আজঃ রবিবার ১৪ জুন, ২০২৬

হামের প্রকোপ

সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রকট চিকিৎসা সংকট *ওষুধ কিনতেও অতিরিক্ত খরচের চাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশজুড়ে বাড়তে থাকা হামের প্রকোপের মধ্যে চট্টগ্রামের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। শয্যা, পিআইসিইউ ও হাই ফ্লো নজল ক্যানুলার ঘাটতির মধ্যেই চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ওষুধ কিনতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচের চাপ পড়ছে রোগীর স্বজনদের ওপর। দুই দিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে হাম চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় এমন ভোগান্তির চিত্র ফুটে উঠেছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের জন্য বিভাগটিতে ২০টি পিআইসিইউ শয্যা রয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি শয্যা হাম আক্রান্ত শিশুদের জন্য নির্ধারিত রাখা হয়েছে। বাকি ৫টি শয্যায় অন্যান্য রোগীদের ভর্তি করা হচ্ছে। তবে, হাম সংক্রমণ বাড়ায় বর্তমানে শয্যার তুলনায় দ্বিগুণ সংকটাপন্ন শিশু পিআইসিইউ সেবার অপেক্ষায় রয়েছে। হাসপাতালের নিচতলার ১ নম্বর ক্যাজুয়ালটির ৫০ শয্যার পৃথক ব্লকে হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা চলছে। কিন্তু সেখানে প্রতিনিয়তই ভর্তি থাকছে ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী। ফলে একেকটি শয্যায় দুই থেকে তিনজন শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
এ ছাড়া হাম পরবর্তী নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের সুস্থ হতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ সময় লাগছে। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে ৬০ লিটার পর্যন্ত হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা প্রয়োজন হচ্ছে। পিআইসিইউ শয্যা সংকটে অসহায় পরিবারগুলোকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম ইউনিট ঘুরে দেখা যায়, ৫০ শয্যার ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে প্রায় ৮০ শিশু। অনেক শয্যাতেই তিন থেকে চারজন পর্যন্ত রোগীকে রাখা হয়েছে। শিশুদের সঙ্গে ওয়ার্ডে অবস্থান করছেন তাদের মায়েরাও। ফলে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ওয়ার্ডজুড়ে গরম ও অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা মিয়া বলেন, বর্তমানে পিআইসিইউ, হাই ফ্লো নজল ক্যানুলা ও শয্যার সংকট রয়েছে। সীমিত সক্ষমতা নিয়েই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। তারপরও আমরা কাউকে ফেরত দিচ্ছি না। সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, হাসপাতালের ২০ শয্যার শিশু আইসিইউর মধ্যে মাত্র ১০টি সরকারি। বাকি শয্যাগুলো পরিচালিত হচ্ছে অনুদানের ভিত্তিতে। এছাড়া পুরো হাসপাতালে হাই-ফ্লো মেশিন রয়েছে ৪১টি। সীমিত সম্পদ নিয়েই চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

এদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল ছাড়া ছাড়া বাকি সরকারি হাসপাতালে পিআইসিইউ না থাকায় রোগীর চাপ বেশি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের কোভিড ব্লকে ৮ শয্যার হাম কর্নার চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালেও ৬ শয্যার পৃথক ইউনিট তৈরি করা হয়েছে। তবে চট্টগ্রামে হাম শনাক্তের পরীক্ষাগার না থাকায় রোগীদের নমুনা ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। এতে রিপোর্ট পেতে এক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগছে।

পেশায় রাজমিস্ত্রী হারুন বলেন, হামে আক্রান্ত অনেক শিশুর অক্সিজেন প্রয়োজন হচ্ছে। এখানে অক্সিজেন পাওয়া যায় না। ওয়ার্ডের এক বেডে ৩ থেকে ৪ শিশুকে রাখা হয়েছে। এখান থেকেও রোগ ছড়াতে পারে। ওষুধও বাইরের থেকে কিনতে হচ্ছে। আমার ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকার শুধু ওষুধ কিনতে হয়েছে। তবুও কিছু করার নেই। তার পাশেই ছিলেন নোয়াখালীর বাসিন্দা নয়ন। তার দুই শিশু হাম ওয়ার্ডে ভর্তি। তিনি বলেন, এখানে (হাম ওয়ার্ড) ঠিকমতো চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাচ্ছে না। উপরে শিশু ওয়ার্ডে ডাক্তার-নার্সেরা আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করে। এখানে তেমন সেবা পাওয়া যাচ্ছে না।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ঠাকুরগাঁওয়ের জুলহাস এর দ্রুত চিকিৎসা না হলে বাঁচানো সম্ভব নয়।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁওয়ের জুলহাস উদ্দীন সে দীর্ঘদিন থেকে শারীরিক বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। 
জুলহাস উদ্দীন ৫০ সে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের ঢাঙ্গীপুকুর গুচ্ছগ্রামের মৃত ছামাদ আলীর ছেলে। 

তিনি পেশায় একজন দিন মজুর, গেল এক বছর থেকে বিভিন্ন রোগে ভুগছেন তিনি। নিজস্ব কোন জমি না থাকায় সরকারের আশ্রয়ের প্রকল্পের ঘরে বসবাস করছেন। অসচ্ছলতার কারণে ডাক্তার দেখাতে পারছেন না। টাকার অভাবে ঘরের মধ্যে অসুস্থ অবস্থায় ধুকে ধুকে দিন কাটাতে হচ্ছে তাকে। পরিবারের অন্য কেউ হাল ধরার মতো নেই আশপাশের মানুষের সহযোগিতায় চলতে হয় তাকে।

গুচ্ছগ্রামের মানুষেরা জানান দীর্ঘদিন থেকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ে বিছানায় আছেন দিনমজুরের কাজ করতেন জুলহাস, কিন্তু অসুস্থতার কারণে তিনি আর কাজে যেতে পারছেন না। মানুষটিকে বাঁচাতে হলে অর্থের প্রয়োজন তাই সমাজের বৃত্তবান মানুষ ও সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তাকে বাঁচানো সম্ভব নয়।এদিকে জুলহাস জানান ডাক্তারের কথা অনুযায়ী তার চিকিৎসার জন্য প্রায় দুই লক্ষ টাকার উপরে প্রয়োজন। যেটা হলে দ্রুত অপারেশন করা সম্ভব হবে। তার কোন কিছুই নেই যেটা বিক্রি করে চিকিৎসা নিবেন। টাকা জোগাড় করা তার পক্ষে কোনভাবেই সম্ভব হচ্ছে না, তাই তিনি সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন।সকলের সহযোগিতায় একটি প্রাণ বেঁচে যেতে পারে। কেউ সহযোগিতা করতে চাইলে এই নাম্বারে 01760918282 যোগাযোগ করতে পারেন।

চট্টগ্রামে ইস্টার্ণ রিফাইনারীর শ্রমিকদের বিক্ষোভ অব্যহত, দাবি ৪ দফা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে দেশের একমাত্র জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে চার দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে টানা আন্দোলন অব্যহত রেখেছে শ্রমিক-কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ইস্টার্ণ রিফাইনারীর প্রধান ফটকের সামনে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রতিষ্ঠানটির শ্রমিক-কর্মচারীরা অংশ নেন। বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ অনুযায়ী দ্বিবার্ষিক চুক্তিনামা সম্পাদন, পার্সোনাল পে বাস্তবায়ন, আবাসন সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং পদোন্নতি নীতিমালা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের ৮ম দিনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন তারা।সমাবেশ থেকে সিবিএ নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত এই শিল্পবিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা না হলে শ্রম আইন অনুযায়ী আন্দোলন আরও কঠোর করা হবে এবং নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।


সিবিএ নেতারা বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ অনুযায়ী পূর্বের নিয়মে ২০২৩-২৪ সালের দ্বিবার্ষিক চুক্তিনামা অবিলম্বে সম্পাদন করতে হবে। পাশাপাশি ২০০৩ সালের চুক্তি অনুযায়ী পার্সোনাল পে বাস্তবায়ন, শ্রমিক-কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং পদোন্নতি নীতিমালা সংস্কারের দাবি জানান তারা।বিক্ষোভ সমাবেশে ইস্টার্ণ রিফাইনারী এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি দেওয়ান মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহমানসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য দেন।

সমাবেশে মো. আব্দুর রহমান বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ইস্টার্ণ রিফাইনারী প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু শ্রমিক-কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবিদাওয়া নিয়ে কর্তৃপক্ষ বারবার নানা জটিলতা সৃষ্টি করছে। তিনি দাবি করেন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখের একটি স্মারকের কারণে ২০২৩-২৪ সালের দাবিনামার ভিত্তিতে সম্পাদনযোগ্য চুক্তিনামা বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হয়েছে।তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টি বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর ২১০ ধারা অনুযায়ী যৌথ দরকষাকষির মাধ্যমেই নির্ধারণ করতে হবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ