আজঃ মঙ্গলবার ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫

ঘন কুয়াশায় মেঘনায় যাত্রীবাহী লঞ্চের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৫।

এস আর শাহ আলম চাঁদপুর:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঘন কুয়াশার কবলে ঢেকে থাকায় এক রাতেই চাঁদপুর নৌপথে চলাচলকারী পৃথক দুই স্থানে মোট চারটি লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষ সংঘটিত হয়েছে। এতে সোহেল নামে একজন যাত্রী মারা গেছেন। আহত হয়েছেন বেশ ক’জন যাত্রী। ১২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিআইডব্লিউটিএ চাঁদপুর নৌ বন্দর কর্মকর্তা মোঃ শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, বরিশালের ইলিশা থেকে ঢাকাগামী সুরভী-৮ এবং ঢাকা থেকে ভোলা চরফ্যাশনগামী টিপু-১৪ লঞ্চটি চাঁদপুরের হাইমচরের চরভৈরবী অতিক্রমকালে ঘনকুয়াশায় মুখোমুখি সংঘর্ষের দিকে ধাবিত হয়। সোমবার রাত ১২ টায় এই দুর্ঘটনার সময় টিপু-১৪ লঞ্চটির ধাক্কায় সুরভী-৮ লঞ্চের কিনারে থাকা সোহেল নামের এক যাত্রীর বুকে লঞ্চটির পাইপ ভেঙ্গে জোড়ে লোহার আঘাত লাগে। এতে ঘন্টা দেড়েকের মধ্যেই ওই যাত্রী লঞ্চেই নিহত হয়।সে সুরভী-৮ লঞ্চের যাত্রী বলে জানা যায়।

তিনি আরও বলেন, লঞ্চগুলোর তেমন কোন ক্ষতি না হওয়ায় তাদের মাষ্টারদের চাহিদানুযায়ী যার যার গন্তব্যে চলে যেতে চাওয়ায় আমরা লঞ্চগুলো চলে যাবার অনুমতি দিয়েছি। যার কারনে চাঁদপুরে কোন লঞ্চ ঘাটে ভিড়াতে হয়নি।
এছাড়াও চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর এলাকায় মেঘনা নদীতে দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ১২ ডিসেম্বর রাত সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকা-চাঁদপুর রুটে চলাচলকারী রফরফ-৭–এর সঙ্গে ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে চলাচলকারী এআর খান লঞ্চের সঙ্গে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নদীতে ঘন কুয়াশার কারণে এই দুই লঞ্চের সংঘর্ষে দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন লঞ্চের যাত্রীরা। এতে অন্তত পাঁচজন যাত্রী আহত হয়েছেন। রফরফ-৭ লঞ্চের পেছনের অংশে অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, লঞ্চগুলোর তেমন কোন ক্ষতি না হওয়ায় তাদের মাষ্টারদের চাহিদানুযায়ী যার যার গন্তব্যে চলে যেতে চাওয়ায় আমরা লঞ্চগুলো চলে যেতে অনুমতি দিয়ে দিয়েছি। যার কারনে চাঁদপুরে কোন লঞ্চ ঘাটে ভিরাতে হয়নি।

লঞ্চের এক যাত্রীরা জানান, গতকাল রাত ১২টার দিকে সদরঘাট থেকে রফরফ-৭ লঞ্চ চাঁদপুরের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। ঘন কুয়াশার কারণে লঞ্চ কিছুটা ধীর গতিতে চলছিলো। রাত সাড়ে তিনটার দিকে লঞ্চটি মতলব উত্তরে মোহনপুর এলাকায় পৌছলে এ সময় পটুয়াখালীগামী এ আর খান নামের একটি লঞ্চ রফরফকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে রফরফ লঞ্চের পেছনে দ্বিতীয় তলার একাংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পরে ভোর চারটায় এমভি রফরফ লঞ্চটি চাঁদপুরে পৌঁছায়।

আহত লঞ্চযাত্রী মোঃ মাসুম (৩৫) বলেন, যে দুর্ঘটনা ঘটেছে, এতে অল্পের জন্য রফরফ ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে। অপর যাত্রী নেছার আহমেদ বলেন, দুটি লঞ্চই তিনতলাবিশিষ্ট এবং প্রায় আড়াইশ ফুট লম্বা এবং আকৃতিতে বড় হওয়ার কারণে রক্ষা পেয়েছে। তবে ছোট লঞ্চ হলে বড় ক্ষয়ক্ষতি হতে পারত।

রফরফ লঞ্চে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকা থেকে ফরিদগঞ্জে বাড়ি ফিরছিলেন ফারুক হোসেন। তিনি বলেন, এআর খান নামের একটি লঞ্চ রফরফ লঞ্চটিকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে রফরফের সিটে থাকা পাঁচজন যাত্রী প্রায় দুই থেকে তিন হাত দূরে গিয়ে ছিটকে পড়েন। তারা মাথায় ও হাতে আঘাতপ্রাপ্ত হন।

লঞ্চের স্টাফ মোঃ রুবেল বলেন, ঘন কুয়াশা থাকলেও তাঁরা রাডার ব্যবহার করে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এআর খান লঞ্চটি রাডার ব্যবহার না করায় এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা ব্যাটালিয়ান ৫৯ বিজিবি’র ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ মহানন্দা ব্যাটালিয়ান (৫৯ বিজিবি)’র ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। বুধবার(৩ ডিসেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার গোবরাতলায় ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে এই আয়োজন করা হয়।প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা, আলোচনা সভা, ব্যাটালিয়ন সমাবেশ, ও মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি রাজশাহী সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল কামাল হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ শাহাদাৎ হোসেন মাসুদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি)’র অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জস্থ মহানন্দা ব্যাটালিয়ান (৫৯ বিজিবি)’র অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল গোলাম কিবরিয়া, উপ-অধিনায়ক আব্দুল্লাহ আল আসিফ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ এ.এন.এম ওয়াসিম ফিরোজ, সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন সহ জেলা বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগন উপস্থিত ছিলেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড ও মাসিক কল্যান সভা 

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড ও মাসিক কল্যান সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মাঠে মাষ্টার প্যারেডে সালাম গ্রহণ শেষে মাসিক কল্যান সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস।


জেলা পুলিশ লাইন্সে ড্রিল শেডে মাসিক  কল্যান সভায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার
গৌতম কুমার বিশ্বাস উপস্থিত অফিসার ও ফোর্সদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন এবং অফিসার ও ফোর্সদের সার্বিক কল্যাণ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট ইনচার্জবৃন্দকে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। 

উক্ত কল্যাণ আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), এ.এন.এম. ওয়াসিম ফিরোজ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোঃ একরামুল হক, পিপিএম, অ‌তি‌রিক্ত পু‌লিশ সুপার (সদর সা‌র্কেল) মোঃ ইয়াসির আরাফাত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোমস্তাপুর সার্কেল) মোঃ হাসান তারেক, এএসপি (প্রবিঃ) সহ জেলার অফিসার ইনচার্জবৃন্দ, ইন্সপেক্টরবৃন্দ এবং জেলার অন্যান্য পুলিশ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

আরব আমিরাতে ভিসা সংকটে বড় হুমকির মুখে বাংলাদেশি শ্রমবাজার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যের  অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিসা জটিলতায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। নতুন ভিসা ইস্যু বন্ধ থাকা এবং অভ্যন্তরীণ ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন প্রবাসীরা। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালালেও কবে ভিসা উন্মুক্ত হবে— সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারছে না বাংলাদেশ মিশন। বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আমিরাত সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।

ভিসা জটিলতা শ্রমবাজারের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রভাব পড়ছে প্রবাসীদের কর্মসংস্থান, আয়-রোজগার এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি কর্মীদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে বসবাস, লিঙ্গ পরিবর্তন, সনদ জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগ ওঠায় ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি করেছে আমিরাত সরকার। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বাংলাদেশিরা।

এদিকে দুবাইয়ে স্কিল ভিসা চালু থাকলেও সেখানেও কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। গ্র্যাজুয়েশন সনদ ছাড়া বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। সনদকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন, পরে দূতাবাস বা কনস্যুলেটের যাচাই এবং শেষে আমিরাতের বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হচ্ছে। দীর্ঘ ও জটিল এ প্রক্রিয়ায় হতাশ কর্মপ্রত্যাশীরা।

বাংলাদেশ মিশনের তথ্যানুসারে, স্কিল ভিসায় সনদ জালিয়াতি ঠেকাতে তিন মাস আগে চালু করা হয়েছিল বারকোড ব্যবস্থা। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটিও জাল করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে ইউএই সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযোগ আসছে। রাষ্ট্রদূতের মতে, বাংলাদেশিদের মানসিকতা না বদলালে ভিসা সংকট নিরসন সম্ভব নয়।

আবুধাবি বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ বলেন, “গত সাত মাস ধরে ভিসা ইস্যুতে চেষ্টা চালিয়েও কোনো অগ্রগতি হয়নি।কবে হবে সেটিও অনিশ্চিত। আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, তবে বিষয়টি পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। ”

 

জনশক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসা পরিবর্তনের জটিলতা দ্রুত সমাধান না হলে অনেক বাংলাদেশি কর্মীকে দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। অনেকেই জানেন না, ভিসা বাতিল হলে কী পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে প্রবাসীদের মানসিক চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে বর্তমানে যারা আমিরাতে অবস্থান করছেন, তারা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।

বাংলাদেশি প্রবাসী সংগঠকরা মনে করেন, এ অচলাবস্থা কাটাতে সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি প্রবাসীদেরও ভিসা নীতিমালা মেনে চলা জরুরি। নইলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজারে বাংলাদেশ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ