আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

টালমাটাল চট্টগ্রামে ইস্পাত শিল্প, উৎপাদন খরচ ও কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

সক্ষমতার তুলনায় উৎপাদন ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সক্ষমতার তুলনায় উৎপাদন ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ
টালমাটাল চট্টগ্রামে ইস্পাত শিল্প, উৎপাদন
খরচ ও কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি
ছবি-১
চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামে রডের চাহিদা কমে যাওয়ায় ইস্পাত শিল্পে মন্দাভাব বিরাজ করছে। অন্যদিকে কাঁচামাল সংকটে ধুঁকছে ইস্পাত শিল্পকারখানাগুলো। ইস্পাতের কাঁচামাল জোগানদানকারী শিপব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোয়ও চলছে দুর্দিন। প্রয়োজন অনুযায়ী পুরোনো জাহাজ ও কাঁচামাল আমদানি করতে না পারায় ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন।এ অবস্থায় ইস্পাত কারখানাগুলো উৎপাদন সক্ষমতা অনুযায়ী চালাতে পারছে না। তাতে লোকসান গুনছেন ইস্পাত খাতের শিল্প মালিকেরা।
চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠিত ইস্পাত শিল্পগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস বা বিএসআরএম, আবুল খায়ের স্টিল (একেএস), জিপিএইচ ইস্পাত, রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিল (আরএসআরএম), কবির স্টিল রি-রোলিং মিল (কেএসআরএম), এইচএম স্টিল, গোল্ডেন ইস্পাত, শীতলপুল অটো স্টিল মিল (এসএআরএম), বায়েজিদ স্টিল, সীমা স্টিল মিলস, পিএইচপি ইন্টিগ্রেটেড স্টিল মিল ইত্যাদি। এসব কারখানাই দেশের ইস্পাত খাতের রড উৎপাদনের প্রায় ৭০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করে থাকে। তবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে আরএসআরএম, এসএস স্টিল, গোল্ডেন ইস্পাত, ইসলাম স্টিলসহ কয়েকটি ইস্পাত শিল্প।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইস্পাত শিল্পের কাঁচামাল স্ক্র্যাপ শতভাগ আমদানিনির্ভর। এর মধ্যে পুরোনো জাহাজ কিনে ভাঙার মাধ্যমে ২৫ শতাংশ স্ক্র্যাপের জোগান দেয় শিপব্রেকিং ইয়ার্ডগুলো। বাকি ৭৫ শতাংশ স্ক্র্যাপ বিদেশ থেকে আমদানি করে ইস্পাত কারখানাগুলো। তাই আমদানিনির্ভর এই ইস্পাত শিল্পের অবস্থা এখন টালমাটাল।
স্ক্র্যাপ ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঢাকা ও চট্টগ্রামে ৮০-৮৫টি অটো রি-রোলিং মিল রয়েছে। যেখানে রড উৎপাদন হয়। সেমি আটো মিল রয়েছে শতাধিক। সেমি অটো বা সনাতন পদ্ধতিতে রড তৈরির কারখানাগুলোর অধিকাংশ বন্ধ হয়ে গেছে। স্ক্র্যাপ আমদানিতে বর্তমানে এলসি খোলার হার কমে গেছে ৭০ শতাংশ। স্ক্র্যাপ আমদানি কমে গেছে ৫০ শতাংশ।
এদিকে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সরকারের অধিকাংশ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। পাশাপাশি বেসরকারি আবাসন শিল্পেও স্থবিরতা বিরাজ করছে। ফলে নির্মাণকাজের অন্যতম উপকরণ রডের চাহিদা কমে যায়। এতে উৎপাদনে নামে ধস। এ পরিস্থিতিতে অনেক ব্যবসায়ী ব্যাংকঋণের কিস্তি সময়মতো পরিশোধ করতে পারছেন না। ফলে নতুন করে খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
ইস্পাত শিল্পে লোকসান গুনছেন শিল্প মালিকেরা এমনটি উল্লেখ করে এইচএম স্টিল ও গোল্ডেন ইস্পাত লিমিটেডের পরিচালক মোহাম্মদ সরোয়ার আলম বলেন, বর্তমানে ইস্পাত শিল্পগুলো সক্ষমতার তুলনায় ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ উৎপাদন করছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়লেও কমে গেছে রডের দাম। গত এক মাসের ব্যবধানে চট্টগ্রামে টনপ্রতি রডের দাম কমেছে সর্বনিম্ন ৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৭ হাজার টাকা। তাতে বর্তমানে প্রতিটন রড বিক্রি হচ্ছে ৭৯ হাজার থেকে ৮৪ হাজার টাকায়।
ইস্পাত শিল্প মালিকরা জানান, দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ইস্পাত শিল্প বর্তমানে এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং অনেক শিল্প মালিক লোকসান গুনছেন। এর প্রধান কারণ হলো- চাহিদা হ্রাস, রড উৎপাদন খরচ ও কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, যা সামগ্রিকভাবে ইস্পাত শিল্পের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কয়েকটি কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোর কাজের ধীরগতি।
ইস্পাত শিল্প মালিকেরা আরও জানান, দেশের চলমান মোট উন্নয়ন কাজের ৬০ শতাংশ হয় সরকারি, বেসরকারি ও আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানের। অবশিষ্ট কাজ হয় ভোক্তা পর্যায়ে। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সরকারের মেগা, মাঝারি ও ছোট আকারের প্রকল্পগুলোর উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে যায়। একই সমস্যায় পড়ে বেসরকারি ও আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজও। এমনকি থমকে যায় ভোক্তা পর্যায়ের উন্নয়ন কাজ। তাতে স্থবিরতা নেমে আসে ইস্পাত শিল্পে। এ অবস্থায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে কিছু কিছু উন্নয়ন কাজ শুরু হলেও ইস্পাত শিল্পে গতি আনতে পারেনি। উল্টো দিনে দিনে খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সূত্র জানায়, বর্তমানে ইস্পাত শিল্পগুলো সক্ষমতার তুলনায় ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ উৎপাদন করছে। তাতে উৎপাদন খরচ বাড়লেও উল্টো কমে গেছে রডের দাম। এর মধ্যে নতুন করে কাঁচামাল আমদানিতে ভ্যাট ও ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে টনপ্রতি আরও ৯০০ টাকা। এটি আগের ভ্যাট ও ট্যাক্সের ৪ হাজার ২০০ টাকার সাথে যুক্ত হওয়ায় বিপাকে পড়ে যান ইস্পাত শিল্প মালিকেরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ