পশুর চামড়াসহ বর্জ্য ফেলার কারণে এক সপ্তাহে হালদা নদী থেকে চারটি মৃত মা মাছ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদী থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে চারটি মৃত মাছ উদ্ধার হলো। প্রজনন সক্ষম এসব মাছকে ‘মা মাছ’ হিসেবে ডাকেন হালদা পাড়ের বাসিন্দারা। গবেষকদের তথ্যানুযায়ী, সম্প্রতি হালদা নদীতে কোরবানির পশুর চামড়াসহ বর্জ্য ফেলার কারণে এরোমোনাস ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত হয়ে মাছগুলোর মৃত্যু হচ্ছে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, গৃহস্থালি, কৃষি বা শিল্পের বর্জ্য মিশে কিংবা জৈব পদার্থের আধিক্যের কারণে পানি দূষিত হলে এরোমোনাস ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তার ঘটে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিচার্স ল্যাবরেটরির কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক মো. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, মৃত মাছ দুটি আমরা প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি।

মাছগুলোতে এরোমোনাস ব্যাকেরিয়ার সংক্রমণ পাওয়া গেছে। এ ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে যখন মাছ দুর্বল অবস্থায় থাকে। আপনারা জানেন, মাসখানেক আগে গত ২৯ মে হালদা নদীতে মাছ ডিম ছেড়েছে। শরীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী এরপর মাছগুলো হরমোনজনিত নানা রোগে ভোগে এবং খুব দুর্বল হয়ে পড়ে। আর এরোমোনাস ব্যাকেরিয়ার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এগুলো দুর্বল মাছকে খুব সহজেই আক্রমণ করতে পারে।

মাছগুলোতে এরোমোনাস সংক্রমণের বিভিন্ন লক্ষণ পাওয়া গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ত্বকে লাল ঘা, পাখনার গোড়া পচা, ফুলকা ফ্যাকাশে হয়ে পচন ধরা, পেট ও চোখ ফোলা- এসব উপসর্গ মাছগুলোতে দেখা গেছে। এতে আমরা মোটামুটি নিশ্চিত হয়েছি যে, এরোমোনাস ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলে ব্রুড মাছগুলোর মৃত্যু হয়েছে।

জানা গেছে, গত ২২ জুন বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার রামদাস মুন্সীর হাট এলাকায় নদীতে ভেসে আসা মৃত মাছ দু’টি উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ওই দিন সকালে একটি মৃত মা মাছ স্থানীয়রা উদ্ধার করে মাটিচাপা দেয়। এরপর বিকেলে আরও দুটি পাওয়া যায়। এর তিনদিন আগেও একটি মৃত মাছ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। সর্বশেষ উদ্ধার হওয়া মৃত মাছ দু’টি পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিচার্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে।

ল্যাবরেটরির সংশ্লিষ্টরা জানান, উদ্ধার হওয়া মাছ দু’টি প্রজনন সক্ষম কাতলা মাছ। এর একটির দৈর্ঘ্য ৩৮ ইঞ্চি এবং ওজন ১২ কেজি ৮৫০ গ্রাম। মাছটি একেবারে পচে গেছে। অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে সেটির মৃত্যু হয়েছে বলে তাদের ধারণা। মৃত আরেকটি মাছের দৈর্ঘ্য ৩৬ ইঞ্চি এবং ওজন ৮ কেজি ৩৫০ গ্রাম। সেটি সদ্যমৃত বলে জানান ল্যাব কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, এ বছর ঈদুল আজহার পরের দিন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় হালদা নদীর সঙ্গে যুক্ত ‘তেরপারি’ নামে একটি শাখা খালে কোরবানির পশুর অবিক্রিত চামড়া এবং নাড়িভুঁড়িসহ আরও বর্জ্য ফেলেন স্থানীয়রা। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শ্রমিকদের মাধ্যমে প্রায় ৭০০ চামড়া তুলে মাটিতে পুঁতে ফেলেন। চামড়াগুলো পচে গিয়ে বর্জ্যে পরিণত হয়েছিল।

এ ঘটনার পর পরিবেশ অধিদফতরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়, চামড়া ব্যবসায়ীরা (মৌসুমি সংগ্রহকারী) ফটিকছড়ির নানুপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে কোরবানির পর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু যথাযথ দাম না পেয়ে কেউ কেউ সেই চামড়া তেরপারি খালে ফেলে যান। সরাসরি তেরপারি খালে চামড়া ফেলার মধ্য দিয়ে প্রকারান্তরে হালদা নদী দূষণ করা হয়েছে। এতে নদীর কার্প (রুই) জাতীয় মাছ এবং উদ্ভিদসহ সব প্রাণির জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করেছে। এ ঘটনায় পরিবেশ অধিদফতরের পক্ষ থেকে ফটিকছড়ি থানায় মামলা করা হয়।

অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া আরো বলেন, ঈদুল আজহার দুইদিন পর চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছিল। এতে আমরা ধারণা করেছিলাম, হয়তো দূষণের প্রভাব থাকবে না এবং মা মাছগুলো প্রাণে রক্ষা পাবে। কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম, কোরবানির বর্জ্যে হালদা নদী দূষিত হয়ে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। এ পর্যন্ত চারটি মাছের মৃত্যু আমরা নিশ্চিত হয়েছি। বাকিটা আল্লাহ জানেন।

তিনি বলেন, গতবছরও একই ঘটনা ঘটেছিল। কোরবানির ঈদের পর হালদা নদীতে সাতটি মা মাছ মারা যায়। ভবিষ্যতে হালদা নদীতে কেউ যাতে কোনো ধরনের বর্জ্য ফেলতে না পারে, এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বোয়ালখালীর প্রথম শহিদ এখলাছুর রহমানের ৫৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকীর শ্রদ্ধা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

১৯৫৬ সালের ২০ শে মে তিনি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পোপাদিয়া ইউনিয়নের আকুবদনডী গ্রামে অকুতোভয় বীরোচিত আত্মত্যাগী এখলাছ। মরহুম সৈয়দ জামাল উদ্দীনের ঔরষে মরহুমা সৈয়দা মছুদা খাতুনের গর্ভে জন্ম গ্রহণ করেন এই ক্ষন জন্মা ব্যাক্তিত্ব।মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসে বীর বিক্রমে

কধুরখীলের খোকার দোকান এলাকায় পাকবাহিনীর ওপর গ্রেনেড ছুড়ে মেরেছিলেন এ শহিদ এখলাছ। ওইদিন পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়েন তিনি। সেই সংগ্রামী বীর মুক্তিযোদ্ধা ৭১ সালের ৪ আগস্ট পাকবাহিনীর হাতে শহীদ হন। (তথ্য সূত্র দৈনিক পাকিস্তান, পূর্বদেশ,ইওেফাক ১৯৭১)।

স্বাধীনতা সংগ্রামের উজ্জ্বল নক্ষত্র শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এখলাছুর রহমান ক্যাপ্টেন করিমের গড়া বাহিনী ও ৬৯এর ছাত্র মিছিলে অগ্রনীভূমিকা পালন করেছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কধুরখীল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।সরাসরি যুক্ত ছিলেন তৎকালীন প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে।বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ আল নোমান সাহেব এখলাছের সহযোদ্ধা।

উল্লেখ্য তৎকালীন স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজের অধ্যাপক দিলীপ চৌধুরী গ্রুপের অন্যতম মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীন শিক্ষাবিদ রফিক আহমদ শহীদ এখলাছের ভগ্নিপতি। সাধারণ মানুষের উপর পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর নির্মমতা ও এদেশীয় সহযোগীদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে গ্রেনেড ছুড়ে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন এ সম্মুখ যোদ্ধা।

দেশ স্বাধীনের পর তাঁর স্মৃতি বিজড়িত বিদ্যাপীঠ কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনকে নামকরণ করা হয় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এখলাছ মিলনায়তন। ইকবাল পার্কের নাম পরিবর্তন এনে করা হয়েছিল শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এখলাছ পার্ক। এছাড়া একটি সড়কের নামকরণ করা হয় এই মহান বীর শহীদের নামে।তবে কিছু ঐতিহাসিক স্মৃতি এখন বিস্মৃতির আড়ালে।

ইতিহাসের বৃহৎ অংশে বোয়ালখালী উপজেলা সদরের স্মৃতি সৌধে এ মহান বীর শহীদের নাম রয়েছে কাজেই দেশমাতৃকার অতুলনীয় আত্মত্যাগের জন্য লাল সবুজের পতাকা জুড়ে ও স্মৃতির দর্পনে চির উজ্জ্বল হয়ে থাকবেন।

সাংবাদিকের কাজ ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করা -কাদের গনি চৌধুরী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেছেন- রাষ্ট্র ও ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করা এবং তাদের জবাবদিহিতার মধ্যে রাখা সাংবাদিকতার কাজ। এটি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, জনগণের অধিকার রক্ষা করে এবং সমাজে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করে।২ আগস্ট রোববার দুপুরে গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ আয়োজিত সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব বলেন।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ