আজঃ বৃহস্পতিবার ২৪ এপ্রিল, ২০২৫

বোয়ালখালীতে তল্লাশির নামে পুলিশ পরিচয় দিয়ে ডাকাতি

এম মনির চৌধুরী রানা

বিশ দিনের মাথায় পুলিশ পরিচয় দিয়ে আবার ও ডাকাতি হয়েছে বোয়ালখালীতে।প্রথমে বৌদ্ধ বিহারের মূল দরজার তালা ভেঙে পুলিশ পরিচয় দিয়ে বিহারের সেবক দীপক মারমাকে জিম্মি করে ডাকাতরা। তার (দীপক মারমা) মাধ্যমে বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীলপ্রিয় মহাথেরের কক্ষে গিয়ে তাঁকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আলমিরা ও সমস্ত জিনিসপত্র তছনছ করে টাকা ও মোবাইল নিয়ে নেয়।

এভাবে ক্রমান্বয়ে একে একে সব কক্ষ থেকে লুটপাট করে ডাকাতরা। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার ৪নং শাকপুরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বড়ুয়ার টেক এলাকার প্রজ্ঞাবংশ বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাতরা বিহারের লোকজনদেরকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আলমিরা থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা, আসনের ভিতরে থাকা দানবাক্সের টাকা, আইপিএস ব্যাটারি, ভান্তের মোবাইল ও দানের স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। বিহারের সেবক দীপক মারমা বলেন, আমরা ৪ জন ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলাম।

রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে বিহারের মূল দরজার তালা ভেঙে ডাকাতরা ভিতরে প্রবেশ করে।তারপর আসনের ভিতরে থাকা দানবাক্স বের করে তালা ভেঙে টাকা-পয়সা নিয়ে নেয়। এরপর তারা আমার ঘরের দরজা ভেঙে প্রবেশ করে এবং আমাকে বলে তারা নাকি পুলিশের লোক। তারা সংখ্যায় ৪ জন। তাদের হাতে অস্ত্র ছিল। ৪ জনের মধ্যে একজন মুখোশ পড়া অবস্থায় ছিল। তারা আমাকে জিম্মি করে ভান্তের ঘরে নিয়ে যায় এবং বলে যে, আমি যেন ভান্তের দরজা খুলতে বলি। প্রথমে বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীলপ্রিয় মহাথেরের কক্ষে নিয়ে যায়।

সেখানে তাঁকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কক্ষে থাকা আলমিরা ও সমস্ত জিনিসপত্র এলোমেলো করে তল্লাশির নাম করে টাকা, মোবাইল নিয়ে নেয়। বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীলপ্রিয় বলেন, আমার ঘর তছনছ করার পর অস্ত্রের মুখে আমাকে জিম্মি করে উপাধ্যক্ষ আনন্দ ভিক্ষুর কক্ষে যায় ডাকাতরা। একই কায়দায় দরজা খুলতে বলে উপাধ্যক্ষের। তারা উপাধ্যক্ষের কক্ষে আলমিরায় ইয়াবা আছে বলে তল্লাশি করতে থাকে।সেখানে থাকা টাকা ও দানীয় স্বর্ণালংকার নিয়ে নেয় ডাকতরা। পরে ডাকাতদল যাওয়ার সময় সবাইকে একটি কক্ষে নিয়ে দরজা আটকে দিয়ে চলে যায়। আধা ঘণ্টার মধ্যে তারা ডাকাতি করে চলে যায়।

বোয়ালখালী থানার উপ-পরিদর্শক মো. মুসা বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।
এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর শুক্রবার একই কায়দায় রাত দেড়টার দিকে উপজেলার একই ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড শাহ আমানত ভবনে পুলিশ পরিচয় দিয়ে ডাকাতি হয়েছিল।এ সময় ডাকাতের দল ৭ টি বাসা থেকে বেশ কয়েকটি মোবাইল, চার ভরি স্বর্ণসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। এতে সাত পরিবারের প্রায় ১০/১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বোয়ালখালীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হনুমান উদ্ধার,চকরিয়া সাফারি পার্কে অবমুক্ত

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী পৌর সদরের গোমদণ্ডী ফুলতল মোড়ে লোকালয়ে ঢুকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছে একটি মুখপোড়া হনুমান। আজ শনিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। হনুমানটি আহত অবস্থায় সড়কে পড়ে গেলে স্থানীয় দুই যুবক মো. মুন্না ও ফয়সাল তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান বোয়ালখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে।

মুন্না জানান, হনুমানটি সকাল থেকে ভবনের ছাদ ও গাছে লাফালাফি করছিল। দুপুরের দিকে একটি গাছ থেকে ছাদে লাফ দিতে গিয়ে বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিচে পড়ে যায়। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপ-সহকারী কর্মকর্তা এসএম সাইদুল আলম সাঈদ বলেন, “হনুমানটির আংশিক লোম পুড়েছে, তবে গুরুতর জখম হয়নি। তাকে স্যালাইন দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং এখন অনেকটাই সুস্থ।

পরে বন বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বনবিভাগের চট্টগ্রাম সদর রেঞ্জার মুহাম্মদ ইসমাইল হোসাইন জানান, “এটি একটি মুখপোড়া হনুমান, যা প্রায় বিলুপ্তির পথে। প্রাণিটিকে চকরিয়া সাফারি পার্কে পাঠানো হবে, যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকবে।”তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের উদ্ধার ও চিকিৎসা উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মুন্না ও ফয়সালকে ধন্যবাদ জানাই তাদের মানবিকতার জন্য।”

কালিয়াকৈরে পৌর বজ্রের দখলে আঞ্চলিক সড়ক শালবন মানুষের দুর্ভোগ।

গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভা দেশের উন্নত পৌরসভার তালিকায় থাকলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় রয়েছে চরম অব্যবস্থা।

সোমবার (২১এপ্রিল) সরেজমিনে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, কিছু এলাকায় ডাম্পিং ব্যবস্থাপনা থাকলেও তা সঠিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে না। নজরদারির অভাবে শহরের সড়ক, ফুটপাত ও শালবন আবাসিক এলাকা ক্রমশই পরিণত হচ্ছে ময়লার ভাগাড়ে।

পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মাটিকাটা এলাকার সফিপুর-বড়ইবাড়ী আঞ্চলিক সড়কে দেখা গেছে, দিন-রাত সেখানে ফেলা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য। নির্দিষ্ট ডাম্পিং জোন থাকা সত্ত্বেও তা এড়িয়ে ঠিকাদাররা সড়কের ওপরেই ময়লা ফেলছেন, ফলে যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পঁচা দুর্গন্ধযুক্ত ময়লার কারণে এ সড়ক দিয়ে পায়ে হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়েছে। যানবাহন চলাচলেও সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ ভোগান্তি। দুর্গন্ধে আশেপাশের বাড়িঘরেও অবস্থান করা দায় হয়ে পড়েছে। কখনো কখনো রাস্তা এতটাই ময়লায় ভরে যায় যে, পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় চলাচল।

একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কালামপুর পূর্বপাড়া এলাকায়। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে মহল্লার প্রবেশপথে সরকারি শালবনের জমিতে দীর্ঘদিন ধরে অবাধে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে একদিকে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে চলাচলেও তৈরি হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা।

এছাড়াও কালিয়াকৈর হাইটেক সিটির পাশে বাংলাদেশ ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির প্রস্তাবিত ভবনের জমিও দীর্ঘদিন ধরে আবর্জনায় সয়লাব হয়ে রয়েছে।

নয়টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত কালিয়াকৈর পৌরসভায় কয়েক লাখ মানুষ বসবাস করে। আবাসিক এলাকার বর্জ্য অপসারণে পৌর কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অভাব দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয়দের ক্ষোভ ও হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল আলম তালুকদার বলেন, বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। আজ থেকেই অতিরিক্ত পরিবহন সংযুক্ত করে ময়লা অপসারণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কালিয়াকৈর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার আহমেদ বলেন, নাগরিক ভোগান্তির বিষয়টি আমরা অবগত। পৌর এলাকায় অব্যবস্থাপনার ইঙ্গিত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। শহরের পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজন হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের লক্ষ্য পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব কালিয়াকৈর গড়ে তোলা।

আলোচিত খবর

কালিয়াকৈরে ”হোপ ফর চিলড্রেন” এর উদ্যোগে বিনামূল্যে বীজ ও চারা বিতরণ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কালামপুর মডেল পাবলিক স্কুল মাঠে সোমবার সকালে
বিলিভার্স ইষ্টার্ন চার্চ কতৃক পরিচালিত হোপফর চিলড্রেনের উদ্যোগে ৭০ জন রেজিস্টার শিশুদের পরিবার ও উপকারভোগীদের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন প্রকারের বীজ, সার ও চারা বিতরণ করা হয়েছে।
বিলিভার্স ইস্টার্ন চার্চ এর ডিকন জয়দেব বর্মনের সভাপতিত্বে ও হোপ ফর চিলড্রেনের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর বাপ্পি খৃষ্টদাস এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হোপ ফর চিলড্রেন এর ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সজীব ত্রিপুরা, বিশেষ অতিথি ছিলেন ন্যাশনাল সিএস কো-অর্ডিনেটর তপানা ত্রিপুরা,উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শওকত হোসেন,বিশিষ্ট সমাজসেবক শাহ আলম হোসেন।
এসময় প্রধান অতিথি বলেন হোপফর চিলড্রেন শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিয়ে কাজ করছে। কালামপুর গ্রামে রেজিস্ট্রার শিশু ও গরীব শিশুরা যাতে পুষ্টিকর খাবার পায় তার জন্য হোপ ফর চিলড্রেনের মাধ্যমে বাড়ির আঙিনায় শাক-সবজি চাষের জন্য বীজ বিতরন করা হয়েছে।
বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানের প্রশিক্ষণ প্রদান করে

আরও পড়ুন

সর্বশেষ