৫ হাজার ৬৭৬টি বোটের আহরিত মৎস্য খালাস হয় চট্টগ্রামে ফিশ ল্যাল্ডিং সেন্টার নেই, ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য আহরণকারীরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে সরকারীভাবে কোনো ফিশ ল্যাল্ডিং সেন্টার না থাকায় নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মৎস্য আহরণকারীরা। চট্টগ্রাম মহানগরের ফিরিঙ্গিবাজার এলাকায় বেসরকারিভাবে একটি ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার থাকলেও সেটি আধুনিকমানের নয়।

নেই পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। এদিকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে একদিকে যেমন মাছের গুণাগুণ নষ্ট হচ্ছে, অপরদিকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। দেশের উপক‚লীয় ১৬ জেলার ৭৫ উপজেলায় সাগরে মৎস্য আহরণের জন্য অনুমোদিত ফিশিং বোট রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার। এর মধ্যে ৫ হাজার ৬৭৬টি বোট সাগরে আহরিত মৎস্য খালাস করে চট্টগ্রামে।

সামুদ্রিক মৎস্যের সাথে সংশ্লিষ্ট লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নগরের দক্ষিণ কাট্টলী রাসমনিঘাট এলাকার বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে সরকারি জায়গা। সেখানে প্রতিদিন সাগর থেকে আহরিত প্রচুর পরিমাণের সামুদ্রিক মাছ খালাস করা হয় ফিশিং বোট থেকে। কিন্তু সেখানে ফিশ ল্যাল্ডিং সেন্টার না থাকায় খালাসের সময় প্রচুর মাছ নষ্ট হয়ে যায়। তাছাড়া সেখানে নেই কোন বরফকল। তাতে অনেক মাছ পচে যায়। এ অবস্থায় সেখানে প্রকল্প থেকে একটি ফিশ ল্যাল্ডিং সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ থাকলেও কার্যত সেটিও বাতিল হয়ে যায়।

জানা গেছে, দেশে সরকার অনুমোদিত বাণিজ্যিক ট্রলার রয়েছে ২৬৮টি। এর মধ্যে সাগরে নিয়মিত মৎস্য আহরণ করে ২৩৫টি। আহরণকৃত বাণিজ্যিক ট্রলারের মধ্যে মাত্র ৫টি উপক‚লীয় জেলা খুলনায় মৎস্য খালাস করে। অবশিষ্ট ২৩০টি মৎস্য খালাস করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বেসরকারি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে। একই চিত্র দেখা গেছে আর্টিসানাল বোটের ক্ষেত্রেও। কিন্তু সরকারিভাবে চট্টগ্রামে কোনো ফিশ ল্যাল্ডিং সেন্টার না থাকায় নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মৎস্য আহরণকারীরা।

সূত্র জানায়, দেশে বছরে সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ হয় প্রায় ৭ লাখ মেট্রিকটন। আহরিত এসব সামুুদ্রিক মৎস্য দেশের উপক‚লীয় বিভিন্ন পয়েন্টে খালাস করা হয়। এর মধ্যে বেশিভাগ মাছ বিপণনের জন্য ফিশিং বোট ও ট্রলার থেকে খালাস করা হয় চট্টগ্রামে।

অথচ এখানে সরকারিভাবে নির্মাণ করা হয়নি আধুনিকমানের ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার। নগরের ফিরিঙ্গিবাজার এলাকায় বেসরকারিভাবে একটি ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার থাকলেও সেটি আধুনিকমানের নয়। নেই পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সামুদ্রিক মৎস্য খাতে উন্নয়নের জন্য সরকার দেশের উপক‚লীয় ১৬ জেলার ৭৫ উপজেলায় সাসটেইনেবল কোস্টাল এন্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালে।

একই প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশে ১৮টি ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার ও ফিশ হারবার নির্মাণের অনুমোদন ছিল। এর মধ্যে চট্টগ্রামের জন্য অনুমোদন ছিল ৪টি ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টারের। এগুলো দক্ষিণ কাট্টলীর রাসমনি ঘাট এলাকায়, পতেঙ্গায়, সীতাকুÐের কুমিরায় ও বাঁশখালী উপজেলায় নির্মাণের সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু ভূমি সংক্রান্ত জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে চট্টগ্রামে একটিও ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার নির্মাণ হয়নি।

উপ-প্রকল্প পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন, গবেষণা, মনিটরিংসহ যাবতীয় কর্মকাÐ পরিচালনার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বিশাল এই প্রকল্প গ্রহণ করে। এটি বাস্তবায়ন করছে মৎস্য অধিদপ্তর। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। দেশের উপক‚লীয় ১৬টি জেলার ৭৫ উপজেলার ৭৫০টি ইউনিয়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এটির কাজ আগামী নভেম্বরে শেষ হবে।

কিন্তু প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রামে চারটি ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার নির্মাণের সিদ্ধান্ত থাকলেও ভূমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে একটিও তৈরি হয়নি। তবে এ প্রকল্পের আঙ্গিকে আরো একটি প্রকল্প গ্রহণ করছে সরকার। বিশ্বব্যাংক এ প্রকল্পের অর্থায়ন করতে পারে। এ প্রকল্পের অধীনে বর্তমান প্রকল্প থেকে যেসব বিষয় বাদ গেছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বোয়ালখালীর প্রথম শহিদ এখলাছুর রহমানের ৫৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকীর শ্রদ্ধা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

১৯৫৬ সালের ২০ শে মে তিনি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পোপাদিয়া ইউনিয়নের আকুবদনডী গ্রামে অকুতোভয় বীরোচিত আত্মত্যাগী এখলাছ। মরহুম সৈয়দ জামাল উদ্দীনের ঔরষে মরহুমা সৈয়দা মছুদা খাতুনের গর্ভে জন্ম গ্রহণ করেন এই ক্ষন জন্মা ব্যাক্তিত্ব।মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসে বীর বিক্রমে

কধুরখীলের খোকার দোকান এলাকায় পাকবাহিনীর ওপর গ্রেনেড ছুড়ে মেরেছিলেন এ শহিদ এখলাছ। ওইদিন পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়েন তিনি। সেই সংগ্রামী বীর মুক্তিযোদ্ধা ৭১ সালের ৪ আগস্ট পাকবাহিনীর হাতে শহীদ হন। (তথ্য সূত্র দৈনিক পাকিস্তান, পূর্বদেশ,ইওেফাক ১৯৭১)।

স্বাধীনতা সংগ্রামের উজ্জ্বল নক্ষত্র শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এখলাছুর রহমান ক্যাপ্টেন করিমের গড়া বাহিনী ও ৬৯এর ছাত্র মিছিলে অগ্রনীভূমিকা পালন করেছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কধুরখীল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।সরাসরি যুক্ত ছিলেন তৎকালীন প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে।বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ আল নোমান সাহেব এখলাছের সহযোদ্ধা।

উল্লেখ্য তৎকালীন স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজের অধ্যাপক দিলীপ চৌধুরী গ্রুপের অন্যতম মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীন শিক্ষাবিদ রফিক আহমদ শহীদ এখলাছের ভগ্নিপতি। সাধারণ মানুষের উপর পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর নির্মমতা ও এদেশীয় সহযোগীদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে গ্রেনেড ছুড়ে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন এ সম্মুখ যোদ্ধা।

দেশ স্বাধীনের পর তাঁর স্মৃতি বিজড়িত বিদ্যাপীঠ কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনকে নামকরণ করা হয় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এখলাছ মিলনায়তন। ইকবাল পার্কের নাম পরিবর্তন এনে করা হয়েছিল শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এখলাছ পার্ক। এছাড়া একটি সড়কের নামকরণ করা হয় এই মহান বীর শহীদের নামে।তবে কিছু ঐতিহাসিক স্মৃতি এখন বিস্মৃতির আড়ালে।

ইতিহাসের বৃহৎ অংশে বোয়ালখালী উপজেলা সদরের স্মৃতি সৌধে এ মহান বীর শহীদের নাম রয়েছে কাজেই দেশমাতৃকার অতুলনীয় আত্মত্যাগের জন্য লাল সবুজের পতাকা জুড়ে ও স্মৃতির দর্পনে চির উজ্জ্বল হয়ে থাকবেন।

সাংবাদিকের কাজ ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করা -কাদের গনি চৌধুরী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেছেন- রাষ্ট্র ও ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করা এবং তাদের জবাবদিহিতার মধ্যে রাখা সাংবাদিকতার কাজ। এটি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, জনগণের অধিকার রক্ষা করে এবং সমাজে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করে।২ আগস্ট রোববার দুপুরে গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ আয়োজিত সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব বলেন।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ