আজঃ বৃহস্পতিবার ১৪ মে, ২০২৬

কক্সবাজার:

চকরিয়ার এমপি জাফরের ৫ বছরে সম্পদ বেড়েছে ১০ দশমিক ৩৭ গুণ, ২ মামলায় পেয়েছেন খালাস

বিশেষ প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কক্সবাজার ১ চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সরকার দলীয় বর্তমান সংসদ সদস্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম জাফর আলম। ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধীতা করার সময় তাঁর বাৎসরিক আয়, অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদ ছিল ১ কোটি ৫৯ লাখ ৮০ হাজার ৯৯৩ টাকা। যেখানে তাঁর নিজের নামের ছিল ৯৭ লাখ ৪০ হাজার ৪৯৩ টাকার সম্পদ আর স্ত্রীর নামে ছিল ৬২ হাজার ৪০ টাকার ৫ শত টাকার সম্পদ।
৫ বছর আগে এমপি জাফর আলমের যৌথ মালিকানা বা তাঁর আয়ের উপর নির্ভরশীলদের কোন আয় ছিল না। ২০১৮ সালের নির্বাচন চলাকালিন সময় এমপি জাফর আলমের বিরুদ্ধে আদালতে বিচারাধিন ২ টি মামলা ছিল।

কিন্তু ৫ বছরে বদলে গেছে এমপি জাফর আলমের সম্পদ। ২০২৩ সালে এসে তাঁর বাৎসরিক আয়, অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদ দাঁড়িয়ে ১৬ কোটি ৫৭ লাখ ৩৪ হাজার ৩০৫ টাকা। যেখানে রয়েছে তাঁর নিজের নামে ১০ কোটি ৭৮ লাখ ৬৩ হাজার ৮৯ টাকার সম্পদ। তাঁর স্ত্রীর নামে রয়েছে ২ কোটি ২১ লাখ ৭১ হাজার ২৫৪ টাকা, যৌথ মালিকানায় রয়েছে ৩ কোটি ২৩ লাখ ৯০ হাজার ৩৫৭ টাকা এবং তাঁর আয়ের উপর নির্ভরশীলদের রয়েছে ৩৩ লাখ ৯ হাজার ৬০৩ টাকার সম্পদ। তবে বিচারাধিন ২ টি মামলা থেকেই খালাস পেয়েছেন তিনি।

২০১৮ সালেরর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কমিশন বরাবরে এমপি জাফর আলমের জমা দেয়া হলফনামায় মিলেছে এসব তথ্য। আর সেই হলফনামার তথ্য বলছে, এমপি জাফর আলমের ৫ বছরে সম্পদ বেড়েছে ১০ দশমিক ৩৭ গুণ।

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় এমপি জাফর আলম উল্লেখ করেছেন, তিনি একজন ব্যবসায়ী এবং মৎস্য চাষী। তিনি কৃষিখাত থেকে বছরে আয় করেছেন ৪৯ লাখ ২৩ হাজার ৫০১ টাকা, একই খাত থেকে তাঁর আয়ের উপর নির্ভরশীলদের বছরে আয় ৭ লাখ ২২ হাজার ৭ শত টাকা। বাড়ি, দোকান ও এপার্টমেন্ট ভাড়া বাবদ বছরে আয় ৮ লাখ ১৯ হাজার ৫৬০ টাকা, এই খাত থেকে তাঁর আয়ের উপর নির্ভরশীলদের বছরে আয় ৬ লাখ ৭২ হাজার টাকা। ব্যবসায় থেকে তাঁর বছরে আয় ২৪ লাখ ৭৯ হাজার ৬৮০ টাকা, তাঁর আয়ের উপর নির্ভরশীলদের বছরে আয় ২ লাখ ৭ হাজার ৮৮২ টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানতের ক্ষেত্রে বছরে মুনাফা ১৮৩ টাকা, তাঁর আয়ের উপর নির্ভরশীলদের বছরে মুনাফা ১ লাখ ১০ হাজার ৫৫১ টাকা। পেশাগত ক্ষেত্রে বছরে আয় ২৩ লাখ ২৩ হাজার ৫৫২ টাকা, তাঁর আয়ের উপর নির্ভরশীলদের বছরে আয়৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৭০ টাকা।

এমপি জাফর আলমের বর্তমানে অস্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে নগদ রয়েছে ৪০ লাখ টাকা, স্ত্রীর নগদ রয়েছে ২০ লাখ টাকা, নির্ভরশীলদের নগদ রয়েছে ৫ লাখ টাকা। ব্যাংকে জমা রয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ২৪৮ টাকা, স্ত্রীর জমা রয়েছে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৫০১ টাকা। এমপি জাফরের রয়েছে ১ হাজার টাকা দামের একটি শেয়ার।

নিজের নামের কোন এফডিআর না থাকলেও স্ত্রী নামে রয়েছে ১৮ লাখ টাকার এফডিআর। গাড়ি রয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার টাকা দামের ২ টি। নিজের কাছে স্বর্ণ রয়েছে ১০ ভরি, স্ত্রী রয়েছে ৩০ ভরি আর নির্ভরশীলদের রয়েছে ৩০ ভরি। ইলেকট্রনিক সামগ্রী নিজের রয়েছে ২ লাখ টাকা, স্ত্রীর নামে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, নির্ভরশীলদের রয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার সামগ্রী। আসবার পত্র নিজের নামে ১ লাখ টাকা, স্ত্রী নামে ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকার, নির্ভরশীলদের রয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

এমপি জাফর আলম তাঁর স্থাবর সম্পদ বিবরণীতে লেখেছেন, তাঁর নামে ৬৩ লাখ ১৫ হাজার ৬২৫ টাকা মূল্যের ১৫০.৩৪ শতক, স্ত্রীর নামে ৫০ লাখ ৩ হাজার ৩২০ টাকা মূল্যে ৬১৯ শতক কৃষি জমি রয়েছে। একই সঙ্গে যৌথমালিকানাধিন কৃষি জমি রয়েছে ৩ কোটি ২৩ লাখ ৯০ হাজার ৩৫৭ টাকার জমি। একই সঙ্গে নিজের নামে ৫ কোটি ২৯ লাখ ৮৬ হাজার ১৬২ টাকা মূল্যের ২৪৩.৯১ শতক, স্ত্রীর নামে ১ কোটি ১৮ লাখ ৩৪২ হাজার ৪৩৩ টাকা মূল্যে ৫৩.২৭ শতক অকৃষি জমি রয়েছে। এমপি জাফর আলমের রয়েছে ১৫ লাখ টাকা মূল্যের নিজ বাড়ি ও দালান, ১০ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের মৎস্য খামার, ১ কোটি ৮৬ লাখ ৭৪ হাজার ৬ শত টাকা মূল্যের নিমার্ণাধিন কমপ্লেক্স।

যার বিপরীতে এমপি আফর আলম ব্যাংক থেকে ৭০ লাখ টাকা ঋণ এবং ১ লাখ ১৬ হাজার ৯৬৫ টাকা ধারে মালামাল ক্রয় করেছেন।

কিন্তু ৫ বছর আগে ২০১৮ সালে এমপি জাফর আলমের কৃষিখাত থেকে বছরে আয় ছিল ১৪ লাখ ১০ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে বছরে আয় ছিল ৩ লাখ টাকা, ব্যাংক আমানত ছিল ২৪ হাজার ৬৪৬ টাকা। যেখানে স্ত্রী বা নির্ভরশীলদের কোন আয়ই ছিল না।

৫ বছরে আগে অস্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে নিজের কাছে নগদ ৪১ লাখ ৪৫ হাজার ৫৫১ টাকা, স্ত্রীর কাছে নগদ ১০ হাজার টাকা ছিল। ব্যাংকে নিজের নামে ১ লাখ টাকা ও স্ত্রীর নামে ৩০ লাখ টাকা জমা ছিল। নিজ ও স্ত্রীর নামে ৫ শত করে ১ হাজার টাকা শেয়ার ছিল। নিজের নামে বীমা সঞ্চয় ছিল ২৪ হাজার ৬৪৬ টাকা, ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাড়ি, ২ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য, ১ লাখ টাকার আসবার পত্র ছিল। স্ত্রীর ছিল ১০ ভরি স্বর্ণ। যেখানেও ছিল না নির্ভরশীলদের নামে কিছুই।

স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে নিজের নামে ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যে .০২৪০ শতক এবং ৪০ হাজার টাকা মূল্যের .০২০ শতক কৃষি জমি ছিল। নিজের নামে ১৬ লাখ ৫ হাজার ১৫০ টাকা মূল্যের .০৬৯৫ শতক ও স্ত্রী নামের ৩০ লাখ টাকা মূল্যের .০৩০ শতক অকৃষি জমি ছিল। আবাসিক বাড়ি ছিল ২ লাখ টাকা মূল্যের আর মৎস্য চাষ থেকে আয় ছিল ৪০ হাজার টাকা।

পাঁচ বছর আগে জাফর আলমের বাড়ি থেকে আয় ছিল না। তখন ব্যবসা থেকে তাঁর আয় ছিল তিন লাখ টাকা। এবার বাড়ি ও দোকান ভাড়া দেখানো হয়েছে ৮ লাখ ১৯ হাজার ৫৬০ টাকা, নির্ভরশীলদের আয় ৬ লাখ ৭২ হাজার টাকা। ব্যবসা থেকে জাফর আলমের আয় ২৪ লাখ ৭৯ হাজার ৬৮০ টাকা। স্ত্রীর আয় ২ লাখ ৭ হাজার ৮৮২ দশমিক ৬৩ টাকা দেখানো হয়।

পাঁচ বছর আগে ব্যাংক আমানত থেকে জাফর আলমের আয় ছিল ২৪ হাজার ৬৪৬ টাকা। নগদ টাকা ছিল ৪১ লাখ ৪৫ হাজার ৫১১ টাকা। স্ত্রীর নামে নগদ টাকা দেখানো হয় ১০ হাজার টাকা। জাফর আলমের নামে তখন ব্যাংকে জমা ছিল ১ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে জমা ছিল ৩০ লাখ টাকা। জাফর আলমের বিমা সঞ্চয় ছিল ২৪ হাজার ৬৪৬ টাকা। ছিল ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা দামের পাজেরো জিপ একটি। স্ত্রীর নামে সোনা ছিল ১০ ভরি।

এবারের হলফনামায় জাফর আলমের নগদ টাকা দেখানো হয় ৪০ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে ২০ লাখ টাকা। আর নির্ভরশীলদের নামে পাঁচ লাখ টাকা।

জাফর আলমের নামে ব্যাংকে জমা আছে ১ লাখ ১৯ হাজার ২৪৮ টাকা। স্ত্রীর নামে আছে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৫০১ টাকা। জাফর আলমের নিজের নামে চিরিঙ্গা বহুমুখী সমবায় সমিতির শেয়ার আছে ১ হাজারটি। স্ত্রীর নামে সঞ্চয়পত্র, এফডিআর আছে ১৮ লাখ টাকার। জাফর আলমের নিজের নামে ১ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার টাকা দামের গাড়ি আছে দুটি। সোনা আছে ১০ ভরি, স্ত্রীর নামে সোনা দেখানো হয়েছে ৩০ ভরি, নির্ভরশীলদের নামে ৩০ ভরি।

পাঁচ বছর আগে জাফর আলমের কৃষি জমি ছিল ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা দামের দশমিক ০২৪০ শতক। স্ত্রীর নামে ছিল ৪০ হাজার টাকা দামের দশমিক ০২০ শতক জমি। জাফর আলমের নিজের নামে অকৃষি জমি ছিল ১৬ লাখ ৫ হাজার ১৫০ টাকা দামের দশমিক ০৬৯৫ শতক। স্ত্রীর নামে ছিল ৩০ লাখ টাকা দামের দশমিক ০৩০ শতক। জাফর আলমের নিজের নামে ২ লাখ টাকার একটি আবাসিক বাড়ি, ৪০ হাজার টাকা দামের ২০ একরের ইজারাপ্রাপ্ত একটি চিংড়ি খামার দেখানো হয়। দায়দেনাও ছিল না।

এবার এই সংসদ সদস্যের নামে কৃষি জমি দেখানো হয়েছে ৬৩ লাখ ১৫ হাজার ৬২৫ টাকা দামের ১৫০ দশমিক ৩৪ শতক জমি। স্ত্রীর নামে ৫০ লাখ ৩ হাজার ৩২০ টাকা দামের ৬১৯ শতক জমি। যৌথ মালিকানায় জাফর আলমের মূলধন (শেয়ার অংশ) দেখানো হয় ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন জাফর আলম। গত ৫ বছরে এমপি জাফর আলম তাঁর সম্পদ বাড়িয়েছে ১০ দশমিক ৩৭ গুণ। এনিয়ে ইতিমধ্যে নানা অভিযোগও উঠেছে।

এ নিয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত বছরের ২৪ আগস্ট জাফর আলম, তাঁর স্ত্রী শাহেদা বেগম, ছেলে তানভীর আহমদ সিদ্দিকী তুহিন ও মেয়ে তানিয়া আফরিনকে তলব করেছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কক্সবাজার জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালক মনিরুল ইসলাম। গত ৪ সেপ্টেম্বর জাফর আলমসহ অভিযুক্ত চারজন দুদক কার্যালয়ে হাজির হয়ে সম্পদের বিবরণ তুলে ধরেন।

এরপর দুদক কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন অভিযোগের ভিত্তিতে করা অনুসন্ধানে শুরু করেন। অনুসন্ধানে এমপি জাফর আলম ও তার স্ত্রীসহ সন্তানদের বিরুদ্ধে ২০০ শতাধিক জমি দলিলের সত্যতা পেয়েছে দুদক। তবে এসব দলিলের সিংহভাগই ‘পাওয়ার অব এ্যাটর্নি’ মূলে এমপি জাফরের মালিকানা বলে জানান দুদক।

কিন্তু অনুসন্ধান শেষ না হওয়ায় এখনো এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করা যাবেনা বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন।

এমপি জাফর আলম বলেন, আমি জায়গা জমির ব্যবসা করি, অনেক জমি কিনে সেটা আবার বিক্রি করে দিয়েছি। তাই যে সকল জমি বিক্রি করেছি সেটা হলফনামায় তুলে ধরিনি। তবে, আমার সম্পদের পরিমাণ আয়কর বিবরণীর সাথে সামঞ্জস্য রয়েছে।

হলফনামায় সম্পদ ও নগদ অর্থ বৃদ্ধির বিষয়ে জাফর আলম বলেন, জমি-জমার দামও বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবে আমার আয়ও বেড়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের জানাজায় মানুষের ঢল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের জানাজা হয়েছে। নগরের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।পরে জয় বাংলা স্লোগানে তাকে বিদায় জানান দলীয় সমর্থক ও নেতাকর্মীরা।জানাজায় অংশ নেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সাবেক মেয়র ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, প্রয়াতের বড় ছেলে সাবেদুর রহমান সমুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি পেশার মানুষ। এর আগে মরদেহ জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে পৌঁছালে বর্ষীয়ান রাজনীতিককে একনজর দেখতে ও শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে। ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় কফিন।সাবেক এই মন্ত্রীর রাজনৈতিক জীবন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করে বক্তব্য দেন বিভিন্ন দলের নেতারা।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, ‘সাবেক মন্ত্রী মোশাররফ হোসেনের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন। রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়নে তিনি অনেক অবদান রেখেছেন। মিরসরাইয়ের সন্তান হলেও বৃহত্তর চট্টগ্রামের জন্য কাজ করে গেছেন।চট্টগ্রামের উন্নয়নে তাঁর অবদানের জন্য মানুষ তাঁকে স্মরণ করবেন।


উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান বলেন, ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা চিরদিন মনে রাখতে হবে। তিনি আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেছেন। সারাজীবন তার সঙ্গে রাজনীতি করেছি।’সাবেক সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘পাকিস্তান আমল থেকে উনার সাথে আমার স্মৃতি। চট্টগ্রামের উন্নয়নে অনেক উদ্যাোগ নিয়েছেন। তিনি কথা শুনতেন। চট্টগ্রামের ইতিহাসে মোশাররফ হোসেন এক অবিস্মরণীয় নাম হয়ে থাকবে।’

মোশাররফ হোসেনের সন্তান সাবেদুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন আইসিইউতে থাকার পর তিনি চলে গেছেন। উনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। দেশের উন্নয়নে উনি কাজ করেছেন। সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।’শ্রদ্ধা জানান সিপিবি নেতা মোহাম্মদ শাহ আলম, ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়ন গেরিলা বাহিনী, মীরসরাই অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।জানাজা অংশ নেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, সিপিবিসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা।

পরে মরদেহের কফিন অ্যাম্বুলেন্সে ওঠানোর পর হাজারো সহযোদ্ধা, রাজনৈতিক সহচর ও অনুসারীরা স্লোগান দিতে শুরু করেন। এ সময় ‘বীর চট্টলার মোশাররফ ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান শোনা যায়।নেতাকর্মীরা মরদেহবাহী গাড়ির সঙ্গে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠ থেকে বের হয়ে আসেন। এসময় পুলিশ সদস্যরা মাঠের মূল ফটকে দাঁড়িয়ে ছিল। অ্যাম্বুলেন্সটি মীরসরাইয়ের ধুম গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। সেখানে বাদ আসর ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তৃতীয় নামাজের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

মোশাররফ হোসেনের জন্ম ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ধুম গ্রামে। বাবা এস রহমান ষাটের দশকে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ছিলেন। দেশভাগের পর তিনি কলকাতা থেকে চট্টগ্রামে চলে আসেন এবং ‘ওরিয়েন্ট বিল্ডার্স কর্পোরেশন’ নামে একটি কোম্পানি খুলে ব্যবসা শুরু করেন।

মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট শেষ করেন। এরপর লাহোরে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় ছয় দফা আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন। সে সময় তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র পরিষদের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।লাহোর থেকে দেশে ফিরে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেন এবং ১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এই মুক্তিযোদ্ধা ১ নম্বর সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। যুদ্ধের সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনের নেতৃত্ব দেন তিনি।

১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রামের মীরসরাই আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে ছয়বার এমপি হন। আমৃত্যু তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য।আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের সরকারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। পরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে ২০১৪-২০১৯ মেয়াদের আওয়ামী লীগ সরকারেও তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর ২৭ অক্টোবর রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকা থেকে মোশাররফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়।

পরের বছর ২০২৫ সালের ৫ অগাস্ট রাতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে কারাগারের হাসপাতাল থেকে তাকে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে গত ১৪ আগস্ট জামিনে মুক্তি পান।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তার ছেলে মাহবুব রহমান রুহেল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে চট্টগ্রাম ১ আসন থেকে এমপি হয়েছিলেন।

চট্টগ্রামের ১৬ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত নেই ‘অ্যান্টিভেনম’, মৃত্যু বাড়ছে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জনসংখ্যার আধিক্যের কারণে প্রকৃতিতে বনাঞ্চল ও কৃষিজমি কমে আসায় সাপের আশ্রয়স্থলগুলো ধ্বংস হচ্ছে দিনকে দিন। মানুষ ও সাপের মধ্যে বাড়ছে সংঘাত। সেই সংঘাতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মারা পড়ছে সাপ; কিছু ক্ষেত্রে সাপের ছোবলের শিকার হচ্ছে মানুষ। ধীরে ধীরে বিষধর সাপের সংখ্যা কমে এলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনো ছয় প্রজাতির বিষধর সাপের বসবাস আমাদের চারপাশে। এই বাস্তবতা সত্ত্বেও চট্টগ্রামের ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ১৬ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকে না সাপের কামড়ের প্রধান ওষুধ ‘অ্যান্টিভেনম’।

বাধ্য হয়ে সাপে কাটা রোগী নিয়ে স্বজনদের ছুটতে হয় জেলা সদর বা বিভাগীয় শহরের হাসপাতালে। এতে পথেই মৃত্যু হয় অনেক রোগীর। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায়ও এমন পরিস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে। এসব এলাকায় সাপে কাটা রোগীদের মৃত্যু দিন দিন বাড়ছে। কেবল গত বছর সাপের কামড়ে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সর্বশেষ গত সোমবরা চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে আবারও সাপের কামড়ে মো. আয়াত নামে আড়াই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সাপে কামড়ানোর পর পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত পথেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের তৈয়্যবিয়াপাড়ায় ওই দিন সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আয়াত ওই এলাকার মো. রবিউল হোসেনের ছেলে।
নিহত শিশুর চাচা মুহাম্মদ শওকত বলেন, সাপে কামড় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা মোটরসাইকেলে করে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। কিন্তু সেখানে রক্ত পরীক্ষা করতে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা সময় নষ্ট করা হয়। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এটি চিকিৎসকদের চরম অবহেলা। সময়মতো অ্যান্টিভেনম না দেওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে।সাপের কামড়ে শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল আলম বলেন, ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে চিকিৎসকদের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদ ও পাহাড়ি এলাকায় বিষধর সবুজ বোড়া বা গ্রিন পিট ভাইপার এবং বসতবাড়ির আশেপাশে ও ঝোপঝাড়ে পদ্মগোখরা ও রাজগোখরার উৎপাত রয়েছে। বিষধর ও শান্ত স্বভাবের শঙ্খিনী এবং গ্রামীণ এলাকায় ঘাতক হিসেবে পরিচিত কালাচ সাপও দেখা গেছে। এসব বিষধর সাপের কামড়ে চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা, বোয়ালখালী, বাঁশখালী, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশসহ বিভিন্ন উপজেলায় মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে।

একসময় সাপে কাটলে গ্রামের কবিরাজ, বৈদ্য কিংবা ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হতো। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সচেতন হচ্ছে মানুষ। এখন সাপে কাটা বেশিরভাগ রোগীকে নিয়ে যাওয়া হয় নিকটতম সরকারি হাসপাতালে। কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে মিলছে না যথাযথ চিকিৎসা। ফলে আহত রোগীকে নিয়ে ছুটতে হয় চট্টগ্রাম শহরে। যেখানে পৌঁছাতেই লাগে ২ থেকে ৪ ঘণ্টা। এই দীর্ঘ সময়ে পথেই প্রাণ হারাচ্ছেন অনেকে।
চিকিৎসকরা মনে করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য

কমপ্লেক্সগুলোতে দ্রুত অ্যান্টিভেনম সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এতে সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীরা প্রাথমিক পর্যায়েই চিকিৎসা পেয়ে জীবন রক্ষা করতে পারবেন।
ভুক্তভোগীদের স্বজনেরা জানান, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হওয়ার পর দ্রুত কাছের হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে অ্যান্টিভেনম পাওয়া যায় না। পরে চট্টগ্রাম শহরে নেওয়ার পথে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়, অনেক সময় মৃত্যু ঘটে।

এদিকে বিভিন্ন উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা জানান, অ্যান্টিভেনম সরবরাহের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বেশ কয়েকবার জানানো হয়েছে। দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. মাহতাবউদ্দিন উদ্দিন বলেন, সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে রোগীর মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। উপজেলা পর্যায়ে এ গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ পর্যাপ্ত না থাকায় আমরা বিড়ম্বনায় পড়ি। গত এক বছরে আনোয়ারায় সাপের কামড়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জানান।
চট্টগ্রাম জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার আরো বলেন, চাহিদা অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও সবসময় চাহিদা পূরণ হয় না। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি উপজেলায় এক থেকে দুই ডোজ করে সরবরাহ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।
চন্দনাইশ উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রশ্মি চাকমা বলেন, আমাদের কাছে বর্তমানে দুই ডোজ অ্যান্টিভেনম রয়েছে। যা দিয়ে দুইজন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।
জানা গেছে, চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোতে গত বছর সাপে কাটায় অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত বছরের ৫ আগস্ট বোয়ালখালী উপজেলায় সাপের কামড়ে মারা যান আরমান তালুকদার (২১) নামে এক যুবক। তিনি উপজেলার দক্ষিণ কড়লডেঙ্গা গ্রামের তালুকদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। ভুক্তভোগী ওই রাতে ঘরে শুয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন। এ সময় জানালার পাশে রাখা পায়ে কামড় দেয় সাপ। মোবাইলে ব্যস্ত থাকায় তিনি তা টের পাননি। পরে অসুস্থ বোধ করলে বিষয়টি বুঝতে পারেন। তাকে দ্রুত পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই বছরের ৩১ আগস্ট চন্দনাইশ উপজেলার বরকল ইউনিয়নে সাপের কামড়ে যোহরা আক্তার (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর সেখানে অ্যান্টিভেনম না থাকায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমকে) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পরপরই তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে বাঁশখালী উপজেলায় গত বছরের ১১ অক্টোবর সাপের কামড়ে মোতাহেরা বেগম (৩৫) নামে এক স্কুলশিক্ষিকার মৃত্যু হয়। তিনি বাহারছড়া আইডিয়াল প্রি-ক্যাডেট স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। সাপে কাটার পর স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানেও অ্যান্টিভেনম পাওয়া যায়নি। পরে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, সাপে কাটার রোগীদের অনেকেই দেরিতে হাসপাতালে আসেন। আবার উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেক সময় রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে যায়। দ্রুত অ্যান্টিভেনম নিশ্চিত করা গেলে অনেক প্রাণ রক্ষা সম্ভব।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, খুব শিগগিরই ঢাকা থেকে সরবরাহ আসবে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। তবে এই ভ্যাকসিন অত্যন্ত দামি হওয়ায় চাহিদা মতো জোগান নিশ্চিত করা একটি বড় সীমাবদ্ধতা। এক ডোজ ভ্যাকসিনের দাম প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা। অনেক ক্ষেত্রে উপজেলা পর্যায়ে এটি কিনতেও পাওয়া যায় না। বর্তমানে ইনসেপটা কোম্পানিই এটি তৈরি ও বিপণন করছে। কিন্তু উপজেলা পর্যায়ে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে না পারায় সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।

এ ছাড়া উচ্চ মূল্যের কারণে ১ থেকে ২ ডোজের বেশি মজুত রাখার সক্ষমতাও অনেক হাসপাতালে নেই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে উপজেলা পরিষদের কাছেও চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এরপরও সংকটকালীন সময়ে হাতে অ্যান্টিভেনম না থাকায় রোগীর মৃত্যু সত্যিই দুঃখজনক।

আলোচিত খবর

চট্টগ্রাম কাস্টমসে নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেয়া ২২০ কন্টেইনার পণ্য বিক্রি হবে নিলামে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া ২২০ টি কন্টেইনার নিলামে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের জট নিরসনে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। সর্বমোট ১৩৭টি লটে ২২০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে। বিশেষ করে আমদানির পর নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া এসব কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে।এই নিলাম প্রক্রিয়া অনলাইনে (ই-অকশন) সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, পুরো মে মাস জুড়ে দরদাতাদের জন্য সরেজমিনে পণ্য পরিদর্শনের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে সর্বোচ্চ দরদাতাদের পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪ এর শর্তাবলী মেনে চলতে হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দরকে কন্টেইনার জটমুক্ত করতে এবং ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের নিলাম কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, আমদানিকৃত এসব পণ্য মাসের পর মাস বন্দরে পড়ে থাকায় একদিকে যেমন বন্দরের জায়গা দখল হয়ে আছে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আটকে রয়েছে। এতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সক্ষমতা কমছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে মে মাসে দুই ধাপে এই ই-অকশন অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিশেষ আদেশ অনুসারে ‘ই-অকশন-৪/২০২৬’-এর আওতায় ১২০টি লটে ১৬০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে।
এই তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরণের কেমিক্যাল, মেশিনারিজ, কাগজ, কাপড় (ফেব্রিক্স), গৃহস্থালির সামগ্রী এবং এসি পার্টস। বিশেষ বিষয় হলো, এই পণ্যগুলোর নিলামে কোনো সংরক্ষিত মূল্য থাকছে না। এই ধাপের দরপত্র আগামী ৯ জুন সকাল ১১টায় খোলা হবে। অন্যদিকে, স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী ‘ই-অকশন-৫/২০২৬’-এর আওতায় ১৭টি লটে আরও ৬০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে।

এর মধ্যে রয়েছে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, প্যাসেঞ্জার এলিভেটর, স্টিল স্ক্র্যাপ, গাড়ি এবং লবণ। এই ধাপের দরপত্র আগামী ১৪ মে দুপুর ৩টায় উন্মুক্ত করা হবে। নিলাম প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে। আগ্রহী ক্রেতারা ঘরে বসেই বাংলাদেশ কাস্টমসের অফিসিয়াল ই-অকশন পোর্টালে নিবন্ধন করে দরপত্র দাখিল করতে পারবে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ