
চট্টগ্রাম ১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও কল্যাণে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে জীবন বাজি রেখে লড়াই করা শহীদদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ দেশ নতুন বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই শহীদ পরিবারগুলোর সম্মান, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।
রোববার দুপুরে নগরীর পাহাড়তলীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প, ওষুধ বিতরণ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাঈদ আল নোমান বলেন, “যেখানে একজন মা তাঁর সন্তানকে হারিয়েছেন, একজন সন্তান তাঁর বাবাকে হারিয়েছে, একটি পরিবারের স্বপ্ন চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়েছে সেখানে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো তাদের পাশে দাঁড়ানো। আমরা এমন কোনো কাজ করব না, যাতে শহীদ পরিবারগুলো কষ্ট পায় বা নিজেদের অবহেলিত মনে করে।”
তিনি আরও বলেন, সুখী, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে শহীদ পরিবারগুলোর যথাযথ মূল্যায়নের কোনো বিকল্প নেই। তাদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে না পারলে সেটিই হবে সবচেয়ে বড় অবিচার। তিনি উল্লেখ করেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ পরিবারগুলোর কল্যাণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। তাঁর মানবিক নেতৃত্ব, বিনয়ী আচরণ ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দর্শন ইতোমধ্যে মানুষের হৃদয়ে গভীর আস্থা সৃষ্টি করেছে।”
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েই থেমে থাকেননি; তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের স্বপ্ন নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। ঘাতকের বুলেট তাঁর জীবন থামিয়ে দিলেও তাঁর স্বপ্ন থেমে থাকেনি। আজ সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমান।”
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সাঈদ আল নোমান বলেন, রাজনীতির মূল শক্তি সততা, বিনয় ও জনসেবা। মুখে বড় বড় কথা বলে নয়, মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে, সেবার মাধ্যমে এবং আদর্শিক আচরণের মধ্য দিয়েই প্রকৃত রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, “চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রাজনীতি করা যায় না। মানুষের বন্ধু হয়ে, মানুষের আস্থা অর্জন করেই রাজনীতি করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “তারেক রহমান যে মানবিক ও গণমুখী রাজনৈতিক দর্শন সামনে এনেছেন, সেই দর্শনের বিপরীতে যে দাঁড়াবে, আমি তার বিপরীতেই অবস্থান নেব। নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য আমি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করেই আমরা একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।”
অনুষ্ঠানে সাঈদ আল নোমান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ওমর ফারুক ও ওয়াসিম আকরাম-এর পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের হাতে প্রতি পরিবারকে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। এছাড়া তিনি মেডিকেল ক্যাম্প, বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক চিত্রপ্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাহাড়তলী থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাজ্বী বাবুল হক। সরাইপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সচিব ফখরুল ইসলাম রাজু-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এস কে খোদা তোতন, পাহাড়তলী থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন জিয়া, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মেহেদী, শহীদ ওয়াসিমের বাবা শহীদুল আলম এবং শহীদ ফারুকের স্ত্রী সীমা আক্তার।
ফারুক উদ্দিন খাঁনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দিদারুল রহমান সুমন, খাজা আলাউদ্দিন, মজিবুল হক মজু, নূর আহমদ গুড্ডু, দিদারুল ফেরদৌস, ফজলুল হক সুমন, সাইফুল আলম, নূর সেলিম বাঙালী, আব্দুর রহিম, শওকত আলম রাজু, খালেদা বোরহান, মোহাম্মদ জাফর, তানভীর মল্লিক, কুতুব উদ্দিন, হাজী জহুর মিয়া, এনামুল কবির ও আলী রেজাসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।