আজঃ বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

৫ হাজার ৬৭৬টি বোটের আহরিত মৎস্য খালাস হয় চট্টগ্রামে ফিশ ল্যাল্ডিং সেন্টার নেই, ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য আহরণকারীরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে সরকারীভাবে কোনো ফিশ ল্যাল্ডিং সেন্টার না থাকায় নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মৎস্য আহরণকারীরা। চট্টগ্রাম মহানগরের ফিরিঙ্গিবাজার এলাকায় বেসরকারিভাবে একটি ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার থাকলেও সেটি আধুনিকমানের নয়।

নেই পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। এদিকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে একদিকে যেমন মাছের গুণাগুণ নষ্ট হচ্ছে, অপরদিকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। দেশের উপক‚লীয় ১৬ জেলার ৭৫ উপজেলায় সাগরে মৎস্য আহরণের জন্য অনুমোদিত ফিশিং বোট রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার। এর মধ্যে ৫ হাজার ৬৭৬টি বোট সাগরে আহরিত মৎস্য খালাস করে চট্টগ্রামে।

সামুদ্রিক মৎস্যের সাথে সংশ্লিষ্ট লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নগরের দক্ষিণ কাট্টলী রাসমনিঘাট এলাকার বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে সরকারি জায়গা। সেখানে প্রতিদিন সাগর থেকে আহরিত প্রচুর পরিমাণের সামুদ্রিক মাছ খালাস করা হয় ফিশিং বোট থেকে। কিন্তু সেখানে ফিশ ল্যাল্ডিং সেন্টার না থাকায় খালাসের সময় প্রচুর মাছ নষ্ট হয়ে যায়। তাছাড়া সেখানে নেই কোন বরফকল। তাতে অনেক মাছ পচে যায়। এ অবস্থায় সেখানে প্রকল্প থেকে একটি ফিশ ল্যাল্ডিং সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ থাকলেও কার্যত সেটিও বাতিল হয়ে যায়।

জানা গেছে, দেশে সরকার অনুমোদিত বাণিজ্যিক ট্রলার রয়েছে ২৬৮টি। এর মধ্যে সাগরে নিয়মিত মৎস্য আহরণ করে ২৩৫টি। আহরণকৃত বাণিজ্যিক ট্রলারের মধ্যে মাত্র ৫টি উপক‚লীয় জেলা খুলনায় মৎস্য খালাস করে। অবশিষ্ট ২৩০টি মৎস্য খালাস করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বেসরকারি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে। একই চিত্র দেখা গেছে আর্টিসানাল বোটের ক্ষেত্রেও। কিন্তু সরকারিভাবে চট্টগ্রামে কোনো ফিশ ল্যাল্ডিং সেন্টার না থাকায় নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মৎস্য আহরণকারীরা।

সূত্র জানায়, দেশে বছরে সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ হয় প্রায় ৭ লাখ মেট্রিকটন। আহরিত এসব সামুুদ্রিক মৎস্য দেশের উপক‚লীয় বিভিন্ন পয়েন্টে খালাস করা হয়। এর মধ্যে বেশিভাগ মাছ বিপণনের জন্য ফিশিং বোট ও ট্রলার থেকে খালাস করা হয় চট্টগ্রামে।

অথচ এখানে সরকারিভাবে নির্মাণ করা হয়নি আধুনিকমানের ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার। নগরের ফিরিঙ্গিবাজার এলাকায় বেসরকারিভাবে একটি ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার থাকলেও সেটি আধুনিকমানের নয়। নেই পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সামুদ্রিক মৎস্য খাতে উন্নয়নের জন্য সরকার দেশের উপক‚লীয় ১৬ জেলার ৭৫ উপজেলায় সাসটেইনেবল কোস্টাল এন্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালে।

একই প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশে ১৮টি ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার ও ফিশ হারবার নির্মাণের অনুমোদন ছিল। এর মধ্যে চট্টগ্রামের জন্য অনুমোদন ছিল ৪টি ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টারের। এগুলো দক্ষিণ কাট্টলীর রাসমনি ঘাট এলাকায়, পতেঙ্গায়, সীতাকুÐের কুমিরায় ও বাঁশখালী উপজেলায় নির্মাণের সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু ভূমি সংক্রান্ত জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে চট্টগ্রামে একটিও ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার নির্মাণ হয়নি।

উপ-প্রকল্প পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন, গবেষণা, মনিটরিংসহ যাবতীয় কর্মকাÐ পরিচালনার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বিশাল এই প্রকল্প গ্রহণ করে। এটি বাস্তবায়ন করছে মৎস্য অধিদপ্তর। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। দেশের উপক‚লীয় ১৬টি জেলার ৭৫ উপজেলার ৭৫০টি ইউনিয়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এটির কাজ আগামী নভেম্বরে শেষ হবে।

কিন্তু প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রামে চারটি ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার নির্মাণের সিদ্ধান্ত থাকলেও ভূমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে একটিও তৈরি হয়নি। তবে এ প্রকল্পের আঙ্গিকে আরো একটি প্রকল্প গ্রহণ করছে সরকার। বিশ্বব্যাংক এ প্রকল্পের অর্থায়ন করতে পারে। এ প্রকল্পের অধীনে বর্তমান প্রকল্প থেকে যেসব বিষয় বাদ গেছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি অক্লান্ত পরিশ্রমে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন : জেলা প্রশাসক চট্টগ্রাম।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, প্রবাসীরা অকুতোভয় যোদ্ধার মতো পরিবার থেকে দূরে থেকে দেশের জন্য রেমিট্যান্স পাঠান। তাঁদের পাঠানো অর্থেই দেশের অর্ধেকের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো হয়।তাঁদের এই ত্যাগ ও অবদানকে সম্মান জানাতেই আমরা এই গণশুনানির আয়োজন করেছি।বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উদ্যোগ ‘প্রবাসীদের জন্য অনলাইন গণশুনানি’ আয়োজন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।গণশুনানিতে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং জেলার সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।

এতে বিদেশে অবস্থানরত ১১ জন প্রবাসী সরাসরি অংশ নিয়ে জমিজমা বিরোধ, অর্থ আত্মসাৎ, পারিবারিক জটিলতা, চাঁদাবাজি ও মিথ্যা মামলাসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন।

অভিযোগ শোনার পরপরই জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। যেসব বিষয়ে তদন্ত প্রয়োজন, সেগুলোতে পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়। জেলা প্রশাসক বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত তিনটি খাত-গার্মেন্টস, প্রবাসী আয় ও কৃষির ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বের প্রায় ১৬৫টি দেশে বসবাসরত দেড় কোটির মতো প্রবাসী বাংলাদেশি অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন।গণশুনানিতে কাতারপ্রবাসী রাঙ্গুনিয়ার রানা সুশীল আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারের আবেদন জানান। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট থানা ও উপজেলা প্রশাসনকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রবাসে কঠোর পরিশ্রমের পরও অনেক প্রবাসী পরিবার ও সম্পত্তি–সংক্রান্ত সমস্যার কারণে মানসিক অস্থিরতায় ভোগেন। এসব সমস্যা দ্রুত ও কার্যকরভাবে সমাধানের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তিনি জানান, প্রবাসীদের লিখিত অভিযোগ আগেই সংগ্রহ করে মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

শুধু অভিযোগ শোনা নয়, দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।জেলা প্রশাসক আরও বলেন, প্রযুক্তির কল্যাণে প্রবাসীরা দূরে থেকেও আমাদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে পারছেন। আমরা তাঁদের জানাতে চাই—তাঁরা দূরে নন, আমরা তাঁদের পাশেই আছি।
প্রবাসীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রতি বুধবার নিয়মিত গণশুনানির পাশাপাশি প্রাথমিকভাবে এক ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রয়োজন হলে সময় আরও বাড়ানো হবে।জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, অভিযোগগুলোর বেশিরভাগই জমি দখল, অর্থ আত্মসাৎ, মিথ্যা মামলা ও চাঁদাবাজি সংক্রান্ত। অনেক প্রবাসী দেশে থাকা সম্পত্তি দখল ও হয়রানির শিকার হওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

ওমানপ্রবাসী নুর মোহাম্মদ সম্পত্তি জবরদখল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেন। কাতারপ্রবাসী মোহাম্মদ আনোয়ার নিজস্ব সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির কথা জানান। সৌদি আরব, দুবাই ও আবুধাবিপ্রবাসী আরও কয়েকজন একই ধরনের অভিযোগ তুলে ধরেন।এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। তাঁদের সম্পত্তি ও অধিকার রক্ষায় প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

এ সময় উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) মো. রাসেল উপস্থিত ছিলেন।

রাজশাহীতে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজশাহীর চারঘাটে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে উপজেলার সরদহ রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আজ বুধবার চারঘাট মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে। ট্রেনে পপকর্ন বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন এই দম্পতি। পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, নাটোর সদর উপজেলার ওই দম্পতি প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার বিকেলে ট্রেনে পপকর্ন বিক্রির জন্য বাড়ি থেকে বের হন।

ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনে পপকর্ন বিক্রি শেষে রাত প্রায় ১টার দিকে তারা সরদহ স্টেশনে নামেন। পরে স্টেশনসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বসে বিস্কুট খাচ্ছিলেন তারা। এ সময় এক ব্যক্তি লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারী প্রথমে স্বামীকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে এবং তাকে একটি পরিত্যক্ত দোকানের পাশে বেঁধে রাখে। এরপর তার স্ত্রীকে স্টেশনসংলগ্ন জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় তাদের পপকর্ন বিক্রির টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

ভুক্তভোগী স্বামী জানান, তিনি চিৎকার করলে প্রায় ৪৫ মিনিট পর আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে তিনি জঙ্গল থেকে তার স্ত্রীকে উদ্ধার করেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে অভিযুক্তের নাম আশরাফুল ইসলাম বলে জানতে পারেন। আশরাফুল চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছী জাগিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ