আজঃ শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

নির্বাচন যদি সঠিকভাবে হয় তবেই আমরা নির্বাচনে অংশ নেবো-জিএম কাদের

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়ার সাথেই আছি। কি হবে তা এখনো কেউ জানে না, যদি নির্বাচন হয় তখন আমরা সিদ্ধান্ত নেবো। যতক্ষন পর্যন্ত আমরা ঘোষণা না দিয়ে চলে যাবো ততক্ষন পর্যন্ত আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়ার সাথে আছি আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।

নির্বাচন যদি সঠিকভাবে হয় তবেই আমরা নির্বাচনে অংশ নেবো। যদি আমরা মনে করি সঠিকভাবে নির্বাচন হচ্ছে না তখন আমরা ঘোষণা দিয়েই নির্বাচন বর্জন করবো। ঘোষণাটা আমাদের তরফ থেকেই আসতে হবে। দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথেই আলোচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নেবো। নির্বাচন নিয়ে কোন একক সিদ্ধান্ত হবে না, প্রকাশ্যে ঘোষণা দেয়া হবে। গণমাধ্যমের সামনে ঘোষণা দেয়া হবে, এই কারনে আমরা নির্বাচন করছি বা করছি না।

আজ দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এর বনানীস্থ কার্যালয় মিলনায়তনে নিজের লেখা “বাংলাদেশে গণতন্ত্র সোনার পাথরবাটি” দ্বিতীয় খন্ড ও “MISERIES OF MISCONCEIVED DEMOCRACY Volume-2 বই দুটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জনবন্ধু গোলাম মোহাম্মদ কাদের এ কথা বলেন।

জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির সভাপতি ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এর উপদেষ্টা শেরীফা কাদের এমপি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রকাশনা উৎসবে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, দেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী তো আমাদের লোক, আমরাই বানিয়েছি। তারা কোন ভুল করলে অবশ্যই আমরা বলবো। কথা বললেই শাস্তি পেতে হবে? সেজন্য আইন করা হবে? আমি ভুল বলতে পারি কিন্তু আমার বলার অধিকার তো আছে। আমরা যেনো কথা বলতে না পারি সেজন্য আইন করা হচ্ছে। সরকার হচ্ছে কেয়ারটেকারের মত, ভুল করলে পরিবর্তন করতে চাইবো না? বাংলাদেশের মানুষের এই অধিকার এখন আর নেই। গণতন্ত্র না থাকলে কোন প্রকল্প গণমুখী হয় না তার প্রমাণ হচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। বিবিসি’র দেয়া তথ্যে জানা গেছে, চার হাজার কোটি টাকার বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রকল্প, বছরে আয় করছে একশো কোটি টাকা। ১৫ বছর হচ্ছে এটার লাইফ। এটা কি বাস্তবসম্মত হলো? তাহলে আবার বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ প্রকল্পের জন্য চুক্তি কেন? আসলে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নামে দুর্নীতির সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। যেখানে বেশি দুর্ণীতি করা যায় সেই প্রকল্প দ্রুততার সাথে বাস্তবায়ন হয়। আবার, রুপপুর আনবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নিয়েও কথা আছে। ভারতে ২০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মান হয়েছে ৫ বিলিয়ন ডলারে। অথচ, একই কোম্পানীর ২ হাজার ৪ শো মেগাওয়াট বিদ্যুত কেন্দ্রের স্থাপনে ইতোমধ্যেই খরচ হয়েছে নাকি ১৬ বিলিয়ন ডলার। এটি একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্প। ইউরোপসহ অনেক দেশই এমন প্রকল্প বন্ধ করে দিচ্ছে। এতে একটি দুর্ঘটনা হলে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে।

 

আমাদের দেশে ভারতের চেয়ে তিনগুন বেশী খরচে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। আবার বরিশালেও নাকি আরো একটি প্রকল্প তৈরী করা হবে। এমন দুর্নীতির বিষয়ে প্রশ্ন করার অধিকার অবশ্যই আমাদের আছে। তিনি বলেন, যেসব দেশে একনায়কতন্ত্র থাকে সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, স্থিতিশীল সরকার থাকলে অনেক উন্নয়ন হয়। এক সরকার বেশি দিন থাকলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা ঢেকে রাখতে পারে না। সরকার বা সরকার প্রধান পরিবর্তন হলেও সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে যদি অস্থিরতা সৃষ্টি না হয় তাকেই স্থিতিশীলতা বলা যায়। স্বৈরশাসনে কখনোই স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়। একটি সরকার বেশি দিন থাকাও অস্বাভাবিক ব্যাপার। একটি সরকার বেশি দিন থাকলে অস্থিতিশীলতার বীজ বড় হতেই থাকে। সরকার পরিবর্তন হলে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হয়, এসব কারনেই বিদেশী বিনিয়োগ আসে না। স্বাভাবিক নিয়মে সরকার পরিবর্তন হবে কিন্তু সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে কোন প্রভাব পড়বে না, এটাই হচ্ছে স্থিতিশীলতা।

বইয়ের বিষয় নিয়ে বিষদ আলোচনায় জিএম কাদের বলেন, শাসন পদ্ধতি থেকে মানুষ সুশাসন আশা করে। আইনে শাসন, আইন সবার জন্য সমান হবে। ন্যায় বিচার ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা। সবাই যেনো মনে করে, আমরা ন্যায় বিচার পাচ্ছি। কেউ যেনো বঞ্চনা বা অত্যাচারের শিকার না হয়। রাজতন্ত্রে সকল ক্ষমতা রাজার হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে। রাজা ও তাঁর পরিবার থাকে আইনের উর্ধে। তাই রাজতন্ত্রে আইনের শাসন থাকে না। তাতে ন্যায় বিচার ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা তৈরী সম্ভব নয়। ডিক্টেটরদের শাসনে ন্যায় বিচার ভিত্তিক শাসন পদ্ধতিতে কিছুটা সুশাসন হতে পারে কিন্তু আইনের শাসন সম্ভব নয়। এক নায়কতন্ত্র স্বৈরতন্ত্রে রুপ নেয়, এই শাসন ব্যবস্থা জনগনের জন্য ক্ষতিকর। তিনি বলেন, গণতন্ত্রে ক্ষমতার মালিক হচ্ছেন জনগণ। ক্ষমতার মালিক যদি জনগণ হয়, সেখানে আইনের শাসন নিশ্চিত করা সম্ভব। গণতন্ত্রে সবাইকে এক আইনের কাঠামোতে আনা যায়। গণতন্ত্রেই সুশাসন দেয়া সম্ভব হয় এবং ন্যায় বিচার ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়। ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা হচ্ছে গণতন্ত্রের পরিপন্থি। গণতন্ত্রে জবাবদিহিতা থাকে, তাই ন্যায় বিচার ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব। সকল ক্ষমতা গ্রহণ করে দেশকে দেয়া উন্নয়ন কখনোই গণমুখি হতে পারে না। সকল ক্ষমতা একজনের হাতে থাকলেই স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বৈরতন্ত্র কখনোই সুশাসন দিতে পারে না। গণতন্ত্র হচ্ছে জনগনের শাসন। যেখানে একজনের হাতে সকল ক্ষমতা থাকবে না। জবাবদিহিতা থাকতে হবে, আবার সুশাসন নিশ্চিত না হলে ভোটের মাধ্যমে জনগণ তার প্রতিনিধি পরিবর্তন করতে পারবে। শাসক যদি সকল ক্ষমতা নিয়ে চিরদিন ক্ষমতায় থাকতে চায়, সেখানে কথনোই গণতন্ত্র থাকতে পারে না।

প্রকাশিত বইয়ের বিষয়াবলী উল্লেখ করে গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আর স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনা কখনোই এক নয়। বৈষম্যের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিলো। পশ্চিম পাকিস্তানীরা আমাদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করতো তা থেকে মুক্তি পেতেই ছয় দফা ঘোষণা করা হয় মুক্তির জন্য। পশ্চিম পাকিস্তানীরা যখন আমাদের ছয় দফা মেনে না নিয়ে আমাদের ওপর ঝাপিয়ে পড়লো তার প্রতিরোধেই আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ। স্বাধীনতা যুদ্ধে আমরা জয়ী হয়ে একটি স্বাধীন স্বার্বভৌম দেশ পেলাম। ভাষা আনেদালনও এক ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে হয়েছিলো। সেই ভাষা আন্দোলনই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা হয়ে উঠেছিলো। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিলো বৃটিশ ও পশ্চিম পাকিস্তানীদের বৈষম্যের বিরুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হচ্ছে বৈষম্যহীন সমাজ।

 

বর্তমান সরকার দেশে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। কিছু সুবিধাভোগী গোষ্ঠী সৃষ্টি করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালুর যে চেষ্টা করা হচ্ছে তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থি। স্বাধীনতাযুদ্ধের চেতনা হচ্ছে আমাদের একটা দেশ থাকবে যেখানে বৈষম্য থাকবে না। একটি ভূখন্ডের জন্য স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়নি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ, যে দেশের মালিক হচ্ছেন জনগণ। জনগণ কেয়ারটেকারের মত শাসক তৈরী করবে। কাজ ভালো না করলে কেয়ারটেকারকে পরিবর্তন করতে পারবে দেশের জনগণ। মানুষের ভোটাধিকার থাকবে এবং শাসকের সমালোচনা করার অধিকার থাকবে। স্বাধীনতা যদ্ধের অর্জন বর্তমানে ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। সাংবিধানিকভাবেই এখন সরকার প্রধান যা বলবেন তাই সংসদে পাশ হবে। এতে জবাবদিহিতা থাকে না। এখনো সংবিধানে আছে দেশের জনগণ ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি পরিবর্তন করতে পারবে। যদিও তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকে ভূলুণ্ঠিত করেছে বর্তমান সরকার। নিজের লেখা বই সম্বন্ধে তিনি বলেন, এটি কোন গবেষণালব্দ বই নয়, আমার চিন্তায় যেটা মনে হয়েছে তাই লেখা হয়েছিলো। আমি যখন যে পেশায় ছিলাম, সব সময় দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য কাজ করেছি।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও কলামিষ্ট মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপির বইয়ের প্রতিটি লেখা দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে। এই ধরনের লেখা কালের স্বাক্ষী হয়ে বেঁচে থাকে। একশো বছর পরও পরবর্তী প্রজন্ম জানতে পারবে দেশের বাস্তবতা কেমন ছিলো। তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিতে গোলাম মোহাম্মদ কাদের একটি সুবাতাস নিয়ে আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি যেনো দৃষ্টান্ত হয়ে থাকেন রাজনীতির মাঠে। পরবর্তী প্রজন্ম যেনো জানতে পারে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন ভদ্রলোকের অবির্ভাব হয়েছিলো।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রফেসর ডক্টর মোকাম্মেল এইচ ভূইয়া বলেন, গোলাম মোহাম্মদ কাদের এর বইগুলো ইতিহাসের পাতায় অক্ষয় হয়ে থাকবে। পরবর্তী প্রজন্মের শিক্ষার জন্য এই বইগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। একটি নতুন প্রজন্ম সৃষ্টিতে অসামান্য অবদান রাখবে গোলাম মোহাম্মদ কাদের এর লেখা।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি রচিত দু’টি গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির সভাপতি শেরীফা কাদের এমপি’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আহমেদ এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জনাব মহিউদ্দিন আহমদ।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মুজিবুল হক চুন্নু এমপি, গ্রন্থ দু’টির উপর মূল আলোচনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোকাম্মেল এইচ ভূঁইয়া। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, সিনিয়র সাংবাদিক সফিকুল করিম সাবু, শাহজালাল ফিরোজ, বইয়ের প্রকাশক আবুল বাশার।

উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় পার্টি প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, এসএম আব্দুল মান্নান, এডভোকেট শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, সুনীল শুভ রায়, এসএম ফয়সল চিশতী, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, এটিইউ তাজ রহমান, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, সোলায়মান আলম শেঠ, এডভোকেট মোঃ রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, নাজমা আখতার এমপি, মোস্তফা আল মাহমুদ, জহিরুল আলম রুবেল, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. নুরুল আজহার শামীম, এমএম নিয়াজ উদ্দিন, আমানত হোসেন, নুরুল ইসলাম তালুকদার এমপি, মোঃ ইলিয়াস উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মমতাজ উদ্দিন, ইকবাল হোসেন তাপস, ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান আকাশ, মোঃ খলিলুর রহমান খলিল, ভাইস চেয়ারম্যান আহসান আদেলুর রহমান এমপি, নুরুন্নাহার বেগম, জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, মোবারক হোসেন আজাদ, মোঃ জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া, সালাউদ্দিন আহমেদ মুক্তি, যুগ্ম মহাসচিব মোঃ আমির হোসেন ভূঁইয়া, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য মোঃ হেলাল উদ্দিন, মোঃ হুমায়ুন খান, এডভোকেট ইউসুফ আজগর, কাজী আবুল খায়ের, সুমন আশরাফ, সুলতান মাহমুদ, এমএ রাজ্জাক খান, আহাদ ইউ চৌধুরী শাহীন, এসএম আল জুবায়ের, গোলাম মোস্তফা, মিজানুর রহমান মিরু, ইঞ্জিনিয়ার এলাহান উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সাত্তার গালিব, আজহারুল ইসলাম সরকার, আক্তার হোসেন দেওয়ান, এসএম সুবহান, দেলোয়ার হোসেন মিলন, বাহাদুর ইমতিয়াজ, এসএম পারভেজ রহমান, এডভোকেট আবু তৈয়ব, মাহমুদ আলম, সমরেশ মন্ডল মানিক, ইব্রাহিম আজাদ, শামসুল আলম লিপটন, হাফেজ ক্বারী ইসারুহুল্লাহ আসিফ, কেন্দ্রীয় নেতা শফিকুল ইসলাম দুলাল, আব্দুস সাত্তার, ফায়েজ উল্লাহ শিপন, রেজাউল করিম, মখলেছুর রহমান বস্তু, জাকির হোসেন খান, শাহীন আরা সুলতানা রীমা, সোহেল রহমান, মোতাহার হোসেন শাহীন, আনোয়ার হোসেন খান, মাইনুর রাব্বী চৌধুরী রুম্মন, আনোয়ার হোসেন শান্ত, জিয়াউর রহমান বিপুল, জাহিদ হাসান, নুরুজ্জামান খান, আল আমিন সরকার, ওলামা পার্টির আহ্বায়ক ড. ইরফান বীন তোরাব আলী, জাতীয় ছাত্র সমাজ সভাপতি আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম খান।

খন্দকার দেলোয়ার জালালী
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এর
প্রেস সেক্রেটারি -০২

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম-১২ আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন এলডিপির প্রার্থী।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) সংসদীয় আসনে আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ১১ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মনোনীত প্রার্থী এম এয়াকুব আলী।বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রামের নাসিরাবাদস্থ এয়াকুব ট্রেড সেন্টারে এক সাংবাদ সম্মেলনে ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ জোটের মনোনীত এলডিপির সংসদ সদস্য প্রার্থী এম এয়াকুব আলী।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এলডিপির সভাপতি শিল্পপতি এম এয়াকুব আলী জানান, ২৮৯ চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) থেকে ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ জোট সমর্থিত ও এলডিপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী। আমার নির্বাচনী প্রতীক ছাতা।মনোনয়ন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আমাকে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। প্রতীক চূড়ান্তভাবে প্রাপ্তিতে বিলম্ব হওয়ায় নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নির্বাচনী মাঠে প্রচার-প্রচারণা শুরু করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে আমার গুরুত্বপূর্ণ সময় অপচয় হয়েছে।বর্তমানে যে অল্প সময় অবশিষ্ট রয়েছে, তাতে সকল নির্বাচনী কর্মকাণ্ড যথাযথভাবে সম্পন্ন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপরন্তু আমার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ বিবেচনায় আমি এ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।

একই সঙ্গে ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ জোটের অন্যতম প্রধান শরিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ ফরিদুল আলমকে আমার পূর্ণ সমর্থন প্রদান করছি।
এদিকে পটিয়ার স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীরা বলছেন, রাজনীতিবিদ ও শিল্পপতি এম এয়াকুব আলী দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠা, সততা ও ত্যাগের সাথে তার দলের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। জনগণের প্রতি তার দায়বদ্ধতা ও নেতৃত্বের গুণাবলীর প্রতি সম্মান জানিয়ে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এ জন্য তাকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানাচ্ছি।
অপরদিকে, এলডিপির নেতাকর্মীরা বলছেন রাজনীতিতে ব্যক্তিগত প্রার্থিতার চেয়ে জোটের বৃহত্তর স্বার্থ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ১১ দলীয় জোটের ঐক্য অটুট রাখতে এলডিপি প্রার্থী এম এয়াকুব আলী ভাইয়ের এই সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। এই সিদ্ধান্ত জোটের রাজনীতিকে আরো শক্তিশালী করবে এবং চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

লড়াই হবে অভিজ্ঞ শামসুজ্জামান হেলালীর সাথে অনভিজ্ঞ সাঈদ আল নোমানের।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রচারণা চলছে জমজমাটভাবে। আসন্ন নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, হালিশহর ও খুলশী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা সাবেক শিক্ষক ব্যাবসায়ী শামসুজ্জামান হেলালী সাথে লড়ছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ‘অক্সফোর্ড গ্র্যাজুয়েট’ সাঈদ আল নোমান। তার আছে এমফিল ডিগ্রিও। বনেদি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান উচ্চশিক্ষিত সাঈদ আল নোমান ভোটের মাঠে প্রথমবার। অন্যদিকে সংসদ সদস্য পদে হেলালীও প্রথমবার, তবে ভোটের মাঠে নতুন নন। তিনি আগে একবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের শুলকবর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন। আবার প্রথমবার হলেও নির্বাচন নিয়ে একেবারে অনভিজ্ঞ নন সাঈদ আল নোমান। চট্টগ্রামে একসময়ের বিএনপির কাণ্ডারি প্রয়াত আবদুল্লাহ আল নোমান তাঁর বাবা। সন্তান হিসেবে বাবার রাজনীতি ও ভোটের মাঠে ছায়াসঙ্গী হওয়ার অভিজ্ঞতা আছে তার ঝুলিতে।


বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও চট্টগ্রাম-১০ আসনে প্রার্থী আছেন আরও ৭ জন। এরা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ জান্নাতুল ইসলাম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মো. ওসমান গণি, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের সাবিনা খাতুন, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ এমদাদ হোসাইন চৌধুরী, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. লিয়াকত আলী, বাসদ (মাকসবাদী) আসমা আক্তার এবং স্বতন্ত্র মোহাম্মদ আরমান আলী।তবে সমানতালে নির্বাচনি প্রচার চোখে পড়ছে চার প্রার্থীর। এরা হলেন- ধানের শীষ প্রতীকের সাঈদ আল নোমান, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের শামসুজ্জামান হেলালী, হাতপাখা প্রতীকের মুহাম্মদ জান্নাতুল ইসলাম এবং কাঁচি প্রতীকের আসমা আক্তার। ভোটারদের মতে, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে। তবে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলনের জান্নাতুল জামায়াতের ভোটে ভাগ বসাতে পারেন, এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, নগরীর ৮টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১০ আসনটি ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সীমানা নির্ধারণের মাধ্যমে নতুন করে সৃষ্টি করা হয়েছিল। সেই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আবদুল্লাহ আল নোমান। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনেও একই আসন থেকে তিনি বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন। নোমানের মৃত্যুর পর এবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সেই আসনে ধানের শীষ নিয়ে এসেছেন সাঈদ আল নোমান।
এদিকে গণসংযোগে, পথসভায়, বক্তব্য-বিবৃতিতে সাঈদ আল নোমানের ভাষা, শব্দচয়ন গতানুগতিক নয়।

প্রতিদ্বন্দ্বীকে আক্রমণ করে কিছু বলতে শোনা যাচ্ছে না। চট্টগ্রামকে আধুনিক, পরিকল্পিত ও বিশ্বমানের নগরীতে রূপান্তরের অঙ্গীকার করছেন। পূর্ণাঙ্গভাবে বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। সঠিক পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার স্বপ্নের কথাও বলছেন।আবার বিভিন্ন সভা বাবা আবদুল্লাহ আল নোমানের চট্টগ্রামের উন্নয়নে বিভিন্ন অবদানের কথা তুলে ধরে বাবার পথে হাঁটার কথাও বলছেন। পাশাপাশি চট্টগ্রামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা থেকে শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে নিজের কাজগুলোও তুলে ধরছেন ভোটারদের কাছে।

এ বিষয়ে সাঈদ আল নোমান বলেন, ২০০৩ সালে আমার বাবা আবদুল্লাহ আল নোমান যখন মন্ত্রী ছিলেন, তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে কেবিনেট মিটিংয়ে বাণিজ্যিক রাজধানীর ১৬ দফা পেশ করেছিলেন। দেশনেত্রী চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু গত ২২ বছরে আমরা চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে পারিনি। চট্টগ্রামকে সত্যিকার অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপ দেয়ার জন্য আমি কাজ করব। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে আমার সুনির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা আছে। আমি ভোটারদের কাছে আমার পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরছি। আশা করছি, তারা আমার পক্ষে রায় দেবেন।
এদিকে জামায়াতের শামসুজ্জামান হেলালী জোর দিচ্ছেন এলাকার স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দিকে। বেকারত্ব দূর করা, তরুণদের জন্য আয়ের সুযোগ সৃষ্টি, এলাকায় হাসপাতাল করা, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি থেকে এলাকাকে মুক্ত রাখা, এসব বিষয় প্রাধান্য পাচ্ছে তার বক্তব্যে।শামসুজ্জামান হেলালী বলেন,মানুষ পরিবর্তন চায়। পরিবর্তনের জন্য মানুষ অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়ে একজোট হয়েছে। ইনশল্লাহ এবার চট্টগ্রাম-১০ আসনে দাঁড়িপাল্লার বিজয় সুনিশ্চিত।

জানা গেছে, সাঈদ আল নোমান চট্টগ্রামের বেসরকারি ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা। তিনি পড়ালেখা করেছেন আমেরিকার সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটি, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস ও অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে। নিয়েছেন এমফিল ডিগ্রিও।আর শামসুজ্জামান হেলালী নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় পড়ালেখা স্নাতকোত্তর উল্লেখ করেছেন। হলফনামায় পেশা হিসেবে ব্যবসায়ী এবং তিনি আগে শিক্ষকতা করতেন বলেও উল্লেখ করেছেন। অবশ্য হেলালী নামের আগে ‘অধ্যক্ষ’ ব্যবহার করেন। অক্সফোর্ড গ্র্যাজুয়েট সাঈদ আল নোমান না কি সাবেক শিক্ষক শামসুজ্জামান হেলালী চট্টগ্রাম-১০ আসনের ভোটারেরা কাকে সংসদে পাঠাবেন, তা নিয়ে কৌতুহল আছে এই আসনের জনসাধারণের মধ্যে।

আলোচিত খবর

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ সংক্রান্ত মামলায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার রায় পেয়েছে বাংলাদেশ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ সংক্রান্ত মামলায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার রায় পেয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত কানাডাভিত্তিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান নাইকোকে বাংলাদেশ সরকারকে ৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (আইসিডি/ICSID)-এর ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।


জ্বালানি সচিব বলেন, বাংলাদেশ এই মামলায় প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল। প্রাপ্ত অর্থ সেই দাবির তুলনায় অনেক কম। রায়ের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালের ১৬ অক্টোবর টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে খনন ও উন্নয়ন কাজের দায়িত্ব পায় কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান নাইকো।

পরবর্তীতে নাইকোর পরিচালনাধীন অবস্থায় টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি এবং একই বছরের ২৪ জুন গ্যাসক্ষেত্রে পরপর দুটি মারাত্মক বিস্ফোরণ হয়। এসব বিস্ফোরণের ফলে বিপুল পরিমাণ মজুদ গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের অবকাঠামো, পরিবেশ ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র কার্যত অচল হয়ে পড়ে, যা দেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ