আজঃ শুক্রবার ১২ জুন, ২০২৬

অদৃশ্য আগুনের কারনে বাড়ি ছারা ফরিদগঞ্জের একটি পরিবার।

এস আর শাহ আলম চাঁদপুর:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আগুন লেগে কিছু সময় পরে আবার নিভে যায়। হঠাৎ দিনের আলোতে পরিবারের লোক ও প্রতিবেশীদের সামনে এমন ঘটনা ঘটছে। কখনো আসবাব পত্রে, কখনো পরিধানের জামা কাপড়ে এবং ঘরের ছালের মধ্যে লেগেছে আগুন। এমনিভাবে পার হয়েছে প্রায় ৭ থেকে ৮ মাস।
কি কারণে আগুন লাগছে এর কোন রহস্য কেউ বলতে পারেনি। একাধিক কবিরাজ দিয়ে তাবিজ লাগিয়ে এবং গরু কেটে মিলাদ ও দোয়া পড়িয়ে রেহাই পাচ্ছে না। এমন অদৃশ্য আগুন আতংকে গ্রামবাসী। আর এ ঘটনায় বর্তমানে ঘরের বাহিরে অবস্থান করতে হচ্ছে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিন ইউনিয়নের পূর্ব দায়ছারা গামের শাহাদাত হোসেন পাটওয়ারী পরিবারের।

রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ওই বাড়ীতে অবস্থান করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে অদৃশ্য আগুন ঘটনার সত্যতা মিলে। এই বিষয়ে কথা হয়েছে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পরিচালক ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তার সাথে।

শাহাদাত পাটওয়ারীর পেশায় কৃষক। তার স্ত্রী, ৪ ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে-মেয়েদের বিয়ে হয়েছে। বাড়ীতে তার স্ত্রী, এক ছেলে, ছেলের স্ত্রী ও নাতিকে পাওয়াগেছে। তারা দিনের বেলায় বাড়ীতে থাকলেও রাতে অন্য স্থানে ঘুমাতে হয়।

গ্রামের বাসিন্দা ফজলুল করিম ও মান্নান খান বলেন , এমন আগুনের ঘটনা কখনো দেখিনি। শাহাদাত পাটওয়ারী ঘরের ফিরেজের মধ্যেও আগুন লেগেছে। কেউ দেখতে গেলে তাদের গায়েও আগুন লাগে। বিভিন্ন চেষ্টা করেও পরিবারটি রেহাই পাচ্ছে না।

তাছারা কামরুল হাসান বলেন, রাতে আগুন লাগে না। আর আগুনে কোন আসবাবপত্র পুরোটা পুড়ে যায় না। আংশিক পুড়ে যায়। আবার কিছু সময় পরে নিভে যায়। কবিরাজ দিয়ে তাবিজ লাগিয়ে কোন কাজ হয় না। আগুন লাগে আবার কয়েকদিন বন্ধ থাকে আবার একই ঘটনা।

এলাকার নোয়াব আলী বাড়ীর এমরান হোসেন বলেন গত কয়েক সপ্তাহ আগুন লাগার ঘটনা বেড়েছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) আগুন লাগে। গ্রামের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন লোক এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। এর আগে একবার দমকল বাহিনীর লোকও আসে। আগুন লাগার পরে ঘরের আসবাবপত্র ও জামা কাপড় পাশের মসজিদে নিয়ে রাখে। সেখানে মসজিদের ভিতরেও আগুন লেগে যায়।

এছারা রামদাসের ভাগ গ্রামের ওসমান খান ও ফয়সাল বলেন , এই ঘটনা জানতে পেরে আমরা দেখতে এসেছি। এই পরিবারের করুন এই দৃশ্য দেখতে অনেকেই আসছে। আবার অনেকে আতংকে বাড়ীতে প্রবেশ করে না। কারণ অনেকে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করার পর শরীরের আগুন লেগে যায়।

আর ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান আমরুল বলেন, আমি শাহাদাত হোসেনের বাড়ীর পাশে বেশি সময় থাকতে হয়। কারণ এখানে আমার একটি পোল্টি খামার আছে। গত ৭-৮ মাস আগ থেকেই এই আগুনের ঘটনা। আমরা বহুবার আগুন লাগার পরে বড়িতে গিয়েছি। কিন্তু আগুনের কোন সূত্রপাত পাইনি। আমাদের ধারণা এটি কোন অদৃশ্য বিষয়। আল্লাহর অশেষ রহমত ছাড়া এই পরিবারের কোন রক্ষা দেখি না। এই শীতের মধ্যে তারা গায়ে জামা কাপড় রাখতে পারে না এবং ঘরে ঘুমাতে পারে না।

শাহাদাত হোসেন পাটওয়ারী বলেন, আমি গত ৭-৮ মাসে আগুনের ঘটনায় খুবই খারাপ অবস্থায় আছি। আমার বয়স ৭০ বছরের বেশী। আগুনের ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে বহুভাবে চেষ্টা করেছি। কিন্তু রেহাই মিলছে না। বেশী কথা বলতে পারি না। আমি সকলের দোয়া চাই।

এ বিষয়ে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর গ্রাহক প্রতিনিধি (পরিচালক) আলী আজম রেজা বলেন, ঘটনাটি পূর্বে থেকে শুনে আসছি। প্রথমে বিশ্বাস করি না। কিন্তু আমি নিজে যখন গিয়ে দেখলাম এবং আমাদের সামনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। তখন থেকেই বিশ্বাস করেছি। বৈদ্যুতিক কোন সমস্যা আছে কিনা সেটিও আমি পরীক্ষা করিয়েছি। বিদ্যুৎ সরবরাহ শতভাগ সঠিক। এই পরিবারটি এখন খুবই অসহায়। গ্রামবাসীও আতংকে। বিষয়টি সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অনুসন্ধান করে দেখার অনুরোধ করছি।

ফরিদগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ কামরুল হাসান জানান, গত ১২ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) দুপুরে শাহাদাত পাটওয়ারীর বাড়ীতে আগুন লাগলে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে যাওয়ার পূর্বেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুনে ক্ষতিগ্রস্থ বিভিন্ন জিনিসপত্র আমরা দেখতে পেয়েছি। ওই বাড়ীর অনেক কিছুতে আগুনে লেগেছে বলে জানতে পারি। কিন্তু কোন অদৃশ্য কারণে এই আগুন কেউই বলতে পারছে না।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম তৈরি, জরিমানা গুনল দুই কারখানা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের চান্দগাঁও এফআইডিসি রোডের স’ মিল এলাকার আলিফা আইসক্রিম ফ্যাক্টরিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।অস্বাস্থ্যকর, নোংরা ও দুর্গন্ধময় পরিবেশে বিভিন্ন রাসায়নিক, নিম্নমানের রং, ফ্লেভার ব্যবহার করে আইসক্রিম তৈরি ও বাজারজাত করায় এই জরিমানা দায়ের করা হয়। এছাড়া নিম্নমানের রং, ফ্লেভার ও নিম্নমানের আইসক্রিমে লাভেলো কোম্পানির মোড়ক ব্যবহার করে বাজারজাত করার অপরাধে শহীদ পাড়ার আম্মাজান আইসক্রিম ফ্যাক্টরিকেও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ( চসিক) ভ্রাম্যমাণ আদালত চান্দগাঁও থানার এফআইডিসি রোড ও শহীদ পাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে। এতে নেতৃত্ব দেন চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যা।একই অভিযানে মূল্যতালিকা না থাকায় এক মুদি দোকানিকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

ভাঙ্গুড়ার বড়াল ব্রিজ ও চাটমোহর রেলস্টেশনে ট্রেনের আসন বৃদ্ধির দাবি উত্থাপন করেন জাতীয় সংসদে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়া ও চাটমোহর এলাকায় ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রা বিরতি বৃদ্ধি এবং আসন সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ৩৩০,পাবনা ও সিরাজগঞ্জ সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা।

তিনি বলেন, এই দাবি বাস্তবায়িত হলে ৭০,পাবনা-০৩ আসন (ভাঙ্গুড়া,চাটমোহর ও ফরিদপুর) সহ আশপাশের এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকাংশেই কমে আসবে।জানা যায়, ব্রিটিশ আমল থেকে ট্রেনে যাত্রী পরিবহনে ভাঙ্গুড়া উপজেলার বড়াল ব্রিজ ও চাটমোহর রেল স্টেশন অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ স্টেশন।
রাজধানী ঢাকা যাতায়াতে পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর ও চাটমোহর উপজেলা সহ আশেপাশের অঞ্চলের জনগণ বড়াল ব্রিজ রেল স্টেশন বেশি ব্যবহার করে। অন্যদিকে পাবনা সদর, আটঘরিয়া ও চাটমোহরের যাত্রীরা ঢাকা যাতায়াতে চাটমোহর রেল স্টেশন ব্যবহার করে।

বর্তমানে দুটি রেল স্টেশনে ঢাকাগামী পাঁচটি ট্রেনের যাত্রা বিরতি হয়। ভাঙ্গুড়ার বড়াল ব্রিজ রেল স্টেশনে পাঁচটি ট্রেনে প্রায় ১৮০টি ও চাটমোহর স্টেশনে প্রায় ২৮০টি আসন বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু এ দুটি রেল স্টেশনে প্রতিদিন বরাদ্দের চেয়ে পাঁচ থেকে ছয় গুণ যাত্রী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন রেল স্টেশনে যাতায়াত করেন। ফলে অধিকাংশ যাত্রী কে আসন বিহীন টিকিটে যাত্রা করতে হয়।

এতে যাত্রীদের যেমন ভোগান্তি ও তেমনি সীমাহীন কষ্ট পোহাতে হয়। বিষয়টি বিবেচনা করে সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা এই রুটে ঢাকাগামী সব ট্রেনের যাত্রা বিরতি ও অধিক আসন বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় সংসদে।এ বিষয়ে মাননীয় সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা বলেন, কৃষি, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়া উপজেলার অনেক গুরুত্ব রয়েছে। এসব প্রয়োজনে এই এলাকার মানুষ কে নিয়মিত ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন শহরে যাতায়াত করতে হয়। ট্রেন পথ এ অঞলের মানুষের ঢাকা যাতায়াতের প্রধান ও সাশ্রয়ী মাধ্যম।

কিন্তু ট্রেনে আসন সংখ্যা সীমিত হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষ কে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তাই তিনি এই রুটের সব ট্রেনের যাত্রা বিরতি ও আসন বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন জাতীয় সংসদে।জৈনক ভাঙ্গুড়া বাজারের বাসিন্দা বলেন, যাত্রীদের চাপের বিবেচনায় বড়াল ব্রিজ রেল স্টেশনে ট্রেনের টিকিট কম। ফলে অনলাইনে টিকিট বরাদ্দের পরপরই শেষ হয়ে যায়। এতে অধিকাংশ যাত্রীকে দাঁড়িয়ে ট্রেনে যাতায়াত করতে হয়,যা অত্যন্ত কষ্টের। তাই সংসদ সদস্যের এই দাবিকে সাধুবাদ জানাই।

বড়াল ব্রিজ রেল স্টেশনের ইনচার্জ শফিউল ইসলাম বলেন, এই রেল স্টেশনে আসন বরাদ্দের চেয়ে যাত্রীর চাপ অনেক বেশি। ফলে সংসদ সদস্যের এই দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক ও জনকল্যাণকর। ফলে এটি বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ