দৈনিক ১২শ’ র উপরে চক্ষু রোগীর সেবা দিতে সক্ষম ‘চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল’।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চক্ষু চিকিৎসা সেবায় দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (সিইআইটিসি)। একসময় ক্ষুদ্র পরিসরে যাত্রা শুরু করলেও গুণে ও মানে এখন তারা আন্তর্জাতিকমানের দাবিদার। যার খ্যাতি ও সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে দেশের গন্ডি পেরিয়ে বহিবিশ্বেও।সেবার মানসিকতাই তাদের এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের নিরলস প্রচেষ্টায় বর্তমানে আন্তর্জাতিকমানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে এটি।

প্রতিষ্ঠানটি সকলের কাছে পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতাল নামে পরিচিত। এক সময় ছোট পরিসরে এই চিকিৎসাসেবা শুরু করলেও এখন হাসপাতালের দুই লাখ বর্গফুট ফ্লোরের ৩টি ব্লকে রয়েছে ১০০টি সাধারণ শয্যা,৩১টি বিভিন্ন ধরনের কেবিন এবং ৮টি বিশ্বমানের অপারেশন থিয়েটার। গত ৫৩ বছরে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের চোখের চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন করে। বছরে অস্ত্রোপচার করে আসছে প্রায় ২৭ হাজার রোগীর। দূর্ভাগ্যবশত এ গর্বিত যাত্রায় সম্প্রতি কিছু স্বার্থন্বেষীমহল অপ্রপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। ব্যক্তিগত পারিবারিক আক্রমন চালিয়ে দরিদ্র চিকিৎসাপ্রার্থীদের বিভ্রন্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্বার্থন্বেষীমহল এ মহলের বিভিন্ন সমস্যাও মোকাবেলা করে আসছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ২০২৪ সালের বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে ৩০-৪০ জনের একটি দল হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে ক্যাম্পাসের ভেতরে বিএনএসবি, চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক, চিকিৎসক ও ট্রাস্ট বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের উপর বেআইনি আক্রমণ চালায়। তবে কর্তৃপক্ষের দৃঢ মনোভাবে স্বাস্থ্যসেবা একদিনও বন্ধ থাকেনি বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, ছায়া ঘেরা সুনিবিড় পরিবেশে গড়ে ওঠা এ হাসপাতালটি চক্ষু চিকিৎসা শিবিরের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হলেও উদ্দেশ্য ছিল গরীবদের চক্ষু চিকিৎসার মাধ্যমে অন্ধত্ব নিবারণ ও দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেয়া। শুরু থেকেই অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন হাসপাতালটিকে একটি পূর্নাঙ্গমানের রূপ দিতে স্বপ্ন দেখতেন। সেই স্বপ্নের সারথী অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে কয়েকজন সমাজ কর্মীর উদ্যোগে মাত্র ৩৬শ’ টাকা মূলধনে জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতির নামে প্রথমে চিকিৎসা সেবা শুরু করেন। পরবর্তীতে ৪০ শষ্যায় রূপান্তরিত হওয়ায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন “ইংল্যান্ডের রয়েল কমনওয়েলথ সোসাইটি ফর দি ব্লাইন্ড” এর তৎকালীন পরিচালক স্যার জন উইলসন। এভাবেই অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন চালিয়ে যান মানুষের চিকিৎসা সেবার কাজ। ১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানির ‘আন্দেরি হিলফি’ নামে একটি সংস্থার প্রেসিডেন্ট মিস রোজী গোলমম্যান বাংলাদেশে আসেন। অন্ধত্ব নিবারণ ও নিরাময়ে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করতে চাইলে তার সঙ্গে যোগাযোগ হয় আন্তর্জাতিক চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের। স্বপ্নের শুরু সেখানেই। ১৯৮৩ সালে এসে আরও ডালপালা বাড়ে এ স্বপ্নের। অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের চোখে থাকা স্বপ্ন দেখতে শুরু করে আরও কয়েকজন। এদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জহুর আহম্মদ চৌধুরী, এ কে খান, অধ্যাপক এম.এ আমিন, ডা. ছমিউদ্দীন, ডা. এস আর দাশ প্রমূখ। শুরুতেই শিল্পপতি এ.কে.খান ছিলেন এই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি।

১৯৮৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হলেও এর আগে ১৯৭৯ সালের ১৯ এপ্রিল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। তবে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় ভূমির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এই হাসপাতালে সারাদেশে তিনশতধিক চিকিৎসক উচ্চতর ডিগ্রীর মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়। আরও সহস্রাধিক চক্ষু সেবা প্রদানকারী নিয়োজিত নার্স ও প্যারামেডিক (এমএলওপি) তৈরি করে হাসপাতালটি। এ ছাড়া পাঁচ শতাধিক লোককে দেওয়া হয়েছে চিকিৎসাবিষয়ক টেকনিক্যাল প্রশিক্ষণ। আরও সহস্রাধিক চক্ষু সেবা প্রদানকারী প্রশিক্ষিত কর্মী তৈরি করেছে এ হাসপাতাল। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রায় ১২ শতাধিক রোগী এ হাসপাতালে এসে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। এ ছাড়া ইমার্জেন্সি বিভাগে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। প্রতিদিন গড়ে ১৫০-১৬০জন রোগীর অপারেশন করানো হয়।

হাসপাতালটিতে ৫০ জন চিকিৎসক ও ৪৭২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। একটি ট্রাস্টি বোর্ডের আওতায় পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানটিতে দেশের বাইরে থেকেও উচ্চ প্রশিক্ষণ নিতে অনেকেই ছুটে আসেন। চক্ষু পরিচর্যায় ডাক্তারদের এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাকে প্রাথমিক চক্ষু বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। শিশুর চোখের ক্যান্সার নির্ণয়ে দেশে প্রথমবারের মতো একটি বিভাগও খোলা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দেশের চক্ষু সেবা কার্যক্রমের সঙ্গে তাল মেলাতে ডাক্তার, নার্স, প্যারামেডিকস এবং অন্যান্য টেকনিক্যাল ব্যক্তির জন্য এখানে ‘হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প’ চালু করা রয়েছে। এছাড়া ১৯৮৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও সিইআইটিসি এর মাধ্যে একাডেমিক চুক্তির মাধ্যমে ডিপ্লোমা ইন কমিউনিটি অফথালমোলোজি (ডিসিও) কোর্স শুরু হয়। এরপর ১৯৯১ সালে ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অফথালমোলোজি (আইসিও) এর যাত্রা শুরু হয়। অন্যদিকে হতদরিদ্র রোগীদের জন্য বছরে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয় করছে বিএনএসবি ও সিইআইটিসি।
সিইআইটিসি’র প্রতিষ্ঠাতা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন বলেন,

মানসম্পন্ন চক্ষু সেবা প্রদান এমনকী চক্ষু চিকিৎসার জন্য প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ উন্নয়ন ও একটি উৎকৃষ্ট চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই ছিল আমার স্বপ্ন। এত বড় প্রতিষ্ঠান করবো এমন কোন পরিকল্পনা ছিলনা। এ অবস্থায় পৌঁছানোর সবার সহযোগিতা রয়েছেন বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, হাসপাতালটির পেছনে এই দেশের জনগণ, কতৎকালীন প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান, বাংলাদেশ সরকার এবং দেশী-বিদেশী কিছু দাতা সংস্থার আর্থিক সহায়তা এটিকে সম্প্রসারিত করতে সাহায্য করে। এই কার্যক্রম প্রথমে ছানি রোগীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ধাপে ধাপে অনুধাবন হয় যে দক্ষ চিকিৎসক, জনবল ও কারিগরি দক্ষতা ছাড়া উন্নত চিকিৎসা জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই একটি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। আর এই উপলব্ধি ও চিন্তারই বহিঃপ্রকাশ চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল। আজ এটি চক্ষু রোগের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে সমান দক্ষতার সাথে পরিচালিত হচ্ছে। দেশ বিদেশের উন্নত চক্ষু চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ ও নানাবিধ সেবার আশ্রয়স্থল এই হাসপাতাল।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় জবাবদিহি: চিকিৎসার মানের বাইরে যে প্রশ্নগুলো জরুরি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

একটি হাসপাতালের সাফল্য কি শুধু কতজন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হলো, কতটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হলো কিংবা কত আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হলো—এসব দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব? নাকি এর পাশাপাশি দেখতে হবে, রোগী কত সহজে সেবা পেলেন, চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য কতটা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারলেন, অভিযোগ জানালে কত দ্রুত সাড়া পেলেন এবং পুরো প্রক্রিয়ায় তাঁর প্রতি কতটা দায়িত্বশীল আচরণ করা হলো? বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আলোচনায় এই প্রশ্নগুলো আরও গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।

চিকিৎসার মান নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যসেবার মূল ভিত্তি। দক্ষ চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী, যথাযথ রোগনির্ণয় এবং কার্যকর চিকিৎসা ছাড়া মানসম্মত সেবা সম্ভব নয়। কিন্তু রোগীর কাছে স্বাস্থ্যসেবার অভিজ্ঞতা তৈরি হয় আরও বিস্তৃত একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া থেকে শুরু করে হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া, অপেক্ষা, বিলিং, চিকিৎসা-পরবর্তী নির্দেশনা—প্রতিটি পর্যায় তাঁর আস্থা ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে চিকিৎসার উৎকর্ষ এবং সেবাব্যবস্থার কার্যকারিতাকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।

জবাবদিহির প্রশ্নটি এখানেই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রতিষ্ঠানে সেবা পেতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি হলে, রোগী প্রয়োজনীয় তথ্য বুঝতে না পারলে কিংবা অভিযোগের যথাযথ সমাধান না হলে শুধু অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের পরিসংখ্যান দিয়ে সেই অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করা যায় না। একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সক্ষমতা প্রকাশ পায় তখনই, যখন সে নিজের কার্যক্রমের ফলাফল পর্যালোচনা করে, দুর্বলতা শনাক্ত করে এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের দায়িত্ব নেয়।

এ জন্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিমাপের সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন। শুধু রোগীর সংখ্যা বা সেবার পরিমাণ নয়, অপেক্ষার সময়, অভিযোগের ধরন ও সমাধান, তথ্য প্রদানের স্বচ্ছতা, রোগীর অভিজ্ঞতা এবং চিকিৎসা-পরবর্তী যোগাযোগের মতো বিষয়ও নিয়মিত মূল্যায়নের আওতায় আসতে পারে। তবে এসব সূচককে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে চলবে না। সংখ্যার পেছনের বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে হবে, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের অভিজ্ঞতা শুনতে হবে এবং উন্নয়নের জন্য বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে।

এখানে ডিজিটাল প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সমন্বিত তথ্যব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানকে সেবার বিভিন্ন পর্যায়ের সমস্যা শনাক্ত করতে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু প্রযুক্তি নিজে থেকে জবাবদিহি নিশ্চিত করে না। তথ্যের যথার্থতা, দায়িত্ব নির্ধারণ, গোপনীয়তা রক্ষা এবং সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত না হলে ডিজিটাল ব্যবস্থা কেবল আরও কিছু রিপোর্ট তৈরির মাধ্যম হয়ে থাকবে।

একই সঙ্গে জবাবদিহিকে শাস্তিমূলক সংস্কৃতি হিসেবে দেখাও ঠিক নয়। ভুল বা দুর্বলতা শনাক্ত হওয়ার পর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সমস্যার কারণ বোঝা, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সংশোধন করা এবং পুনরাবৃত্তি কমানো। যেখানে অবহেলা বা অনিয়মের প্রশ্ন রয়েছে, সেখানে যথাযথ তদন্ত ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা প্রয়োজন। আর যেখানে সমস্যার উৎস জটিল প্রক্রিয়া, অপর্যাপ্ত সমন্বয় বা অস্পষ্ট দায়িত্ব, সেখানে ব্যবস্থাগত পরিবর্তন জরুরি। এই দুই দিকের ভারসাম্যই একটি প্রতিষ্ঠানের শেখার সক্ষমতা বাড়াতে পারে।

রোগীর সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও জবাবদিহির বাস্তব প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। চিকিৎসার বিকল্প, সম্ভাব্য ঝুঁকি, খরচ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সহজবোধ্য তথ্য রোগীর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। যোগাযোগ শুধু তথ্য পাঠানোর কাজ নয়; রোগী তথ্যটি বুঝেছেন কি না, তাঁর প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন কি না এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছেন কি না—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা গড়ে ওঠে এমন ধারাবাহিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই।

এই দায়িত্ব কোনো একক বিভাগ বা পেশাজীবীর নয়। চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি প্রশাসন, রোগীসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগ এবং ব্যবস্থাপনা দলের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। একই সঙ্গে রোগীর ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এবং মর্যাদা রক্ষাকে সব উন্নয়ন উদ্যোগের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তাই শুধু অবকাঠামো, প্রযুক্তি কিংবা চিকিৎসাসামগ্রীর দিকে তাকালে চলবে না। প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে নিজেদের কাজের মান যাচাই করে, রোগীর অভিজ্ঞতা থেকে শেখে এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বাস্তবায়ন করে—সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। জবাবদিহি কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের বিরোধী নয়; বরং দায়িত্বশীলভাবে তা চর্চা করতে পারলে সুনামের ভিত্তি আরও শক্ত হতে পারে।

স্বাস্থ্যসেবার প্রকৃত উৎকর্ষ শুধু ভালো চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতায় নয়, বরং প্রতিটি রোগীর প্রতি দায়িত্ব পালন, নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার এবং সেবার মান উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করার মধ্যেও নিহিত। এই মানসিকতাই স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে।

চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও ছানি রোগী বাছাই

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার এনায়েতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও ছানি রোগী বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৯ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিনব্যাপী এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও একইদিন কাটিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা বিতরণ করা হয়। চক্ষু পরীক্ষায় জটিল রোগে আক্রান্ত রোগী ও শিক্ষার্থীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রেফার করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ম্যানেজিং ট্রাস্টি ড. কিউ. এম. ওহিদুল আলম, মহাব্যবস্থাপক (হিসাব ও অর্থ) মো. গোলাম ফারুক, চিকিৎসক ডা. অভিক দে ইমু, ডা. পূজা চৌধুরী, ডা. উম্মায় সালমা মুমু ও ডা. জনি পাল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহকারী শিক্ষক (আইসিও) মোশরাফাতুল জান্নাত আখি, অপটোমেট্রিস্ট (ফ্যাকাল্টি)মো. মাইন উদ্দিন খান,
অপটোমেট্রিস্ট (ফ্যাকাল্টি) সনি দাস, অপটোমেট্রি প্রশিক্ষক (আইসিও) নিশিতা আফরিন, সহকারী ফিল্ড অফিসার বোরহান উদ্দিন, সিনিয়র সহকারী জনসংযোগ কর্মকর্তা ও ফটোগ্রাফার মো. আবু শহীদ ফারুকী প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ম্যানেজিং ট্রাস্টি ড. কিউ. এম. ওহিদুল আলম বলেন, দৃষ্টিশক্তি মানুষের স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনযাপনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা এবং সময়মতো চিকিৎসার মাধ্যমে দৃষ্টিজনিত বিভিন্ন জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। তিনি চক্ষু স্বাস্থ্য সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা করার আহ্বান জানান।

এ কার্যক্রমটি এনায়েতপুর গণ পাঠাগার ও সমাজ কল্যাণ কেন্দ্রের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজন করা হয়।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রাথমিক চক্ষু পরিচর্যা ও চক্ষু স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশিক্ষণ, গ্রাম চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং শূন্য থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের প্রাথমিক চক্ষু পরীক্ষা নিশ্চিত করতে টিকাদানকারী স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে চক্ষু রোগ শনাক্তকরণ, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ এবং দৃষ্টিহীনতা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ