উন্নয়নে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহারকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন : চউক চেয়ারম্যান

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

উন্নয়নের ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা ও প্রযুক্তির ব্যবহারকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। রোববার (৯ আগস্ট) ইস্পাহানি কমপ্লেক্সের উত্তর পাহাড়তলীতে অবস্থিত পিটিএল ট্রেনিং সেন্টারে আয়োজিত পাহাড়তলী টেক্সটাইলস লিমিটেডের লিড প্লাটিনাম সনদ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি চট্টগ্রামের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশবান্ধব ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা এবং সৌরশক্তির মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আধুনিক ও টেকসই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত।

পরিবেশবান্ধব ও দায়িত্বশীল উৎপাদনে অনন্য মাইলফলক অর্জন করেছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী ইস্পাহানির শতভাগ রপ্তানিমুখী স্পিনিং মিল পাহাড়তলী টেক্সটাইলস লিমিটেড। যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের (টঝএইঈ) পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ইউনিট-২-কে বিশ্বমানের লিড প্লাটিনাম সনদ দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে ইস্পাহানি গ্রুপের চেয়ারম্যান মির্জা সালমান ইস্পাহানির হাতে সনদটি তুলে দেন গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল, শ্রীলঙ্কার চেয়ারম্যান মাহেন্দ্র জায়ালাথ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইস্পাহানি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা শাকির ইস্পাহানি, পরিচালক মির্জা আহমেদ ইস্পাহানি এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন।

এছাড়া চট্টগ্রামের বিশিষ্ট শিল্পপতি, লিড প্লাটিনাম কনসালট্যান্ট, স্থপতি, ব্যাংকার, ইস্পাহানি গ্রুপের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। জ্বালানিসাশ্রয়ী যন্ত্রপাতির ব্যবহার, নবায়নযোগ্য সৌরশক্তির ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন কারখানার উচ্চমান বজায় রাখার স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিকে এ সনদ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের (ইউএসজিবিসি) দেওয়া আন্তর্জাতিক এই সনদ অর্জনকে চট্টগ্রামে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পায়নের ক্ষেত্রে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন চউক চেয়ারম্যান।

ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, গাছপালা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ যতটা সম্ভব অক্ষুণ্ন রেখে অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিল্পায়ন করতে হবে। পাশাপাশি সূর্যের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং সৌরশক্তির মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার একটি আধুনিক ও টেকসই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত। পাহাড়তলী টেক্সটাইলস এ ক্ষেত্রে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

তিনি বলেন, উন্নয়ন ও শিল্পায়ন অবশ্যই প্রয়োজন। তবে সেই উন্নয়ন যেন প্রকৃতিকে ধ্বংস করে না হয়। গাছপালা সংরক্ষণ করে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো যদি এই দর্শন ধারণ করে এগিয়ে আসে, তাহলে শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশও সুরক্ষিত থাকবে।

চউক চেয়ারম্যান বলেন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার শুধু পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখে না, বরং ভবিষ্যতের জন্য সম্পদ-সাশ্রয়ী ও টেকসই নগর গড়ে তুলতেও সহায়তা করে। তাই নতুন শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা ও প্রযুক্তির ব্যবহারকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, আজকের দিনটি আমাদের জন্য বিশেষ ও ঐতিহাসিক। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে এসেছেন। এমন একটি ঐতিহাসিক দিনে পাহাড়তলী টেক্সটাইলসের লিড প্লাটিনাম সনদ অর্জন ও সনদ গ্রহণ নিঃসন্দেহে আরেকটি ঐতিহাসিক ঘটনা।

ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামের সব কারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান যদি পাহাড়তলী টেক্সটাইলসের এই মডেল অনুসরণ করে, তাহলে শুধু পরিবেশ রক্ষা নয়, চট্টগ্রামকে একটি সবুজ, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের ফুসফুস হিসেবে যে পরিচয়ে আমরা দেখতে চাই, এ ধরনের উদ্যোগ সেই পরিচয়কে আরও শক্তিশালী করবে।

জানা গেছে, পাহাড়তলী টেক্সটাইলস লিমিটেড ১৯৫৪ সাল থেকে বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ১ হাজার ৮০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ উৎপাদন ব্যবস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটির পাঁচটি উৎপাদন ইউনিট রয়েছে। এসব ইউনিটে বছরে প্রায় ২৩ হাজার মেট্রিক টন সুতা উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৭০ শতাংশ কাঁচামাল পরিবেশবান্ধব উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়। আধুনিক

পরিবেশবান্ধব যন্ত্রপাতির পাশাপাশি ক্যাপটিভ জেনারেটর থেকে নির্গত এক্সহস্ট গ্যাস পুনর্ব্যবহার করে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কাজে লাগানো হয়। এছাড়া প্রায় ১০ লাখ লিটার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে। ১২ হাজারের বেশি গাছ সমৃদ্ধ সবুজ পরিবেশও পাহাড়তলী টেক্সটাইলসকে আন্তর্জাতিক তৈরি পোশাক ব্র্যান্ডগুলোর কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

পাহাড়তলী টেক্সটাইলসের এ অর্জন বাংলাদেশের শিল্প খাতে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সবুজে-সৌন্দর্যে বদলে গেল অক্সিজেন চত্বর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম: দীর্ঘদিনের অযত্ন ও অব্যবস্থাপনার চিত্র পেছনে ফেলে নান্দনিক সৌন্দর্যে নতুন রূপ পেয়েছে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ অক্সিজেন চত্বর। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে চত্বরটি সাজানো হয়েছে সবুজ গাছপালা, ফুল ও সৌন্দর্যবর্ধনমূলক বিভিন্ন উপকরণে।

চট্টগ্রাম নগরীর অন্যতম ব্যস্ত প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত অক্সিজেন মোড়। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহনের চলাচলে ব্যস্ত এই এলাকার সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নগরবাসীর মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। চত্বরের মাঝের অংশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও ফুলের গাছ লাগানোর পাশাপাশি নান্দনিক নকশায় সাজানো হয়েছে পুরো এলাকা।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের উদ্যোগ ও নির্দেশনায় নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও সড়ক ডিভাইডারে সৌন্দর্যবর্ধন ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় অক্সিজেন চত্বরও পেয়েছে নতুন নান্দনিক রূপ।

এ বিষয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও নান্দনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে সবুজায়নের আওতায় এনে নাগরিকদের জন্য সুন্দর ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

তিনি বলেন, শুধু সৌন্দর্যবর্ধন নয়, নগরীর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নগরবাসীর সহযোগিতা পেলে চট্টগ্রামকে আরও সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরীতে পরিণত করা সম্ভব হবে।

নগরবাসীর প্রত্যাশা, সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি অক্সিজেন চত্বরের সবুজায়ন ও পরিচ্ছন্নতা নিয়মিতভাবে সংরক্ষণ করা হবে। ফলে ব্যস্ততম এই মোড়টি ভবিষ্যতে নগরীর অন্যতম নান্দনিক ও সবুজ স্থান হিসেবে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ঘাড়ে ঝুলছে ১৫ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা ঋণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (চট্টগ্রাম ওয়াসা) পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অধীনে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে চট্টগ্রাম বিভাগীয় শহরে পানি সরবরাহ সহ সম্পর্কিত আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালিত এবং নিয়ন্ত্রিত হয়। তবে কুপরিচালনা, সীমাহীন অপচয় ও মেগা প্রকল্পের বড় ঋণের বলির পাঁঠা হচ্ছেন সাধারণ নাগরিকরা।

চট্টগ্রাম নগরে সুপেয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার নামে নেওয়া প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঋণের ভার এবার চাপতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসার এক লাখ গ্রাহকের কাঁধে। দফায় দফায় দাম বাড়িয়েও ব্যাংক ও বিদেশি সংস্থার ঋণের কিস্তি মেটাতে পারছে না তারা; অথচ পানির অপচয় বা ‘সিস্টেম লস’ না কমিয়ে পানির মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত খুঁজছে প্রতিষ্ঠানটি।

চট্টগ্রাম ওয়াসার নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেল, বর্তমানে সংস্থাটির ঘাড়ে ঝুলছে ৬ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকার দীর্ঘমেয়াদি ঋণ। ৯টি প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার ও বিদেশি সাহায্য সংস্থার কাছ থেকে এসব ঋণ নেওয়া হয়েছে। এর ওপর চলমান তিন প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও ৯ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা ঋণ শোধ করতে হবে। এর মধ্যে ফ্রান্সের উন্নয়ন সহায়তা সংস্থা এএফডিকে ১ হাজার ৮৭২ কোটি ১৩ লাখ, বিশ্বব্যাংককে ৩ হাজার ২৬৮ কোটি ৭২ লাখ ও জাপানের সাহায্য সংস্থা জাইকাকে ৪ হাজার ১৪৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে। এ হিসাবে ওয়াসার মোট ঋণের দায় প্রায় ১৫ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা।

এদিকে ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে তিনটি প্রকল্পের ঋণ শোধ করতে শুরু করেছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত শোধ হয়েছে মাত্র ৮৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা। গড়ে প্রতি বছর ২২ কোটি টাকা করে শোধ করছে তারা।অন্যদিকে গত অর্থবছরে ওয়াসা আয় করেছে ৩৩৭ কোটি টাকা। বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৩০২ কোটি টাকা। ফলে নিজস্ব আয়ে ঋণ পরিশোধ দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। ঋণের সুদ ও কিস্তি পরিশোধের চাপ সামাল দিতে সংস্থাটির রাজস্ব বিভাগ থেকে পানির দাম নতুন করে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম ওয়াসায় আবাসিক গ্রাহকদের প্রতি ১ হাজার লিটার পানির জন্য দাম দিতে হয় ১৮ টাকা। বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে যা ৩৭ টাকা। ২০০৯ সালে আবাসিক গ্রাহকদের দিতে হতো ৫ টাকা ৪১ পয়সা এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ১৫ টাকা ৩২ পয়সা। এই এক দশকে চারবার পানির দাম বাড়িয়েছে ওয়াসা। এর মধ্যে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে এক লাফে দাম বাড়ানো হয়েছিল ৩৮ শতাংশ। সবশেষ গত ১ আগস্ট ওয়াসার বোর্ড সভায় পানির দাম ৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব ওঠে। এটি পাস হলে আরও বেশি দামে পানি কিনতে হবে চট্টগ্রাম ওয়াসার গ্রাহকদের।

খোঁজে নিয়ে জানা গেল, নগরের পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিতে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কাছ থেকে ১৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এসব ঋণে বাস্তবায়ন হচ্ছে ১২টি মেগা প্রকল্প। আর শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম ওয়াসার এক লাখ গ্রাহককেই চুকাতে হবে বিশাল এই ঋণের দায়। যার ৯৩ শতাংশই সাধারণ আবাসিক গ্রাহক।

পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, কয়েক বছর পরপর দাম বাড়ালেও সংস্থাটির ‘সিস্টেম লস’ কমাতে তেমন কোনো তৎপরতা নেই। খোদ ওয়াসার নথি অনুযায়ী, তাদের সিস্টেম লস প্রায় ২০ শতাংশ।
চট্টগ্রাম ওয়াসার এক কর্মকর্তা বলেন, ওয়াসার যে বিশাল ঋণের বোঝা, তা সরকারের সহায়তা ছাড়া শোধ করা সম্ভব নয়। এজন্য মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি দেওয়া হবে।

এ ছাড়া সিস্টেম লস কমাতেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পানি নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়াটার এইডের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ড. খায়রুল ইসলাম বলেছেন, ওয়াসা সিস্টেম লস এক অঙ্কে নামিয়ে আনুক। এরপর গণশুনানির মাধ্যমে দাম বাড়াতে পারে। সিস্টেম লস না কমিয়ে দাম বাড়ানো অযৌক্তিক। দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে ট্যারিফ কমিশন গঠনেরও সুপারিশ তার।

জানা গেছে, ২০২৫-২৬ সালের সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী, সর্বশেষ অর্থবছরে ১৮ হাজার ১৮১ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করেছিল চট্টগ্রাম ওয়াসা। এই পানি উৎপাদনে ব্যয় হয়েছিল ২৫১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, অর্থাৎ প্রতি হাজার লিটারে ১৩ টাকা। তবে পরিচালন ব্যয় যোগ করলে মোট খরচ দাঁড়ায় ৩০০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি হাজার লিটারে পরিচালন ব্যয়সহ মোট খরচ সাড়ে ১৬ টাকা।

উৎপাদিত পানির ১৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ বা ৩ হাজার ৫৯৭ কোটি লিটার পানিই ‘সিস্টেম লস’-এ হাওয়া হয়ে যায়। এর ফলে প্রতি হাজার লিটার পানি উৎপাদনের পেছনে ওয়াসার খরচ ঠেকে ২১ টাকায়। এ হিসাবে ওয়াসা প্রতি হাজার লিটারে আবাসিকে লোকসান দিচ্ছে ৩ টাকা। বাণিজ্যিকে মুনাফা করছে ১৬ টাকা। সব মিলিয়ে সিস্টেম লসে ওয়াসার বার্ষিক আর্থিক ক্ষতি ৬৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

বিশ্বব্যাংকের মানদণ্ড (দৈনিক জনপ্রতি ১০০ লিটার) অনুযায়ী, চট্টগ্রাম ওয়াসা প্রতিদিন গড়ে ৯ কোটি ৮৬ লাখ লিটার পানি সিস্টেমে নষ্ট করছে। সিস্টেম লস শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে পারলে ওই একই পরিমাণ পানি দিয়ে চট্টগ্রাম নগরের আরও প্রায় ৯ লাখ ৮৬ হাজার নাগরিককে অনায়াসে নিরবচ্ছিন্ন সুপেয় পানির আওতায় আনা সম্ভব।

এদিকে পানি বিক্রি থেকে চট্টগ্রাম ওয়াসার গত অর্থবছরে আয় ২৯৩ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত ৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর হলে সংস্থাটির বার্ষিক আয় বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৩০৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকায়। ৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ সিস্টেম লস কমালে দাম না বাড়িয়েও এই টাকা বাড়তি রাজস্ব আয় হতে পারে ওয়াসার।

আলোচিত খবর

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামে আসছেন, যোগ দেবেন ৫ কর্মসূচিতে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার চট্টগ্রাম আসছেন তারেক রহমান। বন্দরনগরীর বিএনপি নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাংগঠনিক মতবিনিময় করারও সুযোগ পাচ্ছেন। এ নিয়ে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস উদ্দিপনা লক্ষ করা যাচ্ছে। আগামীকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রী বন্যাদুর্গতদের ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা দিতে চট্টগ্রামে আসবেন। এ সফরে দলের নেতাকর্মীদের বাইরে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও তিনি একটি বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বললেন, ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে প্রধানমন্ত্রী একদিনের সফরে চট্টগ্রামে আসছেন। সফরসূচি অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকালে কক্সবাজারের মহেশখালীতে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। দুপুর ১২টায় হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় পৌঁছাবেন। বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

দুপুর ১টায় ফটিকছড়ি উপজেলায় আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমীর শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এরপর হাটহাজারী উপজেলার আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমীর শাহ আহমদ শফির কবর জেয়ারত করবেন।
এরপর হাটহাজারী উপজেলায় যাবেন তারেক রহমান।

হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ পরিবারকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা করে অনুদান দেবেন প্রধানমন্ত্রী। ১৫ জন প্রতিবন্ধীকে দেবেন ১০ হাজার টাকা করে।
হাটহাজারী থেকে নগরীতে ফিরে প্রধানমন্ত্রী উঠবেন পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লু বে ভিউতে। সন্ধ্যায় হোটেলের হলরুমেই হবে বিএনপির সাংগঠনিক সভা। রাত ৯টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন তিনি।


চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান জানালেন, ‘সভায় নগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সবাই থাকবেন। থানা ও ওয়ার্ড বিএনপির প্রতিটি থেকে তিন থেকে পাঁচজন করে নেতা উপস্থিত হবেন। আহ্বায়ক কমিটিতে নেই এমন কয়েকজন সিনিয়র নেতা ও চট্টগ্রামের সকল সংসদ সদস্য যোগ দেবেন এতে।’
প্রত্যেক সহযোগী সংগঠনের নগর কমিটি থেকে দুইজন করে নেতাকে সভায় যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা, উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির নেতারা সভায় অংশ নেবেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ