আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

বড়গাঙ শিশুসদন ও বড়গাঙ বৌদ্ধ বিহারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন।

প্রেস রিলিজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

চট্টগ্রামের বিশ্বমৈত্রি বৌদ্ধ বিহার ও কর্ণফুলী বড়গাঙ বৌদ্ধ বিহারে অবৈতনিক অধ্যক্ষ হিসাবে বিজয়ানন্দ ভিক্ষুকে জড়িয়ে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শুক্রবার ৫ সেপ্টেম্বর বিকালে চট্টগ্রাম নগরীর চেরাগীপাহাড় লুসাই হলে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, চট্টগ্রামের বিশ^মৈত্রী বৌদ্ধ বিহার ও কর্ণফুলী বড়গাঙ বৌদ্ধ বিহারে অবৈতনিক অধ্যক্ষ হিসাবে বিজয়ানন্দ ভিক্ষু দীর্ঘ ২৮ বছর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সম্প্রতি একটি গোষ্ঠী ঐ বৌদ্ধ বিহারের সম্পদ লুণ্ঠন করার হীন মানসে ষড়যন্ত্র করে সভাপতি ও সহ-সভাপতির সভাপতিত্বে কোন সভা না করে একটি রেজুলেশনের মাধ্যমে প্রধান সমন্বয়কারী অমল বড়–য়া ঐ বৌদ্ধ বিহারগুলো ও ভিক্ষুদের বিরুদ্ধে কুচক্রী, বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আমরা এটার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করছি। আজকের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সেই ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন করছি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরো জানান, একটা গোষ্ঠী বা ব্যক্তি এবং বড়গাঙ বৌদ্ধ বিহার ও বড়গাঙ শিশু সদন এর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা তথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বৌদ্ধ ধর্মের সম্মানহানি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে। বিজয়ানন্দ ভিক্ষু দুইটি বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ১। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ কেন্দ্রীয় বিশ^মৈত্রী বৌদ্ধ বিহার ২। উক্ত বৌদ্ধ বিহারের শাখা বৌদ্ধ বিহার চট্টগ্রাম কর্ণফুলী বড়গাঙ শিশু সদন ও বড়গাং বৌদ্ধ বিহার। এ দুইটি বৌদ্ধ বিহারে সার্বিকভাবে ধর্মীয় কাজকর্ম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং এ যাবৎ দায়িত্ব দেওয়ার পর দুইটি বৌদ্ধ বিহার দিন দিন উন্নতি হচ্ছে। এ উন্নতি দেখে অমল বড়–য়া সহ ষড়যন্ত্রকারীগণ হিংসার বর্শবর্তী হয়ে গভীর চক্রান্ত করছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানান, বিগত ২০২৪ সালের ১২ এপ্রিল তারিখে অমল বড়–য়ার সভাপতিত্বে সভার কার্যবিবরণী বহিতে দেখা যায় আনন্দ বড়–য়া চৌধুরীর নাম আছে, কিন্তু তাঁর স্বাক্ষর নেই আর অনুরূপ সভাপতির নাম আছে স্বাক্ষর নেই। এতে বুঝা যায় যে, এ সভা সম্পূর্ণ ভূয়া। আমাদের দুই বিহারাধ্যক্ষ কোন শর্ত ভঙ্গ করে নাই। তারা বৌদ্ধ ধর্মালম্বী হয়েও অবৌদ্ধের কাজ করছে। তারা বুদ্ধ ধর্মের বিনয়, বিধি বিধান মানে না বিধায় একজন বৌদ্ধ সন্যাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে এবং বুদ্ধের বিনয় মতে ধর্মীয় গুরু সব সময় সর্বোচ্চ স্থানে থাকে।

শুধু বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু নয়, সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলছি প্রত্যেক ধর্মীয় গুরু যার যার ধর্ম অনুসারে সমাজে সর্বোচ্চ স্থানে রাখেন।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরো জানান, বড় গাঙ শিশু সদন ও বড়গাঙ বৌদ্ধ বিহার হচ্ছে চট্টগ্রামস্থ আগ্রাবাদ সিডিএ আ/ এ বিশ^মৈত্রী বৌদ্ধ বিহারের শাখা বৌদ্ধ বিহার হিসেবে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ সহ তথা বিশে^র বৌদ্ধ প্রতিরূপ বৌদ্ধ রাষ্ট্রগুলোই অবগত আছেন। এটা বৌদ্ধ দায়ক দায়িকাগণ অস্বীকার করতে পারবে না।

সুতরাং আমাদের দুই বৌদ্ধ বিহারের আমার গুরু অধ্যক্ষ বিজয়ানন্দ ভিক্ষু। ১৯৯৭ ইং হতে ২০২৫ ইং অদ্যাবধি সুদীর্ঘ ২৮ বছর বড়গাঙ বৌদ্ধ বিহার ও বড়গাং শিশু সদন এবং কেন্দ্রীয় বিশ^মৈত্রী বৌদ্ধ বিহার এর চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ সার্বিক দায়িত্বে আছে তিনি অস্থায়ী অধ্যক্ষ নয়, তিনিই আজীবন অধ্যক্ষের পদে আসীন রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানান, দক্ষিণ শাহমীরপুর বড়–য়া পাড়ার স্থানীয় কমিটি কর্তৃক দুই বিহারের অধ্যক্ষ ভিক্ষুকে/ পুরোহিত অধ্যক্ষ পদ হতে অপসারণ করতে পারে না। কারণ স্থানীয় কমিটির উপরে ও উর্ধ্বে কেন্দ্রীয় কমিটি চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ এবং শাখা কমিটি সিইপিজেড চট্টগ্রাম, কর্ণফুলী ও আনোয়ারা শাখা কমিটি রয়েছে। উক্ত উর্ধ্বতন কমিটির শলাপরামর্শ না করে, যে কোন মনগড়া সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করছি। বিহারাধ্যক্ষের জীবদ্দশায় তার শিষ্যমন্ডলী বিহার অধ্যক্ষ হতে পারে না। পক্ষান্তরে প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষকে অব্যাহতি অথবা অপসারণ করা কোন কমিটির এখতিয়ার নেই। তার অধ্যক্ষের পদ স্থায়ী, কারণ তিনি অবৈতনিক কাজ করছেন।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরো জানান, দক্ষিণ শাহমীরপুর বড়–য়া পাড়ার স্থানীয় কমিটি হল একটি ভূয়া বানোয়াট কমিটি এই কমিটিতে যিনি সভাপতি তিনি অনেক বছর বিদেশে অবস্থান করছেন। গত ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই বিহারধ্যক্ষকে ভুল বুঝিয়ে স্থানীয় কমিটিতে অনুমোদন করাইছেন।

বিহারাধ্যক্ষ অত্যন্ত সরল সাদাসিদে বৌদ্ধ ধর্মের পুরোহিত। উক্ত কমিটি বিহারাধ্যক্ষকে বলে ছিলেন আমরা দীর্ঘ ৮ বছর যাবৎ বড়গাঙ বৌদ্ধ বিহারে সিয়ংদান বা পিন্ডদান হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছি। তাই আমরা এবার নতুন কমিটি গঠন করে সিয়ং বা পিন্ডদান করিব বলে প্রলোভন দেখিয়ে কমিটিতে স্বাক্ষর করান। স্থানীয় কমিটি বিহারাধ্যক্ষ কিংবা ধর্মীয় গুরুর সাথে এ রকম ব্যবহার করার প্রতারণার শামিল। তাই আমরা চট্টগ্রামস্থ আগ্রাবাদ বিশ^মৈত্রী বৌদ্ধ বিহারের অধীনে সকল কমিটি কর্তৃক দক্ষিণ শাহমীরপুর বড়–য়া পাড়াস্থ স্থানীয় ভূয়া কমিটি প্রত্যাখ্যান করছি।

উল্লেখ্য যে,উক্ত মিটিং এ সভাপতি উপস্থিত ছিল না এবং তার নাম না লিখে সিল/ স্ট্যাম্প দিয়ে তার নাম লিখে দেয়া হয়েছে। আর তার স্বাক্ষর নকল করা হয়েছে। অথচ অধ্যক্ষের নাম কম্পিউটারে লেখা হয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রেণোদিতভাবে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম কম্পিউটারে লেখা হয়নি। সভাপতির স্বাক্ষর জাল বলে সন্দেহতীত মনে হয়। যেহেতু সভাপতি মহোদয় দেশের বাইরে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানান, দক্ষিণ শাহমীরপুর স্থানীয় বড়–য়া পাড়ার কমিটির সভাপতি দেবপ্রিয় বড়–য়া কয়েক বছর যাবৎ দুবাই নামক একটি রাষ্ট্রে রয়েছে। কার্যকরী কমিটিতে সভাপতি থাকাবস্থায় প্রধান সমন্বয়কারী কিভাবে সভায় সভাপতিত্ব করতে পারে এবং কমিটির সভায় মিটিং হলে উক্ত মিটিং এ সভাপতি মহোদয় তার ক্ষমতাবলে সভাপতিত্ব করেন এবং তার অবর্তমানে সহ সভাপতি পদাধিকার বলে সভাপতিত্ব করে সভা পরিচালনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরো জানান, ১৯৯১ সালের ২৫ জানুয়ারী ‘বড়গাঙ শিশুসদন ও বড়গাঙ বৌদ্ধ বিহারটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালে সর্বপ্রথম অর্থায়ন করেছিল চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে অবস্থিত বিশ্বমৈত্রী বৌদ্ধ বিহার। তখন হতে ‘বড়গাঙ শিশুসদন ও বড়গাঙ বৌদ্ধ বিহার’টি আগ্রাবাদস্থ বিশ্বমৈত্রী বৌদ্ধ বিহারের অন্তর্গত ও আওতাধীন শাখা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানান, প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন পরম শ্রদ্ধেয় স্বর্গীয় প্রয়াত ভদন্ত ধর্মতিলক ভিক্ষু মহোদয়। বর্তমানে তাঁর উত্তরসুরী হিসেবে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন শ্রদ্ধেয় বিজয়ানন্দ ভিক্ষু মহোদয়।

উল্লেখ্য তিনি বিশ্বমৈত্রী বৌদ্ধ বিহারেরও অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্বমৈত্রী বৌদ্ধ বিহারের বিহারাধ্যক্ষ শ্রদ্ধেয় বিজয়ানন্দ ভিক্ষু মহোদয় আমার গুরু। গুরুর আদেশে আমি বড়গাঙ বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ পদে আসীন রয়েছি। আমি কোন দায়ক-দায়িকা বা জনগণ কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত হই নাই।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরো জানান, এই বৌদ্ধ বিহারের অবস্থানরত ভিক্ষুদের খাবার-দাবার, চিকিৎসা ও ভরণ-পোষণসহ যাবতীয় বিষয়ে দেখাশোনা করেন চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ও কোম্পানীতে চাকুরীরতরা, পার্বত্য চট্টগ্রাম হতে আসা চট্টগ্রামে অবস্থানরত হাজার হাজার দায়ক-দায়িকা, উপাসক-উপাসিকাবৃন্দ। অধিকাংশ দায়ক-দায়িকাবৃন্দ বসবাস করেন সিইপিজেড এবং কেইপিজেড এলাকায়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানান, বড়গাঙ শিশুসদন ও বড়গাঙ বৌদ্ধ বিহারের পাশে রয়েছে একটি ছোট বড়–য়া পাড়া। তাঁরাও বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী। তাঁদের পাড়ায় পূর্বে নাম ছিল রতন জ্যোতি বৌদ্ধ বিহার। বর্তমানে দেয়াং পাহাড় শাক্যমনি বৌদ্ধ বিহার নামে একটি বিহার রয়েছে। তাহারা ঐ বৌদ্ধবিহারে বিভিন্ন পূজা-পার্বণ অনুষ্ঠান উদযাপন করে থাকে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরো জানান, আমি জেনে ও শুনে খুবই মর্মহত, হতাশ ও হতবাক যে, স্থানীয় অমল বড়–য়ার সভাপতিত্বে গত ২০২৪ সালের ১২ এপ্রিল দক্ষিণ শাহ মিরপুরস্থ বড়–য়া পাড়ার দায়ক-দায়িকাদের আলোচনা সভায় অত্র বিহারে অনুষ্ঠিত হয়। কার্যবিবরণী বহিতে লেখা পড়ে আমি অত্যন্ত মর্মাহত এবং হতাশ। কারণ তাঁরা এ যাবৎ পর্যন্ত কোন সভা বা মিটিং বড়গাঙ বৌদ্ধ বিহারে করেননি। যাবতীয় সভা/ মিটিং তাঁরা স্থানীয় বড়–য়া পাড়ার বৌদ্ধ মন্দিরেই করে থাকে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানান, যেহেতু অমল বড়–য়ার সভাপতিত্বে এই বড়গাঙ বৌদ্ধ বিহারে কোন সভা অনুষ্ঠিত হয়নি অতএব সেই সভার কার্যবিবরণী ও গৃহীত সিদ্ধান্ত ভুয়া, ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক। তাছাড়া অমল বড়–য়া স্থানীয় কমিটিতে প্রধান সমন্বয়কারীর সভাপতিত্ব করে আর পূর্ণাঙ্গ কমিটির সভাপতি সে স্থানীয় কমিটির সভাপতি বাদ দিয়ে প্রধান সমন্বয়কারীকে সভাপতিত্ব করার অর্থ হচ্ছে বড়গাঙ বৌদ্ধ বিহার ও বড়গাঙ শিশু সদন সহ ভিক্ষদেরকে তাড়িয়ে দিয়ে বৌদ্ধ বিহার ভোগ দখল করার চক্রান্ত করছে। আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, এই সভার কার্যবিবরণী ও গৃহীত সিদ্ধান্ত ভুয়া, ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বড়গাঙ শিশুসদন ও বড়গাঙ বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ ভদন্ত ধর্মকীর্তি ভিক্ষু, প্রজ্ঞা দর্শন ভিক্ষু, কুমার কশ্যপ ভিক্ষু ও বিশ^মৈত্রী বৌদ্ধ বিহার এবং এর শাখা বিহার বড়গাঙ বৌদ্ধ বিহারের পরিচালনা কমিটি, দুই বিহারের অঙ্গ সংগঠন এবং চট্টগ্রাম শহরস্থ সচেতন বৌদ্ধ সমাজ।

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কলমাকান্দায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খাল পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ভারী বৃষ্টিপাতজনিত পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খাল এলাকা পরিদর্শন করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান।৫ মে (মঙ্গলবার) দুপুরে তিনি উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের চিকন মাটিয়া, তেলেঙ্গা ও মেদি বিলসহ দমদমা খাল এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, খারনৈ ইউপি চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান, সমাজসেবক মজিবুর রহমান এবং প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ইতোমধ্যে সরকারি সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তা আরও জোরদার করা হবে।

তিনি বলেন, “আমরা শুরু থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের পাশে আছি। ভারী বৃষ্টিপাত শুরুর দিন থেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনাসহ ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জিআর ক্যাশ ও চাল বিতরণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আজ থেকেই এসব সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খালের পুনর্বাসন এবং কৃষকদের সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

পূর্বধলায় বকেয়া বিলের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের দেওটুকোন বাজারে বকেয়া বিল আদায়ের লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সোমবার (৪ মে) সকাল সাড়ে ১১ টায় এ অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তাসনীম জাহান।

পূর্বধলা জোনাল অফিসের ডিজিয়েম মোঃ শাহিনুর আলম জানান, মোট ১২ জনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এর মধ্যে চারজন তাৎক্ষণিকভাবে বিকাশের মাধ্যমে প্রায় ৩০ হাজার ২০ টাকা পরিশোধ করেন। বাকি আটজনের কাছে প্রায় এক লক্ষ ৪৩ হাজার ৮০২ টাকা বকেয়া ছিল।

তিনি আরও জানান, জারিয়া, ধলামুলগাঁ ও ঘাগড়া ইউনিয়নের আওতায় মোট ১৩৭টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এতে প্রায় ৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকার বেশি বকেয়া বিল আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ