আজঃ বুধবার ১৭ জুন, ২০২৬

তানোরে ফের শতবর্ষী কড়ই গাছ নিধন

আলিফ হোসেন,তানোরঃ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজশাহীর তানোরে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) তানোর জোনের সহকারী প্রকৌশলী কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ফের তাজা প্রায় শতবর্ষী বয়সী কড়ই গাছ গোপণে নিলাম দেবার অভিযোগ উঠেছে। কোনো ঢোলশহরত, নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বা মাইকিং করা হয়নি।
গত শুক্রবার উপজেলার তালন্দ ইউনিয়নের (ইউপি) মোহর গ্রামের ঘোড়াডুবি মোড়ে এই গাছ কাটার ঘটনা ঘটেছে। এদিকে কালের স্বাক্ষী বহু স্মৃতি বিজড়িত কড়ই গাছ কাটায় জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে গোপণে একের পর এক গাছ নিলামের ঘটনায় জনমনে মিশ্রপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে, উঠেছে সমালোচনার ঝড়, বইছে মুখরুচোক নানা গুঞ্জন। গ্রামের বাসিন্দা, মাসুদ আলী ও মুকলেসুর রহমান বলেন, তারা এবিষয়ে অধিকতর তদন্তের দাবি করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, রাস্তায় ট্রাক যাতায়াতে সমস্যা হয় এমন কথিত অভিযোগে কালের স্বাক্ষী এই কড়ই গাছ কাটা হয়েছে। অথচ যদি সেটাই হয় তাহলে গাছের একটি ডাল কাটলেই সমস্যার সমাধান হতো।
কিন্তু সেটা না করে শহরের এক ব্যক্তির কাছে গোপণে পুরো গাছ বিক্রি করা কতটা যুক্তিযুক্ত সেটা অবশ্যই অধিকতর তদন্তের দাবি রাখে। গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠরা বলেন,
খরা মৌসুমে এই গাছের ছায়াতলে বসে শ্রমিকরা বসে একটু আরাম করতো। একটা গাছ সহজেই কাটা যায়। কিন্তু প্রায় বছর ধরে গাছটি পরিচর্যা করে আসছিল গ্রামের সাধারণ মানুষ। স্বাধীনতা যুদ্ধের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে ছিলো এই কড়ই গাছে। তারা বলেন,এতো বড় গাছ যদি কোনো কারনে কাটতেই হয় তাহলে তো ঢাক ডোল পিটিয়ে প্রকাশ্যে নিলাম দিলে সরকারের ঘরে বড় অঙ্কের অর্থ জমা হতো। তা না করে নামমাত্র মুল্য গাছটি গোপণে নিলাম দেয়া হলে কার স্বার্থে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তালন্দ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন বাবু বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক তিনি ইউপির চেয়ারম্যান অথচ তাকেও একটি কথা বলা হয়নি। সব কিছুই বরেন্দ্র করেছে। তিনি বলেন, তাদের জানানো হলে তারা নায্যমুল্য গাছটি কিনে এলাকার মসজিদের উন্নয়ন কাজ করতে পারতেন।এবিষয়ে
বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী কামরুজ্জামানের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি, এমনকি সাংবাদিক পরিচয়ে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া দেননি।
প্রসঙ্গত, ফেব্রুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহে উপজেলার তানোর-কলমা রাস্তার আজিজপুর একটি তেঁতুল গাছ, অমৃতপুর তেঁতুলতলা একটি তেঁতুল
গাছ ও দরগাডাঙা হাটে একটি কড়ই গাছ। তাজা ও পরিপক্ব এসব গাছ ঝুঁকিপুর্ণ দেখিয়ে
নামমাত্র মূল্য গোপণে নিলাম দেয়া হয়েছিল। কিন্ত্ত শতবর্ষী এসব গাছ কাটার সময় বিষয়টি স্থানীয় সাংসদের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি গাছ কাটা বন্ধ করে দিয়েছেন। স্থানীয় সাংসদের এমন পদক্ষেপের সচেতন মহল ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বোয়ালখালীতে চার জনকে কারাদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বোয়ালখালীতে মদপান করে মাতলামির অভিযোগে ৪ জনকে জরিমানাসহ ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে উপজেলার ফুলতল এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা।

অভিযান চালিয়ে পূর্ব গোমদণ্ডী দাসপাড়ার মৃত সুবল বড়ুয়ার ছেলে মৃণাল বড়ুয়া (৪৭), মৃত আবুল কালামের ছেলে মো. ওসমাণ গণি (৪৭), কধুরখীল এলাকার মৃত লাল মিয়ার ছেলে ইনতাজুর রহমান (৩৫) এবং পূর্ব কালুরঘাট এলাকার মৃত আইয়ুব মিয়ার ছেলে মো. ইকবালকে (৩২) আটক করা হয়। অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ‘খ’ সার্কেলের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কানিজ ফাতেমা জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮–এর ৩৬(৫) ধারা অনুযায়ী চারটি পৃথক মামলায় প্রত্যেককে ৫০ টাকা করে মোট ২০০ টাকা জরিমানা এবং ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে আফরোজা আব্বাসকে নিয়োগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসকে হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আজ মঙ্গলবার ১৬ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আফরোজা আব্বাসকে জাতীয় মহিলা সংস্থা আইন, ১৯৯১ এর ধারা-৮(১) এবং ধারা-৮ (২) অনুযায়ী যোগদানের তারিখ থেকে নিম্নবর্ণিত শর্তে জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো।

এতে আরও বলা হয়, যোগদানের তারিখ হতে চেয়ারম্যানের কার্যকাল পরবর্তী দুই বছরের জন্য বলবৎ থাকবে; তবে উক্ত মেয়াদ সমাপ্তির পূর্বে সরকার ইচ্ছে করলে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবে। তিনিও সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রে যেকোনো সময় স্বীয় পদ ত্যাগ করতে পারবেন। এ নিয়োগ অবৈতনিক।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ