গ্রামীণ টেলিকমের কর্মচারীদের অভিযোগের সত্যতা তদন্তে ড. ইউনূসকে জিজ্ঞাসাবাদ,দুদক সচিব।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গ্রামীণ টেলিকমের কর্মচারীদের অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তদন্তের অংশ হিসেবে নোবেলজয়ী ড. মুহম্মদ ইউনূসকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিব মাহবুব হোসেন।

তিনি আরও বলেছেন, তারা কারও নাম দেখে কাজ করেন না, তাই তদন্তে প্রভাবিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ইউনূসকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দুদক সচিব।

ড. ইউনূস যে মামলায় জিজ্ঞাসাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন, সেটি হয়েছে তার আরেক প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীদের আনা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে।

গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলের ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চলতি বছরের ৩০ মে মামলাটি করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান। এতে কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে ইউনূস ছাড়াও আসামি হয়েছেন আরও ১২ জন।

এই ১৩ জনকেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুদক। ইউনূস আসার আগের দিন বক্তব্য দিয়ে যান গ্রামীণ টেলিকমের পরিচালক নাজনীন সুলতানা, নূরজাহান বেগম ও এস এম হাজ্জাতুল ইসলাম লতিফী। সব মিলিয়ে সাত জনের বক্তব্য জেনেছে সংস্থাটি।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সেগুনবাগিচায় দুদক প্রধান কার্যালয়ে হাজির হন ইউনূস। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেরিয়ে যান বেলা ১১টা ৫৬ মিনিটে।

যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “মামলাটি মিথ্যা, এ ব্যাপারে আমি শঙ্কিত নই।

তার আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, “কাল্পনিক অভিযোগের ভিত্তিতে ড. ইউনুসের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। দেশীয় আন্তর্জাতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে এই ভিত্তিহীন মামলা করা হয়েছে। দুদকে আমরা বলেছি, যে মামলা করা হয়েছে, তার আইনগত কোনো ভিত্তি নেই।

পরে দুদক সচিব সাংবাদিকদের বলেন, “কলকারখানা অধিদপ্তরে গ্রামীণ টেলিকমের কর্মচারীদের দায়ের করা অভিযোগের সত্যতা পেয়ে বিষয়টি দুদকে পাঠানো হয়। অভিযোগগুলো যাচাই করে তা দুদকের তফসিলভুক্ত হওয়ায় মামলা হয়। বর্তমানে তদন্ত চলছে।

ইউনূসের ব্যক্তি পরিচয়ের কারণে তদন্ত প্রভাবিত হবে কি না- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘দুদক কারো ব্যক্তিগত পরিচয় দেখে না বলে প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ নেই।

বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা এবং গ্রেপ্তারের বিষয়ে এক প্রশ্নে দুদক সচিব বলেন, “তদন্ত কর্মকর্তা যদি মনে করেন যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি আত্মগোপন করতে পারেন কিংবা আলামত নষ্ট করতে পারেন অথবা সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারেন, সে ক্ষেত্রে তার আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিলেন তারেক রহমান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সম্মানে আয়োজিত জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়েছেন।দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক ও যৌথ সংবাদ সম্মেলনের পর আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুরে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’তে আয়োজিত এ মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন তিনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার নির্ধারিত শীর্ষ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ, স্বামী পুলিশ হেফাজতে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের পটিয়ায় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগের মধ্যে তানিয়া কামাল নিহাত (২০) নামে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী নুর উদ্দিনকে (২৫) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।


রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চরকানাই এলাকার মোনাফ হাজির পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

নিহত তানিয়া কুসুমপুরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হরিণখাইন গ্রামের মোহাম্মদ কামালের মেয়ে। তাঁর স্বামী নুর উদ্দিন একই উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের মোনাফ হাজির পাড়ার কাঞ্চন মিয়ার ছেলে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, তানিয়া ও নুর উদ্দিনের মধ্যে দীর্ঘ চার থেকে পাঁচ বছর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর কিছুদিন সংসার স্বাভাবিক থাকলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়।

তানিয়ার পরিবারের অভিযোগ, একপর্যায়ে যৌতুক ও বিভিন্ন উপহারের দাবিতে তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। গত ঈদে শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে নতুন কাপড়চোপড় ও উপহার দাবি করা হলে তানিয়ার বাবা সামর্থ্য অনুযায়ী তা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সম্প্রতি আবারও কাপড়চোপড় ও যৌতুক দাবি করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।

তানিয়ার বাবা মোহাম্মদ কামাল বলেন, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে মেয়ের শ্বশুরবাড়ির সব দাবি পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে তাঁর মেয়েকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এর আগেও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হয়েছিল। কিন্তু তাতেও স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।এদিকে ঘটনার পর তানিয়ার স্বামী নুর উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, গৃহবধূর স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।তবে তানিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ