আজঃ শুক্রবার ১৫ মে, ২০২৬

সুর্বণচরে মুক্তিযোদ্ধার জমি দখলের চেষ্টা স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের

মোঃএনায়েত হোসেন নোয়াখালী প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নোয়াখালীর সুর্বণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নে এক মহিলা মেম্বার থেকে জমি দখল ও চাঁদার দাবি এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া যায়।ভোক্তভোগী আলেয়া মেম্বার সুর্বণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের একজন স্থায়ী বাসিন্দা ও শহীদ পরিবারের সন্তান এবং ঐ ইউনিয়নের সাবেক ব্লক মেম্বার।স্থানীয় সূত্রে জানাযায়,মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন থেকে আলেয়া বেগম মেম্বার প্রায় ২ একর সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ এর লেখিত দায়িত্ব পাওয়ার পরে কিছু কুচক্রী মহল উঠেপড়ে লেগেছে বিভিন্ন কায়দায় মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিনের জমি দখলের চেষ্টাই। আলেয়া মেম্বার যখন বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন থেকে অনুমতি নিয়ে ঐ জায়গায় যখন তার আরেকটি জমি থেকে মাটি এনে ভরাট করে দোকান ঘর তোলা শুরু করেন,তখনই এলাকার কিছু প্রভাবশালী নেতা তার নিকট প্রথমে ঘরের বিটার দাবি করেন। পরে ঘরের বিটা না পাওয়ায় মোটা অংকের টাকার দাবি করে।ভোক্তভোগী এলাকার প্রভাবশালী নেতা হতে একেবারে নিম্ম শ্রেণীর নেতাদের টাকা পয়সা ঠিক মতোই না দিতে পারাই ঐ সকল নেতাকর্মীরা তাদের কৌশলের মাধ্যমে এলাকায় কিছু মহিলা দিয়ে তার স্বামীর সামনে বেদমমার দোর করেন।ভোক্তভোগী এলাকাতে কারো কাছে কোন বিচার না পাওয়ায় হতাশা হয়ে পড়েন।পরে তিনি জেলা প্রশাসক,সুর্বণচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সহকারী কমিশনার ভূমির নিকট অভিযোগ দাখিল করলে তারা তদন্ত করে প্রথমে সঠিক প্রমাণ পাওয়ায় এটা বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিনের জায়গা। তারপর কাগজপত্র দেখে জমি গুলো সহকারী কমিশনার ভূমি তিনি সরজমিনে নিজে এসে মূল জমির মালিক বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিনকে ভূমি পরিমাপ করে বুঝিয়ে দেন।পরে কিছু এলাকার কুচক্রী মহল ডিসি,ইউএনও,এসিল্যান্ড,ওসি সহ স্থানীয় চেয়ারম্যান,মেম্বারদের ভুল বুঝিয়ে আলেয়া মেম্বারের উপর নানা ভাবে অত্যাচার শুরু করে ফলে আলেয়া মেম্বার ঐ জমিতে দোকান ঘর করতে বাঁধার মুখে পড়ছেন।এদিকে দোকান ঘরের বিটাই মাটি না ফেলাতে পেরে দোকান ঘর গুলো ভেঙে পড়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করে আলেয়া মেম্বার।তিনি আরও বলেন আমার সব ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বলে এমন অভিযোগ করেন।

এছাড়া আলেয়া মেম্বার কিভাবে বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিনের জায়গা দায়িত্ব নিয়েছে সে সম্পর্কে জানতে চাইলে আলেয়া মেম্বার বলেন,আমিও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। এছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন ভাই যখন অসুস্থ হয়ে পড়ে তখন তারা তাদের জমি রক্ষণাবেক্ষণ না করতে পারাই আমাকে লেখিত দেন যে আমার পরিবর্তে তুমি এই জায়গা দেখাশোনা করবে।যেখানে যা প্রয়োজন তুমি কর।যদি কোন খানে অফিস আদালতে সমস্যা হয় তাহলে তুমি আমাকে ফোন দিলে আমি হাজির হয়ে যাবো স্বশরীরে।না হয় ফোনে বলে দিবো।এখন আমি ঐ কাগজ নিয়ে যখন মাটি ভরাট শুরু করি স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নেতা আমার কাছ থেকে প্রথমে ঘরের বিটার দাবি করেন।আমি তাদের ঘরের বিটাও দি এরপরে আমার কাছে চাঁদার দাবি করেন।আমি যখন চাঁদা বা,ঘরের বিটা দিতে রাজি না হয় তখন আমার উপর নানা ভাবে শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন শুরু করে।পরে আমি মাননীয় সংসদ সদস্যকে বিষয়টা জানাইলে তিনি এসে সরজমিনে দেখেন এবং আমাকে নির্দেশ দেন মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন আর আমি মিলে যেন এই জায়গাটা ভোগ করি।এরপরেও কিছু স্থানীয় নেতারা আবার এমপি সাহেবকে ভুল বুঝিয়ে দেন যাতে আমার বিরুদ্ধে কাজ করে। আমি তারপরও জোর করে আইনের আশ্রয় নিয়ে জায়গাটা ভরাট করি কিছু ঘর তুলি।ঘর করতে গেলেও আমাকে অনেকে বাঁধা দেয় এসব বাঁধা না শুনে আমি কাজ করে যাচ্ছি।কিছু লোক রাতের আধাঁরে জোরপূর্বক ঘর করতে চাইলে আমি সুর্বণচর ইউএনও এবং চরজব্বর থানার অফিসার ইনচার্জ এর সহযোগিতায় সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করি। এখন আমি যাতে সুন্দর ভাবে বসবাস করতে পারি সে জন্য সহযোগিতা চাই প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে।

এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিনের সাথে সরাসরি কথা হলে তিনি জানান,আমি অসুস্থ হওয়ায় আমার ভূয়াঁরহাটের ঐ জায়গাটুকু আলেয়া মেম্বারকে দায়িত্ব দি। কারণ আমি শারীরিক ভাবে অসুস্থ। আমার পক্ষে আসা যাওয়া খুবই কষ্টকর।এখন শুনতেছি ঐ এলাকার কিছু প্রভাবশালী নেতারা নাকি আমার জায়গা জবর দখল করতে চাই।এ বিষয়টা আমাকে বাসায় এসে আলেয়া মেম্বার জানাইলে আমি জেলা প্রশাসকে অবহিত করি তিনি আমাকে বলেছে যথেষ্ট পরিমানে সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দেন।

অন্যদিকে ভোক্তভোগী আলেয়া মেম্বার অভিযোগ সঠিক কিনা সে বিষয়ে জানতে চাইলে সুর্বণচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল আমিন সরকার বলেন,আমরা জেলা প্রশাসকের নির্দেশক্রমে আমি সুর্বণচর সহকারী কমিশনার ভূমি কে মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিনের জায়গাটা সরজমিনে গিয়ে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য নির্দেশ দিলে।সহকারী কমিশনার ভূমি সরজমিনে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিনের উপস্থিতে জায়গাটা বুঝিয়ে দিয়ে আসে।তখন সেখানে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতির পাশাপাশি আলেয়া মেম্বার ও ছিল।পরে শুনলাম আলেয়া মেম্বারকে বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন নাকি লেখিত ভাবে ঐ জায়গার রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য দায়িত্ব দেন।এছাড়া আলেয়া মেম্বার বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিনের আত্মীয় বলে পরিচয় দেন।আমরা একজন মুক্তিযোদ্ধাকে যতটুকু সহযোগিতা করার প্রয়োজন ততটুকু করেছি প্রশাসনিক ভাবে।প্রয়োজনে আরও করবো।কেউ যদি মুক্তিযোদ্ধার জায়গা দখল করতে চাই তাহলে আমরা আইনগত ভাবে ব্যবস্থা নিবো।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

গণতন্ত্রের সংকট ও বাংলাদেশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

একটি জাতির গল্প কে লেখে? ইতিহাস কি মানুষের রক্তে লেখা, নাকি ক্ষমতার কালি দিয়ে? বাংলাদেশে এই প্রশ্ন আজ কেবল বৌদ্ধিক বিতর্ক নয়; এটি আমাদের রাজনৈতিক বাস্তবতার কেন্দ্রবিন্দু। কারণ, এখানে ইতিহাস, অর্জন, এমনকি গণআন্দোলনের চেতনাও প্রায়শই নির্দিষ্ট রাজনৈতিক কাঠামোর ভেতর বন্দী হয়ে পড়ে। এই দেশে খুব কমই অধ্যায়, অর্জন, ক্ষেত্র, কিংবা প্রতিষ্ঠান আছে যা রাজনীতিকরণের কবল থেকে মুক্ত থাকতে পেরেছে।

আমরা এমন এক বাস্তবতায় বাস করি, যেখানে সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে আখ্যানও বদলে যায়। সংবিধানের ব্যাখ্যা, ইতিহাসের উপস্থাপন, এমনকি জাতীয় অর্জনের মালিকানাও নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হয়। ফলে, যে সংগ্রাম একসময় ছিল জনগণের সম্মিলিত চেতনার প্রতিফলন, তা ক্রমে পরিণত হয় দলীয় পরিচয়ের অংশে। এখানেই শুরু হয় বিভাজন, যেখানে “আমাদের” ইতিহাস আর “তাদের” ইতিহাস আলাদা হয়ে যায়। ফলস্বরূপ, এক মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে: একজন প্রকৃত বাংলাদেশি হওয়ার মানদণ্ড কী?

প্রকৃতপক্ষে, একটি সুস্থ গণতন্ত্রের ভিত্তি কি এমন হওয়া উচিত? যে রাষ্ট্র তার গণতান্ত্রিক সাফল্যের কৃতিত্ব জনগণকে দেয়, নাগরিকদের গণতান্ত্রিক হতে শেখায়, এবং প্রতিটি আন্দোলন ও সংগ্রামকে সাধারণ মানুষের রক্তের ইতিহাস হিসেবে স্বীকার করে, সেই রাষ্ট্রই প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক। সেখানে উন্নয়নের প্রতিটি ধাপে প্রান্তিক মানুষও সমানভাবে অংশীদার হয়; অগ্রগতি কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির একচেটিয়া অর্জন হয়ে ওঠে না। এমন শাসনব্যবস্থা শুধু একটি দেশের জন্য নয়, বিশ্বব্যাপী প্রাসঙ্গিক একটি আদর্শ হতে পারে।

তবুও, সবকিছু অন্ধকার নয়। এখনও এমন মানুষ আছেন, যারা নিজেদের পেশার নৈতিক দায়িত্ব বুঝে কাজ করেন বলেই পৃথিবী টিকে আছে। কিন্তু, একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে উঠবে তখনই, যখন মিথ্যা দিয়ে সত্যকে আচ্ছন্ন করা যাবে না; যখন ভুল ব্যক্তি সঠিক জায়গা দখল করতে পারবে না; এবং যখন মানুষকে কৌশলে প্রভাবিত করার সংস্কৃতি ভেঙে পড়বে। সাধারণ মানুষ শিখবে কীভাবে কোনো নির্দিষ্ট পরিবারতন্ত্রের অন্ধ আনুগত্যের বাইরে গিয়ে যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচন করতে হয়। “greater happiness for a greater number of people”, এই ধারণা তখনই বাস্তবায়িত হবে, যখন নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ সামাজিক কাঠামোর কেন্দ্রে ফিরে আসবে।

গণতন্ত্রের কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করে দলীয় অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, সংগঠনের প্রকৃত চর্চা, এবং নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণের উপর। শুধু গণতন্ত্রের কথা বলা নয়, বরং সাধারণ মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা, তাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে ক্ষমতায়ন করা; এসবই এর অপরিহার্য শর্ত। শেষ পর্যন্ত, রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার সবকিছুর ভিত্তি ব্যক্তি। ব্যক্তি যদি তার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ও ন্যায়নিষ্ঠ হয়, তবে, সেই গুণই বৃহত্তর পরিসরে রাষ্ট্রে প্রতিফলিত হবে। প্লেটো এই কারণেই রাষ্ট্রকে ব্যক্তির বৃহৎ রূপ হিসেবে দেখেছিলেন। অন্যদিকে, রবার্ট ডাল সতর্ক করেছেন যে শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিক সমাজ ছাড়া গণতন্ত্র কেবল একটি নিষ্ক্রিয় কাঠামোতে পরিণত হয়, যেখানে সঠিক ও ভুলের পার্থক্য মুছে যায়।

যাই হোক, একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সহনশীলতার চর্চা গড়ে তোলা এবং বিভ্রান্তিকর বিতর্ক এড়িয়ে কার্যকর জননীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে মনোনিবেশ করা। সেখানে জাতীয় ঐক্য সর্বোচ্চ স্থানে থাকে, কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণিকে প্রান্তিক করে নয়, বরং সবার অধিকার ও মর্যাদা সমুন্নত রেখে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এমনভাবে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে একজন অপরাধীও তার প্রাপ্য শাস্তি ন্যায্যভাবে পায়; না কম, না বেশি। এই ন্যায়বিচার সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়াই গণতন্ত্রের মূল শক্তি।

নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনগণের সেবক, রাজনীতির রাজা নন। রাজনীতি শব্দটির তাই জনগণ ও গণতন্ত্রের চেতনায় পুনর্বিবেচনা হওয়া প্রয়োজন। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে সৎ, দক্ষ, সম্মোহনী ও দূরদর্শী নেতৃত্ব, যা জনগণের প্রতি প্রতিক্রিয়াশীল, তথ্য প্রকাশে স্বচ্ছ ও তৎপর, এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি, টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, যা মানুষ ও প্রকৃতি উভয়ের কল্যাণে নিবেদিত, একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সরকার জনগণের জন্য, এবং ক্ষমতার উৎস জনগণই। জনগণই দায়িত্ব অর্পণ করে, এবং তারাই নিশ্চিত করবে সেই দায়িত্ব কতটা সততা ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় ব্যত্যয় ঘটলে, গণতন্ত্র জনগণকে সেই ক্ষমতাও প্রদান করে, প্রয়োজনে শাসককে পরিবর্তনের। সমসাময়িক বাস্তবতায়, সকল স্তরের জনসমষ্টির মনোভাব, চাহিদা ও প্রত্যাশা অনুধাবন করাও একটি কার্যকর গণতন্ত্রের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য। কিন্তু, অনুন্নত ও উন্নয়নশীল অনেক দেশে শাসকগোষ্ঠী প্রায়শই রাষ্ট্রকে একধরনের ‘লেভিয়াথান’-এ পরিণত করে, স্থিতিশীলতার যুক্তি তুলে ধরে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ঘটায়। অথচ, এই ধরনের স্থিতিশীলতা প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক নয়; বরং তা গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি যেমন: জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ ও স্বাধীনতার পরিপন্থী।

এই প্রেক্ষাপটে স্বাভাবিকভাবেই একটি প্রশ্ন জাগে: বাংলাদেশ কি সত্যিই গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য প্রস্তুত? যেখানে শিক্ষার মান অসম, নাগরিক সচেতনতা সীমিত, ভঙ্গুর অর্থনীতি ও চাকরির দুষ্প্রাপ্যতা, সুযোগের জানালা যেখানে তৈরি হতে একটি জাতিকে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়, ন্যায়বিচার এবং তড়িৎ জবাবদিহিতার সংস্কৃতি দুর্বল ও পক্ষপাতদুষ্ট, সেখানে গণতন্ত্র প্রায়ই প্রত্যাশিত ফল দিতে ব্যর্থ হয়। ফলে, এটি কেবল একটি কাঠামো হয়ে থাকে; কার্যকর শাসনব্যবস্থা নয়।

অতএব, এখন সময় এসেছে আত্মসমালোচনার। গণতন্ত্রকে কেবল একটি শব্দ হিসেবে নয়, একটি চর্চা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। নাগরিকদের সচেতন, অর্থনৈতিক ভারসাম্য, রাষ্ট্রকে জবাবদিহিমূলক, এবং ইতিহাসকে সমষ্টিগত রাখতে না পারলে বিভাজন আরও গভীর হবে। অনুন্নত ও উন্নয়নশীল সমাজে, যেখানে শিক্ষার হার কম, অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা বেশি, এবং নাগরিক দায়িত্ববোধ দুর্বল, সেখানে গণতন্ত্রের কার্যকারিতা স্বাভাবিকভাবেই সীমিত থাকে। তাই, যতক্ষণ না আমরা এই ব্যবস্থার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছি, ততক্ষণ এর সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাব্য বিকল্প নিয়ে ভাবার প্রয়োজনীয়তা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। অন্যথায়, একটি রাষ্ট্র কেবল বার বার ভুল করতেই থাকবে এবং উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিবার তার মাশুল হয়তো বাংলাদেশ দিতে পারবে না।

চট্টগ্রামে মাথায় গুলিবিদ্ধ পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী রেশমী মৃত্যুর কোলে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের বায়েজিদ বোস্তামীর রউফাবাদ কলোনিতে গুলিবিদ্ধ হওয়া পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী রেশমী আক্তার (১১) শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানল। কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ৭ মে দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার রউফাবাদ কলোনির শহীদ মিনার গলিতে গোলাগুলির সময় ছুটে আসা একটি গুলি লাগে রেশমীর বাঁ চোখে। গুলিটি চোখ মাথায় ঢুকে যায়। ঘটনার পর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেদিন রাতে আইসিইউ শয্যা খালি না থাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন সকালে অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। পরে চমেকে আইসিইউ শয্যা খালি হলে সেখানে স্থানান্তর করা হয়।হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, গুলিটি রেশমীর বাঁ চোখ ভেদ করে মাথার ভেতরে ঢুকে মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে আটকে যায়। তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়নি এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রিয়াজ-সাবেরা দম্পতির দুই ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে রেশমী সবার ছোট। এক মেয়ে বিবাহিত, বড় ছেলে গার্মেন্টসে চাকরি করেন। রেশমী স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। স্বভাবগতভাবে সে চঞ্চল ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি ঘরেই সময় কাটত তার। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যেত না বলেও জানান পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার দিন ২০ টাকা হাতে দিয়ে রেশমীকে পান আনতে পাঠিয়েছিলেন তার মা। কিন্তু গুলিবর্ষণের কারণে সে আর দোকানে পৌঁছাতে পারেনি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার সময় এলাকায় চার থেকে পাঁচ মিনিট ধরে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ চলে। আশপাশের লোকজন ভয়ে সরে গেলেও রেশমী নিজেকে আড়াল করতে পারেনি। এদিন সন্ত্রাসীদের গুলিতে রাজু নামে এক যুবক ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত ২৬ এপ্রিল রাউজানের কদলপুর এলাকায় নাসির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার মধ্য দিয়ে। ওই ঘটনায় নিহত নাসিরের মেয়ে লাভলী আক্তার হাসান রাজুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। নাসির প্রবাসফেরত ও যুবদলের কর্মী ছিলেন। পরে তার সহযোগীরা কয়েকজন সন্ত্রাসীকে সঙ্গে নিয়ে রাজুকে হত্যার উদ্দেশ্যে নগরে আসে বলে জানা যায়। তাদের ছোড়া গুলিতেই আহত হয় রেশমী।

আলোচিত খবর

চট্টগ্রাম কাস্টমসে নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেয়া ২২০ কন্টেইনার পণ্য বিক্রি হবে নিলামে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া ২২০ টি কন্টেইনার নিলামে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের জট নিরসনে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। সর্বমোট ১৩৭টি লটে ২২০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে। বিশেষ করে আমদানির পর নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া এসব কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে।এই নিলাম প্রক্রিয়া অনলাইনে (ই-অকশন) সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, পুরো মে মাস জুড়ে দরদাতাদের জন্য সরেজমিনে পণ্য পরিদর্শনের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে সর্বোচ্চ দরদাতাদের পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪ এর শর্তাবলী মেনে চলতে হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দরকে কন্টেইনার জটমুক্ত করতে এবং ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের নিলাম কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, আমদানিকৃত এসব পণ্য মাসের পর মাস বন্দরে পড়ে থাকায় একদিকে যেমন বন্দরের জায়গা দখল হয়ে আছে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আটকে রয়েছে। এতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সক্ষমতা কমছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে মে মাসে দুই ধাপে এই ই-অকশন অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিশেষ আদেশ অনুসারে ‘ই-অকশন-৪/২০২৬’-এর আওতায় ১২০টি লটে ১৬০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে।
এই তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরণের কেমিক্যাল, মেশিনারিজ, কাগজ, কাপড় (ফেব্রিক্স), গৃহস্থালির সামগ্রী এবং এসি পার্টস। বিশেষ বিষয় হলো, এই পণ্যগুলোর নিলামে কোনো সংরক্ষিত মূল্য থাকছে না। এই ধাপের দরপত্র আগামী ৯ জুন সকাল ১১টায় খোলা হবে। অন্যদিকে, স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী ‘ই-অকশন-৫/২০২৬’-এর আওতায় ১৭টি লটে আরও ৬০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে।

এর মধ্যে রয়েছে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, প্যাসেঞ্জার এলিভেটর, স্টিল স্ক্র্যাপ, গাড়ি এবং লবণ। এই ধাপের দরপত্র আগামী ১৪ মে দুপুর ৩টায় উন্মুক্ত করা হবে। নিলাম প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে। আগ্রহী ক্রেতারা ঘরে বসেই বাংলাদেশ কাস্টমসের অফিসিয়াল ই-অকশন পোর্টালে নিবন্ধন করে দরপত্র দাখিল করতে পারবে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ