আজঃ শুক্রবার ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধের গোপন প্রস্তুতি শুরু হয় ৬২ সালে: মেয়র রেজাউল

ডেস্ক নিউজ:

চসিক কার্যালয়ে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ উপলক্ষে আলোচনা সভা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬২ সালেই। গুপ্ত ছাত্র সংগঠন নিউক্লিয়াস গঠন করে মুক্তিযুদ্ধের গোপন প্রস্তুতি শুরু করেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো রেজাউল করিম চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ উপলক্ষে আলোচনা সভা অতিথির বক্তব্যে মেয়র বলেন, যদিও মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১ সালে সংগঠিত হয়, তবে ১৯৬২ সাল থেকেই বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনায় তৎকালীন প্রগতিশীল বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা বিশেষ করে ছাত্রলীগ কর্মীরা নিউক্লিয়াস নামের একটি সংগঠনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার জন্য গোপনে সশস্ত্র সংগ্রামের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে থাকেন।
“আমি নিউক্লিয়াসের সদস্য হিসেবে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের নেতা থাকাকালে রাজনৈতিক সহকর্মীদের নিয়ে চট্টগ্রামে গোপনে সংগঠিত হতে থাকি। মাও সে তুং, চে গুয়েভারার লিখনি আমাদের গেরিলা যুদ্ধে উজ্জীবিত করে। বঙ্গবন্ধুসহ এ সংগঠনের কর্মীরা ছিলেন অত্যন্ত ঠান্ডা মাথার। সাত মার্চের ভাষণ বিশ্লেষণ করলে দেখবেন কী সুকৌশলে বঙ্গবন্ধু সবাইকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দিলেন। মানুষ বুঝল যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী অথচ পাকিস্তানি হানাদাররা পুরো বক্তব্যে এমন কোন কিছু বের করতে পারলনা যা দিয়ে আমাদের বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে।
মুক্তিযুদ্ধে নিউক্লিয়াসের ভূমিকা স্মরণ করে রণাঙ্গনের এ যোদ্ধা বলেন, জয় বাংলা ¯েøাগানকে মানুষের কাছে জনপ্রিয় করেছে নিউক্লিয়াস। বাঙালি জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে সেসময় নিউক্লিয়াসের ¯েøাগান ছিল ‘জাগো জাগো বাঙালি জাগো’, ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ ¯^াধীন করো’, ‘তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা, মেঘনা, যমুনা’। এসময় আমাদের কার্যক্রম চলতো একদম গোপনে।
“যারা রাজনৈতিক সচেতন তারা সাতই মার্চের ভাষণেই ¯^াধীনতা আন্দোলনের ইঙ্গিত পান, যা চূড়ান্ত রূপ পায় ২৬ মার্চ। সাতই মার্চের ভাষণ শুনলেই যে কেউ বুঝতে পারবে বাংলাদেশের ¯^াধীনতার ঘোষক নি:সন্দেহে বঙ্গবন্ধু। এরপরও যারা বঙ্গবন্ধুর বিরোধীতা করে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধিতা করে তারা কুলাঙ্গার৷ নিউক্লিয়াসের ইতিহাস আজ যেন ঢাকা পড়ে গেছে, অথচ বাংলাদেশের ¯^াধীনতার ভিত্তিভূমি রচনায় নিউক্লিয়াস অন¯^ীকার্য ভূমিকা রেখেছে।”
সভাপতির বক্তব্যে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, সাতই মার্চের ভাষণ আমাদের মুক্তির মহাকাব্য। বাঙালির ¯^াধীন রাষ্ট্রগঠনের আকাক্সখার অভিব্যক্তি সাতই মার্চের ভাষণ। বঙ্গবন্ধু যে ¯^াধীন দেশ আমাদের উপহার দিয়েছেন তা রক্ষা ও উন্নয়নের করতে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
বর্ণিল আয়োজনে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ জাতীয় দিবস উদযাপন শুরু হয় বাটালি হিলস্থ নগর ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে।
মেয়রের সাথে পুস্পস্তবক অর্পণের পর মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেমের সঞ্চালনায় সভায় অংশ নেন প্যানেল মেয়র আফরোজা কালাম, কাউন্সিলর শৈবাল দাস সুমন, আবুল হাসনাত মো. বেলাল, নুরুল আমিন, আবদুস সালাম মাসুম, নূর মোস্তফা টিনু, চসিকের বিভাগীয় ও শাখা প্রধানবৃন্দ কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সিবিএ নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে মুক্তিযুদ্ধ পূর্ববর্তী নিউক্লিয়াসের কার্যক্রম পরিচালনার অন্যতম নেতা ছিলেন মেয়র রেজাউল। ছাত্রনেতা হিসেবে বিভিন্ন কার্যক্রমের কারণে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর চক্ষুশূলে পরিণত হন মেয়র রেজাউল ও তার রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা।
সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী নিজ¯^ রাজনীতির ধারার তিনজন ছাত্রনেতা ১৯৬২ সালে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরে গোপন সংগঠন ‘¯^াধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ গঠন করেন। তিন সদস্যের এই ক্ষুদ্র সত্তা পরবর্তীতে ¯^াধীন বাংলাদেশের ‘নিউক্লিয়াস’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। নিউক্লিয়াসের তিনজন সদস্য ছিলেন সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাক ও কাজী আরেফ আহমেদ। নিউক্লিয়াসের কাজ ছিল, বাংলাদেশের ¯^াধীনতা সংগ্রামের লক্ষ্যে যাবতীয় নীতি-কৌশল প্রণয়ন করা এবং ¯^াধিকার আন্দোলনকে সশস্ত্র ¯^াধীনতা যুদ্ধের দিকে নিয়ে যাওয়া। ¯^াধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদের সর্বময় কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা ছিল এই তিন ছাত্রনেতার কাছে। দেশের ছাত্র আন্দোলনের প্রতিটি কর্মসূচি বিশেষত শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ঘোষিত ছয় দফা, ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগারো দফার আন্দোলনসহ প্রতিটি আন্দোলনকে গণরূপদানের মাধ্যমে ¯^াধীনতার পক্ষে জনমত গড়ে তোলা। একইসাথে জাতিকে ¯^াধীনতার জন্য প্রস্তুত করা ছিল নিউক্লিয়াসের অন্যতম কাজ। মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে ¯^াধীন বাংলাদেশের পতাকা তৈরি, ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পতাকা উত্তোলন, ৩ মার্চ ¯^াধীনতার ইশতেহার পাঠ, জাতীয় সঙ্গীত নির্বাচন, জয়বাংলা বাহিনী গঠন এবং তার কুচকাওয়াজ ও শেখ মুজিবুর রহমানকে সামরিক অভিবাদন জানানো, সবই ছিল ¯^াধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অংশ। বিপ্লবী পরিষদের সকল কর্মকান্ডের প্রতি শেখ মুজিবুর রহমানের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন ছিল। শরীফ শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে বাষট্টি সালে গড়ে ওঠা ছাত্র আন্দোলন, শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ঘোষিত বাঙালির মুক্তির সনদ ছেষট্টির ছয় দফার আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের সাধারণ নির্বাচন, ৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষন, শেখ মুজিবুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গবন্ধু উপাধি প্রদান, নিউক্লিয়াস’র সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ¯^াধীন বাংলাদেশের পতাকা তৈরি, আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা উত্তোলন, ¯^াধীনতার ইশতেহার পাঠ সর্বোপরি বাঙালির ¯^াধীনতা যুদ্ধসহ এ সকল কর্মকান্ডই ছিলো ‘নিউক্লিয়াস’ বা ‘¯^াধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অংশ। আর এ সকল কর্মসূচির পরিকল্পনা প্রণীত হতো নিউক্লিয়াসের মাধ্যমে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নির্বাচিত হয়ে সংসদে ষাচ্ছেন যে সাত বিজয়ী নারী প্রার্থী।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নির্বাচিত হয়ে সংসদে ষাচ্ছেন যে সাত বিজয়ী নারী প্রার্থী।
১. মানিকগঞ্জ-৩ আসনে আফরোজা খান রিতা,
২. ঝালকাঠি-২ আসনে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো,
৩. সিলেট-২ আসনে তাহসিনা রুশদীর লুনা,
৪. ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ,
৫. ফরিদপুর-৩ আসনে নায়াব ইউসুফ কামাল,
৬.নাটোর-১ আসনে ফারজানা শারমিন পুতুল এবং
৭. ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

চট্টগ্রাম-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশার জয়।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশার জয়।

আলোচিত খবর

নির্বাচনি দায়িত্বে থাকবেন প্রায় ৮ লাখ। কর্মকর্তা- ইসি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বিশাল এক কর্মীবাহিনী মাঠে নামিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের কর্মযজ্ঞ সফল করতে সারা দেশে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা সরাসরি নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন। কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই বিশাল তালিকায় প্রিজাইডিং অফিসার থেকে শুরু করে পোলিং অফিসার পর্যন্ত সর্বমোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন দক্ষ কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।  

নির্বাচন পরিচালনার ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার, ৫৯৮ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার। মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে প্রায় ৯ লাখ পোস্টাল ব্যালট প্রতিটি কেন্দ্রের প্রধান দায়িত্ব সামলাবেন একজন করে প্রিজাইডিং অফিসার, সেই হিসেবে ৪২ হাজার ৭৭৯ জন প্রিজাইডিং অফিসার এখন কেন্দ্রগুলোতে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। এছাড়াও ভোটকক্ষগুলোতে দায়িত্ব পালনের জন্য ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন পোলিং অফিসারকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ