আজঃ বুধবার ২১ জানুয়ারি, ২০২৬

এক অপার আনন্দের দিন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে আজীবন প্রজ্বলিত থাকবেন

মোহাম্মদ হোসেন, ডেপুটি রেজিস্ট্রার (তথ্য) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

১৭ই মার্চ বাঙালির এক অপার আনন্দের দিন। বাংলার অবিসংবাদিত নেতা,স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, বিশ্ববন্ধু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৫তম জন্মদিন জাতি উদ্যাপন করছে। ১৯২০ সালে গোপালগঞ্জ জেলার টুংগীপাড়া গ্রামে ১৭ই মার্চ রাত ৮টার দিকে মা সায়েরা খাতুনের কোল আলোকিত করে আসেন ইতিহাসের মহানায়ক; বাঙালি ও বাংলাদেশের মুক্তিদাতা মহান পুরুষ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটসহ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাংলার মানুষকে সাহস যুগিয়ে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার শক্তি দিয়েছে। নিজের জন্মদিন নিয়ে কোনো দিন আলাদা করে ভাবার কোনো প্রয়োজন মনে করেননি তিনি। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে তার মনে একক ভাবনা, মানবতার কল্যাণ কামনা। তার জন্মদিনে তার কাছ থেকে মানবতার সেবা ও জয়গান আমাদের প্রাপ্তি। শৈশবে রাস্তার পাশে শীতে কাতর হওয়া বৃদ্ধের গায়ে নিজের চাদর জড়িয়ে দিয়ে, দুর্দশাপীড়িত মানুষের মনে সাহস জোগাতেন তিনি। ১৯৩৭ সালে মুষ্টিভিক্ষা করে ‘মুসলিম সেবা সমিতি’র মাধ্যমে গরিব ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়ান তিনি। জন্মদিনে এক সাংবাদিক বঙ্গবন্ধুকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনার ৫২তম জন্মদিনে আপনার সবচাইতে বড়ো ও পবিত্র কামনা কী? প্রতিউত্তরে বঞ্চিত বাঙালির অবিসংবাদিত নেতার দ্বিধাহীন উত্তর, ‘জনগণের সার্বিক মুক্তি।’ তাহলে দাঁড়ায় প্রতিটি মুক্তির আকাংঙ্খায়, মুক্তির প্রতিটি নিঃশ্বাসে জন্মে থাকেন জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন দূরদর্শী রাজনীতিবিদ। তিনি জনগণ ও শাসক শ্রেণির অভিপ্রায় বুঝতে পারতেন। ছাত্রজীবন থেকে জনগণের পাশে থাকা তাঁর রাজনৈতিক জীবনে অসংখ্য ভাষণ, বক্তৃতা, সভা সমাবেশ ও সেমিনারে সক্রিয় ছিলেন। ফলে জনগণের সাথে তাঁর যোগাযোগের ক্ষমতা ছিল অনন্য সাধারণ। সহজ-সাবলীল ভাবে তাঁর অন্তরের কথাগুলো জনগণকে বুঝিয়ে দিতে পারতেন।
‘ইতিহাসের মহানায়ক’ হওয়ার মতো যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষ সব কালে, সব যুগে জন্মগ্রহণ করেন না। যুগ-যুগান্তরের পরিক্রমায় হাতে গোনা দ্-ুএকজন মানুষই শুধু ‘ইতিহাসের মহানায়ক’ হয়ে উঠতে পারেন। ইতিহাস তার আপন তাগিদেই সৃষ্টি করে মহানায়কের। আর সেই ‘মহানায়ক’ই হয়ে ওঠেন তার কালের প্রধান কারিগর ও স্থপতি। বঙ্গবন্ধু ছিলেন তেমনই একজন কালজয়ী মহাপুরুষ, যিনি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং জাতিকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। আবার সেই স্বপ্নের ‘স্বাধীন বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠাও করেছিলেন।
১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজউইক পত্রিকা শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘রাজনীতির কবি’ বলে আখ্যায়িত করে লেখে, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে হলে প্রকৃত দেশপ্রেম নিয়ে সচেতনতার সঙ্গে আমাদের সবাইকে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। সেটাই হবে জন্মশতবর্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের শ্রেষ্ঠ উপায়। কিউবার ফিদেল কাস্ত্রো ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে জোটনিরপেক্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিত্বকে হিমালয় পর্বতমালার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘আই হ্যাভ নট সিন দ্য হিমালয়েজ। বাট আই হ্যাভ সিন শেখ মুজিব। ইন পারসোনালিটি অ্যান্ড ইন কারেজ, দিস ম্যান ইজ দ্য হিমালয়াজ। আই হ্যাভ হ্যাড দ্য এ·পেরিয়েন্স অব উইটনেসিং দ্য হিমালয়েজ।’ ২০০৪ সালের বিবিসি বাংলা সারা বিশ্বে জরিপ চালিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে নির্বাচিত করে। ২০১৯ সালের ১৬ আগস্ট জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে কূটনীতিকেরা তাকে ‘ফ্রেন্ড অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ আখ্যা দেয়।
১৯৯৭ সাল থেকে তাঁর জন্মদিনটি জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। ১৯৩৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ও শ্রমমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সামনে সাহসী উপস্থাপনায় সহপাঠী ও বিদ্যালয়ের ন্যায্য দাবি আদায়ে নেতৃত্ব দিয়ে যিনি কিশোর ছাত্রনেতা হিসেবে আবির্ভূত হলেন। ১৯৪৩ সালে বাংলার দুর্ভিক্ষে অজস্র সহায়হীন মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সাহায্যে করেন তিনি। ১৯৪৬-এর দাঙ্গা প্রতিরোধে অগ্রণী যে কণ্ঠস্বর, ১৯৪৮ ও ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে আজ পর্যন্ত বাংলার প্রতিটি মানুষের মুখের বুলিতে নতুন করে জন্ম নিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৫৪ থেকে ১৯৬৩ অবহেলিত বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের একুশ দফা থেকেধীনতার সূর্য হয়ে তিনি জন্মেছেন। ’৫৮, ’৬৬, ’৬৯, ’৭০, ’৭১-এই যে ধারাবাহিক সংগ্রামের ইতিহাসে বাংলার মানুষের স্বাধীনতা-¯ও স্বালংধিকারে বেঁচে থাকার প্রতিদিনের অনুপ্রেরণা হয়ে তিনি মিশে আছেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি জান্তার ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা বাংলাকে ’৭২ থেকে ’৭৫-এর প্রতিটি দিনের পরিশ্রমে নতুন জীবন দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। এটা সত্যি যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ ভূমিষ্ঠ হয়েছিলেন, কিন্তু সেই দিনের পর থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটি দিনে তিনি জন্মেছেন। তিনি প্রতিদিন জন্ম নেন সব শুভ চিন্তায় ও কর্মে। বোধশক্তি হওয়ার পর এমন কোনো দিন ছিল না যে তিনি বাঙালির জন্য আত্মনিবেদন ও আত্মত্যাগ করেননি। বাংলার মানুষের হাসি-আনন্দে প্রতিদিন জন্ম হয় তার।
১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব শান্তি পরিষদ বঙ্গবন্ধুকে জুলিও কুরি শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করে। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যা করা হয়। যারা হত্যাকাণ্ড ঘটায়, তারা ভেবেছিল বঙ্গবন্ধুকে বাংলার মাটি থেকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলবে। কিন্তু চক্রান্তকারীরা জানে না বঙ্গবন্ধু কখনো মরেন না; বঙ্গবন্ধু মানুষের হৃদয়ে আজীবন প্রজ্জ্বলীত হয়ে থাকবেন। সেদিন বঙ্গবন্ধুর শরীর থেকে যে রক্ত ওরা ঝরিয়েছে, সেই রক্তেই আবার নতুন করে জন্ম নিয়েছে বাংলাদেশ। হন্তারকের গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে যাওয়া জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের দেহ থেকে রক্ত গড়িয়ে গড়িয়ে বাংলার অবারিত প্রকৃতি, প্রতিটি মানুষ, প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাসে আরো বেশি করে জেগে উঠেছেন তিনি।
বঙ্গবন্ধু নিজের সবকিছুই জনগণের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি নিজের জন্য কিছুই চাইতেন না। অপরের দুঃখ-কষ্ট তাঁকে সর্বদাই আবেগাপ্লুত করত। এক জনসভায় বক্তৃতাকালে তিনি বলেছিলেন, ‘একজন মানুষ আর কী চাইতে পারে, আমি যখন ভাবি দূরে এক জনশূন্য পথের ধারে আলো-ছায়ায় এক লোক লণ্ঠন হাতে দাঁড়িয়ে আছে শুধু আমাকে একনজর দেখবে বলে, তখন মনে হয়, একজন মানুষের পক্ষে আর কী চাওয়া-পাওয়ার থাকতে পারে!’ অবহেলিত, বঞ্চিত, নিগৃহীত, অত্যাচারিত প্রতিটি মানুষের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ছিল প্রগাঢ় ভালোবাসা। সেটি প্রতিফলিত হয়েছে তাঁর প্রতিটি কর্মে এবং চিন্তায়। তিনি শুধুই যে বাঙালির জন্য ভাবতেন তা কিন্তু নয়; তার চিন্তা ও চেতনাবোধ ছিল বিশ্বজনীন। ইনিই তো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, যিনি রাষ্ট্র¶মতায় আসীন হয়েও সরকারি বাসভবনে থাকতেন না। অতি সাধারণ ৩২ নম্বরের বাড়িটিতেই আমৃত্যু থেকেছেন। ধানমন্ডিতে যখন প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়, তখন ভালো একটি প্লট নেওয়ার জন্য সবার শত অনুরোধ সত্তে¡ও বলেছিলেন, ‘আগে সবাইকে দাও, তারপর যদি থাকে, তখন দেখা যাবে।’ আবার বঙ্গবন্ধুই ১৯৭৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে বক্তৃতায় বলেছিলেন, ‘বিশ্ব আজ দুই ভাগে বিভক্ত-শোষক আর শোষিত; আমি শোষিতের প¶ে।’ বাঙালির মুক্তির মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমাননের ১০৫তম জন্মদিনে তাঁর স্মৃতির প্রতি বিনম্্র শ্রদ্ধা ও সম্মান জ্ঞাপন করছি।
পৃথিবীর ইতিহাস যত দিন থাকবে, বাংলাদেশ যত দিন থাকবে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে একইভাবে প্রজ্বলিত থাকবেন। বঙ্গবন্ধুর জীবনদর্শন চিরকাল বাঙালি জাতিকে অনুপ্রাণিত করবে এবং পথ দেখাবে। বাঙালি জাতি শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসায় বাংলাদেশের ইতিহাস বিনির্মাণের কালজয়ী এই মহাপুরুষকে চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতবিনিময়।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের সদস্যরা।মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি দুপুরে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদের সঙ্গে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের দুই সদস্য অংশ নেন।

মতবিনিময়কালে চট্টগ্রামের মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক পরিবেশ, ভোটগ্রহণের সম্ভাব্য পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের প্রস্তুতি, গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং সামগ্রিক নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করা হয়।মতবিনিময়ে উভয় পক্ষ নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি কাজী আবুল মনছুর, প্রচার ও প্রকাশ সম্পাদক ফারুক আবদুল্লাহ, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক হাসান মুকুল এবং প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক মুহাম্মদ আজাদ।

পাবনার সরকারি ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ৮৯তম ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অনুষ্ঠিত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার সরকারি ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ৮৯তম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা মেতেছিল নিজেদের ক্রীড়ানৈপুণ্য দেখানোর উৎসবে। সেই সঙ্গে দিনটি ছিল শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসের উপলক্ষ।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সরকারি ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে এ ক্রীড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ভিন্নধর্মী নানা আয়োজনে সাজানো হয়েছিল বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাটি। এতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তাদের দক্ষতা প্রদর্শন করে। বিদ্যালয়ের বিশাল মাঠ সাজানো হয়েছিল সুন্দরভাবে। খেলাধুলার পাশাপাশি বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান দর্শকদের আনন্দে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।

এছাড়াও ৫৪তম বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা সমিতির শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ভাঙ্গুড়া উপজেলা ও পাবনা জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে সরকারি ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা।

সরকারি ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে‌র সিনিয়র প্রভাষক মোঃ লোকমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ প্রফেসর সৈয়দ শওকত রেজা।
বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় খেলাধুলার পাশাপাশি বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান আনন্দে উপভোগ করেন দর্শকেরা। বিকেলে প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

এসময় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ বিপুলসংখ্যক দর্শক উপস্থিত ছিলেন। ক্রীড়া পরিচালনায় ছিলেন সরকারি ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে‌র ক্রীড়া শিক্ষক মোঃ হেদায়েতুল্লাহ।

সরকারি ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে‌র অধ্যক্ষ প্রফেসর সৈয়দ শওকত রেজা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যে বলেন, ‘ভবিষ্যৎ খেলোয়াড় তৈরি করতে দরকার ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত চর্চা। এর ফলে শিশুরা মনের দিক থেকে চাঙা থাকার পাশাপাশি মাঠে এসে খেলার কারণে শারীরিকভাবেও ফিট থাকবে। সার্বিকভাবে, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের জন্য এক আনন্দময় ও স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে।’

আলোচিত খবর

গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে প্রধান উপদেষ্টা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Oplus_131072

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গণভবনে তৈরি করা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

Oplus_131072

রাজনৈতিক দলের নেতা ও সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টাদের নিয়ে মঙ্গলবার বিকালে জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি ঘুরে দেখেন তিনি।


রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা ও সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে মঙ্গলবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ ঘুরে দেখেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
ছবি: পিআইডি

আরও পড়ুন

সর্বশেষ