আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

যানজট নিরসনে পরিবহন ব্যবস্থা আধুনিকায়নে চসিকের নতুন প্রকল্প।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে নিত্য যানজটে নাভিশ্বাস নগরবাসীর। যানজটের কারণে বিদেশগামী যাত্রী, অ্যাম্বুলেন্সের রোগী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন, সড়ক দখল করে গাড়ি পার্কিং, উন্নয়ন কাজের জন্য যত্রতত্র খোঁড়াখুঁড়ি, লক্ষাধিক অবৈধ রিকশার দাপট, ফুটপাত দখল করে হকার বাণিজ্য এবং সড়কের ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি যানবাহন চলাচল করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষ করে চকবাজার, আগ্রাবাদ, দুই নম্বর গেট, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের আশপাশসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক গুণ বেশি থাকে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আধুনিক নগর পরিবহন ব্যবস্থা চালু হলে নগরীর যাটজটের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে।

এদিকে নগরীর যানজট নিরসন ও আধুনিক নগর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প নিতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) তৈরি করতে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার চসিকের সচিব মো. আশরাফুল আমিনের স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কমিটি গঠন করা হয়।

চসিক সূত্রে জানা যায়, নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে সড়ক নিরাপত্তা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, নজরদারি ও যান চলাচলের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম উন্নয়ন জরুরি হয়ে উঠেছে। এরই আলোকে প্রকল্পটির ডিপিপি প্রণয়নে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, প্রস্তাব তৈরিসহ দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করতে এ কমিটি দায়িত্ব পালন করবে।

যানজট নিরসন ও আধুনিক নগর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একটি ডিপিপি প্রস্তুতের কাজ শুরু হবে বলে জানান চসিকের প্রধান প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান সোহেল। তিনি বলেন, এখানে দুটো বিষয় রয়েছে। একটি হচ্ছে সড়কে নিরাপত্তার বিষয়; অন্যটি হচ্ছে যানজট নিরসন। আমাদের এই প্রকল্পের মাধ্যমে উভয় সমস্যা সমাধান হবে।

ওই অফিস আদেশে বলা হয়, চট্টগ্রাম নগরীর যানজট নিরসন ও আধুনিক নগর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘ডেভেলপমেন্ট অব স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম ফর ডিফারেন্ট এরিয়াস অব চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন’ শীর্ষক প্রকল্পের ডিপিপি তৈরি করতে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সদ্যগঠিত চার সদস্যের ওই কমিটিতে সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন চসিকের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু সাদাত মোহাম্মদ তৈয়ব এবং সদস্যসচিব নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. শাফকাত বিন আমিন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার জাহান, সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) ফখরুল ইসলাম।

কমিটির সদস্যসচিব ও নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. শাফকাত বিন আমিন বলেন, আধুনিক নগর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আগে একটি কনসালটেন্ট ফার্মকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে এটার আর অগ্রগতি হয়নি। এখন নতুন করে ওই ফার্মের সাথে কথা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পাইলট বেসিসে কিছু জায়গা নির্ধারণ করে তারা শীঘ্রই কাজ শুরু করবে। তারা নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি এবং ড্রয়িং-ডিজাইনের কাজ করবে।

চসিকের ওই অফিস আদেশে কমিটির জন্য ছয় দফা কার্যপরিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ, বাস্তবায়ন নীতিমালা প্রণয়নে সুপারিশ তৈরি, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে খসড়া ডিপিপি তৈরি এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রম সম্পাদন। এছাড়া, কমিটিকে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে মেয়র বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটি প্রয়োজনে নতুন সদস্য নিতে পারবে।

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ট্রাফিক সিস্টেম সুন্দরভাবে সাজানোর জন্য কাজ শুরু করেছি। আমরা একটা সিস্টেম দাঁড় করাবো। কিন্তু এটার তদারকি করতে হবে ট্রাফিক বিভাগকে। যানজট নিরসন ও আধুনিক নগর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সিগন্যাল লাইটের কোন বিকল্প নেই। আমরা পুরো নগরীকে আধুনিক সিগন্যাল লাইটের আওতায় নিয়ে আসবো।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

বোয়ালখালীতে অবৈধ ব্রিজ নির্মাণ বন্ধ করলেন ইউএনও।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কসকবাজার আরকান সড়কের বোয়ালখালীর গোমদণ্ডী ফুলতলার দক্ষিণ পাশে রায়খালী খালের ওপর অবৈধভাবে একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালের ওপর অনুমোদনহীনভাবে ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে বর্ষা মৌসুমে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার ও ভয়াবহ বন্যা সহ জলাবদ্ধতার ঝুঁকি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে একই সাথে চাষবাদ ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি মধ্যে রয়েছে ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) অবৈধ ব্রিজ নির্মাণের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা হলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা ঘটনাস্থলে সরেজমিনে পরিদর্শনে করেন ।

পরিদর্শনকালে তারা খালের ওপর অবৈধভাবে ব্রিজ নির্মাণের সত্যতা পান। এ সময় খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নির্মাণকাজের অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের নিজ দায়িত্বে সোমবারের মধ্যে নির্মাণাধীন ব্রিজটি অপসারণ বা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন প্রশাসন ।


এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা প্রতিপালন না করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ