আজঃ মঙ্গলবার ১৭ মার্চ, ২০২৬

পশুর চামড়াসহ বর্জ্য ফেলার কারণে এক সপ্তাহে হালদা নদী থেকে চারটি মৃত মা মাছ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদী থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে চারটি মৃত মাছ উদ্ধার হলো। প্রজনন সক্ষম এসব মাছকে ‘মা মাছ’ হিসেবে ডাকেন হালদা পাড়ের বাসিন্দারা। গবেষকদের তথ্যানুযায়ী, সম্প্রতি হালদা নদীতে কোরবানির পশুর চামড়াসহ বর্জ্য ফেলার কারণে এরোমোনাস ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত হয়ে মাছগুলোর মৃত্যু হচ্ছে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, গৃহস্থালি, কৃষি বা শিল্পের বর্জ্য মিশে কিংবা জৈব পদার্থের আধিক্যের কারণে পানি দূষিত হলে এরোমোনাস ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তার ঘটে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিচার্স ল্যাবরেটরির কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক মো. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, মৃত মাছ দুটি আমরা প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি।

মাছগুলোতে এরোমোনাস ব্যাকেরিয়ার সংক্রমণ পাওয়া গেছে। এ ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে যখন মাছ দুর্বল অবস্থায় থাকে। আপনারা জানেন, মাসখানেক আগে গত ২৯ মে হালদা নদীতে মাছ ডিম ছেড়েছে। শরীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী এরপর মাছগুলো হরমোনজনিত নানা রোগে ভোগে এবং খুব দুর্বল হয়ে পড়ে। আর এরোমোনাস ব্যাকেরিয়ার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এগুলো দুর্বল মাছকে খুব সহজেই আক্রমণ করতে পারে।

মাছগুলোতে এরোমোনাস সংক্রমণের বিভিন্ন লক্ষণ পাওয়া গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ত্বকে লাল ঘা, পাখনার গোড়া পচা, ফুলকা ফ্যাকাশে হয়ে পচন ধরা, পেট ও চোখ ফোলা- এসব উপসর্গ মাছগুলোতে দেখা গেছে। এতে আমরা মোটামুটি নিশ্চিত হয়েছি যে, এরোমোনাস ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলে ব্রুড মাছগুলোর মৃত্যু হয়েছে।

জানা গেছে, গত ২২ জুন বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার রামদাস মুন্সীর হাট এলাকায় নদীতে ভেসে আসা মৃত মাছ দু’টি উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ওই দিন সকালে একটি মৃত মা মাছ স্থানীয়রা উদ্ধার করে মাটিচাপা দেয়। এরপর বিকেলে আরও দুটি পাওয়া যায়। এর তিনদিন আগেও একটি মৃত মাছ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। সর্বশেষ উদ্ধার হওয়া মৃত মাছ দু’টি পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিচার্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে।

ল্যাবরেটরির সংশ্লিষ্টরা জানান, উদ্ধার হওয়া মাছ দু’টি প্রজনন সক্ষম কাতলা মাছ। এর একটির দৈর্ঘ্য ৩৮ ইঞ্চি এবং ওজন ১২ কেজি ৮৫০ গ্রাম। মাছটি একেবারে পচে গেছে। অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে সেটির মৃত্যু হয়েছে বলে তাদের ধারণা। মৃত আরেকটি মাছের দৈর্ঘ্য ৩৬ ইঞ্চি এবং ওজন ৮ কেজি ৩৫০ গ্রাম। সেটি সদ্যমৃত বলে জানান ল্যাব কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, এ বছর ঈদুল আজহার পরের দিন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় হালদা নদীর সঙ্গে যুক্ত ‘তেরপারি’ নামে একটি শাখা খালে কোরবানির পশুর অবিক্রিত চামড়া এবং নাড়িভুঁড়িসহ আরও বর্জ্য ফেলেন স্থানীয়রা। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শ্রমিকদের মাধ্যমে প্রায় ৭০০ চামড়া তুলে মাটিতে পুঁতে ফেলেন। চামড়াগুলো পচে গিয়ে বর্জ্যে পরিণত হয়েছিল।

এ ঘটনার পর পরিবেশ অধিদফতরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়, চামড়া ব্যবসায়ীরা (মৌসুমি সংগ্রহকারী) ফটিকছড়ির নানুপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে কোরবানির পর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু যথাযথ দাম না পেয়ে কেউ কেউ সেই চামড়া তেরপারি খালে ফেলে যান। সরাসরি তেরপারি খালে চামড়া ফেলার মধ্য দিয়ে প্রকারান্তরে হালদা নদী দূষণ করা হয়েছে। এতে নদীর কার্প (রুই) জাতীয় মাছ এবং উদ্ভিদসহ সব প্রাণির জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করেছে। এ ঘটনায় পরিবেশ অধিদফতরের পক্ষ থেকে ফটিকছড়ি থানায় মামলা করা হয়।

অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া আরো বলেন, ঈদুল আজহার দুইদিন পর চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছিল। এতে আমরা ধারণা করেছিলাম, হয়তো দূষণের প্রভাব থাকবে না এবং মা মাছগুলো প্রাণে রক্ষা পাবে। কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম, কোরবানির বর্জ্যে হালদা নদী দূষিত হয়ে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। এ পর্যন্ত চারটি মাছের মৃত্যু আমরা নিশ্চিত হয়েছি। বাকিটা আল্লাহ জানেন।

তিনি বলেন, গতবছরও একই ঘটনা ঘটেছিল। কোরবানির ঈদের পর হালদা নদীতে সাতটি মা মাছ মারা যায়। ভবিষ্যতে হালদা নদীতে কেউ যাতে কোনো ধরনের বর্জ্য ফেলতে না পারে, এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন না করায় জরিমানা গুনল ৪ বাস কাউন্টার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের বাস কাউন্টারগুলোতে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে এ অভিযান চালানো হয়। সোমবার মহানগরীর গরিবুল্লাশাহ মাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন তীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মো. ফয়েজ উল্ল্যাহ। অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান, মাহমুদা আক্তার ও রানা দেবনাথ।

মো. ফয়েজ উল্ল্যাহ বলেন, গরীবুল্লাহশাহ মাজার এলাকায় বাস কাউন্টারগুলোতে অভিযান চালিয়েছি। এসময় ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন না করায় সেন্টমার্টিন পরিবহনেকে ৫ হাজার টাকা, রিলাক্স পরিবহনকে ৩ হাজার, দেশ ট্রাভেলস ৩ হাজার ও রয়েল মত্রি সার্ভিসকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ঈদে যাতে কেউ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে সে লক্ষ্যে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

সিএমপির নতুন কমিশনার মো. শওকত আলী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডিআইজি হাসান মো. শওকত আলী।

সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিআইজি) হাসান মো. শওকত আলীকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজকে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) বদলি করা হয়েছে।বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী কমিশনার (সদর), অতিরিক্ত দায়িত্বে সহকারী পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ।

এছাড়া বিশেষ শাখা (এসবি) ঢাকার ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আহসান হাবীব পলাশকে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি দিয়ে মহাপরিচালক (অতিরিক্ত আইজিপি) হিসেবে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নে (র‌্যাব) পদায়ন করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ