আজঃ শুক্রবার ৬ মার্চ, ২০২৬

বোয়ালখালীতে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখির আগমন।

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে শীতের আগমনে নানা প্রান্ত থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে নানান প্রজাতির অতিথি পাখি আসে এসব অতিথি পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত থাকে পুরো প্রকৃতি।

জানা গেছে, প্রকৃতি যখন পাখিদের জীবনধারণের জন্য অনুকূলে থাকে না, তখন পাখিগুলো অপেক্ষাকৃত কম শীত ও অনুকূল প্রকৃতির দেশে অতিথি হয়ে আসে। নাতিশীতোষ্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবছর এসব অতিথি পাখির আগমন ঘটে । তখন এ সময়টা হয়ে ওঠে অতিথি পাখিদের খাদ্য ও জীবনধারণের নিরাপদ আবাসস্থল। হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে আসা পাখিগুলো হয়ে ওঠে বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম।

তবে শীতের প্রকোপ কমলে অতিথি পাখিরা আবারো হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে ছুটে যায় নিজ জন্মভূমিতে।শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বার) বিকালে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী কালুরঘাট কর্ণফুলি নদীর এলাকায় ও কধুরখীল এলাকার পার্বতী চরণ দীঘিতে ওড়াউড়ি করতে দেখা গেছে অতিথি পাখির।

তবে আগের চাইতে পাখির সংখ্যা অনেকটা কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই। পল্লী চিকিৎসক মাহাবুব আলম বলেন, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, পাখির সাথে অমানবিক আচরণ ও আবাস্থল ধ্বংসের কারণে অনেক পাখি বিলুপ্তির পথে। আগে মাঠে-ঘাটে, ক্ষেতে-খামারে বিচিত্র ধরণের পাখিদের বিচরণ ছিল। এছাড়াও গ্রামের আনাচে কানাচে ব্যাপক হারে জাতীয় পাখি দোয়েল, টুনটুনি, চিল, পানকৌড়ি, ডাহুক, বক, শালিক, ঘুঘু, বাবুই, কাক, কাঠ ঠোকরা, কোকিল, ডাহুক, ক্যাসমেচি, মাছরাঙা,ও প্যাচাসহ চিরচেনা অনেক পাখি এখন দেখাও যায় না।

অতিথি পাখি গুলো সাধারণত নিরিবিলি এলাকা বেছে নেয়। তবে খাদ্য সংকট ও উপযুক্ত পরিবেশ না পাওয়ার কারণে ইদানীং অতিথি পাখি আসার হার আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। এর মধ্যে দুটি কারণ হলো যেসব এলাকায় এসব পাখি আশ্রয় নেয় তার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়া ও শিকারিদের উৎপাত। পাখি শিকার করা আইনত অপরাধ। এ বিষয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্বিচারে পাখি শিকার চলতে থাকলে অতিথি পাখির আগমন ভবিষ্যতে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ ব্যাপারে সবাইকে সর্তক ও সচেতন হতে হবে।

বোয়ালখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রুমন তালুকদার বলেন, তীব্র শীতের হাত থেকে বাঁচতে ও খাবারের সন্ধানে এ দেশে পাড়ি জমায় পাখিগুলো। শীত প্রধান দেশ হিমালয়, সাইবেরিয়া, রাশিয়া, ফিনল্যান্ডসহ বরফাচ্ছন্ন দেশে খাদ্য ও আশ্রয়ের অভাব দেখা দিলে এসব পাখি বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- বালী হাঁস, কুস্তি হাঁস, জিরিয়া হাঁস, পাতারি হাঁস, নীলশির, ধূসর বক, জল ময়ূর, ডুবুরি, পানকৌড়ি, গঙ্গা কবুতর, দলপিপি, রাজসরালি সহ বহু জাত রয়েছে।

তবে পাখিগুলো যেভাবেই আসুক বাংলাদেশের মানুষের প্রাণ সঞ্চার করে প্রকৃতির অনিন্দ্য সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে। পাখির আবাসস্থল ধ্বংস, খাদ্য সংকটের ফলে দিন দিন পরিযায়ীসহ অতিথি পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে । পাশাপাশি গাছপালা কেটে বন উজাড়ে স্বাভাবিক পরিবেশ হারাচ্ছে পাখিদের । অতিথি পাখিদের রক্ষায় আমাদের আরও সচেতন ও আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন এ কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হানিফ সংকেত স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হচ্ছেন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের উপস্থাপক
হানিফ সংকেত স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হচ্ছেন।

মরনোত্তর স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন মাইলস্টোন এর শিক্ষিকা মাহরিন চৌধুরী।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মরনোত্তর স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন মাইলস্টোন এর শিক্ষিকা মাহরিন চৌধুরী।

আলোচিত খবর

জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদে বিরোধী দল থেকে প্রতিনিধি নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন- জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার ২ মার্চ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি জানান, রাজনৈতিক ঐকমত্যকে গুরুত্ব দিয়ে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ডেপুটি স্পিকারের জন্য একটি নাম প্রস্তাব করতে অনুরোধ করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে মৌখিক ও সরাসরি যোগাযোগও করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্পিকার নির্বাচনের দিনই ডেপুটি স্পিকার পদেও নির্বাচন সম্পন্ন করা যেতে পারে। এতে সংসদ পরিচালনায় ভারসাম্য ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়- জাতীয় সনদের আলোকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে, সেটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ