আজঃ রবিবার ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ে খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা।

আসাদুজ্জামান ঠাকুরগাঁও:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশের উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে নভেম্বরের শুরুতে পরে শীত। তবে দিনের বেলায় তেমন ঠান্ডা না থাকলেও রাতে বাড়ার সাথে সাথে বাড়ে থাকে শীতের প্রকোপ।

তাই এই শীতে ব্যস্থ হয়ে পড়েছে নারগুন ইউনিয়নের বোচাপুকুর গ্রামের খেজুরের বাগানের গাছিরা।

ভোর ৪ টা থেকে খেজুরবাগানে রস খেতে আর গুড় তৈরি দেখতে ভিড় করছে হাজার হাজার দর্শনার্থী। মটরসাইকেল, অটোতে কেউ বা আবার মাইক্রোবাস নিয়ে ভোর ৫টা থেকে অপেক্ষা করছে খেজুর গুড় বানানো দেখার জন্য।

সারারাত খেজুর গাছের আগায় লাগানো হাঁড়িতে ফোঁটা ফোঁটা করে জমা হচ্ছে রস। ভোরবেলায় গাছে উঠছেন চাষিরা। রসভর্তি মাটির হাঁড়ি নামিয়ে টিনের পাত্রে জ্বাল দিয়ে তৈরি করছেন গুড়। খেজুর রসের গুড় তৈরির এমন মনমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে শুধু ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ না ভিড় করছে আশেপাশের অনেক জেলা থেকে আসা মানুষ।

রংপুর থেকে খেজুরের গুড় তৈরি দেখতে আসছেন আবু বক্কর সিদ্দিক তিনি বলেন, আমি ভোর ৪ টায় আসছি খেজুরের বাগানের খেজুর রস আর গুড় তৈরি দেখতে। বেশ ভাল লাগলো প্রাকৃতিক ভাবে কোন ভেজাল ছাড়া এখানে খেজুরের গুড় তৈরি হচ্ছে। বাসার জন্য ৩ কেজি খেজুরের গুড় নিলাম।

আমির আহমেদ নামে আরেক দর্শনার্থী বলেন, আমরা শহরের গোয়ালপাড়া থেকে বেশ কয়েকজন মটরসাইকেলে নারগুন খেজুরের বাগানে আসছি। এসে রস খেলাম। প্রতি লিটার রস ৫০ টাকা করে নিছে। চোখের সামনে খেজুরের রস দিয়ে গুড় তৈরি হচ্ছে দেখে অনেক ভাল লাগছে।

রাজু ইসলাম নামে আরে দর্শনার্থী বলেন, ভোরে ৪ টার পর আসলে খেজুরের রস পাওয়া যায় না। তাই বড় ভাইসহ চলে আসছি রস খেতে। সরাসরি গাছ থেকে রস নামিয়ে গুড় তৈরির প্রক্রিয়াটি দেখলাম। রস কিনে খেলাম। সত্যি মনোরম পরিবেশ মুগ্ধকর। তবে গুড়ের দামটা একটু বেশি। ১ কেজি গুড় ৩শ টাকা করে। দামটা একটু কম হলে ভাল হয়।

খেজুর বাগানে কাজ করে নাটোর লালপুর থেকে আসা ৬ জন গাছি। তারা প্রতিদিন গাছগুলোতে হাঁড়ি তোলেন ও নামান।

আব্দুল গফুর নামে একজন গাছি বলেন, প্রতিবার আমার ঠাকুরগাঁওয়ের এই খেজুরের বাগানে আসে কাজ করি। আমাদের মজুরি মাসে ৩০ হাজার টাকা। প্রতিদিন জন প্রতি ৫০/৫৫ টাকা গাছে হাড়ি লাগাই আমরা। এবং ভোরে তা সংগ্রহ করি।

মজিদ নামে আরেক গাছি বলেন, এখন শীত কম হওয়ায় প্রতিদিন ৩০/৪০ লিটার রস ও ৪০/৫০ লিটার গুড় উৎপাদন করছি। তবে শীত যত বাড়বে রসের ও গুড়ের সংখ্যাও বাড়বে। ভোর থেকে এই জেলা ও জেলার বাইরে থেকে প্রচুর মানুষজন আসে রস ও গুড় কিনে। আমরা রস ও গুড়ের মধ্যে কোন ভেজাল মেশাই না। প্রায় ১৫ দিন ধরে গাছে হাড়ি বাধা শুরু করেছি। তবে এখন শীত কম হওয়ায় তেমন রস পাচ্ছি না। শীত বাড়ার সাথে সাথে রস বৃদ্ধি হবে।

খেজুর বাগানের মালিক মনিরুজ্জামান বলেন, ২ বছরের চুক্তিতে আমি সুগার মিলের কাছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা দিয়ে ৭শ গাছ লিজ নিয়েছি। গতবার আমার মোটামুটি আসল উঠে গেছে। এইবার যা আসবে সব লাভ। তবে আশা করছি ২/৩ লক্ষ টাকা লাভ করতে পারব। তবে এখন শীত কম হওয়ায় তেমন রস ও গুড় তৈরি করতে পারছি না তবে শীত পড়লে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার লিটার রস সংগ্রহ করা যাবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ- পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, শীত শুরুতে নারগুন ইউনিয়নে শুরু হয়েছে খেজুরের রস সংগ্রহ। ঠাকুরগাঁও মাটি খেজুর বাগান করা জন্য উপযোগী। এই জেলার মানুষ আম, কাঠাল ও লিচু বাগান করতে বেশি আগ্রহী। আমরা চেষ্টা করবো যেসব অনাবাদি জমি আছে সেগুলোতে কৃষকরা যাকে খেজুরের বাগান করে সাবলম্বী হতে পারে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কৃষিবিদ শহিদুল ইসলামের হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শিবচর উপজেলায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ২৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় উপজেলার সূর্যনগর বাজার এলাকার হাইওয়ে এক্সপ্রেসওয়ের একটি আন্ডারপাসের নিচে মরদেহটি দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে শিবচর হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।

পরে জানা যায়, নিহত ঐব্যক্তিটি কৃষিবিদ মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম। তিনি আন্তর্জাতিক গম ও ভূট্টা গবেষণা কেন্দ্র(সিআইএমএমওয়াইটি)- এর রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি পটুয়াখালী জেলার মহিপুর ইউনিয়নের সেরাজপুর গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে। সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জানুয়ারি বেলা ১১টার দিকে ঢাকার গুলশান এলাকায় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের একটি শাখায় পে-অর্ডার জমা দিতে গিয়ে শহীদুল ইসলাম নিখোঁজ হন।

নেত্রকোনায় শারীরিক প্রতিবন্ধী হিরনের পাশে দাঁড়ালেন মদন বাংলাদেশ প্রেসক্লাব।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় হতদরিদ্র প্রতিবন্ধী এক হাত এক পা বিকলাঙ্গ হিরন মিয়ার একটিমাত্র সম্বল ছিল তার একটি ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক।
গত ২২ জানুয়ারি রাতে এই ইজিবাইকটি কেবা কারা চুরি করে নিয়ে যায়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনের বাহন হারিয়ে আজ পরিবার দু’মুঠো আহার যোগাতে দুচোখ দিয়ে অশ্রুজল ঝরছে প্রতিবন্ধী হিরন মিয়া।
এই চুরি হওয়া ঘটনাটি ঘটেছে মদন উপজেলার মদন ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামে।প্রতিবন্ধী হিরণ মিয়া বাজিতপুর গ্রামের মৃত আব্দুল খালেক এর ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়,
১০ বছর পূর্বে টাইফয়েড জ্বর হওয়ার পর হিরন মিয়া একটি পা এবং একটি হাত প্যারালাইস অবশ হয়ে যায়। এরপর থেকে পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়ে প্রতিবন্ধী হিরন মিয়া পরে স্থানীয় এলাকাবাসীর সহায়তা তাকে একটি ইজিবাইক ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা কিনে দেন তাকে।

ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা দিয়ে যা উপার্জন হতো পরিবারের ৫ সদস্যদের কোনরকম ডাল ভাত খেয়ে জীবন যাপন করছিল।গত ২২ জানুয়ারি আনুমানিক রাত তিনটার দিকে কেবা কারা এই ইজি বাইকটি চুরি করে নিয়ে যায়।

অটোরিক্সা ৪টা ব্যাটারি অটো রিক্সার মটারটা নিয়ে গিয়ে মদন উচিতপুর ব্রিজের পাশে খালি অটো রিক্সাটা ফেলে রেখে চলে যায় চুরচক্রের সদস্যরা।প্রতিবন্ধী হিরনের স্ত্রী বলেন, অটোরিক্সা দিয়ে যা উপার্জন করত বিকেল বেলা চাল ডাল নিয়ে আসতো আমার স্বামী আমাদের পরিবার চলত । অটো রিক্সার ব্যাটারি চুরি হওয়াতে এখন আমরা খুব কষ্টে আছি।

এমন সময় হতদরিদ্র হিরন মিয়ার পাশে দাঁড়ালেন মদন উপজেলার বাংলাদেশ প্রেসক্লাব। নিজেদের উদ্যোগে এবং নিজেদের অর্থায়নে কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে হিরন মিয়ার পাশে দাঁড়িয়েন। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মদন উপজেলা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্ট কবি সাহিত্যিক সিনিয়র সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজহারুল ইসলাম হিরু।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মদন সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক গিয়াস মাহমুদ রুবেল,বাংলাদেশ প্রেসক্লাব মদন উপজেলা শাখার সভাপতি দৈনিক আমাদের সময় উপজেলা প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শেখ আসাদুজ্জামান মাসুদ, সহ-সভাপতি দৈনিক অগ্নিশিখা জেলা প্রতিনিধি এ এম শফিক, দৈনিক যুগ যুগান্তর জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক রাজিব প্রমুখ। এলাকার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

নির্বাচনে নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ আইজিপির।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সকল পুলিশ সদস্যকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বাহারুল আলম। একই সঙ্গে জনবান্ধব পুলিশিং আরও শক্তিশালী করে জনগণের জান-মাল রক্ষায় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।শনিবার (২৪ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইন্সের সিভিক সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে পুলিশ অফিসার ও ফোর্স সদস্যদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ প্রাক-নির্বাচনি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইজিপি।

আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় বডি-ওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, যা পুলিশি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করবে।তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে যে কোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও পেশাদার আচরণ বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং জনগণের প্রত্যাশিত পুলিশি সেবা সহজ ও কার্যকরভাবে দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে।

এ সময় আইজিপির দিকনির্দেশনার আলোকে সকল ইউনিটকে শৃঙ্খলা, দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়। সভায় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা নির্বাচনকালীন চ্যালেঞ্জ, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং কল্যাণমূলক বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল— দ্বীপ থানাসমূহের জন্য স্পিডবোট সরবরাহ, মোটরসাইকেল ক্রয়ে ঋণ সুবিধা, দ্বীপ ভাতা চালু ও বৃদ্ধি এবং নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সরকারি সুবিধা বৃদ্ধি।সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ।

সমাপনী বক্তব্য দেন অতিরিক্ত আইজিপি ও চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান। সভায় চট্টগ্রাম রেঞ্জ কার্যালয়, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশসহ চট্টগ্রাম বিভাগের আওতাধীন ২৯টি ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন পদবীর মোট ৪৫৮ জন অফিসার ও ফোর্স সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ