আজঃ বুধবার ১৭ জুন, ২০২৬

অবশেষে কারাগারে সোনালী লাইফের বরখাস্ত সিইও রাশেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অর্থ আত্মসাতের মামলায় দেশের পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটডের বরখাস্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মীর রাশেদ বিন আমানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
কোম্পানির পক্ষ থেকে দায়ের করা অর্থ আত্মসাতের এই মামলায় জামিনে ছিলেন রাশেদ বিন আমান। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় মঙ্গলবার (৫ মার্চ) তিনি আদালতে উপস্থিত হয়ে পুনরায় জামিন আবেদন করেন। তবে আদালত সে আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর তাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

রাশেদের দুর্নীতির ফিরিস্তি দেখে হতবাক তদন্ত কমিটি

কোম্পানির তহবিল থেকে অর্থ লোপাটসহ বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে গত কয়েকদিন ধরেই আলোচনায় সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।অর্থ আত্মসাৎ ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগে কোম্পানিটির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মীর রাশেদ বিন আমানকে বরখাস্ত করেছে সোনালী লাইফের পরিচালনা পর্ষদ।

অর্থ লোপাটের অভিযোগে মীর রাশেদ বিন আমানকে প্রধান আসামি করে কোম্পানির পক্ষ থেকে করা হয়েছে মামলা। রামপুরা থানায় দায়ের করা মামলায় তার বিরুদ্ধে জারি হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। তার বিরুদ্ধে অর্থপাচারের মাধ্যমে বিদেশে বাড়ি-গাড়ি কেনারও অভিযোগ উঠেছে। দেশেও কিনেছেন বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট। কোম্পানির কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজের পক্ষে কাজ করতে বাধ্য করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।রাশেদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কোম্পানির বোর্ড সভায় আভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কৃর্তপক্ষ। তদন্তে নেমে মীর রাশেদে বিন আমানের দুর্নীতির খতিয়ান দেখে রীতিমত আঁৎকে উঠেছে তিন সদস্যের কমিটি। বেনামী শেয়ার কিনে বোর্ডে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা, আত্মীয় স্বজনদের নামে শেয়ার কেনা, মিথ্যা পলিসি করা, কোম্পানির টাকা থেকে নগদ উত্তোলন করে তাদের প্রিমিয়াম জমা দেওয়া, গ্রুপ পলিসির টাকা আত্মসাৎ, টার্ম লোন ক্লোজড ও এসওডি ক্লোজড এর নামে টাকা আত্মসাৎ, বেতনের অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন, কোম্পানির টাকায় নিজের নামে একাধিক দামি বাড়ি ও গাড়ি কেনা, কোম্পানির টাকায় দ্বিতীয় স্ত্রীর স্বজনদের নিয়ে দেশে বিদেশে ভ্রমণ, কোম্পানির টাকায় নিজের নামে জমি কেনা, ব্যক্তিগত লোন পরিশোধ, কোম্পানির একাধিক নারীর সঙ্গে রাশেদের অবৈধ সম্পর্ক, চাপ প্রয়োগ করে কোম্পানির অধঃনস্ত কর্মীদের অন্যায় কাজে সহযোগিতা করতে বাধ্য করা, অবৈধভাবে কমিশন গ্রহণ, নিজের অপরাধ ঢাকতে টাকার বিনিময়ে নিজের পক্ষে সংবাদ প্রকাশ, নিজের অপরাধ ঢাকতে কোম্পানির চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের নামে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে মিথ্যা অভিযোগ, দখলবাজীসহ নানা তথ্য উঠে এসেছে।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ২৭ জুন মীর রাশেদ বিন আমান কোম্পানি থেকে অবৈধভাবে এক কোটি টাকা ও ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন করে নিজ অ্যাক্যাউন্টে জমা ও আত্মসাত করেন।তদন্ত কমিটি আরও বলছে, মীর রাশেদ বিন আমান কোনো প্রকার বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বেতনের বাইরে কোম্পানি থেকে নিজের বিভিন্ন ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ২০২০ সালে ৩ কোটি ৯৯ লাখ, ২০২১ সালে ৬ কোটি ৯৫ হাজার, ২০২২ সালে ১ কোটি ২১ লাখ ‍এবং ২০২৩ সালে ৩ কোটি ৮ লাখ টাকা সরিয়েছেন। এছাড়াও সিইও হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর বিভিন্নভাবে কোম্পানির কোটি কোটি টাকা নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ঢুকিয়েছেন মীর রাশেদ বিন আমান।এসবের বাইরে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে মীর রাশেদ বিন আমানের বিরুদ্ধে ৭০টিরও বেশি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন তদন্ত চলাকালে কমিটিকে তথ্য দিয়ে কোনো প্রকার সহযোগিতা করেননি মীর রাশেদ বিন আমান।এদিকে, রাশেদ বিন আমানের দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কর্মকর্তারা জানান, তদন্ত চলমান কোনো বিষয় নিয়ে তাদের মন্তব্য করার কোনো সুযোগ নেই।উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে নিবন্ধন পাওয়া নতুন প্রজন্মের জীবন বিমা কোম্পানি সোনালী লাইাফের সারাদেশে তাদের ২০৫টি শাখা। কোম্পানিটির বীমা গ্রাহক সাত লাখের বেশি। এজেন্ট রয়েছে ৩০ হাজারের মতো, এছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন প্রায় ৮০০ জন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বোয়ালখালীতে চার জনকে কারাদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বোয়ালখালীতে মদপান করে মাতলামির অভিযোগে ৪ জনকে জরিমানাসহ ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে উপজেলার ফুলতল এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা।

অভিযান চালিয়ে পূর্ব গোমদণ্ডী দাসপাড়ার মৃত সুবল বড়ুয়ার ছেলে মৃণাল বড়ুয়া (৪৭), মৃত আবুল কালামের ছেলে মো. ওসমাণ গণি (৪৭), কধুরখীল এলাকার মৃত লাল মিয়ার ছেলে ইনতাজুর রহমান (৩৫) এবং পূর্ব কালুরঘাট এলাকার মৃত আইয়ুব মিয়ার ছেলে মো. ইকবালকে (৩২) আটক করা হয়। অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ‘খ’ সার্কেলের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কানিজ ফাতেমা জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮–এর ৩৬(৫) ধারা অনুযায়ী চারটি পৃথক মামলায় প্রত্যেককে ৫০ টাকা করে মোট ২০০ টাকা জরিমানা এবং ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে আফরোজা আব্বাসকে নিয়োগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসকে হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আজ মঙ্গলবার ১৬ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আফরোজা আব্বাসকে জাতীয় মহিলা সংস্থা আইন, ১৯৯১ এর ধারা-৮(১) এবং ধারা-৮ (২) অনুযায়ী যোগদানের তারিখ থেকে নিম্নবর্ণিত শর্তে জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো।

এতে আরও বলা হয়, যোগদানের তারিখ হতে চেয়ারম্যানের কার্যকাল পরবর্তী দুই বছরের জন্য বলবৎ থাকবে; তবে উক্ত মেয়াদ সমাপ্তির পূর্বে সরকার ইচ্ছে করলে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবে। তিনিও সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রে যেকোনো সময় স্বীয় পদ ত্যাগ করতে পারবেন। এ নিয়োগ অবৈতনিক।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ