কক্সবাজার:

নির্বাচন পূর্ব অস্থিরতার জন্য রামু বৌদ্ধ বিহারে আ*গুন : বিএনপি কর্মী গ্রে*প্তার।

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কক্সবাজারের রামু সদরের বৌদ্ধ বিহারে অ*গ্নিসংযোগের ঘটনাটি ‘নির্বাচন পূর্ব অস্থিরতার জন্য পরিকল্পিত না*শকতা’ দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অ*গ্নিসংযোগকারি যুবক গ্রে*প্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে নাশকতার বিষয়টি স্বীকারও করেছেন। গ্রেপ্তার করা যুবক বিএনপির সক্রিয় কর্মী এবং ২৮ অক্টোবরে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নাশকতায় সক্রিয় অংশ গ্রহণের প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, বৌদ্ধ বিহারে অগ্নিসংযোগের আগে এই যুবক যে ফোন নম্বরটি ব্যবহার করে ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগকে বিভ্রান্ত করেছে ওই ফোন সীমও উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. মাহাফুজুল ইসলাম।

গ্রে*প্তার যুবক মো. আবদুল ইয়াছির শাহজাহান (২২) রামু উপজেলার ফতেখারকুল ইউনিয়নের পূর্ব মেরুংলা এলাকার আবদুল করিমের ছেলে। আবদুল করিম ওই ইউনিয়নের বিএনপির নেতা বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মাহাফুজুল ইসলাম জানান, গত ৫ জানুয়ারি শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে রামু উপজেলা সদরের চেরাংঘাটাস্থ রাখাইন সম্প্রদায়ের দেড়শ বছরের পুরানো কাঠের তৈরী ‘উসাইচেন বৌদ্ধ বিহারে (বড় ক্যাং) আ*গুন দেয়া হয়। আ*গুনে বিহারটির কাঠের সিঁড়ির অংশ পুঁ*ড়ে গেলেও ব্যাপক ক্ষ*তি হয়নি। ঘটনার পর বিহারের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। একই সঙ্গে একটি নিদিষ্ট ফোন নম্বর থেকে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসকে ফোন করে জানানো হয় ঈদগড় বাজারে অ*গ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে দূত গাড়ি নিয়ে রওয়ানা হয় ফায়ার সার্ভিস। গাড়িটি জোয়ারিয়ানালা অতিক্রম করার পর একই ফোন নম্বর থেকে আবারও ফোন আসে। জানতে চাওয়া হয় কতদূরে রয়েছেন এবং তাড়াতাড়ি আসতে বলা হয়। অবস্থান ফোনের ব্যক্তিকে জানিয়ে দূত যাওয়ার হচ্ছে বলে জানানো হয়। কিন্তু ঈদগড় বাজারে পৌঁছার পর কোথাও আ*গুন দেখা যায়নি। এসময় নম্বরটিতে ফোন করা হলে ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফায়ার সার্ভিস ফিরে আসে। আ*গুন দেয়ার ঠিক আগ মূহুর্তে বিদ্যুৎ বিভাগেও ফোন করা হয় একই নম্বরটি থেকে। জানানো হয় রামু বড় ক্যাং এ আগুন লেগেছে বিদ্যুৎ বন্ধ না করলে আ*গুন ব্যাপকতা বাড়বে। বিদ্যুৎ বিভাগ কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেয়। একই সময়ে বিহারে প্রবেশ আগুন দেয়া হয়েছি।

পুলিশ সুপার জানান, সিসিটিভির ফুটেজ, ফোন নম্বর সহ নানা সূত্র ধরে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে শ*নাক্ত করা হয় এই যুবককে। এরপর গত মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম শহর থেকে গ্রে*প্তার করা হয় এই যুবককে। পরে ঘটনাস্থলে এসে যুবকের দেয়া তথ্য মতে উ*দ্ধার করা হয় সীমটিও।

পুলিশ সুপার মো. মাহাফুজুল ইসলাম বলেন, যে ফোন নম্বরটি ব্যবহার করা হয়েছে তার ভিন্ন কারও নামে রেজিষ্ট্রাড করা। নম্বরটি দীর্ঘদিন সচল থাকলেও ঘটনার দিনই ব্যবহার হয়েছে। যেখান থেকে ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগে ফোন করা হয়েছে। মুলত পূর্ব পরিকল্পনা মতে কেবল নাশকতায় ব্যবহারের জন্য এই সীমটি নেয়া হয়েছে। বিএনপির এই কর্মী বিভিন্ন সময় নাশকতার মুলক ঘটনা ঘটিয়েছে আসছে। যা সে নিজেই তার ফেসবুকে আপলোডও করেছে। রামুতে বিহারের ঘটনাটিও পরিকল্পিত। মুলত নির্বাচন পূর্ব সম্প্রদায়িক ঘটনা সূত্রপাত, বিদেশীদের মনযোগ আকর্ষণ এবং নির্বাচনে প্রতিবন্ধকতার জন্য এমন ঘটনাটি ঘটানো হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে শাহজাহান।

এক প্রশ্নের উত্তরে পুলিশ সুপার জানান, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মামলার আদালতে পাঠিয়ে ৭ দিনের রি*মান্ড চাওয়া হবে। রিমান্ড মঞ্জুর হলেই জিজ্ঞাসাবাদে জানা যাবে এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কিনা বা কারা জড়িত।

২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে রামুর ১২টি বৌদ্ধ বিহার, উপাসনালয়ে অ*গ্নিসংযোগ ও হা*মলা চালায় দু*র্বৃত্তরা। একইসঙ্গে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ৩০টি বাড়িত হামলা, লুটপাট ও অ*গ্নিসংযোগ করা হয়। হা*মলার ঘটনায় পুলিশের করা ১৮টি মামলার ৯ বছরে বিচার হয়নি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড স্থগিত থাকার পর ফের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু, অনুপস্থিত ১ হাজার ৮২৫

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সোমবার (২৭ জুলাই) পুনরায় শুরু হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির কারণে স্থগিত থাকার পর সোমবার সকালে শুরু হয়। পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পাঁচ জেলায় মোট ৭৭ হাজার ৫৫৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছেন ৭৫ হাজার ৭৩১ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ১ হাজার ৮২৫ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় প্রায় দুই সপ্তাহ পর পুনরায় এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। সব কেন্দ্রেই সার্বিক পরিস্থিতি ভালো ছিল।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত দৈনিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম দিনের পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে এক জন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন। সব মিলিয়ে ১১৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, চট্টগ্রাম জেলায় ৫৬ হাজার ৫৮৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছেন ৫৫ হাজার ৩৮৫ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ১ হাজার ২০২ জন এবং একজন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।কক্সবাজারে ৯ হাজার ৯২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ছিলেন ২৬৩ জন। রাঙামাটিতে ৩ হাজার ৯৬৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ১০৯ জন। খাগড়াছড়িতে ৫ হাজার ২১৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ১৫৪ জন এবং বান্দরবানে ২ হাজার ৬৯২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ছিলেন ৯৭ জন।

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু কেড়ে নিল আরও এক বৃদ্ধার প্রাণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ জনে। সোমবার জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নুরজাহান বেগম নামে ওই বৃদ্ধার মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়। এর আগে গত ১২ জুলাই ডেঙ্গুতে মরিয়ম বেগম (৩১) নামে এক নারীর মৃত্যু খবর দিয়েছিল সিভিল সার্জন কার্যালয়। এদিকে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সবাইকে আরও সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নগরীর পাঁচলাইশ এলাকার বাসিন্দা নুরজাহান বেগম গত ২৬ জুলাই মুমূর্ষু অবস্থায় নগরীর বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ডেঙ্গু ও উচ্চরক্তচাপজনিত জটিলতার কারণে ‘মাল্টি অর্গান ডিসফাংশন সিনড্রোম’ দেখা দেওয়ায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। জেলায় নতুন করে আরও ২৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে।

বর্তমানে চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৯৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন, যার মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ৭৭ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ২২ জন ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫৫ জনে।এর মধ্যে নারী আক্রান্তের সংখ্যা ১৯১ জন, যেখানে পুরুষ ৪৩৯ জন এবং শিশু ১২৫ জন। জুলাই মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এই এক মাসেই ৪৫৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ