আজঃ শুক্রবার ১৫ মে, ২০২৬

কক্সবাজার:

উখিয়া-টেকনাফে হাড্ডা হাড্ডি লড়াই হবে শাহিনা আক্তার ও নুরুল বশরের মধ্যে

মোহাম্মদ শাহ এমরান, টেকনাফ (কক্সবাজার)

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মোহাম্মদ শাহ এমরান, টেকনাফ (কক্সবাজার) দ্বাদশ জাতীয় সাংসদ ২৪ এ সংসদীয় আসন (২৯৭) কক্সবাজার-০৪ (উখিয়া-টেকনাফ) লক্ষি আসন নিয়ে আওয়ামী লীগের একই দলের দুই প্রার্থীর বাঁচা মরার লড়াই চলছে।

সরেজমিনে প্রত্যক্ষ দেখা মিলে ১/১১ ওয়ান ইলাভেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারে অধিনে ২৯ ডিসেম্বর ২০০৮ নির্বাচনে আব্দুর রহমান বদি নৌকায় মনোনয়ন পেয়ে বিএনপি শাজাহান চৌধুরী হারিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানের মাধ্যমে প্রথম বারের মত জয়লাভ করে। আব্দুর রহমান বদি দ্বিতীয় বারের মত ৫ই জানুয়ারি ২০১৪ সালে ও জয়লাভ করে। পরবর্তীতে আব্দুর রহমান বদি জনগনের মন জয় করতে পরলেও জয় করতে পারেনি দলের নেতা কর্মীকে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে মামলায় অভিযুক্ত হওয়ায় নৌকা মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহন থেকে বঞ্চিত হন। মাঠে নিয়ে আসে সহধর্মিণী জানাবা শাহিনার আক্তার কে প্রথম বারের মতো নৌকার মনোনয়ন নিশ্চিত করে ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করে। একি পরিবার টানা তিনবার জাতীয় সাংসদ নৌকার প্রতিক নিয়ে নির্বাচিত হলো।
বাংলাদেশ স্বাধীনের পরবর্তীতে দেখা মিলে এই আসনে যিনি নির্বাচিত হয়েছেন, তারাই সরকার গঠনের দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়েছে। প্রথম জাতীয় সাংসদ শুরু হয় ১৯৭০ সালে থেকে ২০১৮ এই পর্যন্ত যারা এই আসনে যিনিই বিজয় লাভ করছে, সেই সরকারিই সরকার গঠনের দায়িত্ব প্রাপ্ত হলেন।

তারই লক্ষ নিয়ে (উখিয়া-টেকনাফ) লক্ষি আসনের কোমর বেঁধে নামছে দুই প্রার্থী সাবেক জাতীয় সাংসদ সদস্য জনাবা শাহিনা আকতার (নৌকার) প্রতিক নিয়ে ও টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব নুরুল বশর (ঈগল) প্রতিক নিয়ে মাঠে নামে।
আব্দুর রহমান বদি সহধর্মিণী সাবেক জাতীয় সাংসদ জনাবা শাহিনা আক্তার নৌকা প্রতিক নিয়ে মাঠে ছিলো, আমি থাকবো এই ইস্তাহার নিয়ে সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে পাড়ায়, মহল্লায় মিছিল শুরু করে আব্দুর রহমান বদি ও তার নাম নেতা কর্মীরা ।
সরকারের উন্নয়ন কক্সবাজার টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক, সাবরাং টুরিজম পার্ক, জালিয়ার দ্বীপ এক্সক্লুসিভ “নাফ ট্যুরিজম পার্ক” ও রাস্তাঘাট উন্নয়নের কাজ উখিয়া টেকনাফ রাস্তা প্রসস্থকরন কিছু শেষ হয়েছে, কিছু চলমান রয়েছে।
সাবেক এমপি বদি বলেন সকল প্রকার সমাজসেবা, সাধারণ  মানুষের  সাথে মাঠে ময়দানে সুখে  দুঃখে পাশে আমি আছি থাকবে। সাধরন মানুষ ও ভোটারের মন জয় করতে পরলেও নেতাকর্মীদের মন জয় করতে পারেনি। হাটে, ঘাটে, বাজারে মাঠে উঠে পড়ে লেগেছে। তার পরেও বদি তার সহধর্মিণী কোমর বেঁধে মাঠে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কিছু নেতাকর্মীরা না থাকলেও জয়ের জন্য বদ্ধপরিকর।

এদিকে পিছিয়ে নেই দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত  টেকনাফ  উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি  আলহাজ্ব নুরুল বশর  স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রার্থীতা ফরম কিনে। নির্বাচন কমিশন  সংশ্লিষ্ট আইনী জটিলতার কারণে তার প্রার্থীতা ফরম বাচাই পর্বে বাতিল করাহয়। আইনী লড়ায়ে মহামান্য হাইকোর্ট থেকে আলহাজ্ব নুরুল বশর তাঁর প্রার্থীতা ফিরে পায়। নির্বাচন কমিশন তাকে প্রতীক বরাদ্ধ দেয় ঈগল।
বশরের বক্তব্য উঠে আসে, বিগত ৫ টি বছর এমপির কোথাও দেখা মেলেনি এমন কি  উপজেলার মাসিক আইন শৃংখলা মিটিংয়েও সবখানে এমপির পরিবর্তে দেখা যেত সাবেক এমপি  আব্দুর রহমান বদি কে। এই আমলে দলীয় নেতা কর্মীদের কোন  মূল্যায়ন ছিলনা, মূল্যায়ন ছিল ভিন্ন দলের নেতা কর্মীদের। নৌকার প্রার্থীর প্রতি অসন্তোষ ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীরা।
নুরুল বশর ঈগল প্রতিক মাঠে আশায় পাল্টে যায় ভোটের  হিসেব নিকাশ। দলীয় নেতা কর্মী, ও ভোটারদের মাঝে চলছে পক্ষ বিপক্ষ অবস্থান।
শুরু হয়ে যায় (উখিয়া-টেকনাফ) লক্ষি আসনের জন্য উভয়ের পক্ষ বিপক্ষ সভা সমাবেশে মিছিল মিটিং চলছে, চলছে গান-বাজনা নিয়ে মাইকিং।
চেলেঞ্জের মুখামুখি হয়েছে নৌকা ও ঈগল, কে হবেন উখিয়া টেকনাফ লক্ষ আসনের কর্নধার।

যেখানে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা দলীয় হাই কমান্ড নির্বাচন কে অংশ গ্রহন মূলক করতে যে যার ইচ্ছামত প্রার্থীর পক্ষে ভোট করতে পারবে বলে  ঘোষনা দিলেও প্রার্থীদের পক্ষ- বিপক্ষে বক্তব্য  ভোট ব্যাংকে দলকে ধ্বসের দিকে নমাতে বলে ধারণা করেছেন অভিজ্ঞ মহল।
উলেখ্য যে, (উখিয়া-টেকনাফ)  নির্বাচন এলাকা লক্ষি আসনে ৪জন প্রার্থী রয়েছে। জাতীয় পাটি, তৃণমূল বিএনপির, ইসলামী ঐক্যজোট, ন্যাশনাল পিপলস্ পাটির, কংগ্রেস পাটির নির্বাচন করলেও মূলত হাড্ডা হাড্ডি প্রতিদ্বন্ধিতা নৌকাও ঈগল প্রতীকের মধ্যে।
আগামী ৭ই জানুয়ারি দেখা মিলবে এই লক্ষি আসনের কর্নধারে নামের তালিকা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের জানাজায় মানুষের ঢল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের জানাজা হয়েছে। নগরের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।পরে জয় বাংলা স্লোগানে তাকে বিদায় জানান দলীয় সমর্থক ও নেতাকর্মীরা।জানাজায় অংশ নেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সাবেক মেয়র ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, প্রয়াতের বড় ছেলে সাবেদুর রহমান সমুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি পেশার মানুষ। এর আগে মরদেহ জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে পৌঁছালে বর্ষীয়ান রাজনীতিককে একনজর দেখতে ও শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে। ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় কফিন।সাবেক এই মন্ত্রীর রাজনৈতিক জীবন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করে বক্তব্য দেন বিভিন্ন দলের নেতারা।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, ‘সাবেক মন্ত্রী মোশাররফ হোসেনের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন। রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়নে তিনি অনেক অবদান রেখেছেন। মিরসরাইয়ের সন্তান হলেও বৃহত্তর চট্টগ্রামের জন্য কাজ করে গেছেন।চট্টগ্রামের উন্নয়নে তাঁর অবদানের জন্য মানুষ তাঁকে স্মরণ করবেন।


উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান বলেন, ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা চিরদিন মনে রাখতে হবে। তিনি আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেছেন। সারাজীবন তার সঙ্গে রাজনীতি করেছি।’সাবেক সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘পাকিস্তান আমল থেকে উনার সাথে আমার স্মৃতি। চট্টগ্রামের উন্নয়নে অনেক উদ্যাোগ নিয়েছেন। তিনি কথা শুনতেন। চট্টগ্রামের ইতিহাসে মোশাররফ হোসেন এক অবিস্মরণীয় নাম হয়ে থাকবে।’

মোশাররফ হোসেনের সন্তান সাবেদুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন আইসিইউতে থাকার পর তিনি চলে গেছেন। উনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। দেশের উন্নয়নে উনি কাজ করেছেন। সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।’শ্রদ্ধা জানান সিপিবি নেতা মোহাম্মদ শাহ আলম, ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়ন গেরিলা বাহিনী, মীরসরাই অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।জানাজা অংশ নেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, সিপিবিসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা।

পরে মরদেহের কফিন অ্যাম্বুলেন্সে ওঠানোর পর হাজারো সহযোদ্ধা, রাজনৈতিক সহচর ও অনুসারীরা স্লোগান দিতে শুরু করেন। এ সময় ‘বীর চট্টলার মোশাররফ ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান শোনা যায়।নেতাকর্মীরা মরদেহবাহী গাড়ির সঙ্গে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠ থেকে বের হয়ে আসেন। এসময় পুলিশ সদস্যরা মাঠের মূল ফটকে দাঁড়িয়ে ছিল। অ্যাম্বুলেন্সটি মীরসরাইয়ের ধুম গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। সেখানে বাদ আসর ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তৃতীয় নামাজের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

মোশাররফ হোসেনের জন্ম ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ধুম গ্রামে। বাবা এস রহমান ষাটের দশকে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ছিলেন। দেশভাগের পর তিনি কলকাতা থেকে চট্টগ্রামে চলে আসেন এবং ‘ওরিয়েন্ট বিল্ডার্স কর্পোরেশন’ নামে একটি কোম্পানি খুলে ব্যবসা শুরু করেন।

মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট শেষ করেন। এরপর লাহোরে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় ছয় দফা আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন। সে সময় তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র পরিষদের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।লাহোর থেকে দেশে ফিরে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেন এবং ১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এই মুক্তিযোদ্ধা ১ নম্বর সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। যুদ্ধের সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনের নেতৃত্ব দেন তিনি।

১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রামের মীরসরাই আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে ছয়বার এমপি হন। আমৃত্যু তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য।আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের সরকারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। পরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে ২০১৪-২০১৯ মেয়াদের আওয়ামী লীগ সরকারেও তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর ২৭ অক্টোবর রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকা থেকে মোশাররফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়।

পরের বছর ২০২৫ সালের ৫ অগাস্ট রাতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে কারাগারের হাসপাতাল থেকে তাকে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে গত ১৪ আগস্ট জামিনে মুক্তি পান।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তার ছেলে মাহবুব রহমান রুহেল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে চট্টগ্রাম ১ আসন থেকে এমপি হয়েছিলেন।

চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে নিজ এলাকা মিরসরাইয়ের ধুম ইউনিয়নের মহাজনহাট ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।জানাজায় সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। এসময় উপজেলা প্রশাসন থেকে দেওয়া হয় ‘গার্ড অব অনার’।এর আগে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের জানাজা হয়েছে। নগরের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।পরে জয় বাংলা স্লোগানে তাকে বিদায় জানান দলীয় সমর্থক ও নেতাকর্মীরা।জানাজায় অংশ নেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সাবেক মেয়র ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, প্রয়াতের বড় ছেলে সাবেদুর রহমান সমুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি পেশার মানুষ। এর আগে মরদেহ জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে পৌঁছালে বর্ষীয়ান রাজনীতিককে একনজর দেখতে ও শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে। ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় কফিন।সাবেক এই মন্ত্রীর রাজনৈতিক জীবন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করে বক্তব্য দেন বিভিন্ন দলের নেতারা।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, ‘সাবেক মন্ত্রী মোশাররফ হোসেনের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন। রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়নে তিনি অনেক অবদান রেখেছেন। মিরসরাইয়ের সন্তান হলেও বৃহত্তর চট্টগ্রামের জন্য কাজ করে গেছেন।চট্টগ্রামের উন্নয়নে তাঁর অবদানের জন্য মানুষ তাঁকে স্মরণ করবেন।

উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান বলেন, ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা চিরদিন মনে রাখতে হবে। তিনি আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেছেন। সারাজীবন তার সঙ্গে রাজনীতি করেছি।’সাবেক সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘পাকিস্তান আমল থেকে উনার সাথে আমার স্মৃতি। চট্টগ্রামের উন্নয়নে অনেক উদ্যাোগ নিয়েছেন। তিনি কথা শুনতেন। চট্টগ্রামের ইতিহাসে মোশাররফ হোসেন এক অবিস্মরণীয় নাম হয়ে থাকবে।’

মোশাররফ হোসেনের সন্তান সাবেদুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন আইসিইউতে থাকার পর তিনি চলে গেছেন। উনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। দেশের উন্নয়নে উনি কাজ করেছেন। সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।’শ্রদ্ধা জানান সিপিবি নেতা মোহাম্মদ শাহ আলম, ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়ন গেরিলা বাহিনী, মীরসরাই অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।জানাজা অংশ নেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, সিপিবিসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা।

পরে মরদেহের কফিন অ্যাম্বুলেন্সে ওঠানোর পর হাজারো সহযোদ্ধা, রাজনৈতিক সহচর ও অনুসারীরা স্লোগান দিতে শুরু করেন। এ সময় ‘বীর চট্টলার মোশাররফ ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান শোনা যায়।নেতাকর্মীরা মরদেহবাহী গাড়ির সঙ্গে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠ থেকে বের হয়ে আসেন। এসময় পুলিশ সদস্যরা মাঠের মূল ফটকে দাঁড়িয়ে ছিল। অ্যাম্বুলেন্সটি মীরসরাইয়ের ধুম গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়।
মিরসরাইয়ে জানাজায় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মেজ ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব রহমান রুহেল বলেন, ‘আজ মিরসরাইবাসীর জন্য অনেক কষ্টের দিন।

দীর্ঘদিন আইসিইউতে থাকার পর আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে আমার বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আমার বাবা চট্টগ্রামের তথা মিরসাইয়ের উন্নয়নের জন্য আজীবন কাজ করে গেছেন। সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।’দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। কয়েকদিন ধরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে বুধবার (১৩মে) সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ওইদিনই বিকেল ৫টায় গুলশান আজাদ মসজিদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচিত খবর

চট্টগ্রাম কাস্টমসে নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেয়া ২২০ কন্টেইনার পণ্য বিক্রি হবে নিলামে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া ২২০ টি কন্টেইনার নিলামে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের জট নিরসনে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। সর্বমোট ১৩৭টি লটে ২২০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে। বিশেষ করে আমদানির পর নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া এসব কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে।এই নিলাম প্রক্রিয়া অনলাইনে (ই-অকশন) সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, পুরো মে মাস জুড়ে দরদাতাদের জন্য সরেজমিনে পণ্য পরিদর্শনের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে সর্বোচ্চ দরদাতাদের পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪ এর শর্তাবলী মেনে চলতে হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দরকে কন্টেইনার জটমুক্ত করতে এবং ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের নিলাম কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, আমদানিকৃত এসব পণ্য মাসের পর মাস বন্দরে পড়ে থাকায় একদিকে যেমন বন্দরের জায়গা দখল হয়ে আছে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আটকে রয়েছে। এতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সক্ষমতা কমছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে মে মাসে দুই ধাপে এই ই-অকশন অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিশেষ আদেশ অনুসারে ‘ই-অকশন-৪/২০২৬’-এর আওতায় ১২০টি লটে ১৬০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে।
এই তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরণের কেমিক্যাল, মেশিনারিজ, কাগজ, কাপড় (ফেব্রিক্স), গৃহস্থালির সামগ্রী এবং এসি পার্টস। বিশেষ বিষয় হলো, এই পণ্যগুলোর নিলামে কোনো সংরক্ষিত মূল্য থাকছে না। এই ধাপের দরপত্র আগামী ৯ জুন সকাল ১১টায় খোলা হবে। অন্যদিকে, স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী ‘ই-অকশন-৫/২০২৬’-এর আওতায় ১৭টি লটে আরও ৬০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে।

এর মধ্যে রয়েছে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, প্যাসেঞ্জার এলিভেটর, স্টিল স্ক্র্যাপ, গাড়ি এবং লবণ। এই ধাপের দরপত্র আগামী ১৪ মে দুপুর ৩টায় উন্মুক্ত করা হবে। নিলাম প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে। আগ্রহী ক্রেতারা ঘরে বসেই বাংলাদেশ কাস্টমসের অফিসিয়াল ই-অকশন পোর্টালে নিবন্ধন করে দরপত্র দাখিল করতে পারবে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ