আজঃ মঙ্গলবার ২ জুন, ২০২৬

রূপগঞ্জে প্রবাসী হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

মাহাবুবুর রহমান রনি রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভোলাবো ইউনিয়নের টাওরা গ্রামের বাসিন্দা সৌদি প্রবাসী মাসুম মিয়া (২৫) হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। গতকাল ১ জুন সোমবার বিকেলে উপজেলার ভোলাবো – টাওরা সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে নিহত মাসুমের পরিবারের সদস্য , স্বজন ও এলাকাবাসী অংশ নেয়।
মানববন্ধন পূর্বক সভায় বক্তব্য রাখেন নিহত মাসুমের মা সৌদি প্রবাসী নারগিস আক্তার, নানী খোশে আক্তার, বন্ধু রমজান হোসেন, ভোলাবো ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু, যুবদল নেতা আব্দুস সাত্তার প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে টাওরা পশ্চিমপাড়া এলাকার নুর মোহাম্মদের ছেলে সৌদি প্রবাসী মাসুম মিয়া পাঁচদোনা থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশের দাবিকৃত আর্থিক সুবিধা না দেওয়ায় এখনও মাসুম মিয়া হত্যা মামলার কোন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়নি। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা টাওরা গ্রামের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রূপগঞ্জ থানার নাজমুল হোসেন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সৌদি প্রবাসী মাসুম মিয়া হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

উল্লেখ্য গত ৩০মার্চ সোমবার সন্ধ্যায় মাসুম মিয়া ও তার বন্ধু রমজান হোসেন মোটরসাইকেলে পাঁচদোনা থেকে বাড়ি ফেরার পথে টাওরা মধ্যপাড়া কামরানের দোকানের সামনে প্রথমে বাঁশ দিয়ে তাদের আঘাত করে। পরে মাসুম মিয়া মাটিতে লুটে পড়লে রাজু মিয়া ও তার সহযোগীরা উপর্যপুরী কুপিয়ে জখম করে। রমজান হোসেনকেও কুপিয়ে জখম করে। একপর্যায়ে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ও পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাতে তার মৃত্যু হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মেয়রের নেতৃত্বে সমন্বিত কমিটি জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে- প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উন্নয়নে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের উদ্যোগে ১৯ সদস্যবিশিষ্ট সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে সরকার।নগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ২ দিন চট্টগ্রামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সফর করে ঢাকা ফেরার পূর্বে বৃহস্পতিবার মেয়রের হাতে কমিটির প্রজ্ঞাপন হস্তান্তর করেন মন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব আশফিকুন নাহারের সই করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র এবং সদস্য সচিব হিসেবে থাকবেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। এছাড়া কমিটিতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, ওয়াসা, সিডিএ, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার উন্নয়ন, জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য প্রকৌশল, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ও প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা, বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ হাইড্রোগ্রাফার, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকরাও।এছাড়া কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক এবং সিটি কর্পোরেশনের খাল ও জলাবদ্ধতা বিশেষজ্ঞও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

কমিটির কার্যপরিধিতে ৬টি বিষয় অন্তর্ভূক্ত করেছে সরকার। প্রজ্ঞাপন অনুসারে এই কমিটি চট্টগ্রাম মহানগরীর সকল খাল ও পানি নিষ্কাশন নালাসমূহ সারা বছর সচল রাখাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজের সমন্বয় সাধন করবেন; মহানগরীর জলাবদ্ধতাসহ জনস্বার্থে জনগুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য কাজের সমন্বয় সাধন করবেন; গঠিত কমিটি প্রয়োজনে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সেবামূলক কাজের দ্রুত প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন তদারকি করবেন; কমিটি প্রয়োজনে সময়ে সময়ে সভা আহবানপূর্বক উন্নয়নমূলক ও সেবামূলক কাজের অগ্রগতি তদারকি ও সমন্বয় করবেন; চট্টগ্রাম মহানগরীর জনস্বার্থে যে কোনো বিষয় সময়ে সময়ে সরকারকে সুপারিশ করবেন এবং প্রয়োজনে কমিটি বিভিন্ন দপ্তর/সংস্থার সদস্যকে কো-অপ্ট করতে পারবেন।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডারসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে মহেশ রেগুলেটর ও মহেশখাল কুমার রেগুলেটর এলাকা ঘুরে দেখেন। পরে বারেক বিল্ডিং মোড়, কোতোয়ালী মোড়, মেরিন ড্রাইভ, মরিয়ম বিবি, কলাবাগিচা, টেকপাড়া, চাক্তাই ও রাজাখালী খাল এলাকার চলমান কাজ পরিদর্শন করেন। এছাড়া শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়ক হয়ে বাকলিয়া এক্সেস রোডের মোড়, চাক্তাই ডাইভারশন খাল, চন্দনপুরা, চকবাজার ফুলতলা ব্রিজ, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ ও প্রবর্তক মোড় এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমও ঘুরে দেখেন তিনি।

পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সাথে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন দ্রুত চট্টগ্রামে এসে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সমস্যা সমাধানে কাজ করতে। আমি গতকাল রাত থেকেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছি। যেভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে, বাস্তবে তেমন ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখিনি।”
তিনি আরও বলেন, “হঠাৎ ৮০ থেকে ৯০ মিলিমিটার ভারী বৃষ্টি হলে স্বাভাবিকভাবেই পানি সরতে কিছুটা সময় লাগে। এটিকে জলাবদ্ধতা বলা যাবে না, এটি সাময়িক জলজট। প্রকৃত জলাবদ্ধতা তখনই বলা যায়, যখন তিন-চার দিন পানি নেমে না যায়।”

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, নগরীর ৩৬টি খালের মধ্যে কয়েকটি খালে উন্নয়নকাজ চলমান থাকায় কিছু এলাকায় পানি জমেছিল। বিশেষ করে রিটেইনিং ওয়াল ও অস্থায়ী প্রতিবন্ধকতার কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। তবে সিটি কর্পোরেশন, সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করেছে।তিনি জানান, বর্ষাকালের আগে আপাতত ড্রেন ও খাল উন্নয়নকাজ সীমিত রাখা এবং চলমান কাজের ব্যারিকেড ও রিটেনিং ওয়াল অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্ষা শেষে আবার উন্নয়নকাজ শুরু হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন-২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ উন্নতি হয়েছে। চলমান প্রকল্পের কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হলে স্থায়ী সমাধান আরও দৃশ্যমান হবে। আগামী বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রামবাসীকে ২০২৪ সালের পরিস্থিতিতে ফিরতে হবে না।

তিনি আরও বলেন, “অস্বাভাবিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে বিশেষজ্ঞদের নকশা অনুযায়ী খাল, সুইসগেট ও নিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নয়ন করা হচ্ছে। স্বাভাবিক বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা হবে না, যদিও অতিভারী বর্ষণে কয়েক ঘণ্টার জলজট তৈরি হতে পারে।”

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, চলমান খাল সংস্কার কাজের কারণে সাময়িকভাবে কিছু এলাকায় ভোগান্তি তৈরি হলেও দীর্ঘমেয়াদে এ প্রকল্প নগরবাসীর উপকারে আসবে। পানি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কয়েকটি পয়েন্টে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি ও ব্যারিকেড সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের বাকি কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, প্রবর্তক মোড়, কাতালগঞ্জ, জামালখানসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকার কাজ এখনো চলমান রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর মাসে আবারও চট্টগ্রাম সফর করে খাল সংস্কার কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করবেন বলেও জানান তিনি।পরিদর্শনের শেষে প্রতিমন্ত্রী ঢাকায় ফেরার আগে মেয়রকে জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারের যে নির্দেশনা জানান তা বাস্তবায়নে বিভিন্ন সেবা সংস্থাকে নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে সভা করেন মেয়র।

সভায় মেয়র বলেন, আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর সবগুলো সেবা সংস্থার সহায়তায় গত বছরে চট্টগ্রামের প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমানো সম্ভব হয়েছে। ৩০ বছরের একটি সমস্যা সমাধানে আমরা সিডিএ, সেনাবাহিনী, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে কাজ করছি। সরকার কমিটি গঠন করে দিয়েছে। আমরা সবাই এক সাথে কাজ করলে ইনশাল্লাহ আগামী বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে বিশ্বাস করি।

স্বাধীনতা, রাষ্ট্রগঠন ও রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের অবদান আজও স্মরণীয়- জাহাঙ্গীর আলম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী জাতির সামনে আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ, আলোচিত ও প্রভাবশালী অধ্যায়কে। স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনা, জাতীয় রাজনীতি, প্রশাসনিক পুনর্গঠন ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তাঁর ভূমিকা আজও ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। তাঁর জীবন, কর্ম এবং আত্মত্যাগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিয়েছে।

১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার গাবতলীর বাগবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন দৃঢ়চেতা, মেধাবী এবং দায়িত্বশীল। শিক্ষাজীবন শেষ করে সামরিক জীবনকে বেছে নেন এবং তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। একজন দক্ষ ও শৃঙ্খলাপরায়ণ কর্মকর্তা হিসেবে অল্প সময়েই তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। কিন্তু ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মোড় আসে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়।

মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে জিয়াউর রহমান একজন সাহসী সেনা কর্মকর্তা হিসেবে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠের মাধ্যমে তাঁর নাম দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তিনি একজন সেক্টর কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁর সাহসিকতা, নেতৃত্ব ও দেশপ্রেমের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে “বীর উত্তম” খেতাবে ভূষিত করে। স্বাধীনতার সেই সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা আজও ইতিহাসের আলোচনায় বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক সংকট এবং অর্থনৈতিক দুরবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন জিয়াউর রহমান জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় সামনে আসেন। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন, উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষিনির্ভর উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেন। গ্রামীণ উন্নয়ন, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা, কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়নে তাঁর সময়কার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছিল। দেশের উন্নয়নে উৎপাদনমুখী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

১৯৭৮ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বহুদলীয় রাজনীতির প্রসার, জাতীয় ঐক্য, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণা এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নতুন এক বাস্তবতা তৈরি করে। তাঁর সময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নতুন গতি পায় এবং জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়, যার প্রভাব আজও বাংলাদেশের রাজনীতিতে দৃশ্যমান।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় তিনি সক্রিয় ছিলেন। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতার যে চিন্তা পরবর্তীতে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) হিসেবে বাস্তব রূপ পায়, সেই উদ্যোগের প্রাথমিক আলোচনায় তাঁর অবদান ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য। বিশ্বপরিসরে বাংলাদেশের পরিচিতি ও কূটনৈতিক অবস্থান সুসংহত করতেও তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

কিন্তু ইতিহাসের নির্মম এক অধ্যায়ে ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক সামরিক অভ্যুত্থানচেষ্টায় শহীদ হন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাঁর মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর প্রভাব ফেলে। পুরো দেশে নেমে আসে শোকের ছায়া। সেই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আজও একটি আলোচিত ও বেদনাবিধুর অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁর মৃত্যু শুধু একজন রাষ্ট্রনায়কের বিদায় ছিল না; বরং দেশের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় তা বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করেছিল।

জিয়াউর রহমানকে ঘিরে রাজনৈতিক মূল্যায়নে ভিন্নতা রয়েছে—এটাই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বাস্তবতা। কেউ তাঁকে স্বাধীনতার সাহসী সৈনিক ও আধুনিক বাংলাদেশের একজন রূপকার হিসেবে দেখেন, আবার কেউ তাঁর সময়কার রাজনৈতিক ঘটনাগুলো ভিন্নভাবে বিশ্লেষণ করেন। তবে ইতিহাসের নিরপেক্ষ মূল্যায়নে এ কথা স্পষ্ট যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী রাষ্ট্রীয় কাঠামো, প্রশাসনিক পুনর্গঠন, জাতীয় পরিচয় এবং বহুদলীয় রাজনীতির আলোচনায় তাঁর নাম অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হয়।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছি। বাংলাদেশের ইতিহাসে তাঁর অবদান, নেতৃত্ব, রাষ্ট্র পরিচালনার সিদ্ধান্ত এবং দেশের জন্য রেখে যাওয়া রাজনৈতিক অধ্যায় দীর্ঘদিন গবেষণা, মূল্যায়ন ও আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে। সময়ের ব্যবধানে ইতিহাসের অনেক কিছু বদলায়, কিন্তু কিছু নাম থেকে যায় জাতির স্মৃতির গভীরে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তেমনি এক নাম—বাংলাদেশের ইতিহাসে আলোচিত, স্মরণীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়।

আলোচিত খবর

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান লিখেছেন, আমি দীপেন দেওয়ান, এমপি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। দায়িত্ব গ্রহণের পর হতে আমি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছি।

আমার শারীরিক অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কাজের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নানাবিধ সমস্যা তৈরি হচ্ছে।বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধির স্বার্থে আমার বর্তমান পদ থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করা আবশ্যক বলে মনে করছি। উপর্যুক্ত কারণে আমার পদত্যাগপত্র গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ