আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

আর্থিক ক্ষতির মুখে রপ্তানিকারকরা চট্টগ্রাম বন্দরে নয়টি স্ক্যানারের মধ্যে পাঁচটি অকার্যকর।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের নয়টি স্ক্যানারের মধ্যে বর্তমানে পাঁচটি অকার্যকর। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেনা নতুন চার স্ক্যানার প্রায় দুই বছর ধরে চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে রয়েছে। যা এখনো চালু করা যায়নি।যার ফলে রপ্তানিকারকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অতিরিক্ত স্টোরেজ ভাড়ার চাপ বাড়ছে এবং ফ্যাক্টরি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা। তবে চোরাচালান রোধ, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য পরিবহন রোধে চট্টগ্রাম বন্দরে চারটিসহ অত্যাধুনিক ছয়টি ফিক্সড কনটেইনার স্ক্যানার বসানোর কাজ করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের ১২টি গেটে স্ক্যানার আছে নয়টি। এরমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) ১ নম্বর গেট এবং নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ৩ নম্বর গেটে আছে এফএস ৬০০০ সিরিজের অত্যাধুনিক ফিক্সড কনটেইনার স্ক্যানার। চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ২, ৪ ও ৫ নম্বর গেটে আছে একটি করে এফএস ৩০০০ মডেলের ফিক্সড কনটেইনার স্ক্যানার। এছাড়া সিসিটি-২ ও জিসিবি-২ নম্বর গেটে রয়েছে একটি করে মোবাইল স্ক্যানার। ৪ নম্বর গেট ও সিপিএআর গেটে রয়েছে এফএস ৬০০০ সিরিজের অত্যাধুনিক ফিক্সড কনটেইনার স্ক্যানার। যার মধ্যে প্রায় সময় কয়েকটি বন্ধ হয়ে যায়। এতেই প্রায়ই ভোগান্তি পড়তে হয়।

বন্দর সূত্র জানিয়েছে, ২০০৯ সালে স্থাপন করা চারটি স্ক্যানার অনেক আগেই অচল হয়ে গেছে। এখন সেগুলো প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। আরেকটি স্ক্যানার ১৫ দিন ধরে যন্ত্রাংশ পরিবর্তনের জন্য বন্ধ রয়েছে। ফলে কনটেইনার ডেলিভারিতে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। এতে বেসরকারি অফডকগুলোতে কনটেইনার পাঠাতে সমস্যা দেখা দেয়।

জানা গেছে, স্ক্যানাগুলো ক্রয়ের ব্যপারে চীনা প্রতিষ্ঠান নাকটেক কোম্পানি লিমিটেডের সাথে ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ে এক চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ছয়টি স্ক্যানার বসানোর জন্য এই প্রকল্পে ব্যয় হয় ১৪৭ কোটি ৯৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। চীনা প্রতিষ্ঠানটি স্ক্যানারগুলো স্থাপনের পর পাঁচ বছর সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও পালন করার কথা রয়েছে। যা তাদের বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে ফাইভ আর এসোসিয়েটস নামে একটি প্রতিষ্ঠান সার্ভিস দেবে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সেই স্ক্যানারগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে আসলেও প্রায় দুই বছরে একটি স্ক্যানার মেশিনও চালু করা যায়নি।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, নতুন কেনা কনটেইনার স্ক্যানারগুলোর মধ্যে শিগগিরই আরেকটি স্ক্যানার সচল হতে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো এসোসিয়েশনের (বিকডা) মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার বলেন, সংকট এখন ভয়াবহ। বর্তমানে মাত্র তিন থেকে চারটি স্ক্যানার সচল আছে, ফলে উৎপাদনশীলতা ৭০ শতাংশ কমে গেছে। আমরা প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার রপ্তানি পণ্য ও খালি কনটেইনার আনতে পারি, কিন্তু মাত্র এক হাজার কনটেইনার আমদানি করতে পারছি। যদি সব স্ক্যানার সচল থাকত, তবে প্রতিদিন কমপক্ষে চার হাজার কনটেইনার ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব হতো।
এ বিষয়ে ব্যবসায়ী নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। চট্টগ্রাম সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের নির্বাহী সদস্য সরওয়ার আলম খান বলেন, স্ক্যানার সংকটের কারণে পণ্য সরবরাহে বিলম্ব হচ্ছে, ফলে রপ্তানিকারকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অতিরিক্ত স্টোরেজ ভাড়ার চাপ বাড়ছে এবং ফ্যাক্টরি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র মো. ওমর ফারুক বলেন, কনটেইনার ব্যবস্থাপনা ও স্ক্যানিং সম্পূর্ণ কাস্টমস কর্তৃপক্ষের অধীনে। আমরা সমস্যার কথা তাদের জানিয়েছি এবং দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছি।সংকটের কথা স্বীকার করে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার এইচএম কবির বলেন, একটি স্ক্যানার মেরামতের পর্যায়ে আছে এবং পুরোনো ইউনিট প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে।

আমরা আশা করছি, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।
এর আগে, ২০২৪ সালের ফেব্রুুয়ারিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে দুটি নতুন স্ক্যানার চালু করে। তবে কাস্টমসকে হস্তান্তর করার পর স্বল্প সময় ব্যবহার হতে না হতে রপ্তানি কনটেইনারের জন্য ব্যবহৃত ওই স্ক্যানারগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। পরে রপ্তানি কনটেইনার স্ক্যানিং কার্যক্রম গত ২ মে পুনরায় চালু হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমী ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমীতে উৎসব মূখর পরিবেশে ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া, নবীন বরণ, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণ-২০২৬ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আতিকুজ্জামান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এমন আয়োজন নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করে এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য রাখেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব আলহাজ্ব মোঃ হেদায়েতুল তিনি অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।আরো উপস্থিত ছিলেন অত্র প্রতিষ্ঠানের সকল ছাত্র-ছাত্রী,অভিভাবক এবং শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ