২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮৬ জন নিহত, আহত ১০৫৪

ডেস্ক নিউজ:

যাত্রী কল্যাণ সমিতি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে দেশের গণমাধ্যমে ৫২১ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮৬ জন নিহত, ১০৫৪ জন আহতের তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (পঙ্গু হাসপাতালে) ১১৫৩ জন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৭২ জন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৭১ জন, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৫৮ জন, নারায়ণগঞ্জে খানপুর হাসপাতালে ৪২০ জনসহ মোট ৩৩৭৪ জন যাত্রী ও পথচারী সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে জরুরী বিভাগে ভর্তি হয়েছে। সেই হিসেবে হাসপাতালের তথ্যসহ আহত রোগীর সংখ্যা ৪৪২৮ জন। এই মাসে রেলপথে ৪৪ টি দুর্ঘটনায় ৪২ জন নিহত, ২১ জন আহত হয়েছে। নৌ-পথে ০৭ টি দুর্ঘটনায় ০৬ জন নিহত, ১৩ জন আহত এবং ০৩ জন নিখোঁজ রয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সর্বমোট ৫৭২ টি দুর্ঘটনায় ৫৩৪ জন নিহত এবং ৪৪৬২ জন আহত হয়েছে। এই সময়ে ১৬৪ টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭০ জন নিহত, ১৭৩ জন আহত হয়েছে। যা মোট দুর্ঘটনার ৩১.৪৭ শতাংশ, নিহতের ৩৪.৯০ শতাংশ ও আহতের ১৬.৪১ শতাংশ। এই মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে ঢাকা বিভাগে ১২৩ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১১৭ জন নিহত ও ২৭০ জন আহত হয়েছে, সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে বরিশাল বিভাগে ৩৩ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ১২৫ জন আহত হয়েছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি রবিবার সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবেদন তুলে ধরে সংগঠনটি। দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সড়ক, রেল ও নৌ পথের দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ১৪ জন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১৩৩ জন চালক, ৭৪ জন পথচারী, ২৪ জন পরিবহন শ্রমিক, ৬৯ জন শিক্ষার্থী, ০৬ জন শিক্ষক, ৭৫ জন নারী, ৫১ জন শিশু, ০৩ জন সাংবাদিক, ০১ জন চিকিৎসক , ০১ জন আইনজীবী, ০১ জন প্রকোশলী, ০৩ জন মুক্তিযোদ্ধা, এবং ১৩ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় মিলেছে। এদের মধ্যে নিহত হয়েছে- ০৩ জন পুলিশ সদস্য, সেনা বাহিনী ০১, বিমান বাহিনী ০১, ০১ জন চিকিৎসক , ০১ জন আইনজীবী, ০৩ জন মুক্তিযোদ্ধা, ০১ জন প্রকোশলী, ৯৬ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৬৯ জন পথচারী, ৪৭ জন নারী, ৩৮ জন শিশু, ২৯ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন পরিবহন শ্রমিক, ০৬ জন শিক্ষক, ও ০৯ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।

এই সময় সড়ক দুর্ঘটনায় সংগঠিত ৭২৭ টি যানবাহনের পরিচয় মিলেছে। এতে দেখা যায়, ২৫.১৭ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৫.৯৯ শতাংশ ট্রাক-পিকাপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১১.৫৫ শতাংশ বাস, ১৫.৮১ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও ইজিবাইক, ৪.৮১ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিক্সা, ১০.৫৯ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা, ৬.০৫ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।

সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৫১.৬৩ শতাংশ গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা, ২২.৪৫ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৪.৫৮ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ১০.৩৬ শতাংশ বিবিধ কারনে, চাকায় ওড়না পেছিয়ে ০.৫৭ শতাংশ, এবং ০.৩৪ ট্রোন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ মাসে সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৩৩.৯৭ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ১৭.০৮ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ৪১.৪৮ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়াও সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৫.৭৫ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০.৯৫ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ০.৩৪ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংগঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ মতে, জানুয়ারি মাসে সড়ক দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য কারণসমূহ :
১. ট্রাফিক আইনের অপপ্রয়োগ, দুর্বল প্রয়োগ, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনিয়ম দুর্নীতি ব্যাপক বৃদ্ধি।
২. মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও তিন চাকার যানের ব্যাপক বৃদ্ধি ও এসব যানবাহন সড়ক মহাসড়কে অবাধে চলাচল।
৩. সড়ক-মহাসড়কে রোড সাইন বা রোড মার্কিং, সড়কে বাতি না থাকা । রাতের বেলায় ফক লাইটের অবাধ ব্যবহার।
৪. সড়ক-মহাসড়কে নিমাণ ক্রটি, ফিটনেস যানবাহন ও অদক্ষ চালকের হার ব্যাপক বৃদ্ধি।
৫. ফুটপাত বেদখল, যানবাহনের ত্রুটি, ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা।
৬. উল্টোপথে যানবাহন চালানো, সড়কে চাদাঁবাজি।
৭. অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, বেপরোয়াভাবে যানবাহন চালানো।

সংগনটি দুর্ঘটনার প্রতিরোধে ৮ দফা সুপারিশ পেশ করেছে –
১. রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে প্রাথমিক উৎস থেকে সড়ক দুর্ঘটনার পুর্নাঙ্গ ডাটা ব্যাংক চালু করা।
২. স্মার্ট গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকের মতো ছোট ছোট যানবাহন আমদানী ও নিবন্ধন বন্ধ করা।
৩. দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ গ্রহন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে যানবাহনের ফিটনেস প্রদান।
৪. রাতের বেলায় বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল চালকদের রিফ্লেক্টিং ভেস্ট পোশাক পরিধান বাধ্যতামূলক করা।
৫. সড়কে চাদাঁবাজি বন্ধ করা, চালকদের বেতন ও কর্মঘন্টা সুনিশ্চিত করা।
৬. রাতের বেলায় চলাচলের জন্য জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে পর্যাপ্ত আলোক সজ্জার ব্যবস্থা করা।
৭. ব্লাক স্পট নিরসন করা, সড়ক নিরাপত্তা অডিট করা, স্টার মানের সড়ক করিডোর গড়ে তোলা।
৮. দেশে সড়কে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ঠেকাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএ’র চলমান গতানুগতিক কার্যক্রম অডিট করে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা চিহ্নিত করা, প্রাতিষ্ঠানিক অকার্যকারিতা সংস্কার করা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনে প্রতিমন্ত্রী, বৃক্ষ রেপন ও স্টেশনের কার্যক্রম পরিদর্শন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রেল ও সড়ক পথের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব হাবিবুর রশিদ হাবিব আকস্মিক সফরে কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং স্টেশন এলাকার সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
স্টেশনে পৌঁছালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক ও কর্মচারী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. মমিনুল ইসলাম মামুন মাননীয় প্রতিমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব লুৎফুর রহমান কাজল, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব), প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব) এবং রেলওয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।সফরকালে প্রতিমন্ত্রী কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনের পরিবেশ, অবকাঠামো এবং চলমান কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বারোপ করা হয়।

চট্টগ্রাম মহানগরের ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক পয়েন্টে দেখা যাচ্ছেনা ৩৬ ট্রাফিক সহায়ক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ট্রাফিক সহায়তাকারী গ্রুপ (ট্যাগ)-এর কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে। যার ফলে নগরের যানজট নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নতুন করে আবারো চাপ তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অর্থ সংকটের কারণে ট্রাফিক সহায়তাকারী গ্রুপ (ট্যাগ)-এর এমন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। যার ফলে নগরের ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছেন না ৩৬ জন ট্যাগ সদস্য। তবে ট্রাফিক পুলিশ বলছেন, এই পরিস্থিতিতে সিএমপির নিজস্ব জনবল দিয়েই চলবে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহায়ক সদস্যদের সম্পৃক্ততা ইতিবাচক ভূমিকা রেখে আসছিল। তাদের কার্যক্রম সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু বাজেট সংকটের কারণে তাদের কার্যক্রম হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ট্রাফিক পুলিশকে যানজট নিরসনে বেগ পেতে হবে।

এদিকে কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পরপরই সেবা পুনরায় চালুর দাবিতে সরকারের উচ্চপর্যায়, পুলিশ সদর দপ্তর ও সিএমপি কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন ট্যাগ সদস্যরা। আবেদনে তারা উল্লেখ করেন, সংকটময় সময়ে পুলিশের সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে নগরের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাই মানবিক ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে কার্যক্রম পুনর্বহাল এবং সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতিতে যখন নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ সংকটে পড়ে, তখন শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত ট্রাফিক সহায়তাকারী গ্রুপ মাঠে নামে। এরপর থেকে ট্রাফিক কনস্টেবল, সার্জেন্ট, ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
ট্রাফিক সহায়তাকারীদের দাবি, আয়তনের তুলনায় চট্টগ্রাম নগরে প্রয়োজনীয় সড়ক না থাকায় প্রতিদিনই তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। বন্দর নগরীর অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নগরের ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করে যানজট নিয়ন্ত্রণ, পথচারী ও চালকদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন করা এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করেছেন তারা।

আবেদনে দাবি করা হয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে তারা প্রায় ১৭ হাজারের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা আটক করে ডাম্পিংয়ে পাঠাতে ট্রাফিক বিভাগকে সহায়তা করেছেন। এছাড়া ট্রাফিক আইন ভঙ্গের দায়ে ৭ হাজারের বেশি যানবাহন আটক এবং ৯ হাজারেরও বেশি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছেন। একই সময়ে বিভিন্ন ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে ১৫০ জনের বেশি মোবাইল চোর ও ছিনতাইকারীকে আটক করে সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের সহিংসতার ঘটনায় দায়ের হওয়া অন্তত আটটি হত্যা মামলার সাক্ষী হিসেবে ট্যাগ সদস্যরা আদালতে সাক্ষ্য দিচ্ছেন। ফলে তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে তারা নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ট্যাগ সদস্যদের দাবি, তাদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে তৎকালীন সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর পুলিশ অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৮-এর ১০ ধারা অনুযায়ী সহায়ক পুলিশ হিসেবে নিয়োগের বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে একটি প্রস্তাব পাঠান। ওই আবেদনের সঙ্গে ৩৬ জন সদস্যের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকাও সংযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বিষয়টি প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

ট্যাগ সদস্যদের পক্ষে ইনচার্জ মো. আজিম উদ্দিন ছিদ্দিকী বলেন, আমরা শুরু থেকেই জনস্বার্থে পুলিশের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দায়িত্ব পালন করেছি। শুধু ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ নয়, অপরাধী ধরতেও সহযোগিতা করেছি। আজ অর্থ সংকটের কারণে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেল। কিন্তু এতে শুধু আমরা নই, নগরবাসীও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।তিনি বলেন, আমরা সবাই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী। এখানে যে সম্মানী পেতাম, তা দিয়েই পড়াশোনার খরচ ও পরিবারকে সহায়তা করতাম। এখন কার্যক্রম বন্ধ হওয়ায় অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়বেন। তাই সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রকল্পটি পুনরায় চালু করা হোক।

অন্যদিকে লিখিত আবেদনে ট্যাগ সদস্যরা পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে- মামলার সাক্ষী হওয়ায় সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ট্রাফিক সহায়তাকারী কার্যক্রম পুনরায় চালু রাখা, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও নগরবাসীর সেবার স্বার্থে প্রকল্প অব্যাহত রাখা, আর্থিক সংকটে শিক্ষাজীবন ব্যাহত না হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা এবং নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় আগের মতো দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া।

সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া বলেন, ট্রাফিক সহযোগী সদস্যরা মূলত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে তাদের সম্মানী, ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক বিষয় জড়িত রয়েছে। এ কারণে আপাতত ট্যাগ সদস্যদের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এখন সিএমপির নিজস্ব জনবল দিয়েই ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা হবে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ