চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভূমিদস্যু ফারুকের নেতৃত্বে সরকারী কালভার্টের রেলিং ভেঙ্গে আবাসন প্রকল্পের রাস্তা নির্মাণ

বদিউজ্জামান রাজাবাবু  চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি 

ডুবেছে রাস্তাঘাট-ফসলি জমি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পানি নিষ্কাশনের কালভার্টের রেলিং ভেঙ্গে ও মুখে মাটি ভরাট করে আবাসণ প্রকল্প ও রাস্তা নির্মাণ করায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় এক হাজার একর আবাদি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
এছাড়াও গ্রামীণ সড়ক ও বেশ কিছু বসতবাড়ি জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এতে বিপা‌কে প‌ড়ে‌ছে স্কুলগামী শিশু শিক্ষার্থীসহ চারটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।

জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর আগে সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের পাউলি মৌজায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের উদ্যোগে রাজস্ব খাতের আওতায় একটি পানি নিস্কাশনের জন্য কালভার্ট  নির্মাণ করা হয়। কালভার্টের দুই পাশে রয়েছে প্রায় এক হাজার একর কৃষিজমি, চারটি গ্রাম, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক। ওই মহাসড়ক ব্যবহার করে ৪টি গ্রামের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। শিল্পাঞ্চলের হাজার হাজার গনপরিবহন ট্রাক, বাস, ক্যাভার্ডভ্যান সহ মোটরসাইকেল রিক্সা ভ্যান চলাচলের একটি মাত্র রাস্তা। কালভার্টের ভেতরের বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য উত্তর পাশে একটি খাড়ির সাথে সংযুক্ত করা হয়েছিল।

ভূমিদস্যু ফারুক ও আযমের নেতৃত্বে সরকারী কালভার্টের রেলিং ভেঙ্গে আবাসন প্রকল্পের রাস্তা নির্মাণ, কালভাটের মুখ বন্ধ করে দেওয়ার কারনে ডুবেছে রাস্তাঘাটসহ প্রায় ২০০ বিঘা ধান লাগানো জমি, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না হলে পচে যাবে ধানগাছ, এতে ৬০ থেকে ৮০ লক্ষ টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে কৃষকেরা। 

কৃষক নাহিদ হাসান অভিযোগ করে বলেন, ভূমিদস্যু ফারুক ও আযম কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দেয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, দুর্ভোগে ৪টি গ্রামবাসী, তাদের বিরুদ্ধে আকাশ পরিমাণ অভিযোগ রয়েছে, প্রায় দুই তিন মাস আগে অবৈধভাবে কৃষি জমি ভরাট করে কালভার্টের রেলিং ভেঙ্গে কালভাটের মুখে মাটি দিয়ে ভরাট করে সেখানে আবাসিক আবাসন প্রকল্পের রাস্তা নির্মাণ করেন তারা। এরপর থেকেই বৃষ্টির পানি বের হতে না পেরে পুরো কৃষি জমি এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

জলাবদ্ধতায় মহাসড়ক ও স্কুলে যাওয়ার একটি মাত্র সংযোগ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। ফলে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও সাধারন মানুষের  যাতায়াতের রাস্তা প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। একই সঙ্গে পাউলি উত্তর দক্ষিণের ধিনগর গ্রামের মানুষের পানিবন্দি হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের ব্যাবস্থা না থাকায় আবাদি ফসলি জমির উপর জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় এক হাজার একর জমিতে আমন আবাদ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন,আবাদি কৃষি জমি অবৈধভাবে ভরাট করে কালভার্টের রেলিং ভেঙ্গে ও মুখ বন্ধ করে উত্তর পাশের রেলিং ভেঙ্গে আবাসন প্রকল্পের সড়ক নির্মাণের কারণে হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি জলাবদ্ধতার কারনে কৃষি কাজ ব্যাহত হচ্ছে আমরা সাধারন মানুষ বিপাকে পড়ে গিয়েছি আমাদের দেখার কেউ নেই। প্রায় ২০০ বিঘা ধানি জমি পানির নিচে রয়েছে। এসব জমিতে এবার চাষাবাদ করা ফসল পাওয়া  নিয়ে চরম শংকা দেখা দিয়েছে। কৃষি জমি ডুবে যাওয়ায় আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি আমাদের জীবন কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন ফারুক ও আযম নামে দুই ভূমিদস্যু অবৈধভাবে রাতের আধাঁরে মাটি ভরাট করে ১০ থেকে ১৫ বিঘা আবাদি জমি ভরাট করে আবাসন ব্যাবসা করছে এবং উচ্চ দামে বসতবাড়ি হিসেবে বসবাসের জন্য বিক্রি করছে। তাঁরা এলাকায় ভূমিদস্যু নামে পরিচিত এলাকায় তাদের ব্যাপক প্রভাব এই ঝিলিম ইউনিয়নে তাদের বিরুদ্ধে কারো মুখ খুলার সাহস নেই। সারাদিন সারারাত ফারুক তাঁর ক্যাডার বাহিনী নিয়ে আবাসন প্রকল্পের পাশেই তাঁর বাথানে চলে জুয়া মদ গাঁজার আসর এদের দেখার কেউ নেই। তাঁর বিরুদ্ধে গেলেই সাধারণ মানুষ কে শারিরিক ও মানুষীক নির্যাতন করা হয়। কিশোর গ্যাং বাহিনী দিয়ে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর টর্চার শেলের বাথানে নির্যাতন করা হয়।

কালভার্টের মুখ আটকে আবাসন প্রকল্পের কারনে সৃষ্ট, জলাবদ্ধতার কারনে হাজার হাজার বিঘা কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে। ওই এলাকার আরেক কৃষক শরিফ  বলেন, আমার জমিতে পানি উঠায় কৃষিজমি ও আমগাছসহ বিভিন্ন গাছ নষ্ট হচ্ছে। আমনের বীজতলাও নষ্ট হয়েছে। জমিতে পানি থাকায় আমি এখন নিঃস্বরমা অনেক দুশ্চিন্তায় আছি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়ন পাউলি মৌজায় মহাসড়কের কালভার্টের পাশেই আবাদি কৃষি জমি ভরাট করে কালভার্টের রেলিং ভেঙ্গে আবাসন প্রকল্পের রাস্তা নির্মাণ করে মাটি বিক্রি করছে । এতে হাজার হাজার বিঘা কৃষি জমি হুমকিতে রয়েছে। প্রতিদিন যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে এতে জলাবদ্ধতায় হাজার হাজার বিঘা কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে। আবাদ করা ধানি জমি ডুবে যাওয়ায় কেউ ফসল ফলাতে পারবেনা। লোক দেখানো নামমাত্র কালভার্টের নিচ দিয়ে রাস্তার নিচে ড্রেন নির্মাণ করেছে ভূমিদুস্যরা।

এ দিকে অভিযুক্ত ফারুক হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন প্রশাসনের সব মহল কে ম্যানেজ করেই আমি মহাসড়কের কালভার্টের উত্তর পাশের রেলিং ভেঙ্গেছি ও জলাবদ্ধতা যেনো না হয় সে কারনে কালভার্টের ভেতর দিয়ে আমার আবাসন প্রকল্পের নিচ দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করেছি। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিনুর রহমান বলেন, সড়কের কালভার্টের রেলিং ভেঙ্গে কালভার্টের মুখ বন্ধ করে কৃষি জমি ভরাট করে আবাসন প্রকল্পের রাস্তা নির্মান করে কালভার্টের রেলিং ভেঙ্গে রাস্তার সাথে মিশিয়ে দেওয়া এটা সম্পূর্ণ বেআইনি আমরা তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেব। 

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন বলেন,কালভার্টের রেলিং ভেঙ্গে জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য এসিল্যান্ড কে দায়িত্ব দিয়েছি। কালভার্টের রেলিং ভেঙ্গে মুখ বন্ধ করে আবাসন প্রকল্পের রাস্তা নির্মাণের তদন্ত রিপোর্টের সত্যতা পেলে আমারা তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করবো।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মহানগরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার প্রজননস্থল ধ্বংসে চসিকের অভিযান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগের বিস্তার রোধে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) মেয়রের নির্দেশনায় নগরের ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে বিশেষ মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনের মাধ্য মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি মশার লার্ভা নিধনে প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ এবং নগরবাসীকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সচেতন করা হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে মশার প্রজননস্থল সৃষ্টির জন্য দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করা হয়।

চসিক জানিয়েছে, নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি নগরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম অব্যাহত থাকবে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এদিকে, নগরবাসীকে বাড়ির আঙিনা, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশের এলাকায় পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চসিক। বিশেষ করে ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, পুরোনো টায়ার, ডাবের খোসাসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার ও জমে থাকা পানি অপসারণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত কার্যক্রমে চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, মশক ও ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহিসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগের বিস্তার রোধে সিটি করপোরেশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।তিনি বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নগরবাসীকেও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বাড়ি, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।তিনি আরও বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমিয়ে একটি নিরাপদ নগর গড়ে তুলতে চায় চসিক। এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন ভবন নির্মাণ, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মেধাবীদের জন্য বৃত্তি চালুর পরিকল্পনা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার নাঙ্গলমোড়া শামছুল উলুম ফাজিল মাদরাসার নবনির্বাচিত গভর্নিং বডির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের শিক্ষা ও ধর্মীয় ঐতিহ্যকে ধারণ করে আধুনিক, মানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সভায় অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন ভবন নির্মাণ, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, বৃত্তি ও স্কলারশিপ চালুসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় মাদরাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন নবনির্বাচিত গভর্নিং বডির সভাপতি লায়ন সালাউদ্দীন আলী। সভায় মাদরাসার অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সদস্য-সচিব অধ্যক্ষ আলহাজ্ব ছালেহ আহমাদ আনছারী, বিদ্যোৎসাহী সদস্য জাহাঙ্গীর আলম মুনশী, দাতা সদস্য দিদার আলম মুনশী, অভিভাবক সদস্য রহিমউদ্দিন রতু, তাজুল ইসলাম হৃদয়, নেজামুল হক, শিক্ষক প্রতিনিধি মোহাম্মদ হোসেন, সাইফুদ্দিন ও শামসুন নাহারসহ গভর্নিং বডির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে লায়ন সালাউদ্দীন আলী বলেন, নাঙ্গলমোড়া শামছুল উলুম ফাজিল মাদরাসা এ অঞ্চলের শিক্ষা ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত। এই প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি বর্তমান সময়ের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলাই নতুন গভর্নিং বডির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, শুধু ভবন নির্মাণ বা অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টি এবং মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, মাদরাসার উন্নয়নে গভর্নিং বডি এককভাবে কাজ করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়। এজন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। সবার পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে মাদরাসাটিকে একটি আধুনিক ও আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার চেষ্টা করা হবে।

সভায় মাদরাসার সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ভবন নির্মাণ, বিদ্যমান স্থাপনার রিনোভেশন ও মেইনটেন্যান্স এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আরও উন্নত ও নিরাপদ পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

একই সঙ্গে একাডেমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, যুগোপযোগী শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও ফলাফল পর্যবেক্ষণ এবং তাদের সার্বিক অগ্রগতি নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন আরও সহজ করতে ভবিষ্যতে বৃত্তি ও স্কলারশিপ কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনাও সভায় গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়।

মাদরাসার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করতে বিভিন্ন উপ-কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে হিসাব ও নিরীক্ষা কমিটি, উন্নয়ন কমিটি, আইন-শৃঙ্খলা কমিটি এবং শিক্ষা ও শিক্ষার মানোন্নয়ন কমিটি গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এসব কমিটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক, আর্থিক, উন্নয়ন ও একাডেমিক কার্যক্রম আরও পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা ও তদারকির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নাঙ্গলমোড়া শামছুল উলুম ফাজিল মাদরাসা স্থানীয়ভাবে ইসলামি শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। সময়ের সঙ্গে ফাজিল পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তার শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। নতুন গভর্নিং বডি সেই ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করে আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে সমন্বয় ঘটাতে চায়।

সভা শেষে মাদরাসার শিক্ষক মণ্ডলীর সঙ্গে নবনির্বাচিত গভর্নিং বডির সদস্যদের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষকরা মাদরাসার শিক্ষা কার্যক্রম, অবকাঠামোগত প্রয়োজন, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে শিক্ষকরা গভর্নিং বডির সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

পরে মাদরাসার শিক্ষকবৃন্দ নবনির্বাচিত গভর্নিং বডির সভাপতি লায়ন সালাউদ্দীন আলীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। একই সঙ্গে গভর্নিং বডির অন্যান্য সদস্যদেরও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

উল্লেখ্য, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জারিকৃত অনুমোদনপত্রে নাঙ্গলমোড়া শামছুল উলুম ফাজিল মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে সালাউদ্দীন আলী এবং বিদ্যোৎসাহী প্রতিনিধি হিসেবে আবু মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের মনোনয়নের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

সভায় মাদরাসাটিকে একটি আধুনিক, মানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। ঐতিহ্যকে ধারণ করে শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং মেধাবীদের সহযোগিতার মাধ্যমে নাঙ্গলমোড়া শামছুল উলুম ফাজিল মাদরাসাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ