দৈনিক ১২শ’ র উপরে চক্ষু রোগীর সেবা দিতে সক্ষম ‘চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল’।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চক্ষু চিকিৎসা সেবায় দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (সিইআইটিসি)। একসময় ক্ষুদ্র পরিসরে যাত্রা শুরু করলেও গুণে ও মানে এখন তারা আন্তর্জাতিকমানের দাবিদার। যার খ্যাতি ও সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে দেশের গন্ডি পেরিয়ে বহিবিশ্বেও।সেবার মানসিকতাই তাদের এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের নিরলস প্রচেষ্টায় বর্তমানে আন্তর্জাতিকমানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে এটি।

প্রতিষ্ঠানটি সকলের কাছে পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতাল নামে পরিচিত। এক সময় ছোট পরিসরে এই চিকিৎসাসেবা শুরু করলেও এখন হাসপাতালের দুই লাখ বর্গফুট ফ্লোরের ৩টি ব্লকে রয়েছে ১০০টি সাধারণ শয্যা,৩১টি বিভিন্ন ধরনের কেবিন এবং ৮টি বিশ্বমানের অপারেশন থিয়েটার। গত ৫৩ বছরে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের চোখের চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন করে। বছরে অস্ত্রোপচার করে আসছে প্রায় ২৭ হাজার রোগীর। দূর্ভাগ্যবশত এ গর্বিত যাত্রায় সম্প্রতি কিছু স্বার্থন্বেষীমহল অপ্রপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। ব্যক্তিগত পারিবারিক আক্রমন চালিয়ে দরিদ্র চিকিৎসাপ্রার্থীদের বিভ্রন্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্বার্থন্বেষীমহল এ মহলের বিভিন্ন সমস্যাও মোকাবেলা করে আসছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ২০২৪ সালের বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে ৩০-৪০ জনের একটি দল হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে ক্যাম্পাসের ভেতরে বিএনএসবি, চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক, চিকিৎসক ও ট্রাস্ট বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের উপর বেআইনি আক্রমণ চালায়। তবে কর্তৃপক্ষের দৃঢ মনোভাবে স্বাস্থ্যসেবা একদিনও বন্ধ থাকেনি বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, ছায়া ঘেরা সুনিবিড় পরিবেশে গড়ে ওঠা এ হাসপাতালটি চক্ষু চিকিৎসা শিবিরের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হলেও উদ্দেশ্য ছিল গরীবদের চক্ষু চিকিৎসার মাধ্যমে অন্ধত্ব নিবারণ ও দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেয়া। শুরু থেকেই অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন হাসপাতালটিকে একটি পূর্নাঙ্গমানের রূপ দিতে স্বপ্ন দেখতেন। সেই স্বপ্নের সারথী অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে কয়েকজন সমাজ কর্মীর উদ্যোগে মাত্র ৩৬শ’ টাকা মূলধনে জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতির নামে প্রথমে চিকিৎসা সেবা শুরু করেন। পরবর্তীতে ৪০ শষ্যায় রূপান্তরিত হওয়ায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন “ইংল্যান্ডের রয়েল কমনওয়েলথ সোসাইটি ফর দি ব্লাইন্ড” এর তৎকালীন পরিচালক স্যার জন উইলসন। এভাবেই অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন চালিয়ে যান মানুষের চিকিৎসা সেবার কাজ। ১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানির ‘আন্দেরি হিলফি’ নামে একটি সংস্থার প্রেসিডেন্ট মিস রোজী গোলমম্যান বাংলাদেশে আসেন। অন্ধত্ব নিবারণ ও নিরাময়ে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করতে চাইলে তার সঙ্গে যোগাযোগ হয় আন্তর্জাতিক চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের। স্বপ্নের শুরু সেখানেই। ১৯৮৩ সালে এসে আরও ডালপালা বাড়ে এ স্বপ্নের। অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের চোখে থাকা স্বপ্ন দেখতে শুরু করে আরও কয়েকজন। এদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জহুর আহম্মদ চৌধুরী, এ কে খান, অধ্যাপক এম.এ আমিন, ডা. ছমিউদ্দীন, ডা. এস আর দাশ প্রমূখ। শুরুতেই শিল্পপতি এ.কে.খান ছিলেন এই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি।

১৯৮৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হলেও এর আগে ১৯৭৯ সালের ১৯ এপ্রিল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। তবে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় ভূমির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এই হাসপাতালে সারাদেশে তিনশতধিক চিকিৎসক উচ্চতর ডিগ্রীর মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়। আরও সহস্রাধিক চক্ষু সেবা প্রদানকারী নিয়োজিত নার্স ও প্যারামেডিক (এমএলওপি) তৈরি করে হাসপাতালটি। এ ছাড়া পাঁচ শতাধিক লোককে দেওয়া হয়েছে চিকিৎসাবিষয়ক টেকনিক্যাল প্রশিক্ষণ। আরও সহস্রাধিক চক্ষু সেবা প্রদানকারী প্রশিক্ষিত কর্মী তৈরি করেছে এ হাসপাতাল। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রায় ১২ শতাধিক রোগী এ হাসপাতালে এসে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। এ ছাড়া ইমার্জেন্সি বিভাগে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। প্রতিদিন গড়ে ১৫০-১৬০জন রোগীর অপারেশন করানো হয়।

হাসপাতালটিতে ৫০ জন চিকিৎসক ও ৪৭২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। একটি ট্রাস্টি বোর্ডের আওতায় পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানটিতে দেশের বাইরে থেকেও উচ্চ প্রশিক্ষণ নিতে অনেকেই ছুটে আসেন। চক্ষু পরিচর্যায় ডাক্তারদের এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাকে প্রাথমিক চক্ষু বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। শিশুর চোখের ক্যান্সার নির্ণয়ে দেশে প্রথমবারের মতো একটি বিভাগও খোলা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দেশের চক্ষু সেবা কার্যক্রমের সঙ্গে তাল মেলাতে ডাক্তার, নার্স, প্যারামেডিকস এবং অন্যান্য টেকনিক্যাল ব্যক্তির জন্য এখানে ‘হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প’ চালু করা রয়েছে। এছাড়া ১৯৮৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও সিইআইটিসি এর মাধ্যে একাডেমিক চুক্তির মাধ্যমে ডিপ্লোমা ইন কমিউনিটি অফথালমোলোজি (ডিসিও) কোর্স শুরু হয়। এরপর ১৯৯১ সালে ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অফথালমোলোজি (আইসিও) এর যাত্রা শুরু হয়। অন্যদিকে হতদরিদ্র রোগীদের জন্য বছরে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয় করছে বিএনএসবি ও সিইআইটিসি।
সিইআইটিসি’র প্রতিষ্ঠাতা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন বলেন,

মানসম্পন্ন চক্ষু সেবা প্রদান এমনকী চক্ষু চিকিৎসার জন্য প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ উন্নয়ন ও একটি উৎকৃষ্ট চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই ছিল আমার স্বপ্ন। এত বড় প্রতিষ্ঠান করবো এমন কোন পরিকল্পনা ছিলনা। এ অবস্থায় পৌঁছানোর সবার সহযোগিতা রয়েছেন বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, হাসপাতালটির পেছনে এই দেশের জনগণ, কতৎকালীন প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান, বাংলাদেশ সরকার এবং দেশী-বিদেশী কিছু দাতা সংস্থার আর্থিক সহায়তা এটিকে সম্প্রসারিত করতে সাহায্য করে। এই কার্যক্রম প্রথমে ছানি রোগীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ধাপে ধাপে অনুধাবন হয় যে দক্ষ চিকিৎসক, জনবল ও কারিগরি দক্ষতা ছাড়া উন্নত চিকিৎসা জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই একটি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। আর এই উপলব্ধি ও চিন্তারই বহিঃপ্রকাশ চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল। আজ এটি চক্ষু রোগের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে সমান দক্ষতার সাথে পরিচালিত হচ্ছে। দেশ বিদেশের উন্নত চক্ষু চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ ও নানাবিধ সেবার আশ্রয়স্থল এই হাসপাতাল।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

জেলখানায় মায়ের আদ্যশ্রাদ্ধ করার ইচ্ছে চিন্ময়ের, অনুমতি চেয়ে আবেদন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্যারোলে মুক্তির পর এবার চট্টগ্রাম কারাগারে মৃত মায়ের ‘আদ্যশ্রাদ্ধ’ অনুষ্ঠান আয়োজন করতে চান রাষ্ট্রদ্রোহ ও আইনজীবী হত্যার মামলায় কারাবন্দি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। এজন্য চিন্ময়ের বড় ভাই রঞ্জন কুমার ধর ধর্মীয় উপকরণ নিয়ে একজন পুরোহিতের কারাগারে প্রবেশ ও শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের অনুমতি চেয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করেছেন।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক বললেন, প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতির প্রয়োজন ছিল। সেটা দেওয়া হয়েছে। এখন যে আবেদন সেটার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতির প্রয়োজন নেই। এটা কারাবিধি অনুযায়ী জেলা সুপার সিদ্ধান্ত নেবেন।

চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি-প্রিজন্স) মোহাম্মদ ছগির মিয়া বললেন, এ ধরনের আবেদন খুবই রেয়ার। কারাবিধিতে এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই। যেহেতু ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার বিষয় আছে এবং বন্দিও একজন বিশেষ বন্দি, তাই সিদ্ধান্ত হতে পারে বিশেষ বিবেচনায়। সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের। জেল কর্তৃপক্ষ কারাবিধির বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর চিন্ময়ের মা সন্ধ্যা রাণী ধর মারা যান। মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাকে পাঁচ ঘন্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দিয়েছিলেন। এরপর রঞ্জন কুমার ধর আরেকটি আবেদন করেন। এতে সনাতন ধর্মীয় অনুশাসন ও শাস্ত্রীয় আচারের কথা উল্লেখ করে চিন্ময়কে কারাগারের ভেতরে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর মায়ের আদ্যশ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান আয়োজনের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়। এজন্য শ্রাদ্ধের সরঞ্জাম নিয়ে হারাধন রুদ্র নামে একজন পুরোহিতকে কারাগারে ভেতরে প্রবেশের অনুমতির আবেদন করা হয়।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ইসকনের সাবেক সংগঠক। সম্মিলিত সনাতনি জাগরণ জোট নামে একটি সংগঠনের মুখপাত্রও। জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর গ্রেপ্তারের পর থেকে কারাগারে আছেন তিনি। আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাসহ তার বিরুদ্ধে মোট ৬টি মামলা আছে।

পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছেন সাংবাদিকরা।


মানববন্ধন থেকে পাবনা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি রাশেদুল ইসলাম কে ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম দেন সাংবাদিকরা। না হলে কঠোর কর্মসূচীর হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় পাবনা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে শহরের প্রধান সড়ক আব্দুল হামিদ রোডে এ মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়।

মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা অভিযোগ করেন, ডিবি কার্যালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপত্তা সংবলিত স্থানে একজন নারীকে জিম্মি করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে পাবনা প্রেসক্লারেবর সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাজানো ভিডিও ধারণ এবং তা ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো ন্যাক্কারজনক। যা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও সাজানো তথ্য প্রচার স্বাধীন সাংবাদিকতার হুমকিস্বরূপ। তাই আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে পাবনা ডিবির ওসি রাশেদুল ইসলাম কে প্রত্যাহার সহ তিনি ও তার দোসরদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আল্টিমেটাম দেন সাংবাদিক নেতারা।
না হলে আরো কঠোর কর্মসূচীর হুশিয়ারি করেন বক্তারা।

পাবনা প্রেসক্লাবের সাহিত্য সম্পাদক পাভেল মৃধার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, প্রেসক্লাব সভাপতি মোঃ আখতারুজ্জামান আখতার, সাবেক সম্পাদক আব্দুল মতীন খান, সাবেক সভাপতি ও এনটিভি-সমকালের স্টাফ রিপোর্টার এবিএম ফজলুর রহমান, সাবেক সম্পাদক ও মাছরাঙা টেলিভিশনের উত্তরাঞ্চলীয় ব্যুরো চীফ উৎপল মির্জা, একুশে টিভি মানব জমিনের সটাফ রিপোর্টার রাজিউর রহমান রুমী, বাংলাদেশ টুডে প্রতিনিধি আব্দুল হামিদ খান, জিকে সাদী, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মান্নান মাস্টার, প্রথম আলো প্রতিনিধি সরোয়ার মোর্শেদ উল্লাস, আলোকিত বাংলাদেশ প্রতিনিধি কাজী বাবলা, এটিএন নিউজ ও আগামীর সময় প্রতিনিধি রিজভী জয়, ক্যামেরা জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন পাবনার সভাপতি জিয়াউল হক রিপন, বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা সমিতি পাবনার সভাপতি আব্দুল মজিদ প্রমুখ। এ সময় প্রায় শতাধিক সংবাদকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

পাবনা প্রেসক্লাবের নেতারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিক নামধারী একটি কুচক্রী মহল পাবনা প্রেসক্লাবের বিপরীতে প্রায় একই নামে সংগঠন খুলে মাদক ব্যবসা, জমি দখল, ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। মূলধারার সংবাদকর্মীরা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চক্রটি কতিপয় অসাধু রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশ কর্মকর্তার সহায়তায় এক তরুণী কে ব্যবহার করে পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি সাজানো নাটকের আশ্রয় নেয়।

মানববন্ধন শেষে ডিবির ওসি রাশেদুল ইসলাম কে প্রত্যাহার সহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পাবনা পুলিশ সুপারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন সাংবাদিক নেতারা। আর তার অনুলিপি দেওয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি, ডিআইজি রাজশাহী ও পাবনার জেলা প্রশাসক কে।

এদিকে এর আগে শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী তরুণী নাফিসা তার নিজ বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করেন যে, সুবর্ণা হালিম নামের এক নারী নেত্রী তাকে জিম্মি করে প্রেসক্লাব সম্পাদত জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা বক্তব্য দিতে বাধ্য করেন। পরবর্তীতে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে মা-বাবার উপস্থিতিতে সোহেল রানা বিপ্লব নামে এক কথিত সাংবাদিক এই সাজানো বক্তব্য ভিডিও ধারণ করেন। নাফিসা ইতোমধ্যেই লিখিতভাবে থানায় দেওয়া মিথ্যা অভিযোগটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

এ ব্যাপারে পাবনা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি রাশেদুল ইসলাম বলেন, ভিকটিম পরিবার আতঙ্কিত হয়ে আমাদের কাছে সহায়তা চেয়েছিল। তাদের উদ্ধার করে আমাদের হেফাজতে এনেছিলাম আইনগত সহায়তা দেওয়ার জন্য। সেখানে কথা বলার একপর্যায়ে কেউ হয়তো ভিডিও করেছে।পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ বলেন, বিষয়টি আমরা শুনেছি। এ বিষয়ে আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবো। কমিটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ