আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরী থেকে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ, কক্সবাজারে উদ্ধার।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরী থেকে এক স্কুলছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে কক্সবাজারে নিয়ে তিন মাস ধরে আটকে রাখে এক রোহিঙ্গা তরুণ। এ ঘটনায় করা মামলায় আদালতের নির্দেশে কক্সবাজারে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের এক বাসা থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে পিবিআই চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিটের একটি দল।ঘটনার শিকার মেয়েটির বয়স ১৬ বছর। বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায়। বাসা নগরীর হালিশহরে। স্থানীয় একটি বিদ্যালয় থেকে আগামী বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা আছে তার।

পিবিআই জানায়, মেয়েটিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে জিম্মি করে রাখা তরুণ মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা। তার নাম আল মামুন আফবিয়া (২০)। সে উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের ইস্ট ক্যাম্পের বাসিন্দা। গত ২ জুন মেয়েকে অপহরণের অভিযোগে তার মা চট্টগ্রামের আদালতে মামলা করেন। এতে অভিযোগ করা হয়, গত ১৯ মে কোচিংয়ে যাওয়ার পথে নগরীর হালিশহর থেকে মেয়েটিকে নিয়ে যায় আল মামুন। আদালত পিবিআইকে অপহৃত মেয়েটিকে উদ্ধারের নির্দেশ দেন। তদন্তে নেমে পিবিআই কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের মুছারখোলা চাকমা পাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় মেয়েটির অবস্থান শনাক্ত করে। এর পর থেকে গত (বুধবার) রাতে পিবিআই টিম মেয়েটিকে উদ্ধার করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিটের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মহসীন চৌধুরী বলেন, যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগামে আল মামুনের সঙ্গে মেয়েটির পরিচয় হয়। আল মামুন নিজেকে বাঙালি হিসেবে পরিচয় দেয়। নিয়মিত কথাবার্তার এক পর্যায়ে মেয়েটিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে সে। এর পর ফুসলিয়ে মেয়েটিকে প্রথমে উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়ে যায়। তখন মেয়েটি বুঝতে পারে, সে রোহিঙ্গা আল মামুনের প্রতারণার ফাঁদে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, এরপর গত তিন মাসেরও বেশি সময়ে আল মামুন মেয়েটিকে নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে কয়েকবার স্থান পরিবর্তন করে। মেয়েটির পরিবার কিন্তু এক তরুণের বিষয় জানতো। কিন্তু ওই তরুণ যে রোহিঙ্গা এ বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা ছিল না। আমরা তদন্তভার নেওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আশপাশে মেয়েটির অবস্থান শনাক্ত করি। পরে সোর্সের দেওয়া তথ্যে তাকে উদ্ধার করি।

এসআই মহসীন বলেন, মেয়েটি অভিযোগ করেছে- তাদের বিয়ে হয়নি। কিন্তু আল মামুন তাকে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করেছে। আমরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষা সম্পন্ন করেছি। সে আদালতে জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে। এখন আমরা আদালতের কাছে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করব।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ব্লাড ব্যাংকের যাত্রা শুরু ৪৬ বছরে পা রাখলো মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালের ৪৬ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান ও ব্লাড ব্যাংকের উদ্বোধন একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো মনিরুজ্জামান। এতে ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তের যথাযথ ব্যবহার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের ডিভিশনাল ডিরেক্টর ডা. শেখ ফজলে রাব্বি। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ডা. মাসুদ আহমেদ, অধ্যাপক ডা. এ.এম. রায়হান উদ্দিন, অধ্যাপক ডা. হাফিজুল ইসলাম। হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার মো.ইয়াছিন আরাফাতের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. জেবুন নেসা, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান (মিজান) এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক।

সেমিনারে বক্তারা ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় রক্ত ও রক্তজাত উপাদানের সঠিক ও প্রয়োজনীয় ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব প্রদান করেন। তারা বলেন, সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গুজনিত জটিলতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রসারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. তাহমিদ জুনায়েদ মাহমুদ, ডা. সাফওয়ান মাহমুদ, মার্কেটিং ম্যানেজার রতন কুমার নাথ, বিডিএম ম্যানেজার গোলাম রব্বানী, সার্ভিস ম্যানেজার লুৎফুর রহমান, আই টি ম্যানেজার মোঃ উছা, সহকারী ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমানসহ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকবৃন্দ এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

শাহ আমানত বিমানবন্দরে জব্দ ২৭ লাখ টাকার বিদেশি সিগারেট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক সিগারেটের চালান জব্দ করা হয়েছে। মাস্কাট থেকে আগত সালাম এয়ারের একটি ফ্লাইটের যাত্রী মো. শামসুদ্দিনের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ২৮০ কার্টন সিগারেট উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে আন্তর্জাতিক আগমন হলের ১ নম্বর লাগেজ বেল্টে যাত্রীবিহীন অবস্থায় আরও ১ হাজার ৬৫ কার্টন সিগারেট ও একটি ল্যাপটপ পাওয়া যায়। রোববার দিবাগত রাতে বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক আগমন হলে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল বলেন, জব্দ করা সিগারেট থেকে সম্ভাব্য রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। উদ্ধারকৃত সিগারেট ও ল্যাপটপ ডিপার্টমেন্টাল মেমোরেন্ডাম মূল্যে জব্দ করে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের হেফাজতে রাখা হয়েছে। আটক যাত্রীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ