অবশেষে বৃহত্তর চট্টগ্রামে পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত ‘ইকোনমিক লাইফ’ নীতিমালার কারণে প্রায় ৭০ হাজার গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছে

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চার দফা দাবিতে আগামী ২০ জুলাই বৃহত্তর চট্টগ্রামে গণ ও পণ্য পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষণা থাকলেও ‘বৃহত্তর চট্টগ্রাম গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ফেডারেশন’ আপাতত স্থগিত রেখেছে। সংগঠনের নেতারা জানান, সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য ২০ জুলাই পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের ঢাকায় একটি কেন্দ্রীয় বৈঠকে ডাকা হয়েছে। ওই বৈঠকে পরিবহন খাতের চলমান সমস্যাসহ ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন সংশোধন এবং ‘ইকোনমিক লাইফ’ নীতিমালা পুনর্বিবেচনার দাবি নিয়ে আলোচনা হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের কদমতলীতে আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির কার্যালয়ে ‘বৃহত্তর চট্টগ্রাম গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ফেডারেশন’ এর এক জরুরি সভায় এই কথা জানানো হয়েছে। যদি ওই বৈঠকে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের দাবিগুলোতে সন্তোষজনক সমাধান এলে পরবর্তী কর্মসূচি স্থগিত থাকবে। অন্যথায় ফের ধর্মঘটের ঘোষণা আসতে পারে।

তারা বলেন, কেন্দ্রীয় বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটির ওপর আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ভর করবে। আপাতত বৃহত্তর চট্টগ্রামে ২০ জুলাইয়ের ধর্মঘট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
সভায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি কফিল উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার গাড়ি ‘ইকোনমিক লাইফ’ নীতিমালার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছে।

২০১৮ সালে সংসদে পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইন শুরু থেকেই সংশোধনের দাবি জানানো হয়েছে, কিন্তু কোনো অগ্রগতি হয়নি। সংসদে আমাদের দুইজন প্রতিনিধি থাকলেও তারা বিষয়টি যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে পারেননি। তিনি বলেন, বর্তমানে পরিবহন খাতের ওপর এক ধরনের বৈরী দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে। শ্রমিকদের বিরুদ্ধে যেমন যাবজ্জীবন সাজার বিধান রয়েছে, মালিকদের বিরুদ্ধেও একই রকম শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এ ধরনের আইন কার্যকর থাকলে পরিবহন খাত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে আন্দোলনের বিষয়টি আলোচনা করেছি। আগামী ২০ জুলাই ঢাকায় মালিক-শ্রমিকদের যৌথ ফোরাম বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, শ্রমিক ফেডারেশন ও বাস-ট্রাক অনার্স অ্যাসোসিয়েশন-একটি বৈঠক ডেকেছে। সেখানেই দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

কফিল উদ্দিন আহমেদ আশ্বস্ত করে বলেন, আপনাদের দাবি কেন্দ্রীয়ভাবে উত্থাপন করা হবে। আমরা জাতীয় পর্যায়ে বিষয়টি সরকারকে জানাব এবং ইতিবাচক সমাধানের জন্য কাজ করব।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রাম গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ফেডারেশনের আহ্বায়ক মোরশেদুল আলম কাদেরী, সদস্য সচিব হুমায়ুন কবির সোহেল, একরামুল করিম, খোরশেদ আলম, আহসান উল্লাহ চৌধুরী, ফারুক খান, নুরুল ইসলাম, সৈয়দ হোসেন, মো. শাহজাহান, মো. হাবীব,

মোবারক হোসেন, আলাউদ্দীন, মো. জাফর, আজিজুল হক, মো. মিজান, মো. মুছা, মো. অলি আহমদ, রবিউল মাওলা, আজিম খান, কামাল উদ্দিন, মুছা বাবুল, আনোয়ারা, তুহিন প্রমুখ।এর আগে, ১৫ জুলাই চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সড়ক পরিবহন আইন সংশোধন ও ইকোনমিক লাইফ নীতিমালা

 

 

পুনর্বিবেচনাসহ চার দফা দাবিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ২০ জুলাই ২৪ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছিল।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তরুণীর মৃত্যু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়ন ফকিরাবাদে বকশিপাড়ায় স্বামীর পরিকল্পনায় ঠান্ডা মাথায় খুন করে তমা খাতুনকে। তমা খাতুনের স্বামী বক্কর হোসেন এখন ভেড়ামারা থানা পুলিশ হেফাজতে। তমা খাতুন (১৮) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে মারা যান। নিহত তমা খাতুন ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের ফকিরাবাদ বকশীপাড়া এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে।

নিহতের পরিবারের দাবি, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ির পাশে ফেলে রেখে যায়। স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহতের মামাতো ভাই হাবিবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে ভেড়ামারা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তমার মৃত্যুর পর এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইনানুগ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্বামীর পরিকল্পনায় ঠান্ডা মাথায় খুন করে তমা খাতুনকে।

ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মাদ জাহেদুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ওই তরুণী মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। ধর্ষণের কোনো আলামত বা প্রমাণ পুলিশ পায়নি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে ওই তরুণীকে হাসপাতালে আনা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। তবে হাসপাতালে ভর্তির সময় পরিবারের পক্ষ থেকে ধর্ষণের বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

সংস্কারবঞ্চিত সড়কগুলো পর্যায়ক্রমে উন্নয়নের আওতায় আনা হচ্ছে: চসিক মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর উন্নয়নকাজে গতি আনতে সরেজমিনে তদারকি অব্যাহত রেখেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরীর অক্সিজেন-মুরাদপুর সড়কের চলমান কার্পেটিং কাজ পরিদর্শন করেছেন তিনি।

পরিদর্শনকালে মেয়র সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং কার্পেটিং কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণকাজে গুণগত মান নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

দীর্ঘদিন সংস্কারের অপেক্ষায় থাকা অক্সিজেন-মুরাদপুর সড়কের উন্নয়নকাজ এগিয়ে যাওয়ায় এ পথে চলাচলকারী নগরবাসীর দুর্ভোগ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। কার্পেটিং কাজ শেষ হলে সড়কটি দিয়ে চলাচল আরও স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপদ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব করাই আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘদিন সংস্কারবঞ্চিত সড়কগুলো পর্যায়ক্রমে উন্নয়নের আওতায় আনা হচ্ছে। কাজের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিটি প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকবে। নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে আমরা মাঠে থেকে কাজের অগ্রগতি তদারকি করছি।

কার্পেটিং কাজ শেষ হলে অক্সিজেন-মুরাদপুর সড়ক ব্যবহারকারী বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াতে স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ার পাশাপাশি নগরের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ