চট্টগ্রাম বন্দরে টানা ছুটিতে কনটেইনার খালাস নেমে এসেছে অর্ধেকে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরে গড়ে দৈনিক প্রায় পাঁচ হাজার কনটেইনার জাহাজ থেকে খালাস হয়। কিন্তুঈদুল আজহার টানা সরকারি ছুটির প্রভাবে সেটা অর্ধেকেরও কমে নেমে এসেছে। এতে বন্দরের বর্হিনোঙ্গরে ও জেটিতে জাহাজের গড় অবস্থানকাল বেড়েছে। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বৃহস্পতিবার (১২ জুন) থেকে জাহাজ ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং প্রায় স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। বন্ধের মধ্যে যেভাবে জাহাজ ও কনটেইনার জটের আশঙ্কা করা হয়েছিল, সেভাবে হয়নি।

এদিকে ছুটির প্রভাবে বন্দর থেকে কনটেইনার ডেলিভারি ও রফতানি কনটেইনার প্রবেশও কমে গেছে। বর্হিনোঙ্গরে পণ্য খালাসের জন্য অপেক্ষমাণ জাহাজের জট তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বন্দরের অভ্যন্তরেও কনটেইনার জট পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরে ৫৩ হাজার টিইইউস (প্রতিটি ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একক হিসেবে) কনটেইনার রাখার জায়গা আছে। তবে ৪০ হাজার টিইইউসের বেশি কনটেইনার ডেলিভারির জন্য বন্দরের ভেতরে অপেক্ষমাণ থাকলে স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ে এবং দ্রুত জট পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়।

ঈদের ছুটি শুরুর সপ্তাহখানেক আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের কর্মবিরতির প্রভাব পড়েছিল চট্টগ্রাম বন্দরে। ২৭ মে পর্যন্ত প্রায় ৪৩ হাজার কনটেইনার বন্দরে ডেলিভারির জন্য অপেক্ষমাণ ছিল। এ ছাড়া জেটিতে ভেড়ার জন্য জাহাজের অবস্থানকাল পাঁচ থেকে সাতদিনে গিয়ে ঠেকেছিল। তবে এনবিআরে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে জাহাজ থেকে কনটেইনার খালাস ও ডেলিভারি ত্বরান্বিত করে। এতে ঈদুল আজহার আগে বন্দরের ভেতরে কনটেইনারের পরিমাণ ৩৬ হাজার টিইইউসে নেমে আসে। টানা বন্ধের কারণে গত এক সপ্তাহের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরে কনটেইনারের পরিমাণ আবারও ৪০ হাজার পেরিয়ে গেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) ক্যাপ্টেন আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন, গত বুধবার পর্যন্ত কনটেইনার ডেলিভারিতে একটু সমস্যা ছিল। তবে আমরা স্মুথলি জাহাজ থেকে খালাস করে গেছি। বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি অনেকটাই ডেভেলপ করেছে। বন্দরের অভ্যন্তরে ৪১ হাজার বা তার কিছু বেশি কনটেইনার আছে। আমাদের স্পেস এখনও পর্যাপ্ত আছে। এটা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। বর্হিনোঙ্গরে মাত্র ১১টি জাহাজ ওয়েটিংয়ে আছে। ছুটি শেষ হওয়ার পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ছুটিতে শ্রমিক সংকটে বন্দর কর্তৃপক্ষের নেওয়া সিদ্ধান্তের সুফল আসেনি। কনটেইনার ডেলিভারি কমে যাওয়ায় জাহাজকে জেটিতে অতিরিক্ত একদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

সূত্রমতে, ছুটি শুরুর দিন গত ৫ জুন বন্দরে কনটেইনার ডেলিভারি হয়েছিল ৪ হাজার ১২২ টিইইউস। এদিন জাহাজে রফতানি কনটেইনার তোলা হয়েছিল ৯ হাজার ৭২০ টিইইউস আর আমদানি কনটেইনার জাহাজ থেকে নামানো হয়েছিল ৫ হাজার ৪১১ টিইইউস। কিন্তু ঈদুল আজহার আগের দিন ৬ জুন থেকে পরিস্থিতি পালটাতে থাকে। এদিন মাত্র ৫২১ টিইইউস কনটেইনার ডেলিভারি হয়। ঈদের দিন ৭ জুন বিকেল ৪টা থেকে অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হলেও বন্দর থেকে কোনো কনটেইনার ডেলিভারি হয়নি। তবে কনটেইনার জাহাজ থেকে ডেলিভারি হয় ৩০৮ টিইইউস।ঈদের পরদিন ৮ জুনও কোনো কনটেইনার ডেলিভারি হয়নি। ৯ জুন ৪৩১ টিইইউস ডেলিভারি হয়েছে। এরপর গত মঙ্গলবার (১০ জুন) চলতি মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫৭৫ টিইইউস কনটেইনার জাহাজ থেকে খালাস হয়, এর বিপরীতে ডেলিভারি হয় ১ হাজার ৩৮১ টিইইউস। Behind (১১ জুন) ডেলিভারি হয়েছে ১ হাজার ৭৮১ টিইইউস।

ঈদের ছুটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার খালাসের পরিমাণও কমেছে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন আমদানি কনটেইনার নামানো হয় ৫ হাজারের মতো। কিন্তু ৫ জুন থেকে ১০ জুন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫৪৪ টিইইউস এবং সর্বনিম্ন ২ হাজার ৩১১ টিইইউস আমদানি কনটেইনার জাহাজ থেকে খালাস হয়েছে।মঙ্গলবার (১০ জুন) পর্যন্ত বন্দর ইয়ার্ডে কনটেইনার ছিল ৩৮ হাজার ৫২ টিইইউস। বুধবার কনটেইনার ছিল ৪০ হাজার ৬৬১ টিইইউস।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ও চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ার টেক লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক নাজমুল হক বলেন, কনটেইনার ডেলিভারি কম হচ্ছে। এতে অবশ্য আমরা খালাসে বেশি মনযোগ দিতে পারছি। এটা একটা পজেটিভ ইমপ্যাক্ট। ডেলিভারিও যে একেবারে সর্বনিম্নে নেমেছে এমন নয়। আমরা প্রথম দুই-তিনদিন বাদ দিলে গড়ে ১৩০০ করে কনটেইনার ডেলিভারি করছি। আমাদের ধারণক্ষমতা এখনও ভালো আছে।

তবে বেসরকারি কনটেইনার ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডা’র তথ্য অনুযায়ী, ঈদের টানা ছুটিতে শ্রমিক সংকটের কারণে ৩০ শতাংশ রফতানি কনটেইনার ডিপো থেকে বন্দরে পৌঁছানো যায়নি। ঈদের দিন এবং পরদিন ডিপো থেকে কোনো কনটেইনার ডেলিভারি হয়নি। এরপর গত চারদিনে সর্বোচ্চ ১৪৭টি ও সর্বনিম্ন ২০টি কনটেইনার ডেলিভারি হয়েছে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে ডিপো থেকে দুই হাজারের ওপর রফতানি কনটেইনার বন্দরে নিয়ে জাহাজে তোলা হয়।

এ অবস্থায় জাহাজে পণ্য বোঝাই ও খালাসের সময় অতিরিক্ত লাগছে। ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার বদলে জেটিতে জাহাজের গড় অবস্থানকাল অতিরিক্ত আরও ২৪ ঘণ্টায় গিয়ে ঠেকেছে। স্বাভাবিক সময়ে বর্হিনোঙ্গরে ২৫-২৬টি জাহাজ জেটিতে ভেড়ার জন্য অপেক্ষমাণ থাকে। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত সেটা ৫৩টি-তে পৌঁছে।

বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার বলেন, ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্দর ও ডিপো থেকে কনটেইনার ডেলিভারি অসম্ভব বেড়ে যাবে। যে চাপ তৈরি হবে, সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ায় হবে বন্দরের জন্য আসল চ্যালেঞ্জ। তখন ডিপো থেকে বন্দরে কনটেইনার পৌঁছানো নিয়ে আমরা বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হবো বলে আশঙ্কা করছি।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) ক্যাপ্টেন আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ আরো বলেন, বেসরকারি ডিপো থেকে আমরা ভালো রেসপন্স পেতে শুরু করেছি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দুবাইয়ে বেনজীরের জামিন বাতিলে ল’ফার্ম নিয়োগ হয়েছে – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দুবাইয়ের আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পাওয়ার পর সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের জামিন বাতিল এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে । দুবাইয়ে একটি আন্তর্জাতিক ল’ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করার জন্য।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।রোববার ২ আগস্ট রাজশাহীতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন-সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ের আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন—বিষয়টি আমরা জেনেছি। তার জামিন আদেশ বাতিলের জন্য বাংলাদেশ সরকার দুবাইয়ে একটি ল’ফার্ম নিয়োগ করেছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে চিংড়ি প্রকল্পের দখল নিয়ে শেষ রাতে গোলাগুলি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চিংড়ি প্রকল্পের দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধসহ গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার সরল ইউনিয়নের উত্তর সরল বেড়িবাঁধ সংলগ্ন তাজুরঘোনা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম বলেন, গোলাগুলির ঘটনায় প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৮ থেকে ১০ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই করে এর মধ্যে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি থাকলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, স্থানীয়ভাবে তৈরি একনলা বন্দুক দিয়ে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। মূল অপরাধীদের শনাক্ত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানায়, এলাকায় নতুন করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে শান্ত থাকার এবং অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাজুরঘোনা এলাকার একটি চিংড়ি প্রকল্পের মালিকানা ও দখল নিয়ে স্থানীয় কবির গ্রুপ ও মনসুর গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে বৃহস্পতিবার রাতে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। একপর্যায়ে একপক্ষ অন্যপক্ষকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে কয়েকজন পথচারীসহ সংঘর্ষে লিপ্ত ব্যক্তিরা গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অভিযান পরিচালনাকারী দল সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই জড়িতদের গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জেলা পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। অভিযানে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি ও শিল্পাঞ্চল) মো. ইব্রাহীম, আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান ও বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হকসহ জেলা পুলিশের একটি বড় দল অংশ নেয়।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ