আজঃ শুক্রবার ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

বাড়িতে বাড়িতে আর এভাবে চুল কাটাকাটি নেই

হারিয়ে যাচ্ছে মাটিতে বসে চুল দাড়ি কাটা।

রেজাউল ইসলাম মাসুদ, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আধুনিক সভ্যতায় গড়ে উঠেছে আধুনিক ও উচ্চমানের সেলুন। এই সেলুনের কদর দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই ঝুঁকছেন হাট-বাজারে কিংবা শহরের বিভিন্ন স্থানে সেই সব সেলুনগুলোর দিকেই। তারপরেও আধুনিক ও স্মাট যুগে এসেও এখনো উপজেলার হাড়িপুকু বাগেরহাট গড়েয়া খঁচাবাড়ি সহ বিভিন্ন প্রান্তের হাট ও বাজার কিংবা গ্রামগঞ্জের জলচৌকিতে বা ইটের ওপর সাজানো পিঁড়িতে বসে চুল ও দড়ি কাঁটেন নরসুন্দরেরা।

চুল-দাঁড়ি কাটার কারণে যুগের পর যুগ ধরে নরসুন্দরদের কদর ও প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। চুল-দাঁড়ি কেটে মানুষকে সুন্দর করাটাই একমাত্র কাজ বলে তাদেরকে নরসুন্দর বলা হয়।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা গড়েয়া ইউনিয়নের, গড়েয়া বাজার এলাকায় মাটিতে বসে চুল ও দাঁড়ি কাটানোর চিরচেনা দৃশ্যটি চোখে পড়ে যায়। পিঁড়িতে বসে অল্প খরচে এখনো তাদের কাছে অনেকেই চুল ও দাঁড়ি কাটান।

গড়েয়া ইউনিয়নের বাগেরহাট এলাকার নরসুন্দর কান্দু শীল (৮০) দেবেন বর্মন (৭৫)। এ দুজন একে পরের সহযোদ্ধা। বংশ পরিক্রমায় নরসুন্দর হয়েছেন। এই সহযোদ্ধা দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে এ পেশায় আছেন।

কান্দু শীল (৮০), দেবেন চন্দ্র(৭৫) আধুনিক ও উচ্চমানের গড়েয়া বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে সেলুনের দোকান থাকলেও উনারা এই বৃদ্ধ বয়সে গড়েয়া বাজারের এককোণে পিঁড়িতে বসে মানুষের চুল ও দাঁড়ি কাটে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করেন। বৃদ্ধ বয়সে তিনাদের পথ চলার একে অপরের সহযোদ্ধা খোলা আকাশের নিজে বসে মানুষের চুল-দাঁড়ি কাটেন। এভাবেই তাদের জীবন-জীবিকা চলে। রয়েছে, কান্দু শীলের (৮০), দুই ছেলে। দেবেন চন্দ্রের(৭৫), তিন ছেলে। তারাও নরসুন্দর।

এ দুজনের কারণে এখনো বাজারে জলচৌকিতে বসে কাঠের বাক্স যার মধ্যে ক্ষুর, কাঁচি, চিরুনি, সাবান, ফিটকিরি, পাউডার ও লোশন নিয়ে প্রতিনিয়ত মানুষকে সুন্দর করে যাচ্ছেন। অনেক বছর আগে চুল কাটা বাবদ নিতেন পাঁচ পয়সা আর দাঁড়ি কাটার জন্য দু পয়সা। সে সময় যা আয় হতো তা দিয়ে সংসার ভালোভাবেই চলতো। কিন্তু বর্তমানে ৩০ টাকায় চুল ও ১০টাকা দাঁড়ি কেটেও সারা দিন যে টাকা উপার্জন হয় তা দিয়ে সাংসার চালানো তাদের হিমশিম খেতে হয় তাদের।

তারা আক্ষেপ করে জানান, বর্তমানে যে পরিবর্তন এসেছে চুল-দাঁড়ি কাটার সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতিও পরিবর্তন হয়েছে। সেসব সেলুনে এখন আর শান দেওয়া ক্ষুর দেখাই যায় না। তার বদলে এসেছে বেলেড লাগানো ক্ষুর। এখন এসেছে চুল কাটানো মেশিন, শেভিং ক্রিম, লোশন, চুলের কলপ। আমরা যখন বাপ-দাদার কাছে কাজ শিখে নিজেরাই কাজ শুরু করি তখন এগুলো আমাদের কাছে ছিল কল্পনাতীত। তবুও এ বৃদ্ধ বয়সে একদিকে বাপ-দাদার পেশাটা ধরে রাখার লড়াই ও অন্য দিকে জীবন-জীবিকার তাগিদে রোদ-বৃষ্টিতেও চুল-দাঁড়ি কাটান তারা। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তারা এই লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন বলে জানান এই দুই নরসুন্দর।

স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল, সাইদুল, দেলোয়ার, জুয়েল বলেন, এখন তো বিভিন্ন হাট-বাজারে অনেক অনেক আধুনিক সেলুন আছে। কিন্তু যখনই বাজারে যাই, ওই চুল কাটা দেখলে ছোটবেলার কথা মনে পড়ে যায়। কারণ তারা যখন চুল কাটতো, দুই হাঁটু দিয়ে আমাদের চাপ দিয়ে ধরতো, যেন নড়াচড়া না করতে পারি। ফলে যখন চুল কাটতো, তখন তার হাঁটুর ওপর ঘুমিয়ে পড়তাম। চিরচেনা দৃশ্য ছোট বেলার স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। অন্য এলাকায় আছে কি না আমাদের জানা নেই। তবে আমাদের এলাকায় এই দুই নরসুন্দর থাকায় আমরা এখনও মাটিতে বসা নরসুন্দুরদের কাছে চুল-দাঁড়ি কেটে নেই।

গড়েয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন রেনু বলেন, আমরা ছোট বেলায় বাবার সঙ্গে যেতাম। চুল কাটাতে তাদের দায়িত্ব দিয়ে বাবা বাজারের সব কাজ শেষে আসতেন। এখন আর তাদের কাছে চুল-দাঁড়ি কাটায় না। এখনকার ছেলে-মেয়েদের চুল কাটায় আধুনিক সেলুনগুলোতে। আমরা এখনো এ দৃশ্য নিজের চোখে দেখলেও এমন একটা সময় আসবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে গল্পই মনে হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ঠাকুরগাঁওয়ে মুরগীর ফার্মে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের নিশ্চিতপুর পোল্ট্রি এন্ড ফিডস লিমিটেডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ওই ফার্মে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও ফায়ার. সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক শহিদুল ইসলাম। এরআগে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের ফাঁড়াবাড়ি সরদারপাড়া গ্রামে অবস্থিত নিশ্চিতপুর পোল্ট্রি এন্ড ফিডস লিমিটেডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। 


জানা যায়, বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে হঠাৎ করে নিশ্চিতপুর পোল্ট্রি এন্ড ফিডস  লিমিটেডের ৪ নম্বরjj শেডে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহুর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা  চারদিকে ছড়িয়ে পরে। খবর পেয়ে ঠাকুরগাঁও ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। 

নিশ্চিতপুর পোল্ট্রি এন্ড ফিডস লিমিটেডের ম্যানেজার সুজন অধিকারী বলেন, আমাদের ফার্মে ৭টি শেড রয়েছে। এরমধ্যে ৪ নম্বর শেডে হঠাৎ করে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই শেডে মুরগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৫৩০টি। এরমধ্যে অগ্নিকাণ্ডে শেডের ভেতরে থাকা ৪ হাজার ৫০০ পিচ মুরগী মারা যায়। এর পাশাপাশি শেডের ভেতরে থাকা সকল যন্ত্রাংশ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন। তাহলে পূণরায় শেডটি সচল করা সম্ভব হবে। আশা করি সরকার বিষয়টি নজরে নিয়ে সহযোগিতা করবেন। 

ঠাকুরগাঁও ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে নিশ্চিতপুর পোল্ট্রি এন্ড ফিডস  লিমিটেডের ৪ নম্বর শেডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আমরা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। 

চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে ডিজেল-জেট ফুয়েল নিয়ে আসা ৩ জাহাজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরে মালয়েশিয়া থেকে দুটি জাহাজে করে ডিজেল এবং সিঙ্গাপুর থেকে একটি জাহাজে জেট ফুয়েল (বিমানের জ্বালানি) এসেছে। এর মধ্যে এমটি গ্রেট প্রিন্সেস নামে জাহাজটি গত মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ডলফিন জেটি-৬-এ জ্বালানি খালাস করছে। জাহাজটি সিঙ্গাপুর থেকে প্রায় ১১ হাজার মেট্রিক টন জেট ফুয়েল নিয়ে এসেছে। অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ার পতাকাবাহী এমটি লুসিয়া সোলিস জাহাজটি ৯ এপ্রিল মালয়েশিয়া থেকে রওনা দিয়ে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে। জাহাজটিতে প্রায় ৩৪ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল রয়েছে।বর্তমানে লাইটারেজ প্রক্রিয়ায় জ্বালানি খালাস চলছে এবং বুধবার দুপুরে এটি ডলফিন জেটি-৫-এ ভিড়েছে।

বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের গভীরতাজনিত সমস্যা থাকায় বড় জাহাজ প্রথমে বহির্নোঙরে পৌঁছে কিছু তেল খালাস করে৷ পরে বাকিগুলো জেটিতে ভেড়ানোর পর খালাস করা হয়।
বিপিসির সহকারী ব্যবস্থাপক ফারজিন হাসান মৌমিতা বলেন, ডেনমার্কের পতাকাবাহী এমটি টর্ম দামিনি জাহাজটি প্রায় ৩২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে মঙ্গলবার রাত থেকে বহির্নোঙরে জ্বালানি খালাস করছে। জাহাজটি বুধবার ডলফিন জেটি-৬-এ পৌঁছেছে। জাহাজটি ৯ এপ্রিল মালয়েশিয়া থেকে যাত্রা শুরু করেছিল বলে তিনি জানান।

আলোচিত খবর

৬ জুলাই ‘পল্লী উন্নয়ন দিবস’ এবং ৭ নভেম্বর ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সরকার ৬ জুলাই ‘পল্লী উন্নয়ন দিবস’ এবং ৭ নভেম্বর ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ৬ জুলাই পল্লী উন্নয়ন দিবস হিসেবে পালন করা হবে। তবে এদিন সরকারি ছুটি থাকবে না। এছাড়া ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করা হবে; দিনটি সরকারি ছুটি হিসেবেও পালিত হবে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা, ২০২৫ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে সোলার পাওয়ার দিয়ে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর জন্য একটি কমিটি করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী মো. আরিফুল হক চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানমসহ অন্যান্য সদস্যরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ