আজঃ শুক্রবার ১ মে, ২০২৬

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের তত্তাবধায়ককে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শোকজ

মশিউর রহমান রাসেল ঝালকাঠি প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নির্বাচনকালীন সময়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত, সরকারী
দায়িত্ব পালনে অবহেলা করা, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ঢাকায় অবস্থান করায় ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. শামীম আহমেদকে শোকজ করা হয়েছে। বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল তাকে শোকজ করেন। ৬ জানুয়ারি ২৭.২৪-০০১ স্মারকে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কঠোর নির্দেশনা অমান্য করায় এ শোকজ দেয়া হয়েছে তাঁকে। ইতিপূর্বে তত্তাবধায়কের বিভিন্ন দুর্নীতি সম্পর্কে সংবাদ প্রকাশ করায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবার অজুহাতে নিজেকে সৎ দাবি করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন। এবার ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের আলোচিত সমালোচিত সেই তত্তাবধায়ক ডা. শামিম আহমেদকে শোকজ করেছে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। এবিষয়ে এখন তিনি কি বলবেন? এ প্রশ্ন এখন সর্বমহলে ঘুরপাক খাচ্ছে। তথ্যানুসন্ধানে জান যায়, সদর হাসপাতালের তত্তাবধায়ক শামিম আহমেদ গত ৭ জানুয়ারি
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কর্মস্থলে না থাকার উদ্দেশ্যে ৫ জানুয়ারি ঝালকাঠি ত্যাগ করেন। তিনি তার ভোটাধিকার প্রয়োগের কথা উল্লেখ করে ৩ দিনের ছুটির আবেদন করেন বিভাগীয় পরিচালকের কাছে। কিন্তু গত ৬ জানুয়ারি স্মারকের আবেদনে স্বাক্ষর করে ৫ জানুয়ারি কর্মস্থল ত্যাগ করেন। যদিও তিনি আবেদনে উল্লেখ করেন ৬ জানুয়ারি অফিস শেষে কর্মস্থল ত্যাগ করতে ইচ্ছুক। ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. এবিএম ইমাম হোসেনকে তত্তাবধায়কের দায়িত্ব দিয়ে যান। তত্তাবধায়কের দায়িত্ব প্রাপ্তির চিঠি কত তারিখ পেয়েছেন জানতে চাইলে ডা. ইমাম হোসেন জানান, ৬ জানুয়ারি মেইলে পেয়েছি। কার মেইল থেকে চিঠি পেলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি নিরব থাকেন।
বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানতে পেরে এর সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। এক পর্যায়ে তারা খোঁজ নিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক এ শোকজ দেন। কর্মস্থলে অনুপস্থিতির জন্য তত্তাবধায়ককে ৩ দিনের মধ্যে জবাব চেয়ে কারণ দর্শানোর চিঠিতে উল্লেখ করে বলা হয়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের কর্মস্থলে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। কিন্তু মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের এই কঠোর নির্দেশনা থাকলেও আপনি একটি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের প্রধান পদে থেকেও নির্বাচনের আগের দিন কর্মস্থল ত্যাগ করেন। যা অনভিপ্রেত ও গণকর্মচারী শৃংখলা আচরণ বিধি পরিপন্থি। তাই কেন এই সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন পত্র প্রাপ্তির ৩ দিনের মধ্যে বিনা ব্যর্থতায় জানাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. শামিম কর্মস্থলে যোগ দিয়ে কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিভিন্নভাবে হয়রানী ও শোকজ করে আসছেন। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন ভূয়া ভাউচারের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করছেন। এমনকি নিজের বাসভবনে অবৈধভাবে সরকারি এসি ব্যবহার, ডাক্তার কোয়াটারে তার সমর্থিত আউটসোর্সিং এর গাড়ি চালককে বসবাসের সুযোগ দেয়া, রংপুরে থাকাকালিন সেখান থেকে সরকারি ল্যাপটপ নিয়ে আসা, সরকার নির্ধারিত বাসা ভাড়া কর্তন না করা, নিজের স্বার্থে হাসপাতালের ঔষধ
ক্রয়ে ব্যর্থতার কারণে বরাদ্দ অর্থ ফেরত যাওয়া, বর্তমানে ঔষধের চরম সংট সৃষ্টি হওয়া, হাসপাতালের কোটি কোটি টাকার মেডিক্যাল সরঞ্জামাদি ক্রয়ে পছন্দনীয় ব্যক্তিকে কাজ দিতে ঝালকাঠির প্রত্রিকায় টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে ঝালকাঠির বাইরের পত্রিকায় চাপা বিজ্ঞপ্তি দেয়াসহ বিভিন্ন অনিয় দুর্নীতি কওে যাচ্ছেন তিনি। এসব সংবাদ বিভিন্ন দৈনিক ও প্রচার মাধ্যমে প্রকাশিত হলে তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার করে প্রতিবাদ জানিয়ে নিজেকে সৎ দাবি করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তত্ত¡াবধায়ক ডা. শামিম সরকার তথা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ইচ্ছানুযায়ী ছুটির কথা বলে কর্মস্থল ত্যাগ করেন। যার জন্য তাকে শোকজ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এবার তিনি কি বলবেন? এটাও কি সাংবাদিকদের মিথ্যা অপপ্রচার সেটা দেখার বিষয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দেড় মাসের শিশু নিয়ে কারাগারে যাওয়া মায়ের মুক্তি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিদ মুবিন রাতুলকে হত্যাচেষ্টার মামলায় দেড় মাসের মেয়েকে নিয়ে কারাগারে যাওয়া যুব মহিলা লীগের কর্মী শিল্পী বেগম জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।বুধবার বেলা ১২টার কিছু আগে কাশিমপুর কারাগার থেকে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। এসময় পরিবারের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।শিল্পীর আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী বলেন, গতকাল দুপুরে জামিন নামঞ্জুর করে শিল্পীকে কারাগারে পাঠানো হয়। সন্ধ্যায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করলে জামিন পান তিনি।

শিল্পীর স্বামী রহিম হোসেন সোহাগ বলেন-গরমে বাচ্চাটা একটু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ওর মা তো আগে থেকেই অসুস্থ। টেনশনের কারণে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছে।শিল্পী বেগম ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছে।

তেজকুনিপাড়ার রেলওয়ে কলোনি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।মঙ্গলবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।স্বজনরা সে সময় বলেছিলেন, গত ৪ মার্চ ঢাকার আদ-দ্বীন হাসপাতাল সি সেকশনের মাধ্যমে শিল্পীর সন্তানের জন্ম হয়। এর পর বাথরুমে পড়ে বাঁ হাত ভেঙে যায় শিল্পীর।

জামিন নাকচ হওয়ার পর শিল্পী বলেন-সিজারের কাটা জায়গায় এখনো ব্যথা করে। বাচ্চাকে ঠিকমত খাওয়াতে পারি না। ও তো মরে যাবে।দেড় মাসের শিশুকে নিয়ে কারাগারে মা’– এমন খবর প্রচারের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানামুখি আলোচনা শুরু হয়। সন্ধ্যায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান মানবিক দিক বিবেচনা করে শিল্পীকে জামিন দেন।

রাতুলের হত্যা চেষ্টা মামলার বিবরণে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চানখারপুল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিদ মুবিন রাতুল। সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান৷ সেখানে ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতা-কর্মী তাদের আক্রমণ করেন।

পরে আসামি শিল্পীর নির্দেশে ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় এজাহারভুক্ত আসামিরাসহ অচেনা ১২০/১৩০ জন ওই শিক্ষার্থীর তেজগাঁওয়ের বাসায় হামলা চালায়। বাসার আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্র ভাংচুর করায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। তিন লাখ টাকার বিভিন্ন মালামাল লুটপাট ও চুরি করে নিয়ে যান আসামিরা। শিল্পী ও অন্য আসামিরা ওই শিক্ষার্থীর বাবা সোহেল রানাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় গত বছরের ২৫ জানুয়ারি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ১০৩ জনের নাম উল্লেখ করে অচেনা ১২০/১৩০ জনকে আসামি করে শিক্ষার্থী রাতুলের মা শাহনুর খানম তেজগাঁও থানায় মামলা করেন।

গ্যাস সরবরাহ কম, জ্বালানি সংকট চাকা ঘুরছেনা চট্টগ্রামের ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্রের, চরম ভোগান্তি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় নগরের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে, ফলে ভ্যাপসা গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়, এমনকি দেখা দিয়েছে পানির সংকটও।জ্বালানি সংকটের কারণে এসব বিদ্যাৎকেন্দ্রগুলোর চাকা বন্ধ রয়েছে। যার ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। উৎপাদন কমে আসলেও গরমের কারণ বাড়ছে চাহিদা। ফলে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে বাড়ছে ভোগান্তি। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দিনে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা। নগরীর রাহাত্তারপুল এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, বৈশাখ মাসের গরমে বিদ্যুৎ ছাড়া টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।ফটিকছড়ির ব্যবসায়ী হামিদুল ইসলাম বলেন, দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। দোকানে অনলাইনভিত্তিক কাজ করতে হয়। বিদ্যুৎ ছাড়া কাজ করা যায় না। আমরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।পিডিবির চট্টগ্রাম নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহমিদা জামান জানান, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া ও জ্বালানি সংকটের কারণে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী লোডশেডিং কমবেশি হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র জানায়, গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২১১ দশমিক ২০ মেগাওয়াট। উৎপাদন হয় ১ হাজার ৩৫৩ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট। তবে এর মধ্যে ১৪২ দশমিক ৩০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করায় স্থানীয়ভাবে ৬৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়। এর আগে বেলা ১১টায় চাহিদা ছিল ১ হাজার ২৯১ দশমিক ৬০ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ১ হাজার ২০০ দশমিক ৭০ মেগাওয়াট। তখন লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯০ দশমিক ৯০ মেগাওয়াট।

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ১০টি কেন্দ্র উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। এর মধ্যে এনলিমা (১১৬ মেগাওয়াট), জুডিয়াক (৫৪ মেগাওয়াট), জুলধা-২ ও ৩ (প্রতিটি ১০০ মেগাওয়াট), রাউজান ১ ও ২ (প্রতিটি ২১০ মেগাওয়াট) এবং কক্সবাজারের উইন্ড প্ল্যান্ট উল্লেখযোগ্য। পিডিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার বেলা ১১টায় ১১টি ও সন্ধ্যা ৭টায় ১৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ছিল শূন্যের কোঠায়। এরমধ্যে ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্রে সকাল-সন্ধ্যা উৎপাদনের বাইরে ছিল। এর মধ্যে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র মাতারবাড়ী কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে সকালে কিছু উৎপাদন মিললেও সন্ধ্যায় তা শূন্যে নেমে আসে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র দুটি।

বর্তমানে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহ মূলত নির্ভর করছে কয়েকটি কেন্দ্রের ওপর। সন্ধ্যার হিসাব অনুযায়ী বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে ৬১২ মেগাওয়াট, শিকলবাহা কেন্দ্র থেকে ২১৮ মেগাওয়াট এবং মিরসরাইয়ের বি-আর পাওয়ার কেন্দ্র থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া গেছে।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ