আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

টালমাটাল চট্টগ্রামে ইস্পাত শিল্প, উৎপাদন খরচ ও কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

সক্ষমতার তুলনায় উৎপাদন ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সক্ষমতার তুলনায় উৎপাদন ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ
টালমাটাল চট্টগ্রামে ইস্পাত শিল্প, উৎপাদন
খরচ ও কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি
ছবি-১
চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামে রডের চাহিদা কমে যাওয়ায় ইস্পাত শিল্পে মন্দাভাব বিরাজ করছে। অন্যদিকে কাঁচামাল সংকটে ধুঁকছে ইস্পাত শিল্পকারখানাগুলো। ইস্পাতের কাঁচামাল জোগানদানকারী শিপব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোয়ও চলছে দুর্দিন। প্রয়োজন অনুযায়ী পুরোনো জাহাজ ও কাঁচামাল আমদানি করতে না পারায় ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন।এ অবস্থায় ইস্পাত কারখানাগুলো উৎপাদন সক্ষমতা অনুযায়ী চালাতে পারছে না। তাতে লোকসান গুনছেন ইস্পাত খাতের শিল্প মালিকেরা।
চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠিত ইস্পাত শিল্পগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস বা বিএসআরএম, আবুল খায়ের স্টিল (একেএস), জিপিএইচ ইস্পাত, রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিল (আরএসআরএম), কবির স্টিল রি-রোলিং মিল (কেএসআরএম), এইচএম স্টিল, গোল্ডেন ইস্পাত, শীতলপুল অটো স্টিল মিল (এসএআরএম), বায়েজিদ স্টিল, সীমা স্টিল মিলস, পিএইচপি ইন্টিগ্রেটেড স্টিল মিল ইত্যাদি। এসব কারখানাই দেশের ইস্পাত খাতের রড উৎপাদনের প্রায় ৭০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করে থাকে। তবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে আরএসআরএম, এসএস স্টিল, গোল্ডেন ইস্পাত, ইসলাম স্টিলসহ কয়েকটি ইস্পাত শিল্প।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইস্পাত শিল্পের কাঁচামাল স্ক্র্যাপ শতভাগ আমদানিনির্ভর। এর মধ্যে পুরোনো জাহাজ কিনে ভাঙার মাধ্যমে ২৫ শতাংশ স্ক্র্যাপের জোগান দেয় শিপব্রেকিং ইয়ার্ডগুলো। বাকি ৭৫ শতাংশ স্ক্র্যাপ বিদেশ থেকে আমদানি করে ইস্পাত কারখানাগুলো। তাই আমদানিনির্ভর এই ইস্পাত শিল্পের অবস্থা এখন টালমাটাল।
স্ক্র্যাপ ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঢাকা ও চট্টগ্রামে ৮০-৮৫টি অটো রি-রোলিং মিল রয়েছে। যেখানে রড উৎপাদন হয়। সেমি আটো মিল রয়েছে শতাধিক। সেমি অটো বা সনাতন পদ্ধতিতে রড তৈরির কারখানাগুলোর অধিকাংশ বন্ধ হয়ে গেছে। স্ক্র্যাপ আমদানিতে বর্তমানে এলসি খোলার হার কমে গেছে ৭০ শতাংশ। স্ক্র্যাপ আমদানি কমে গেছে ৫০ শতাংশ।
এদিকে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সরকারের অধিকাংশ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। পাশাপাশি বেসরকারি আবাসন শিল্পেও স্থবিরতা বিরাজ করছে। ফলে নির্মাণকাজের অন্যতম উপকরণ রডের চাহিদা কমে যায়। এতে উৎপাদনে নামে ধস। এ পরিস্থিতিতে অনেক ব্যবসায়ী ব্যাংকঋণের কিস্তি সময়মতো পরিশোধ করতে পারছেন না। ফলে নতুন করে খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
ইস্পাত শিল্পে লোকসান গুনছেন শিল্প মালিকেরা এমনটি উল্লেখ করে এইচএম স্টিল ও গোল্ডেন ইস্পাত লিমিটেডের পরিচালক মোহাম্মদ সরোয়ার আলম বলেন, বর্তমানে ইস্পাত শিল্পগুলো সক্ষমতার তুলনায় ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ উৎপাদন করছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়লেও কমে গেছে রডের দাম। গত এক মাসের ব্যবধানে চট্টগ্রামে টনপ্রতি রডের দাম কমেছে সর্বনিম্ন ৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৭ হাজার টাকা। তাতে বর্তমানে প্রতিটন রড বিক্রি হচ্ছে ৭৯ হাজার থেকে ৮৪ হাজার টাকায়।
ইস্পাত শিল্প মালিকরা জানান, দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ইস্পাত শিল্প বর্তমানে এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং অনেক শিল্প মালিক লোকসান গুনছেন। এর প্রধান কারণ হলো- চাহিদা হ্রাস, রড উৎপাদন খরচ ও কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, যা সামগ্রিকভাবে ইস্পাত শিল্পের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কয়েকটি কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোর কাজের ধীরগতি।
ইস্পাত শিল্প মালিকেরা আরও জানান, দেশের চলমান মোট উন্নয়ন কাজের ৬০ শতাংশ হয় সরকারি, বেসরকারি ও আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানের। অবশিষ্ট কাজ হয় ভোক্তা পর্যায়ে। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সরকারের মেগা, মাঝারি ও ছোট আকারের প্রকল্পগুলোর উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে যায়। একই সমস্যায় পড়ে বেসরকারি ও আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজও। এমনকি থমকে যায় ভোক্তা পর্যায়ের উন্নয়ন কাজ। তাতে স্থবিরতা নেমে আসে ইস্পাত শিল্পে। এ অবস্থায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে কিছু কিছু উন্নয়ন কাজ শুরু হলেও ইস্পাত শিল্পে গতি আনতে পারেনি। উল্টো দিনে দিনে খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সূত্র জানায়, বর্তমানে ইস্পাত শিল্পগুলো সক্ষমতার তুলনায় ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ উৎপাদন করছে। তাতে উৎপাদন খরচ বাড়লেও উল্টো কমে গেছে রডের দাম। এর মধ্যে নতুন করে কাঁচামাল আমদানিতে ভ্যাট ও ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে টনপ্রতি আরও ৯০০ টাকা। এটি আগের ভ্যাট ও ট্যাক্সের ৪ হাজার ২০০ টাকার সাথে যুক্ত হওয়ায় বিপাকে পড়ে যান ইস্পাত শিল্প মালিকেরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

বোয়ালখালীতে অবৈধ ব্রিজ নির্মাণ বন্ধ করলেন ইউএনও।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কসকবাজার আরকান সড়কের বোয়ালখালীর গোমদণ্ডী ফুলতলার দক্ষিণ পাশে রায়খালী খালের ওপর অবৈধভাবে একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালের ওপর অনুমোদনহীনভাবে ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে বর্ষা মৌসুমে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার ও ভয়াবহ বন্যা সহ জলাবদ্ধতার ঝুঁকি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে একই সাথে চাষবাদ ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি মধ্যে রয়েছে ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) অবৈধ ব্রিজ নির্মাণের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা হলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা ঘটনাস্থলে সরেজমিনে পরিদর্শনে করেন ।

পরিদর্শনকালে তারা খালের ওপর অবৈধভাবে ব্রিজ নির্মাণের সত্যতা পান। এ সময় খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নির্মাণকাজের অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের নিজ দায়িত্বে সোমবারের মধ্যে নির্মাণাধীন ব্রিজটি অপসারণ বা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন প্রশাসন ।


এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা প্রতিপালন না করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ