ছুটি ছিল, মানুষজন ধাপে ধাপে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে বলেই গত ২৫ বছরের মধ্যে বিগত ঈদুল ফিতরে ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হয়েছে।

এখন আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী, হাইওয়ে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিআরটিএ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সর্বোপরি সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা ছাড়া এহেন যাতায়াতের দুর্ভোগ থেকে উত্তরণ কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কেননা ইতোমধ্যে ঈদযাত্রা শুরু থেকে বিভিন্ন মহাসড়কে যানজট এবং ভারি বৃষ্টির কারণে দুর্ঘটনার সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রেলের শিডিউল লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে। আমাদের রেলপথ বহু পুরোনো, অনেক রেলসেতু ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে প্রায়শই লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটে। একটি লাইনচ্যুতির ঘটনায় একাধিক রেলপথের কয়েকজোড়া ট্রেনের যাত্রা বাতিল করতে হয়। ফলে স্টেশনে স্টেশনে আটকে থাকেন যাত্রীরা। এমন নারকীয় দুর্ভোগ এবারের ঈদে ঘটবে বলে আশঙ্কা করছেন রেলপথ বিশেষজ্ঞরা। সরকারের রেলপথ মন্ত্রণালয় বিষয়টি নজরে রাখবেন আশা করি। নৌ-পথে কখনো কখনো রেড সিগন্যালে নৌ-পথ সাময়িক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে এবারের ঈদুল আজহায় বিভিন্ন পথে ঈদযাত্রায় দুর্ভোগের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ঠাকুরগাঁও ভূল্লীতে ট্রাক-অটোর সংঘর্ষে কলেজছাত্রী নিহত, আহত ৬

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে ট্রাক ও যাত্রীবাহী অটোরিকশার সংঘর্ষে হাবিবা আক্তার (২০) নামে এক কলেজছাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশায় থাকা আরও ছয়জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভূল্লী উপজেলার ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় মহাসড়কের মনসুর আলী ফিলিং স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত হাবিবা আক্তার ভূল্লী উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা হারুন রশিদের মেয়ে। তিনি একজন কলেজছাত্রী ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, মনসুর আলী ফিলিং স্টেশনের সামনে একটি ট্রাকের সঙ্গে যাত্রীবাহী অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশায় থাকা কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাবিবা আক্তারের মৃত্যু হয়।

আহত আরও ছয়জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আহত সবাই ভূল্লী উপজেলার বাসিন্দা।দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হলে কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় এক কলেজছাত্রী মারা গেছেন। দুর্ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানা যাবে।

পলাতক ফ্যাসিস্টের দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র রুখে দিতে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল ঐক্যবদ্ধ: দীপ্তি-শাহেদ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি বলেন, পলাতক ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র রুখে দিতে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল ঐক্যবদ্ধ। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বা সহিংসতার নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সেগুলো নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরী। তিনি আজ ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার বিকালে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের উদ্যোগে দেশকে অস্থিতিশীল করার চলমান রাজনীতির বিরুদ্ধে করণীয় শীর্ষক প্রস্তুতি সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জনগণের প্রত্যেক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে বেকাঁদায় ফেলতে পলাতক ফ্যাসিস্ট পুরানো জ্বালাও পোড়াও রাজনীতি বেচে নিয়েছে। আওয়ামী লীগের এ জ্বালাও পোড়াও রাজনীতি এ দেশে আর চলবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘের সফর বানচাল করতে পলাতক আওয়ামী লীগ দেশব্যাপী নৈরাজ্য ও আগুন সন্ত্রাস শুরু করেছে। চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ বলেন, সন্ত্রাসের জবাব আরেক সন্ত্রাস নয়-আইনের শাসন। প্রতিহিংসার জবাব প্রতি হিংসা নয়-ন্যায় বিচার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে সবার আগে বাংলাদেশ হৃদয়ে ধারণ করে সরকার কর্তৃক জনগণের কল্যাণে গৃহিত কর্মসূচি ঘরে ঘরে পৌছে দিতে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন সহায়কের ভূমিকা পালন করছে।

জনগণের অধিকার ও নিরাপত্তাই হবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি এসময় রাজনৈতিক সহিংসতা ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের আওতাধীন ১৫টি থানা ও ৪৩টি সাংগঠনিক ওয়ার্ড যুবদল নেতাকর্মীদেরকে ঐক্যবদ্ধ থেকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে সদা সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলে প্রস্তুতি সভায় অন্যান্যের মধ্য উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি ইকবাল হোসেন, এস এম শাহ আলম রব, শাহেদ আকবর, এম এ রাজ্জাক, সহ সভাপতি ফজলুল হক সুমন, জাহাঙ্গীর আলম, গফুর বাবুল, সাহাব উদ্দিন হাসান বাবু, মোহাম্মদ মুসা, মিয়া মোহাম্মদ হারুন, জসিমুল ইসলাম কিশোর, মুজিবুর রহমান, অরুপ বড়ুয়া, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন, হুমায়ুন কবির, রাশেদুল হাসান লেবু, সেলিম উদ্দিন রাসেল, সহ সাধারণ সম্পাদক ওসমান গনি সিকদার, মুজিবুর রহমান রাসেল, আসাদুর রহমান টিপু, জাহাঙ্গীর আলম বাঁচা, হেলাল হোসেন, গুলজার হোসেন, তানভীর মল্লিক, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য জিল্লুর রহমান জুয়েল, মহিউদ্দিন মুকুল, আসাদুজ্জামান রুবেল, এস এম বখতিয়ার উদ্দিন, ইফতেখার শাহরিয়ার আজম,

সহ- সম্পাদক মনোয়ার হোসেন মানিক, কামরুল ইসলাম, কমল জৌতি বড়ুয়া, শাহেদুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম, মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু, জাহাঙ্গীর আলম বাবু, হাফেজ কামাল উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম মানিক, মোহাম্মদ ইউসুফ, মিজানুর রহমান দুলাল, মো: হাসানুজ্জামান, ইয়াছিন আজাদ, আবুল কালাম, ফারুক হোসেন স্বপন, সদস্য কলিম শিকদার, গোলাম ইয়াজদানী সাবাব, প্রফেসর সাইদুল হক শিকদার, আবদুল্লাহ আল মামুন, থানা যুবদলের আহবায়ক মোহাম্মদ আজম, মোশাররফ আমীন ,বজল আহমেদ, খোরশেদ আলম, সদস্য সচিব শওকত খান রাজু, মোহাম্মদ মুসা, মো: ইলিয়াস, মনজুর আলম মনজু, মোরশেদ কামাল, আশিক মল্লিক, মোস্তাকিম মাহমুদ, সাইফুল ইসলাম রুবেল, মো: ইয়াছিন, সাজ্জাদ হোসেন সাদ্দাম, মোহাম্মদ সোহেল, ওয়ার্ড যুবদলের আহবায়ক এস এম আলী, মোহাম্মদ হাসান, আবু বক্কর বাবু, বাদশাহ আলমগীর, সাইফুল ইসলাম, মাসুদ আলমসহ থানা ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড যুবদলের নেতৃবৃন্দ।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ