আজঃ মঙ্গলবার ১৭ মার্চ, ২০২৬

ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার পরিদর্শনে চসিক টিম।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টেন্ডারের আগেই সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে চট্টগ্রামের ফিসারিঘাটস্থ মাছবাজারের ঘাট দখলের অভিযোগ উঠেছিল চট্টগ্রামের দুই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। শুধু ঘাটই নয়, অবৈধভাবে এরপর সিটি কর্পোরেশনের নাম ভাঙিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জায়গা দখলে নিতে বেশ কিছু স্থাপনা নিমার্ণের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি ওই এলাকার পান দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে গণহারে চাঁদা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। এত সব অভিযোগে বিরক্ত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।

এবার সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কর্পোরেশনের একটি টিম। কথা বলেছেন সব শ্রেণির ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও। এরপর মৎস্যজীবি থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে; কেউ যদি সিটি কর্পোরেশন, মেয়র, কিংবা মেয়রের পিএসের নামেও মাছবাজার থেকে চাঁদাবাজি করেন; তাদের ধরে যেন পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

যাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তারা হলেন: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন চৌধুরী আছু ও মহানগর বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ নবাব খান।

বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তারা ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার পরিচালনারা সাথে জড়িত জাতীয় মৎসজীবি সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে মাছ বাজার পরিদর্শন করেন।

এসময় উচ্চ আদালতের স্থিতিআদেশ উপেক্ষা করে বন্দর থেকে লিজ নেয়া জমিতে বেআইনীভাবে চসিকের খাস কালেকশন, পরিবহন ও সাধারণ মৎস্যজীবীদের কাছে চাঁদাবাজি, চসিকের অধিভুক্ত নয় এমন জমিতে চসিকের লোক পরিচয়ে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, বাজারের ল্যান্ড ডিমারকেশন, ঘাটের নতুন টেন্ডারসহ বিভিন্ন অভিযোগ রাজস্ব কর্মকর্তাদের কাছে উপস্থাপন করেন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি।

জানা যায়, দেশের সবচেয়ে আধুনিক এই ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার থেকে মাছের দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি করা হয় বিদেশেও। এ অঞ্চলের মৎস্য শিল্পের সাথে জড়িত লক্ষাধিক মৎসজীবি। ২০১৫ সালে সাধারণ মানুষের দাবির মুখে জনবহুল ফিরিঙ্গিবাজার থেকে মাছ বাজার নতুন ফিসারীঘাটে সরিয়ে নেয়া হয়েছিলো। পুরোনো বাজারটি সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

কিন্তু ৫ই আগস্টের প্রয়াত মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী অনুসারীরা বাজারটি পুরোনোস্থানে সরিয়ে নিতে নানামুখী প্রচেষ্টা শুরু করে। যদিও ফিরিঙ্গিবাজারে বেশকিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, গির্জা থাকার কারণে স্থানান্তরের বিষয়টি একেবারেই অযৌক্তিক বলছেন এলাকাবাসী।

নথি অনুযায়ী, বন্দর ও জেলা প্রশাসনের পারস্পরিক ভূমি বিরোধ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মামলা চলমান আছে (সিভিল বিবিধ পিটিশিন নম্বর ৭৮১/২৪, হাই কোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ৪৬২৪/২৫)। এছাড়া বিজ্ঞ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনাল চট্টগ্রামে (এল. এস. টি নম্বর ৪৮৪৫/২৪) ও বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ৩য় আদালতে আরেকটি মামলা (নম্বর ৭০/২৫) চলমান আছে। মৎস্যজীবীদের পূনঃর্বাসন না করে কোন ধরনের উচ্ছেদ না করার হাইকোর্টের নির্দেশনা আছে।

এর আগে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হবার পূর্বেই সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে মাছবাজার দখলের অভিযোগ উঠে দুই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। মাছ বাজারের দুই পাশে ব্যানার ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন বিএনপির দুই নেতা। সেই ব্যানারে তাদের ছবির সাথে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের ছবিও ছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লাগানো সাইনবোর্ডে উল্লেখ করা হয়েছিল চসিকের একটি স্মারক নম্বরও। তারা যে সাইনবোর্ডটি ঝুলিয়ে ছিলেন সেখানে দুজনের ছবি ছাড়াও সবার ওপরে দেওয়া হয়েছে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের ছবি। আর সবুজ কালিতে তাদের পরিচয়ে লেখা হয়েছে ‘ইজারাদার’। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর রাতারাতি সেই সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলা হয়।

সোনালী যান্ত্রিক মৎসজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘বন্দর থেকে লিজ নিয়ে বৈধভাবে এই ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। এই বাজারের মাছ আভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। অযাচিতভাবে কেউ বাজার দখল করার জন্য অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করলে সেটি রাষ্ট্রের জন্যই ক্ষতি হবে। আমরা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছি।’

বাংলাদেশ জাতীয় মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক বীর মুক্তিযোদ্ধা আমীর হোসেন বলেন, ‘ কতটুকু জায়গা আমাদের লিজ দেওয়া হয়েছে, তা বন্দরের সঙ্গে করা চুক্তিতে উল্লেখ করা আছে। অনেকে ঘাটের কথা বলছেন, অথচ চট্টগ্রামে কিন্তু চাক্তাই-রাজাখালীসহ অনেক ঘাট রয়েছে। এখানে কোনভাবেই ঘাট নির্মাণ করতে দেওয়া যাবে না। বন্দর কোনভাবেই তা প্রশ্রয় দিবে না। নীতিমালায় বলা হয়েছে, এই জায়গায় কোন অবকাঠামো সৃষ্টি করা যাবে না। বন্দর যদি খাস কালেকশনের জন্য যদি অনুমতি দিয়েই থাকে তাহলে বিষয়টিতো আমাদের জানাতে হবে। যেহেতু বন্দর কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ, ফলে এখানে ডাবল পক্ষ নিয়ে কাজ করতে গেলেই ঠেলাঠেলি হবেএটাই স্বাভাবিক। যার প্রভাব পড়বে বাজারে, পরিচালনার ক্ষেত্রে সবাইকেই বেগ পেতে হবে। ফলে যারা ইজারা নিয়েছে আমি তাদের অনুরোধ করবো, আপনারা যেখান থেকে ঘাট নিয়েছে সেখানেই আপনারা ঘাট পরিচালনা করেন। অযথা বাজারে চাঁদাবাজি করবেন না।

তবে ঘাটের ইজারাদার মহানগর বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ নবাব খান বলেন, ঘাট-বাজার, এসব জায়গা ইজারা দেওয়ার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের। ফলে এই ঘাটের ইজারার টাকাগুলো তুলে কর্পোরেশনকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মহোদয় আমাদের দুইজনকে নিয়োগ করেছেন। কিন্তু এসব জায়গা থেকে টাকা তারা তুলে আমাদের ঘাড়ের উপর চাড়াচ্ছে। তারা বলছে, আমরা নাকি এখানে চাঁদাবাজি করছি। অথচ আমরা গত দুই মাস এখানে আসি না। আমার প্রশ্ন-আইনের মধ্যে আছে কি না, ১৫ বছর মেয়াদে তাদের ঘাট দেওয়া যাবে?

বন্দরের জায়গা সিটি কর্পোরেশন কিভাবে লিজ দেবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রত্যেক ঘাটই সিটি কর্পোরেশন লিজ দিয়েছে। এখন যেই ঘাট নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে, তা সিটি কর্পোরেশন বুঝবে। বন্দরের জায়গা হয়ে থাকলেও ডাক হলে সিটি কর্পোরেশনের। আর বন্দর এদের কিভাবে লিজ দিল গত ১৫ বছর? এত বছর কি বন্দবোস্তি হয়? তাহলে বাজার সমিতির মানুষ কিভাবে আবার এই জায়গা পরিচালনার দায়িত্ব পেল!

ঘাটের আরেক ইজারাদার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন চৌধুরী আছু বলেন, চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এই ঘাটের ইজারা দেওয়ার পর থেকেই একটি পক্ষ নানাভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। কিভাবে ডা. শাহাদাতকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়, সেই চেষ্টা তারা নানাভাবেই করছেন। প্রতিদিন আমরা ১০ হাজার টাকা করে কালেকশন করে সিটি কর্পোরেশনকে দিচ্ছি। ঘাট আর বাজারের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বন্দর বলছে, এই বাজারটা তারা সোনালী মৎস্যজীবি সমিতিকে দিয়েছে। তারা বাজারকে ভাড়া দিয়েছে। এসব বিষয় কতটুকু গ্রহণযোগ্য তা আমাদের দেখতে হবে। সোনালী মৎস্যজীবি সমিতি যদি এই বাজার চালাতে না পারে সেক্ষেত্রে তারা তা বন্দরকে ফেরত দিবে, কিন্তু তা না করে তারা কিভাবে আরেকজনকে ভাড়া দিবে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিষয়টি আইনগতভাবে কতটুকু শুদ্ধ রয়েছে তা জানা নেই, তবে ঘাটের মধ্যে আইন মেনে যতটুকু সম্ভব ততটুকুই কালেকশন করা হচ্ছে। কোনপ্রকার চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসী আমরা করবো না।

সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের একান্ত সহকারী মারুফুল হক চৌধুরী বলেন, ফিসারিঘাট নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, উঠে আসছে চাঁদাবাজিসহ অনেক অভিযোগ। অভিযোগ উঠেছে, আমাদের (সিটি কর্পোরেশন) নাম দিয়ে অনেকে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা উঠাচ্ছে। বিষয়গুলো নিয়ে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেয়র মহোদয় বাজার ও ঘাটের ইজারাদার, সবাইকে ডেকেছিলেন। যার প্রেক্ষিতে আজ (বৃহস্পতিবার) মেয়র মহোদয় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসার কথা ছিল। কিন্তু জরুরি কাজে তিনি ঢাকা থাকায় ওনার নির্দেশে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। আমাদের স্টেড টিমও ঘটনাস্থলে এসেছে। আমরা সবকিছু সার্ভে করে একটি রিপোর্ট মেয়র মহোদয়কে দিব। আমরা বলতে চাই, কেউ যদি সিটি কর্পোরেশন, মেয়র, কিংবা আমার নামেও মাছবাজারে চাঁদাবাজি করে; ব্যবসায়ী, মৎস্যজীবিসহ সবাইকে বলবো তাকে ধরে আপনারা আমাদের ফোন করবেন।

৬ মাসের জন্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার রায় রয়েছে তারপরও কেন ইজারা দেওয়া হলো জানতে চাইলে মারুফুল হক চৌধুরী বলেন, বাজারের বিষয়ে আমরা কিছু বলতে চাই না। কারণ বাজার হচ্ছে বন্দরের, ঘাট হচ্ছে সিটি কর্পোরেশনের। ফলে ঘাট বন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থাপনার জন্য সিটি কর্পোরেশনকে দিয়েছে। ঘাট থেকে সিটি কর্পোরেশন খাস কালেকশন করতে পারবে। কিন্তু ইজারাদার বাজার থেকে কোন ধরনের ট্যাক্স, চাঁদা, ফি-বাজার থেকে তুলতে পারবে না। অবৈধভাবে বাজার থেকে কারা চাঁদাবাজি করছে, আপনারা (সাংবাদিক) তাদের ধরেন, তদন্ত করেন। কোন চাঁদাবাজিই এখানে হবে না। আমরা আশা করবো সাংবাদিকদের মধ্যে চাঁদাবাজদের মুখ উন্মোচন হবে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কর কর্মকর্তা ছাবের আহমদ বলেন, বাজারের সীমানা এক জিনিস, ঘাটের সীমানা এক জিনিস। নদীর কূল কর্পোরেশনের ঘাট থাকবেই, তা নীতিমালাতেই বলা আছে। সেই আলোকে এই ঘাট স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে আমরা অনুমতি নিয়েই এই কাজ করেছি। প্রত্যেক বছর বন্দরের তালিকাভুক্ত ঘাটগুলো আমরা ইজারা দিয়ে থাকি। সেই হিসেবে এটিও ইজারা দেওয়া হয়েছে। নদীর কূলের সীমানার মধ্যে কোন ধরনের অবৈধ স্থাপনা রাখার পক্ষে আমরা নই, এগুলো উচ্ছেদ করার বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিবো। যেই ঘাট আমরা ইজারা দিয়েছি, ওই ইজারাদার ঘাট রিলেটেড আইন অনুযায়ী যা করণীয় সবটুকু করতে পারবেন। এর বাইরে আমাদের কোন এখতিয়ার নেই। ‘

নথি ঘেটে জানা যায়, বন্দর কর্তৃপক্ষ হতে লিজ মূলে ২০১৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর (১৪৭৭৫ নম্বর) এবং ২০১৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরের (১৫০৫৩ নম্বর) বোর্ড রেজুলেশনের মাধ্যমে ফিসারিঘাটের ক্যাপিটাল ড্রেজিং থেকে সৃস্ট পরিত্যক্ত এই জমি (১,৭৩,২৬৩ বর্গফুট) বাংলাদেশ জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডকে ১৫ বছর মেয়াদে লিজ দিয়েছিল। সরকারি বিধি মোতাবেক বন্দরের সাথে চুক্তি সম্পাদন করে ২০১৫ সালে ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছিল। সেই বন্দরকে বাৎসরিক ৬৩ লাখ টাকা ভাড়া দিয়ে আসছে সোনালী যান্ত্রিক মৎসজীবি সমবায় সমিতি। বর্তমানে এটি দেশের সবচেয়ে বড় ও আধুনিক মাছ বাজার। কিন্তু ফিরিঙ্গিবাজার পুরোনো মাছ বাজার বন্দরের এই জমিতে স্থানান্তর নিয়ে সাবেক মন্ত্রী মুহিবুল হাসান নওফেলের সরাসরি আপত্তি ছিল। এছাড়া সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীও ফিরিঙ্গিবাজার থেকে ফিসারিঘাটে নতুন মাছ বাজার স্থানান্তরের ঘোর বিরোধী ছিলেন। সরকার পতনের পর ফিরিঙ্গি বাজার মাছ বাজারের (পুরাতন বাজার) সিন্ডিকেটের সাথে নতুন ফিসারিঘাট মাছবাজার বন্ধে চুক্তিবদ্ধ হন বিএনপি নেতারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাছ ব্যবসায়ী জানান, ‘দরপত্রে অংশ নিয়ে সরকারকে রাজস্ব দিতে রাজি নন দখলদাররা। তারা মাসোহারা আদায় করতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে ইজারা নেয়া মাছ বাজার দখলে নিতে চাইছেন। বাজার সংলগ্ন ঘাটে চসিকের দরপত্র আহবানে ‘একান্ন লক্ষ টাকা’ ডাক উঠেছে। আইন অনুযায়ী, অভিযোগ উঠা দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার কথা। উল্টো তারা দিন দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের লোক দাবি করে ঘর নির্মাণ করছে।’

এই ব্যবসায়ী আরও বলেন, বাজারের খালি জায়গা জোরপূর্বক দখল করার অপচেষ্টা করছে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী কিছু ব্যক্তি। সিটি করপোরেশনের জায়গা নয় এটি- তাহলে খাস কালেকশন কেন করবে? মেয়রও বেআইনি কাজ কেন করবেন! এদের চাঁদাবাজির কারণে ব্যবসা পরিচালনা করা অসম্ভ হয়ে পড়েছে। সন্ত্রাসীদের জোরপূর্বক বেআইনী ও অনুপ্রবেশের কারণে বর্তমানে বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ী ও ক্রেতাসহ সকলে ভয়ে ভীত সন্ত্রন্ত।’

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সাপ্তাহিক বাণিজ্যিক রাজধানী পত্রিকার ইফতার মাহফিল ও “বাণিজ্যিক রাজধানী—প্রহসন নয়, বাস্তবায়ন চাই” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্য এবং “বাণিজ্যিক রাজধানী—প্রহসন নয়, বাস্তবায়ন চাই” শীর্ষক এক আলোচনা সভা শনিবার ১৪ মার্চ বিকেল ৪টায় নগরীর মোমিন রোডস্থ চট্টগ্রাম একাডেমির ফয়েজ নুর নাহার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পত্রিকার উপদেষ্টা ও টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব মোঃ নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নির্ধারিত প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: মঞ্জুরুল কিবরিয়া।

নগরীতে একাধিক ইফতার মাহফিল ও তীব্র যানজটের অনিবার্য কারণে নির্ধারিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত হতে না পারায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়ন পর্ষদ এর কার্যকরী সভাপতি আলহাজ্ব শাহসূফি শাহজাদা সৈয়দ সিরাজুদ্দৌলা। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়ন পর্ষদ এর সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী গোলাপ রহমান। প্রধান বক্তা ছিলেন উদ্যোক্তা, গবেষক ও সংগঠক সিআরবির সমন্বয়ক জিয়াউল হক খন্দকার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ সিরাজুদ্দৌলা বলেন, মাহে রমজান সংযম, আত্মশুদ্ধি ও মানবিকতার মাস। এই মাস মানুষের ভেতরের নৈতিক শক্তিকে জাগ্রত করে এবং সমাজে ন্যায়, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক রাজধানীর দাবিটি অনেক সময় কেবল কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। এখন সময় এসেছে বাস্তব উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে সত্যিকারের বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তর করার।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যানজট নিরসন এবং বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নতির মাধ্যমে নগরীর অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে অত্র সংগঠন ব্যবসায়ী সমাজের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে আগ্রহী বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সাপ্তাহিক বাণিজ্যিক রাজধানী পত্রিকার সম্পাদক ও দৈনিক ঘোষণা পত্রিকার বোয়ালখালী প্রতিনিধি আলমগীর রানার সঞ্চালনে অনুষ্ঠিত এ সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক আবদুল্লাহ মজুমদার।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাপ্তাহিক সোনার বাংলার চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ইমরান হোসেন। দৈনিক বর্তমান বাংলার প্রধান সমন্বয়কারী সিরাজুল মনির। মানবাধিকারকর্মী শাহজালাল।
উপস্থিত ছিলেন দৈনিক দেশবার্তার ব্যুরোচীফ মো: আনিসুর রহমান ফরহাদ, দৈনিক ঘোষণার বিশেষ প্রতিনিধি এস এম সামজাত, সূফি কথার বার্তা সম্পাদক আল সিরাজ ভাণ্ডারী, হাফিজুল মোর্শেদ, মো: রাশেদ, আলমগীর, আবুল বাশার, আবদুল্লাহ আল হাবিব, মো: রানা, শাফায়েত উদ্দিন, মো: নাছির, নুরুল আবসার, আবদুল মাবুদ, সুমাইয়া, জান্নাতুল ফেরদৌস, মো; সাঈদ, মো: ইভান প্রমুখ।

পবিত্র কোরআন তেলোয়াত করেন লেখক ও গবেষক এস এম ওসমান। নাতে রাসুল(দ:) পরিবেশন করেন এইচ এম নিজামুদ্দীন চৌধুরী আলিফ। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন আদনান লাভলু, আরফাত শাওন, আবিদুর মাহিন, নিজামুদ্দিন আলিফ, আতিকুর আবির প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে আলহাজ্ব মোঃ নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। দেশের আমদানি-রপ্তানির বড় অংশই এই নগরীর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই “বাণিজ্যিক রাজধানী” শব্দটি যেন শুধু স্লোগান না হয়ে বাস্তবে রূপ পায়, সে লক্ষ্যে সরকার, সিটি কর্পোরেশন ও ব্যবসায়ী সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, মাহে রমজান আমাদের সংযম, সততা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। এই শিক্ষাকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারলে সমাজে ন্যায় ও সাম্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও সততা ও নৈতিকতার চর্চা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

আলোচনা সভায় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে সমাজে নৈতিকতা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতি বৃদ্ধির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে চট্টগ্রামকে সত্যিকারের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভা শেষে দেশ, মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া, মোনাজাত ও ইফতারের আয়োজন করা হয়।

চট্টগ্রামে ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন না করায় জরিমানা গুনল ৪ বাস কাউন্টার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের বাস কাউন্টারগুলোতে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে এ অভিযান চালানো হয়। সোমবার মহানগরীর গরিবুল্লাশাহ মাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন তীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মো. ফয়েজ উল্ল্যাহ। অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান, মাহমুদা আক্তার ও রানা দেবনাথ।

মো. ফয়েজ উল্ল্যাহ বলেন, গরীবুল্লাহশাহ মাজার এলাকায় বাস কাউন্টারগুলোতে অভিযান চালিয়েছি। এসময় ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন না করায় সেন্টমার্টিন পরিবহনেকে ৫ হাজার টাকা, রিলাক্স পরিবহনকে ৩ হাজার, দেশ ট্রাভেলস ৩ হাজার ও রয়েল মত্রি সার্ভিসকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ঈদে যাতে কেউ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে সে লক্ষ্যে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ