অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নতুন উপাচার্যের যোগদান

​চুয়েটে সর্বাত্মক শাটডাউন অচল ক্যাম্পাস, শিক্ষার্থীবৃন্দের মানববন্ধন, মশাল মিছিল ও প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি

​গাজী জয়নাল আবেদীন, রাউজান (চট্টগ্রাম)

আমরা নতুন ভিসিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাই না - শিক্ষক সমিতির সভাপতি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

​চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। এদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানববন্ধন, খোলা চিঠি পাঠ, সংবাদ সম্মেলন, গণস্বাক্ষর ও মশাল মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
​নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ করে রাখেন তারা। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমও কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

​অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার অপরাহ্নে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে দৈনিক ইত্তেফাককে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তবে তিনি সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে কবে যোগ দেবেন, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।এদিকে চুয়েট শিক্ষক সমিতি নতুন উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রহণ না করার কথা জানিয়ে সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে। দাবি পূরণে আগামী রবিবার শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসে এক বিশাল মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বর থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকসংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো চুয়েট ক্যাম্পাস।পরে বাস্কেটবল মাঠে ‘৫৬’ আকৃতিতে মোমবাতি প্রজ্বালন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের আলোজ্জ্বল ৫৬ দিনের কর্মদিবসকে তারা এভাবে স্মরণ করেন।

এর আগে বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেয় চুয়েট শিক্ষক সমিতি।
​মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা নবনিযুক্ত উপাচার্যের নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন এবং অধ্যাপক ড. সায়েমকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবি জানান। এ সময় আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান ও দাবি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি পাঠ করেন চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তফা খালিদ বিন শামস আরিয়ান। পরে সন্ধ্যায় খোলা চিঠিটি প্রধান ফটকের সামনে টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
​
ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনে অংশ নেন। এ সময় ‘ভিসি কে, ভিসি কে, সায়েম স্যার ছাড়া আবার কে?’, ‘গর্জে উঠুক রাজপথ, সায়েম স্যারের প্রত্যাবর্তন হোক’ এবং ‘দাবি মোদের একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’সহ নানা প্রকম্পিত স্লোগান দেন তারা। শিক্ষার্থীদের হাতে ছিল দাবিসংবলিত নানা ধরনের প্ল্যাকার্ড।মানববন্ধনে পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী দেবজিত দাশ গুপ্ত বলেন, সায়েম স্যার একজন বহুমুখী গুণসম্পন্ন মানুষ। তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য একজন শিক্ষক ও উপাচার্য ছিলেন। তাকে পুনরায় উপাচার্য পদে নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের দাবি ও আন্দোলন চলবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাস ত্যাগ করে বাড়ি না ফেরার ঘোষণাও দেন তারা।

বিকাল ৩টায় চুয়েট কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনকে সাথে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসানুল্লাহ স্পষ্ট জানান, শিক্ষকরা নতুন ভিসিকে গ্রহণ করবেন না। তারা সাবেক উপাচার্য সায়েমকে পুনর্বহালের মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানের দাবি জানান।দাবি আদায়ে স্মারকলিপি দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রীর কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হবে বলে জানানো হয়। এছাড়া আগামী রবিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করবেন। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষক নেতারা।

উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ওই রাতেই ক্যাম্পাসে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় সর্বাত্মক শাটডাউন। বন্ধ রয়েছে ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম। বুধবার দ্বিতীয় দিনের শাটডাউনের পাশাপাশি গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করা হয়। অধ্যাপক ড. সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ চুয়েট পরিবার।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন:উপাচার্য

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও সুন্দর, সমৃদ্ধ ও গতিশীলভাবে এগিয়ে নিতে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, অনেকে আমাদের দুর্বল করতে চায়। হ্যাঁ, আমাদের মধ্যে যে গুপ্ত নাই, এমন না। কিছু গুপ্ত তো থাকেই, সে রং বদলায়, বিভিন্ন সময়ে রং বদলায়। এখন আমাদের এই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
উপাচার্য বলেন, কাউকে কোনো কাজ করানোর বা কোনো দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজন হলে পাঁচজনের মধ্যে তিনজন এসে আপত্তি জানান। তাঁরা বলেন, ‘ও তো অমুক ছিল, ও তো অমুকের কাছে এরকম ছিল।’ এ ধরনের বিষয়গুলো থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা কখনো প্রশাসনে ছিলাম না। আমি এমন এক ব্যক্তি ভাইস চ্যান্সেলর হয়েছি, ১৭ বছরে একটা তদন্ত কমিটির সদস্য আমাকে কেউ করেনি এবং ১৭ মাসের যারা সরকারে ছিল, তারাও কিন্তু একটা কমিটিতে রাখেনি। ফলে আমার এই ধরনের অনুষ্ঠানেও আসার সুযোগ হয়নি। আমি ওই ধরনের ব্যক্তিও ছিলাম না। সুতরাং এখান থেকে আমাদের শিখার বিষয় আছে।
উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে মতভেদ, ভুল বোঝাবুঝি ও অভিমান দূরে রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আমি উপাচার্য হিসেবে সবার পরামর্শ ও সহযোগিতা কামনা করছি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে একটি হল করার বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনা করা হবে।

ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় মুখ্য আলোচক ও সভাপতিত্ব করেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান, আলোচক হিসেবে ছিলেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হীরকজয়ন্তি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৬০ বছরের পথচলা পূর্ণ করতে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠার ছয় দশক পূর্তি উপলক্ষে আগামী ১৮ নভেম্বর বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হীরকজয়ন্তী। এ উপলক্ষে জেমসের সংগীত পরিবেশনা, র‌্যালি, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, মধ্যাহ্নভোজসহ দিনব্যাপী নানা আয়োজন বাস্তবায়নে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
জানা গেছে, হীরকজয়ন্তী উদযাপন ঘিরে ইতোমধ্যে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত ৩০ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম চলবে আগামী ১২ নভেম্বর পর্যন্ত। এতে অংশ নিতে পারবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় দশকের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অর্জনকে স্মরণীয় করে রাখতে হীরকজয়ন্তীর আয়োজন নানা কর্মসূচিতে সাজানো হয়েছে। হীরকজয়ন্তী উদযাপনকে কেন্দ্র করে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে আয়োজকরা।
হীরকজয়ন্তীতে দিনের প্রথম কর্মসূচিতে থাকবে বর্ণাঢ্য র‌্যালি। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেবেন। র‌্যালি শেষে আলোচনা সভা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় দশকের পথচলা, ইতিহাস ও উল্লেখযোগ্য অর্জন নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। আর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এছাড়াও সাংস্কৃতিক আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকবেন সংগীতশিল্পী ও ব্যান্ড তারকা জেমস। তার সংগীত পরিবেশনা ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।হীরকজয়ন্তী উদযাপনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, ১৮ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের হীরকজয়ন্তী উৎসব উদযাপন হবে। উৎসবে নানা আয়োজন থাকবে। সার্বিক প্রস্তুতি শুরু করেছি। রেজিস্ট্রেশন চলমান রয়েছে, সেই সঙ্গে সাংস্কৃতিক আয়োজন, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টসহ অন্যান্য প্রস্তুতি চলছে।

আলোচিত খবর

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়া হবে – জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন-দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের প্রত্যেককে একে একে জবাব দেওয়া হবে। আজ ৭ নভেম্বর শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত শোভাযাত্রার আগে এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু বছর পর দেশের মানুষ মুক্তভাবে বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের সুযোগ পেয়েছে। তবে দেশের বিরুদ্ধে আবারও একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। অতীতের মতো এবারও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এ দেশের মানুষকে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দমিয়ে রাখা যাবেনা।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিল। স্বাধীনতার পেছনে মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন মহল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি। তারা সাধারণ মানুষকে দাবিয়ে রাখা এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী অপশক্তিকে পরাজিত করা হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের সূচনা হয়। তবে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার মেনে নিতে না পারা একটি মহল বিভিন্ন সময়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বারবার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আবারও তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়েও জনগণের সেই অধিকার বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করেছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো ২০২৪ সালের ৫ আগস্টও জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে অপশক্তিকে পরাজিত করেছে।তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলন শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, একই সঙ্গে ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারী শক্তিকেও দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। বাংলাদেশের মানুষ অতীতেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের আন্দোলন ও অর্জন থামিয়ে রাখা যাবে না।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের মতো আবারও একটি মহল দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বাধাগ্রস্ত করতে চায়। একই সঙ্গে জনগণের ভোটের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনব্যবস্থা বন্ধ করার চেষ্টা করছে। তবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনা প্রমাণ করে, এ দেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে জানে।

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জাতীয় ঐক্যের ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো বিভেদ থাকা উচিত নয়। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
অতীতের বিভিন্ন আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের মতো এবারও ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি ষড়যন্ত্রের জবাব একে একে দেওয়া হবে। কোনো শক্তিই বাংলাদেশের মানুষকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ